চাঁদপুর, শুক্রবার ৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৯ আশ্বিন ১৪২৬, ৪ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮৩। পরন্তু কেন নয়-প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয়


৮৪। এবং তখন তোমরা তাকাইয়া থাক


৮৫। আর আমি তোমাদের অপেক্ষা তাহার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখিতে পাও না।


 


 


 


assets/data_files/web

হিংসা একটা দরজা বন্ধ করে অন্য দুটো খোলে।


-স্যামুয়েল পালমার।


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


ফটো গ্যালারি
শর্মিলার জীবন যুদ্ধ
নাফিসা নেওয়াজ
০৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জীবন মানেই যুদ্ধ। প্রতিটি মানুষই তার জীবন যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই, যে জীবনে কষ্ট করেনি, সংগ্রাম করেনি। একেক জনের জীবন একেক রকম। তাই যুদ্ধটাও ভিন্ন ভিন্ন। অনেক মানুষ আছে যারা জীবনে অনেক কষ্ট করে, সংগ্রাম করে , লড়াই করে, বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে নিজের লক্ষ্যে পেঁৗছায়। আসলে কথা আছে, ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। এরকমই একটি মেয়ে যার মনে আছে বল , যে সংগ্রাম করতে শিখেছে, লড়াই করতে শিখেছে তার সম্পর্কে আজ আমি বলবো। মেয়েটির নাম শর্মিলা আক্তার অধরা। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। শর্মিলা অত্যন্ত ভালো ছাত্রী। শর্মিলার পরিবার অনেক শিক্ষিত। কিন্তু শর্মিলার পরিবারের কেউ তাদের শিক্ষাকে কাজে লাগাতে পারেনি। শর্মিলার জীবনটা অনেক কষ্টের। কিন্তু শর্মিলার মা তাকে কষ্টটা বুঝতে দেয় না। শর্মিলা ও শর্মিলার মা অনেক দুঃখী। শর্মিলার বাবা একটা সময় অনেক ভালো ছিল কিন্তু এখন যে কোনো কারণে আগের চেয়ে অনেকটাই বদলে গেছে। শর্মিলা তার বাবা-মা, দাদা-দাদীর সাথে একসাথে থাকতো। শর্মিলার কোনো ভাই-বোন নেই। শর্মিলা মানসিক, আচরণকে, ব্যবহারিক দিক দিয়ে পরিপূর্ণ। ঈদে (শর্মিলার) বড় চাচা-চাচী, ফুফু ও ছোট চাচা ও শর্মিলার চাচাতো বোন আসে। তারা সবাই মিলে একসাথে ঈদ করে। শর্মিলার চাচাতো বোন অনেক ছোট। তার বয়স মাত্র ৩ বছর। চাচাতো ( বোনটি) শর্মিলার বড় চাচার মেয়ে। তার নাম আফিয়া ইবনাত আলিমা। শর্মিলার দাদা হঠাৎ চলতি বছরের ১১ই ফেব্রুয়ারি মারা যায়। শর্মিলার দাদার মৃত্যুর পর থেকে যেন এক ভয়াবহ অশান্তি নেমে এলো তাদের পরিবারে। শর্মিলার দাদা মারা যাওয়ার পর থেকে শর্মিলার বাবা যেন আরও বেশি অত্যাচার করতে লাগল তাদের ওপর। এজন্য সবাই শর্মিলার বাবার ওপর অত্যন্ত অতিষ্ট হয়ে পড়ে। একদিন হলো কি, সেদিন ছিল শনিবার। রাত ৮.৩০ টা বাজে। শর্মিলাদের বাসায় মেহমান ছিল। মেহমান চলে যাওয়ার পর ঘটনাটি ঘটে। শর্মিলার বাবা হঠাৎ রুম থেকে বের হয়ে শর্মিলার মাকে বলছে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে। তারপর শর্মিলা ও শর্মিলার মা শর্মিলার দাদুর রুমে চলে যায়। শর্মিলার দাদু তখন নামাজ পড়ছিলো। শর্মিলার বাবা শর্মিলার মাকে খুব মারধর করে। শর্মিমার মা ঐদিন রাতে শর্মিলার খালার বাসায় চলে যায়। পরেরদিন শর্মিলাও স্কুল থেকে তার খালার বাসায় চলে আসে। সেখানে তারা ১ মাস ১০ দিন ছিল। শর্মিলা যখন তার দাদুর বাসা থেকে চলে আসে শর্মিলার দাদু খুব কেঁদেছিল। ১ মাস ১০ দিন পর শর্মিলার দাদু ও শর্মিলার বাবা শর্মিলার মাকে তাদের খালার বাসা থেকে নিয়ে আসলো। শর্মিলার দাদু সিদ্ধান্ত নেয় শর্মিলার বাবাকে বাসা থেকে বের করে দেবে। শর্মিলার দাদু ভাইকে ডাকা হয় এবং ওনার সাহায্য নিয়েই শর্মিলার বাবাকে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। সেদিন রাতে শর্মিলা, তার দাদু ও তার মা তাদের এক আত্মীয়ের বাসায় চলে যায়। শর্মিলার দাদু শর্মিলার বাবার প্রতি খুবই ভালোবাসা ছিল। কয়েকিদন পর তারা সবাই তাদের বাসায় চলে এলো। শর্মিলার বাবাকেও ঘরে নিয়ে এলো শর্মিলার দাদু। তারপর আবার কয়েকদিন পর ঠিক এমনটাই করলো শর্মিলার বাবা। এইরকম বারবার অত্যাচার সহ্য করতে করতে শর্মিলার মা এবার আসল সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা আলাদা হয়ে যাবে। তারা আলাদা হয়ে গেলে শর্মিলা ও শর্মিলার মা নতুন বাসায় উঠে গেল। শর্মিলার মা অনেক কষ্ট করছে শর্মিলাকে পড়াশোনা করানোর জন্য। শর্মিলারও আগ্রহ আছে পড়াশোনার জন্য, কিন্তু এত খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও ভালো করে পড়াশোনা করার চেষ্টা করে, ভালো রেজাল্ট করার চেষ্টা করছে। সে করতেও পেরেছে ভালো রেজাল্ট। তার মা এজন্যই খুবই সন্তুষ্ট শর্মিলার ওপর। শর্মিলার জীবনের লক্ষ্য হচ্ছে জীবনে মানুষের মতো মানুষ হয়ে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবে। মায়ের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেবে। সে সামনে আরও ভালো রেজাল্ট করবে। শর্মিলার জীবনের প্রথম ডাক ছিল মা। শেষ ডাকও হবে মা। তার জীবনে মায়ের অবদান অপরিসীম। মা হচ্ছে প্রতিটি মানুষের জীবনে এক মূল্যবান জিনিস। জীবন যুদ্ধ করতে হলে মায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আসলে মানুষ হতে হলে মায়ের অবদান দরকার হয়। জীবনে কষ্ট, সংগ্রাম, লড়াই না করলে কখনো প্রকৃত আদর্শ মানুষ হওয়া যায় না। প্রতিটি মানুষের জীবনে মায়ের অবদান অপরিসীম। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত মাকে সম্মান করা, শ্রদ্ধা করা, মায়ের মনে কষ্ট না দেওয়া। একটি ছোট্ট প্রবাদ বাক্য,



মা কথাটি ছোট্ট অতি, কিন্তু যেন ভাই



ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।



আমাদের সবার উচিত পড়াশোনা করা। কারণ আমাদের সমাজে মূর্খের দরকার হয় না, হয় প্রকৃত শিক্ষিত মানুষের দরকার। তাহলে শর্মিলার মতো হাজারো শর্মিলা তাদের মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে। আসলে মেয়েরা বা নারীরা পারে না এমন কিছু নেই আমাদের পৃথিবীতে। মানুষ চাইলে সব করতে পারে। কিন্তু তার জন্য দরকার হয় শুধু ধৈর্য, পরিশ্রম, ইচ্ছাশক্তি ও চেষ্টা। এগুলো যে ধরে রাখতে পারবে সে সফল হবে জীবনে। সে আনন্দ করতে পারবে জীবনে।



এ শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছাড়া মানুষ যেমন বিকলাঙ্গ,



শিক্ষা ছাড়া মানুষের জীবন তেমনি বিকলাঙ্গ



'পরিশ্রম, লড়াই, সংগ্রাম, সাফল্যের চাবিকাঠি।'



তাই জীবনে পরিশ্রম, লড়াই, সংগ্রাম করলেই সফল



হওয়া যায়, তাই তো বলা হয় জীবন মানে যুদ্ধ'



 



লেখক : শিক্ষার্থী, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২০৫৩৩
পুরোন সংখ্যা