চাঁদপুর, শুক্রবার ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২ ভাদ্র ১৪২৬, ৬ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৬। উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।


৬৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৬৮। সেথায় রহিয়াছে ফলমূল -খর্জুর ও আনার।


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
সফলতা ও ব্যর্থতা
কাজী আজিজুল হাকিম নাহিন
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পৃথিবীতে মানুষ অল্প সময়ের জন্যে আসে। পৃথিবীতে এসেই একটু একটু করে যখন বড় হতে শুরু করে ঠিক তখনই ঘোড়ার রেইসের মতো ছুটতে হয়। তাদের এই রেইস চলতে থাকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। এই চলতে থাকা জীবনের মধ্যে লুকিয়ে থাকে হাজারো আত্মকাহিনী, সুখ, দুঃখ, বেদনা, সাফল্য। কেউ জীবনে সফল হয় আবার হয় না। যারা সফল হয় তারা নিজ চেষ্টায় হয়, আবার পরিবারের চেষ্টায়ও হয়। আর যারা সফল হয় না তাদের নিজের দোষ তো থাকেই, পরিবারের দোষও থাকে। সফল ব্যক্তি আর ব্যর্থ ব্যক্তিদের মধ্যে সফলদের বেশি এগিয়ে রাখা হয়। কারণ যারা জীবনে সফল ব্যর্থরা তাদের ধারে কাছেও যেতে পারে না। ফলে সফলদের দোষ থাকলে তা চোখে পড়ে না এবং দোষ চোখে পড়লেও তা কেউ বলতে যায় না। কারণ তারা তো সফল। অন্যদিকে যারা ব্যর্থ তাদের একটু হলেই দোষের সীমা থাকে না। সকলই তাদের ছোট করে রাখে। কিন্তু সফল ব্যক্তি আর ব্যর্থ ব্যক্তি দু জনই কিন্তু মানুষ। মানুষ হয়েও তারা দু ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। পরিবার, অফিস, আদালত, ব্যক্তিজীবন সব জায়গায় সফল ব্যক্তি ও ব্যর্থ ব্যক্তি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তার মধ্যে যারা সাফল্য অর্জন করেছে তাদের মনে অন্যরকম অনুভূতি হয়। তারা তাদের হাসি, দুঃখ, ক্ষোভ, রাগ মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু ব্যর্থ ব্যক্তিরা তা পারে না। এমনই এক ব্যর্থ ব্যক্তি হামজা।



হামজা হচ্ছে একজন উচ্চ বংশের ছেলে। সে ছোট বেলা থেকে শান্ত স্বভাবের। কিন্তু সেই শান্ত স্বভাবের ছেলেটা যে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শান্ত থেকে যাবে তা কে জানতো। হামজারা ২ ভাই ও ১ বোন। হামজা সবার ছোট। হামজা পরিবারের শান্ত ছেলে হলেও তার রাগ ক্ষোভ সবই ছিলো, বুদ্ধিও খারাপ ছিলো না। সে তার নিজের ভালো লাগাকে ও তার নিজস্ব মতামত তার পরিবারের কাছে তুলে ধরতে পারেনি। তুলে ধরলেও কেউ গুরুত্ব দেয়নি। ফলে পরিবারের ভালো লাগাকেও সে তেমন গুরুত্ব দিতে পারেনি। গুরুত্ব দিলেও তা বুঝতে পারেনি। যার ফলে সে সব জায়গায় ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। আর অন্যদিকে তার বড় ভাই বোন পরিবারের কাছে ভালো লাগা তুলে ধরতে পেরেছে এবং সফলতা অর্জন করেছে। যার ফলে আজ হামজার চেয়ে হামজার ভাই-বোনের গুরুত্ব বেশি। হামজার রাগ, দুঃখ, কষ্ট, কোনো ইচ্ছা হলেও তা প্রকাশ করতে পারে না। মুখ বুঁজে বসে থাকতে হয়। অন্যদিকে তার ভাই-বোনের হাসি, দুঃখ, রাগকে প্রকাশ করতে পারে এবং পরিবার তাদের অনেক গুরুত্ব দেয়। কারণ তারা সফল।



সফলরা প্রায়শই ব্যর্থদের কষ্ট দেয়, ছোট করে, অসম্মান করে। সফলরা মনে করে, আমি সফল ও ব্যর্থ। আমি ওর থেকে বড়। সফল আর ব্যর্থতার মধ্যে যে পার্থক্য আজ আমরা সৃষ্টি করি তার মধ্যে সফল ব্যক্তিরা আনন্দ পেলেও ব্যর্থরা মনে ব্যথা পায় কিছু পরিস্থিতির জন্য। এর জন্য যেমন পরিবার-সমাজ দায়ী তেমন নিজেও। এ পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনেকেই। এ পরিস্থিতির জন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। পরিবার ও সমাজ জীবনে সকলকে সমান ভাবে মূল্য দিলে কেউ পিছিয়ে থাকবে না, মনে কষ্ট পাবে না। সবার মতামত জানতে হবে। ভালো লাগা মন্দ লাগাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তাহলে আর সফল আর ব্যর্থতার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হবে না এবং মানুষের প্রতি মানুষের রাগ, ক্ষোভ জন্ম নিবে না। মনে রাখতে হবে, আমরা সবাই মানুষ। জীবনের শুরুতে আমরা যেই রেইস শুরু করি তা একদিন শেষ হয়ে যাবে। তাই আগে থেকেই সতর্ক হওয়া উচিত। সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটোই মানুষের জীবনের অংশ। তাই কাউকে ছোট করা উচিত নয়।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৮৫৪০১
পুরোন সংখ্যা