চাঁদপুর, শুক্রবার ৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৯ আশ্বিন ১৪২৬, ৪ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮৩। পরন্তু কেন নয়-প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয়


৮৪। এবং তখন তোমরা তাকাইয়া থাক


৮৫। আর আমি তোমাদের অপেক্ষা তাহার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখিতে পাও না।


 


 


 


assets/data_files/web

হিংসা একটা দরজা বন্ধ করে অন্য দুটো খোলে।


-স্যামুয়েল পালমার।


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


ফটো গ্যালারি
গাঁয়ে ভূতের হ-য-ব-র-ল তাণ্ডব
নাজমুল হোসেন
০৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আজ আমি তোমাদের একটি গল্প বলবো। খুব সম্ভবত বেশিদিন হবে না ঘটনাটি। আজ থেকে ৫ বছর আগে ঘটেছিল। আমি তখন গ্রামের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। আমাদের গ্রামটি খুবই নির্জন। গ্রামটি দেখতে খুব সুন্দর। রাস্তার পাশে বাঁশ গাছ। লম্বা খাড়াভাবে পাতাগুলো দুদিকে ছাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আবার পাশে পুকুর, মাছেরা হঠাৎ ডলপিনের মতো লাফ দিয়ে পুকুরটিকে পুরো সাগরের মতো করে রাখে। রাস্তার তিনমোড়ে দাঁড়িয়ে আছে তিনটি করে বিশাল তালগাছ। অবশ্য ভাদ্র মাসে দুটিতে তাল ধরলেও একটি গাছে ধরে না। সবাই বলে এটি নাকি ছেলে তালগাছ। তাই এটাতে তাল ধরে না। তালগাছের সামনে ধু-ধু করা বিশাল এক বিল। দৈর্ঘ্য ২ কি.মি. প্রস্থ ১.৫ কি.মি.। আরও আছে রাস্তার দু'পাশে সারি সারি তালগাছ, খেজুর গাছ, সুপারি বন। অপরূপ প্রকৃতিতে বিভিন্ন রূপ। একটি গাছের কথা না বললেই নয়। আগে যখন আমরা ছোট ছিলাম তখন বসন্তের সময় একটা ফল পাকতো, আমরা বলতাম কাইজ্জম। যার সকালে গিয়ে সেখান থেকে কাইজ্জম আনতে পারত তারা বেশি পেতো। আমি পরে যাওয়াতে কম পেতাম। তাই যেগুলোই পেতাম সেগুলো খেতাম না। রেখে দিতাম। বিকালে সবাই যখন খেলতে আসত তখন আমি সবাইরে দেখিয়ে দেখিয়ে খেতাম। আবার বসন্তের শিমুল ফুল কুড়ানো নিয়েও ছিল সবার তুমুল প্রতিযোগিতা। বিকেলে টায়ার অথবা খাঁচার চাঁচ নিয়ে ছিল প্রতিযোগিতা।



আসলে কোথা থেকে কোথায় এসে পড়লাম। এই ঘটনাগুলো মধুর স্বপ্নের মতো ভাসে যখন গ্রামকে কল্পনা করি। তাই কখনো কখনো গ্রামকে এভাবেই স্মৃতিতে যোগ করে ভালোবাসার সন্ধি করি। তোমাদেরকে এতক্ষণ আমার যে গ্রামের কথা বললাম, তোমরা কল্পনা করেছ, গ্রামটা কতই না সুন্দর। সত্যিই তোমরা যা কল্পনা কর তার চেয়ে বেশি সুন্দর। তোমরা কি ভাবতে পারবে এই সুন্দর গ্রামটিতে এত ভয়ঙ্কর ঘটনা থাকতে পারে।



সবার ভাবনা : কখনো না। তবুও বলছি গ্রামের একটি ভূতের তা-বের কিছু কথা। সত্যি বলতে, এটি কল্পনাশ্রিত কোনো কাহিনী নয়। এটি ছোটবেলায় নিজ চোখে দেখা কিছু স্মৃতি।



সেদিন ছিল মঙ্গলবার। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। মাগরিবের আযানের কিছুক্ষণ পরে শুরু হল ঘন অাঁধার। হঠাৎ উত্তর কানীর শরিফের মা দৌড়ে আসল আমার দাদার কাছে। বলল আমাদের বাঁশ ঝোপ থেকে কে যেনো 'জমিদ ঐ জমিদ আজকে তোরে খামু তোর বাঁশও খামু।' এমন কিছু বলে ডাকছিলো। শরীফের মার কথা শুনে দাদা একটা ঝাড়ু নিয়া কইলো, কই? এটা বলে বাগানের দিকে যেতে চাইল। কিন্তু আমরা দেই না। শরীফের মার ঘরটা আমাদের বাগানের পাশে ছিল। তো দাদা আর মহসিন চাচা গেল, সাথে আমিও। আমি শরীফদের ঘরের জানালা দিয়ে দেখছি। বাঁশগুলো মড়মড় করে উঠছে কিছুক্ষণ পরপর। আর মহসিন চাচাকে দেখলাম লাইট নিয়ে ঝাড়ু হাতে দাঁড়িয়ে আছে। আর দাদা কী দোয়া যেন পড়ছিল। আর একটা কাল্পা গাছের ডাল ভেঙ্গে ঝাড় ফুঁক দিয়ে কইলো, হারামি আর আবি নি... এই বাড়িতে। আমার বাঁশ ভাংতি আইছোছ, তোগো একদিন কি আমার একদিন। তখন বাড়ির অনেকেই জেনে এসেছে ভূত দৌড়ানো দেখতে।



আমার দাদা লাঠিটা যেইনা বাঁশ ঝোপে মারছিলো ভূতগুলো বলল, জমিদ ঠিক করছ না। ওরে মাগো, ওরে মাগো, হুজুর আমনেরে সেলাম। এই বলে চলে গেলো। আর আমার জীবনে আমি প্রথম ভূত তাড়ানো দেখছিলাম। পরদিন মাটির সরা চারটি বাড়ির চারকোণে বেঁধে দিল। তার কিছুদিন পরেই কবিরাজ বাড়িতে গিয়ে হাবিবের ছোট ভাইকে মেরে এটার প্রতিশোধ নিয়েছিলো। গ্রামে তখন কেমন যেন একটা ভূতুড়ে পরিবেশ দানা বাঁধল। রাত দশটার পরে রাস্তায় কেউ থাকলে গাড়ি নিয়ে গেলে এঙ্েিডন্ট করতো। এমন এক হ-য-ব-র-ল পরিবেশ।



অবশেষে চাকমা এক বড় কবিরাজ নিয়ে এই ভূতদের বন্দী করল। দাদার পিছু নিয়ে ভূতগুলো গাঁয়ে এত ক্ষতি করেছিল। আর আজও জানি না যে, কেনো ভূতগুলো দাদার পিছু নিয়েছিল? তখন অবশ্য জিজ্ঞাস করলে জানতে পারতাম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দাদা চলে গেছে আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য। সেই বাঁশ বাগানের নিচে, গাঁয়ের আরো কত হাস্য, রস্য, ভয়ানক, দুঃখ কান্নার কাহিনী আছে, যা সময়ের অভাবে তোমাদের শোনাতে পারি নি। হ্যাঁ, আশা করি সময়-সুযোগ করে শোনাবো।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১৮৭১৮
পুরোন সংখ্যা