চাঁদপুর, শুক্রবার ১ নভেম্বরর ২০১৯, ১৬ কার্তিক ১৪২৬, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


১৬। যাহারা ঈমান আনে তাহাদের হৃদয় ভক্তি-বিগলিত হইবার সময় কি আসে নাই, আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে? এবং পূর্বে যাহাদিগকে কিতাব দেওয়া হইয়াছিল তাহাদের মত যেন উহারা না হয়-বহুকাল অতিক্রান্ত হইয়া গেলে যাহাদের অন্তঃকরণ কঠিন হইয়া পড়িয়াছিল। উহাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী।


 


 


 


জীবকে যে ভালোবাসে, সে স্বাধীনতাকেও ভালোবাসে। -হুইটিয়ার।


 


 


যে ধনী বিখ্যাত হবার জন্য দান করে, সে প্রথমে দোজখে প্রবেশ করবে।


 


ফটো গ্যালারি
শিশুর মানসিক বিকাশে করণীয়
মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ
০১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ তার জীবনের প্রথম ধাপ থেকেই শুরু হয়। উপযুক্ত পরিবেশ, পরিবারের আচরণ, ভাষার সঠিক ব্যবহার, ইতিবাচক বিভিন্ন ছবি, প্রতিবেশীর মনোভাব ইত্যাদি একটি শিশুর বিকাশের অন্যতম উপাদান। শিশু যখন তার চারপাশ থেকে কিছু না কিছু শিখে তখন থেকেই তার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ হতে থাকে। শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ অবারিত করে রাখা আমাদের কর্তব্য। এই জায়গায় যদি শিশুর পিতা-মাতা বা অভিভাবক উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয় তাহলে শিশুর জীবনে এর সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়তে থাকে। ফলে পরিণত বয়সে এই শিশুটি লক্ষচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক।



একটি শিশুর মনোজাগতিক বিকাশে পরিবারের ও পারিপশ্বর্িকের ভূমিকা অপরিসীম। পারিবারিক কোনো কলহ শিশুদের সামনে করা উচিত নয়। আমাদের শিশু আমাদের ভবিষ্যৎ। যাদের ঘিরে আমাদের আগামীর সোনালী স্বপ্ন। স্বপ্ন প্রতিটি পিতা মাতার। কবির ভাষায় 'ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে।' আবার 'বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।' এ কোমলমতি শিশুদের জীবন কেমন হবে তা নির্ভর করে আমরা তাদের কিভাবে গড়ে তুলছি। শিশুরা প্রজাপতির মত সুন্দর, উজ্জ্বল, চঞ্চল, নির্মল, স্বচ্ছ, শুভ্র আরও কত কী। তাদের আদর যত্ন ও ভালোবাসা আর সুন্দর আচরণ দিয়ে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (স.) শিশুদের খুব ভালোবাসতেন। তিনি শিশুদের আদর করতেন। শিশুদের সম্পর্কে মহানবী (স.) বলেন, 'শিশুরা বেহেশতের প্রজাপতি।' কেননা শিশুরা প্রজাপতির মত সুন্দর মন নিয়ে সংসার নামক নন্দন কাননের প্রতিটি ফুলের পাঁপড়ির গহীনে পিতা মাতার মনে দোলা দিয়ে যায়।



ভোরের কচি আলো সোনালী আভা ছড়িয়ে পূর্বদিক থেকে ছড়ায়। কচি রোদের আলোর মতই শিশুর কচি গালে আদর দিয়ে, প্রস্ফুটিত ফুলের ন্যায় হাসি মাখা শিশুর মুখ অনাবিল শান্তির বাহন। শিশুর এ বয়সটা থাকে কাঁচা মাটির মতোই। কাঁচা মাটির এ বয়সটাকে বাবা-মায়ের মত জীবন শিল্পীরা যা গড়তে চান তা-ই গড়তে পারেন। এক কথায় বাবা-মাকে জীবন গড়ার শিল্পী হতে হবে।



শিশুর মনে গোলাপের কানন ফোটাতে বাবা-মায়ের মতো নিপুণ শিল্পীরা তাদের শিল্পকর্মে যদি ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তাহলে শিশুর ভবিষ্যৎ সুন্দর ভাবে গঠিত হবে না। অনেক বাবা-মা সন্তানকে আধুনিকতার নামে এমন সব শিল্প সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করাতে ভালোবাসেন যে সংস্কৃতির নেতিবাচক দিক গুলো শিশু সহজেই গ্রহণ করে ফেলে মনের অজান্তেই। এভাবেই শিশুটি এক সময় বড় হতে থাকে। কিন্তু যখন বাবা মা বুঝতে পারেন তার আদরের ধন ভুল পথে হাঁটছে তখন আর তাকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ থাকে না।



এখানে কেবল কাঠামোবদ্ধ কথায় শিশুকে বোঝানো যাবে না। তাই বাবা-মা তাদের সামনে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয় এমন বিষয়গুলোর কাহিনী সহজভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। আজকাল অনেকেই শিশুদের হাতে ভূত-প্রেত ও ভয়ংকর জীবজন্তু ও কল্পকাহিনী নির্ভর বই তুলে দিচ্ছেন। এসব বইয়ের গল্পগুলো অবাস্তব, অসত্য ও অলীক। যা শিশুদের মানসিক বিকাশের অন্তরায়। বাজারে সত্য কাহিনী অবলম্বনে বিভিন্ন গল্পের বই পাওয়া যায়। এছাড়া মনীষীদের জীবনকাহিনী, তাদের ধৈর্য, পরিশ্রম ও উন্নত চরিত্রের গল্প ইত্যাদি শিক্ষণীয় বইপত্র তাদেরকে পড়ে শোনানো যেতে পারে। যখন শিশুরা নিজেরা পড়তে শিখবে তখন নিজেরাই এধরনের বই খুঁজে পড়ার অভ্যাস করবে।



আমাদের শিশুর মন বুঝতে হবে। সে কাঁদলেই মা নাচিয়ে, দুলিয়ে, ধমকিয়ে, শিস বাজিয়ে, কখনও চড়-থাপ্পড় মেরে শান্ত করার চেষ্টা করেন। অথচ শিশুর কী প্রয়োজন, সেটি বুঝে উঠতে পারেন না। একটু খোঁজ করলেই তার সমস্যার কারণ মা বের করতে পারেন। এজন্য মাকে বিচক্ষণ হ'তে হবে। মোটকথা শিশুর সামনে রাগ দেখানো, মারধর, জোরে চিৎকার অযথা ধমকানো থেকে বিরত থেকে দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। উন্নত জীবন গড়ার জন্য সন্তানের মনোভাব বোঝাটাও একান্ত জরুরি। তাই শৈশব কাল থেকে সন্তানের মনোভাব বুঝে তার আগ্রহের বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে পিতা-মাতাকে সুবিবেচনার পরিচয় দিতে হবে।



হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একবার এক ব্যক্তি নবী (স.)-এর নিকট উপস্থিত হলেন। লোকটির সাথে একটি শিশুও ছিল। নবীজি লোকটিকে বললেন, তুমি কি এই শিশুর প্রতি দয়া কর ? সে বলল, হ্যাঁ। নবী কারীম (স.) বললেন, তাহলে এই শিশুর প্রতি তুমি যতটুকু দয়া করবে তারচে বেশি আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করবেন। তিনি দয়ালুর মধ্যে সবচে বড় দয়ালু। আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৩৭৭।



ছোটদের প্রতি দয়া না করলে আমাদের প্রিয় নবীজী (সাঃ) বলেছেন, সে আমার উম্মতের দল ভুক্ত নয়। শিশুদের প্রতি আন্তরিকতা আর ভালবাসা দেখানোর কত বড় কথা। এ কথার মাধ্যমে শিশু শ্রম বা ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম উভয়কেই নিরুৎসাহিত করা হয়েছে চরম ভাবে। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) শিশুদের অত্যন্ত স্নেহ মমতা দিয়ে ভালোবাসতেন। এ ব্যাপারে হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ)-এর চেয়ে আর কাউকেও সন্তানের প্রতি এত অধিক স্নেহ-ভালবাসা প্রকাশ করতে দেখেনি। তিনি প্রাণপ্রিয় কন্যা খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা (রাঃ)কে খুবই স্নেহ করে প্রায়ই বলতেন, ফাতেমা আমার কলিজার টুকরা। শিশু ফাতেমা (রাঃ) যখন তাঁর কাছে যেতেন, তিনি উঠে দাঁড়াতেন এবং ফাতেমার হাত ধরে চুমু দিয়ে তাকে মজলিসে বসাতেন। আবু দাউদ। এর মাধ্যমে পারিবারিক ভাবে পিতা-মাতার কাছ থেকে আন্তরিকতা, ভালবাসা এবং উত্তম শিষ্টাচারের শিক্ষা পাওয়ার দৃষ্টান্ত আমরা পেয়ে যাই। কিন্তু আমরা পিতা-মাতাগণ বর্তমানে শিশুদের সময় দিতে চাই না। বেশি উপার্জনের তাগিদে সন্তানদের অর্থনীতির ভিত মজবুত করার মানসে সোনার টুকরো সন্তানদের কাজের লোকদের তত্ত্বাবধানে রেখে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি। পাশাপাশি আমরা আমাদের কোমলমতি শিশুদের সুশিক্ষা দেয়ার পরিবর্তে তাদের চারপাশে চরিত্র ধ্বংসকারী সংস্কৃতি অবারিত করে রেখেছি। এতে আমাদের শিশুর ভবিষ্যৎ কোন্ দিকে যাচ্ছে তা ভেবে দেখছি না। এর নমুনা আমরা দেখতে পাই বর্তমানে শিশু অপরাধের সব ভয়ংকর সংবাদ ও চিত্র দেখে। শিশুরা মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ছে মারাত্মকভাবে। এর জন্য আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবও অনেকাংশে দায়ী। তাই আমাদের শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ সাধনে তাদেরকে সময় দিতে হবে। মিশতে হবে তাদের সাথে একান্ত বন্ধুর মত। একদিন অবশ্যই সন্তানও আমাদের মনের আকাঙ্ক্ষা বুঝবে।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৯০৩৭৯
পুরোন সংখ্যা