চাঁদপুর, শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


কাহারো উপর অত্যাচার করা হইলে সে যদি সবর করিয়া চুপ থাকিতে পারে, আল্লাহ তাহার সম্মান বৃদ্ধি করিয়া দেন।


 


ফটো গ্যালারি
বাবার ডায়েরিটা
শামীম মিয়া
২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাবা তার একমাত্র মেয়ে দীপ্তির দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছেন এবং বলছেন, আমার মেয়েটা বড় হয়ে গেছে। বাবার সব স্বপ্ন যেনো দীপ্তি ও দীপ্তিকে নিয়ে। বাবা বিড়বিড় করে কথাগুলো বলছে। দীপ্তি বাবাকে বললো, বাবা তুমি একা একা কার সাথে কথা বলছো ? বাবা বললো, নারে মা, আমি ভাবছি আমার ছোট্ট মা মনিটা আজ কত বড় হয়েছে। দীপ্তি বাবার কথায় কান না দিয়ে বললো, বাবা আমি একটি নতুন লাল জামা চাই। যদি জামা না পাই, তাহলে আগামীকাল থেকে স্কুলে যাবো না। বাবা বললো, কয়দিন আগেই তো এনে দিলাম নতুন জামা। দীপ্তি বললো, ওটা পুরাতন হয়েছে। আমি নতুন জামা চাই আজকেই। বাবা জানে দীপ্তি বড্ড জেদী। একবার মুখ দিয়ে যা বলে তাই করে। বাবা দীপ্তির জিদের কাছে হেরে গিয়ে বললো, ঠিক আছে মা, এনে দিবো। এই কথা বলে বাবা তার রুমে গেলেন । দীপ্তির হঠাৎ মনে পড়ে গেলো তার কলম নেই। বাবাকে জানানোর জন্য বাবার রুমে এলো দীপ্তি। দীপ্তি এসে দেখলো, বাবা প্রতিদিনের মতো ইয়া বড় একটা ডায়েরিতে কী যেনো লেখছেন? দীপ্তি কোনোদিন দেখেনি আসলে বাবা ডায়েরিতে কী লেখেন এতো। দীপ্তি বাবাকে বললো, বাবা আমার কলম লাগবে চারটি । আমার কলম নেই। নতুন জামার সাথে চারটি কলম আনবে। বাবা বললো, চারটি কেন একটি বা দুটি হলেই তো হয় ? দীপ্তি বললো, আমার বন্ধুদের তো একটি দুটি করে কলম আছেই। আমি চারটি নিয়ে যাবো, স্কুলে বন্ধুদের বলবো, আমার চারটি কলম আছে, তোমাদের কয়টি কলম আছে? ওরা লজ্জা পাবে, আমি মজা পাবো। বাবা জানে কোনো কিছু বলে লাভ নেই। শুধু মাথা নাড়িয়ে বললেন, ঠিক আছে আনবো।



সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলো। বাবা বাজার থেকে আসছে না কেনো যে, ভাবছে দীপ্তি। দীপ্তির ইচ্ছা নতুন জামা হাতে পেয়েই পড়তে বসবে। কিন্তু বাবা তো আসছে না এখনো। মা পড়তে বসার কথা বললেও পড়তে বসেনি দীপ্তি। দীপ্তি গুটি গুটি পায়ে বাবার রুমে এলো এবং মনে মনে বললো, বাবার রুমেই ঘুমিয়ে পড়ি,বাবা আসলে আমাকে ডাকবেই। এ কথা ও কথা ভাবতেই দীপ্তির চোখ যায় বাবার ডায়েরিটার দিকে। দীপ্তি বাবার ডায়েরিটা হাতে নিয়ে মনে মনে বলছে, বাবা এই ডায়েরিতে কী লেখে ? দীপ্তি মনোযোগ সহকারে বাবার ডায়েরিটা পড়তে শুরু করলো। প্রথম পৃষ্ঠায় বাবা লিখেছেন, আমি যখন আমার দীপ্তি মা মণির বয়সী ছিলাম, তখন ২য় শ্রেণীতে পড়তাম। আমার বাবা-মা আমাকে শার্ট প্যান্ট কিনে দিতে পারতো না, অন্যের দেয়া পুরাতন ছেঁড়া জামা পরেই আমি স্কুলে যেতাম এবং সবার চেয়ে ভালো ছাত্র ছিলাম। কিন্তু আমার মেয়ে দীপ্তি কয়দিন পর পর নতুন জামা চায়। দীপ্তি এক এক করে সব পৃষ্ঠা পড়ছে। এতে বাবার জীবনী লেখা আছে। দীপ্তির চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। বাবা সব শেষে লেখেছেন, আমার মেয়ে আজও আমার থেকে নতুন একটি জামা চেয়েছে। আমি বাবা, আমি চাইবো, আমার মেয়ে সব সময় হাসি খুশি থাকুক। কিন্তু দীপ্তি মা মনি কি কখনো ভাবে, আমি তার বাবা কোথা থেকে এতো টাকা পাই? আসলে আমি আমার মেয়েকে আমার মায়ের মতোই ভালোবাসি। ছোট্ট বেলায় আমার বাবা-মা মারা গেছেন,আমার মেয়েকে পেয়ে আমি আমার মায়ের অভাব ভুলে গেছি। বড়ই মায়া হয় দীপ্তির মামার বাসায় কাজের মেয়ে সোমার জন্যে, সেও আমার মতোই মা হারা। ইচ্ছা ছিলো সোমাকে একটা নতুন জামা কিনে দিবো তা আর হলো না। কিন্তু আজ দীপ্তির জন্যে জামা আনলে সব টাকা পুরিয়ে যাবে। জানি না কেন যে মেয়েটা এমন জেদী হলো? আমি তো আমার মেয়েকে এমন ভাবে দেখতে চাইনি। আমি চেয়েছি ,আমার মেয়ে পড়াশুনা করে একদিন অনেক বড় হবে, দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে। আজ সে কলমও চেয়েছে চারটি, একটি বা দুটি কলমই তো যথেষ্ট। সে কেনো বুঝে না মানুষের অহংকার অস্থায়ী, স্থায়ী নয়। আমি আমার মেয়েকে আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। দীপ্তির চোখের পানিতে বুকটি ভিজে গেছে যাচ্ছে। হঠাৎ কে যেনো দরজায় করা নাড়ছে, দীপ্তি ডায়েরিটা যেখানে ছিলো সেখানে রেখে দরজা খুলে দেখলো বাবা এসেছে। দীপ্তি বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললো, বাবা আর এমনটি হবে না। তুমি যেভাবে বলবে আমি সে ভাবে চলবো। বাবা আমি তোমার ডায়েরিটি পড়েছি। আজ থেকে আমি তোমার সত্যিকারের মা। বাবা একটি কথা আমার জন্য যে জামাটি এনেছো সেই জামাটি আগামীকাল সোমাকে দিয়ে আসবো। বাবা, দীপ্তিকে একটা চুমো দিয়ে বললো, লক্ষ্মী মা আমার, তুমি অনেক বড় হও দোয়া করি।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২০০১
পুরোন সংখ্যা