চাঁদপুর, শুক্রবার ৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৯ আশ্বিন ১৪২৬, ৪ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮৩। পরন্তু কেন নয়-প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয়


৮৪। এবং তখন তোমরা তাকাইয়া থাক


৮৫। আর আমি তোমাদের অপেক্ষা তাহার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখিতে পাও না।


 


 


 


assets/data_files/web

হিংসা একটা দরজা বন্ধ করে অন্য দুটো খোলে।


-স্যামুয়েল পালমার।


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


ফটো গ্যালারি
শিশুদের প্রতি আমাদের কর্তব্য
মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ
০৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাগানে যে ফুলগুলো ফুটে তার নিষ্কলুষতার সাথে শিশুদের তুলনা করা যায়। শিশুরা সুন্দর মনের সুন্দর মানের সুন্দর চরিত্রের। ফুলেরা সুন্দর সুভাসিত বাগানের শোভা বর্ধন করে ভ্রমরকে আকর্ষণ করে। মৌমাছিরা ছুটে যায় ফুলেদের মধু আহরণে। ঠিক ফুলেদের মতো শিশুরা তার আধো আধো কথার বাক্যবানে মুখরিত করে রাখে ঘরের আঙ্গিনা, পিতা-মাতার মন, দাদা-দাদীর হৃদয়, পাড়া-পড়শির খেলার মঞ্চ। শিশুরা আমাদের বেঁচে থাকার প্রেরণা, জীবন সাজানোর স্বপ্ন। যার ঘরে এমন স্বর্গীয় দান নেই তার ঘর মরুময় সাহারার মতো নিস্তব্ধ, নিরব সুনসান, একাকী গুমোট বিরান স্থানের মতো। যেখানে ঝিঁঝিঁ পোকার কোন শব্দ নেই। সবুজ বন ধুসর মনে হয়। পিতা-মাতার মুখে হাসি নেই, দাদা-দাদীর চোখে উচ্ছ্বাস নেই, পরিবারের মাঝে শান্তি নেই। একটি শিশুর জন্য শুধুই হাহাকার আর হাহাকার। শিশু ব্যক্তি পরিবার সমাজ রাষ্ট্রের জন্য মহান আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। যদি তাকে আদর্শ, ন্যায় নিষ্ঠ, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা যায়।



আমাদের উচিত শিশুদের আদর্শ পরিবেশে গড়ে তোলা। ঘর বিদ্যালয় খেলার মাঠ বিনোদনের জায়গা আত্মীয় পরিজন সকল স্থানকে শিশু বান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু বিপজ্জনকভাবে শিশুরা বিভিন্ন ভাবে নিগ্রহের শিকার হচ্ছে। যা আমাদের দেশসহ বিশ্বেও বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা জানান দেয়।



এক সময় শিশুর জন্য কোন শিশু দিবস ছিল না। এখন বিশ্ব ব্যাপী জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে বিশ্ব শিশু দিবস পালিত হয়। তারপরও কি পৃথিবীর শিশুরা এখন নিরাপদ? সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদী নীতির ফলে বিশ্ব জুড়ে যে সব যুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে তাতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী ও শিশুরা। এই ক্ষতিগ্রন্ত ও বিপদগ্রস্ত শিশু বড় হয়ে তারা যদি পৃথিবীর নেতৃত্ব গ্রহণ করে তবে দেশে দেশে শান্তি আসবে কিভাবে?



এই শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য আমাদের কর্তব্য পালন করতে হবে। পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, চাচা-চাচী, মামা-মামী, খালা-খালু আরও যত আপনজন সকলেরই রয়েছে অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের কর্তব্য সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হলে শিশুরা বিপথগামীতার পরিবেশ থেকে পরিত্রাণ পাবে। উন্নত জীবন গড়ার জন্য সন্তানের মনোভাব বোঝাটাও একান্ত জরুরী। তাই শৈশব কাল থেকে সন্তানের মনোভাব বুঝে তার আগ্রহের বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে পিতা-মাতাকে সুবিবেচনার পরিচয় দিতে হবে।



একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম পাঠশালা হলো তার পরিবার। যে পরিবারে পিতা এবং মাতার মাঝে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের ভীত মজবুত রয়েছে সে পরিবারের সন্তান প্রথমত পিতা-মাতার অনুকরণে অন্যকেও ভালোবাসতে শিখে। এর পর রয়েছে পারিবারিক বন্ধন। যে পরিবারে বাবা চাচা ফুফুদের মাঝে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বিরাজমান সে পরিবারের সন্তানেরা তার পরবর্তী প্রজন্মের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার একটি সুন্দর পরিবেশ খুঁজে পায়। তারা তখন পরস্পরকে ভালোবাসতে শিখে, পরস্পরকে শ্রদ্ধা করতে শিখে। জীবনে হতাশা থেকে মুক্ত হয়ে আস্থার জায়গাটুকু খুঁজে পায়। একতা শিখে, ঐক্যবদ্ধ জীবনের সুবিধাগুলো কাছে থেকে দেখতে পায়। নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য শিখতে পারে। কারণ যে পরিবারে উপরোক্ত বৈশিষ্ট্য থাকে তা হলো যৌথ পরিবার। আর যৌথ পরিবারে একজনের নেতৃত্বে সকলের চলতে হয়। অপরদিকে একক পরিবারের অসামান্য ব্যক্তি স্বাধীনতা আমাদের শিশুদের কখনো কখনো এত বেপরোয়া করে দিচ্ছে যে বর্তমানে এই বেপরোয়া শিশুদের লাগাম টেনে ধরতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পিতা-মাতাদের। একক পরিবারের শিশুরা তথ্য প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের সুযোগ পায়। এ ধরনের পরিবারে ভালো মন্দ বুঝিয়ে দেয়ার তেমন কোন ব্যক্তি থাকে না। পরিবারের অন্য সদস্য যেমন চাচা-চাচী, চাচাতো ভাই-বোন বা অন্য সদস্যদের সাথে একক পরিবারের শিশুদের তেমন কোন সম্পর্ক থাকে না। আপনজনরা তাদের কাছে পর বলে মনে হয়। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জেনারেশন গ্যাপ।



বর্তমানে কিশোর অপরাধ দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু তা অনেকাংশে কার্যকর হচ্ছে না। কারণ শিশুরা তাদের মূল্যবান সময় যখন একাকি কাটে তখন তারা এ একাকিত্ব দূর করার জন্য প্রযুক্তি নির্ভর নানান ধরনের অপরাধে নিজেদের নিমজ্জিত করে রাখে। কিন্তু শিশুদের প্রযুক্তির ইতিবাচক দিক বুঝিয়ে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করার কোন সুযোগ থাকছে না। কারণ পিতা-মাতা উভয়েই কর্মব্যস্ত। তারা সন্তানের ভবিষৎ বিনির্মাণে অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত। কিন্তু এ অর্থ যাদের জন্য, তারা যে সঠিক পথে নেই তা টের পায় অনেক পরে। কিন্তু তখন আর কিছুই করার থাকে না। এখানে যদি পরিবারটি যৌথ হতো তা হলে পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিটি শিশুটিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারতেন।



সমাজ বিজ্ঞানীদের নিরন্তর প্রচেষ্টা একটি সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ উপহার দেয়ার জন্য । যেখানে বেড়ে উঠবে নিরাপদে নিশ্চিন্তে সুন্দর মন নিয়ে একটি শিশু। যে শিশুর চরিত্র হবে উন্নত, মানসিক বিকাশ হবে মজবুত। কিন্তু তারা যে সব ফর্মুলা দেন তাতে ধর্মীয় শিক্ষার উপস্থিতি কম। সমাজবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন ফর্মুলার সাথে ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় ঘটালে একটি শিশু যেমন আধুনিক হবে তেমনি তার সৃষ্টি ও স্রষ্টার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি হবে অত্যন্ত সুদৃঢ়। পরিবার সমাজ রাষ্ট্র এক কথায় সব কিছুর প্রতি তার শ্রদ্ধা দায়িত্ববোধ হবে অনেক উন্নত।



শিশুদের ব্যাপারে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত পরিষ্কার। এ ব্যাপারে হাদীসের বাণিগুলো প্রণিদানযোগ্য। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একবার এক ব্যক্তি নবী (স.) এর নিকট উপস্থিত হলেন। লোকটির সাথে একটি শিশুও ছিল। নবীজি লোকটিকে বললেন, তুমি কি এই শিশুর প্রতি দয়া কর ? সে বলল, হ্যাঁ। নবী কারীম (স.) বললেন, তাহলে এই শিশুর প্রতি তুমি যতটুকু দয়া করবে তারচে বেশি আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করবেন। তিনি দয়ালুর মধ্যে সবচে বড় দয়ালু। আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৩৭৭।



ছোটদের প্রতি দয়া না করলে আমাদের প্রিয় নবীজি (স.) বলেছেন, সে আমার উম্মতের দল ভুক্ত নয়। শিশুদের প্রতি আন্তরিকতা আর ভালবাসা দেখানোর গুরুত্ব অনেক। এ কথার মাধ্যমে শিশু শ্রম বা ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম উভয়কেই নিরুৎসাহিত করা হয়েছে চরম ভাবে। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (স.) শিশুদের অত্যন্ত স্নেহ মমতা দিয়ে ভালোবাসতেন। এ ব্যাপারে হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল (স.) এর চেয়ে আর কাউকেও সন্তানের প্রতি এত অধিক স্নেহ-ভালবাসা প্রকাশ করতে দেখেনি।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১৮২০৫
পুরোন সংখ্যা