চাঁদপুর, শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


 


assets/data_files/web

একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি সাদা কাকের মতোই দুর্লভ। -জুভেনাল।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
লোভ করা ভালো নয়
সালমান বেপারী (ফার্সী)
২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


একটি মানুষের একটি জীবনই আছে। সময়ের ব্যবধানে একটি জীবন একটি ঘটনার জন্যে নষ্ট হয়ে যায়। কতই না সুখ আসে জীবনে, সুখ চলে গেলে খুব কষ্ট হয়। এই কারণে দুঃখ আসার আগে সুখে থাকার সময় দুঃখের কথা ভেবে সুখকে কাজে লাগিয়ে কষ্ট দূর করা সম্ভব। সুখে আনন্দে থাকার সময়ে আমরা কষ্টকে ভুলে যাই। এই সুখের সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটে ওই সুখটাকে দুঃখে পরিণত করে। একটি মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ দুটোই আছে।



একজন একটি সময়ে সুখে থাকে, কিন্তু এই একই সময় আরেক জনের দুঃখ থাকে। এই কারণে যখন একটি জীবনে দুঃখ থাকে তখন সৃষ্টিকর্তাকে যেনো না ভুলে। সৃষ্টির সকল স্থানেই সৃষ্টিকর্তার স্থান। এজন্যে স্রষ্টাকে উপলব্ধি করতে হলে সৃষ্টির সেবায় নিয়োজিত থাকতে হবে। তাহলে সৃষ্টিকর্তাকে উপলব্ধি করতে পারবো। সৃষ্টিকর্তা সুখ দিয়ে পরীক্ষা করে আবার দুঃখ দিয়েও পরীক্ষা করে। আর সুখ ফেলে আত্মহারা হওয়াও যাবে না এবং দুঃখ ফেলে হতাশাগ্রস্ত হওয়া যাবে না। মানুষের জীবনে সুখও আসে আবার দুঃখও আসে। সকলেরই একটা স্বপ্ন থাকে, এই স্বপ্ন যদি সত্যিকার পূরণ না হয় তাহলে অনেক কষ্ট হয়। এই কষ্টের কারণে অনেকে খারাপ কাজে লিপ্ত হয়। যার কারণে তার পুরো জীবন নষ্ট হয়ে যায়। এই কারণে স্বপ্ন দেখার আগে এই স্বপ্নের কতটুকু সফল হতে পারবে তা চিন্তা করতে হবে। যে স্বপ্ন দ্বারা মনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সাফল্য অর্জন করতে পারবে তা চিন্তা করে স্বপ্ন দেখা ভালো। এ রকম স্বপ্ন দেখা ভালো না যে স্বপ্ন মানুষের জীবনকে মৃত্যুর পথে ধাবিত করবে। স্বপ্নের জন্যে কঠোর পরিশ্রম করলে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হয়। যে স্বপ্ন শেষ হতে হয় সে স্বপ্ন হলো প্রকৃত স্বপ্ন। মৌমাছি যখন বাসা বাঁধে এই বাসা নিয়ে স্বপ্ন দেখে ধীরে ধীরে বড় করে মধুর মৌমি বানায়। কিন্তু মানুষ যখন ওই মধুর বাসাটা ভেঙ্গে মধু নেয় তখন ওই মৌমাছির স্বপ্ন ব্যর্থ হয়। তখন নিজ ইচ্ছায় ওই স্থান ত্যাগ করে। এ রকম আমাদের স্বপ্ন যাতে মৌমাছির মতো না হয়। এমন স্বপ্ন দেখতে হবে যাতে স্বপ্ন ভাঙ্গার কোনো কারণ না হয়। প্রকৃতভাবে প্রতিটি মানুষের জীবনে একটা না একটা স্বপ্ন থাকে। কারো স্বপ্ন পূরণ হয় কারো স্বপ্ন পূরণ হয় না। যাদের স্বপ্ন পূরণ হয় না তাদের স্বপ্ন ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতাই মানুষকে অনেক দূরে নিয়ে যায়। যার স্বপ্ন পূরণ হয় তার জীবনে সুখ লাগে। আর যার স্বপ্ন ব্যর্থ হয় তার কাছে দুঃখ লাগে। এই কারণে বলা যায়, সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন গড়ে উঠে। একজন মানুষ অনেক সময় প্রতিযোগিতা নেয় যা তার কাছে সম্ভব নয়। মানুষের মনোবল এভাবেই নষ্ট হয়ে যায়। এই কারণে কোনো কাজ করার আগে ভেবে নেয়া ভালো। এটি একটি মহৎ গুণ। কোনো একটি কাজের ফলে একজন মানুষের জীবনে অনেক বড় ভুল হয়ে যায়। যার জন্যে তার জীবনে অনেক কষ্ট দেয়। এই কষ্টের কথা ভেবে দুঃখ পায়। আবার কোনো কাজের ফলে একটা জীবন অনেক বড় সম্মান লাভ করে। যার কারণে তার জীবনে তখন সুখ থাকে। সুখ যতোটাই মনে থাকে কিন্তু দুঃখ আজীবনের জন্যে স্মৃতিচারণে গেঁথে যায়। যার জন্যে সে অনেক নিকৃষ্ট পর্যায়ে চলে যায়। এই পর্যায়ে তার বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। একটা মানুষ স্বপ্ন দেখার আগে তার ওই পর্যায় পর্যন্ত যোগ্যতা অর্জন করা প্রয়োজন। যোগ্যাতা অর্জন না করে স্বপ্ন দেখলে ওই স্বপ্ন ব্যর্থ হয়। আর এই ব্যর্থতাই মানুষকে অনেক কিছু ও নিকৃষ্ট মৃত্যুর পর্যায়ে নিয়ে যায়।



এমনই একটি ছেলের জীবনে ঘটে। তার নাম মাহফুজ। তার দুঃখিনী মা হলো স্বপ্না বেগম। মাহফুজ স্বপ্না বেগমের একমাত্র আদরের সন্তান ছিলো। তাদের দারিদ্র্যের কারণে তার মা তাকে পড়াশোনা করাতে পারে না। সে কিছুটা বড় হলে যখন কিছুটা বুঝতে শুরু করে তখন সে স্বপ্ন দেখে, সে একসময় অনেক টাকার মালিক হবে। ধনী হবার জন্যে সে একটি লোকের বাগানের মাঝখানে প্রতিদিন রাতে মালিকের অজান্তে মাটি খোঁড়ে। যাতে রত্ন বলতে কোনো মূল্যবান কিছু পায়। যার ফলে সে অনেক বড় ধনী হতে পারে। এ রকম বাগানের অনেক স্থানে মাটি খোঁড়ে। কোনো কিছুর সন্ধান পায় কি না। কিন্তু আর কিছু দিন হলে মনে হয় পেয়ে যেতো। কিন্তু তার আর সময় হলো না। এই ছোট্ট সময়ের মধ্যে তার এতো বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে সে কল্পনাও করে নি। মাটি খোঁড়ার সময় মাহফুজের অনেক ভয় হতো, মনে হতো তার পিছনে ভূত বা কোনো জানোয়ার এসছে। তাও সে তার কাজ চালিয়ে যেত। তার মা স্বপ্না বেগম তাকে অনেক বার ডাক দিয়েছে, তাও সে মানে নি। দিনে সে মানুষের জমিতে কাজ করতো আর রাত হলে ঐ বাগানে গিয়ে মাটি খোঁড়তো। যাতে সে কোনো মূল্যবান রত্ন পায়। একদিন রাতে যখন সে বাগানে যাওয়ার যাত্রা শুরু করে তখন অচেনা একটি লোক তাকে লক্ষ্য করে দেখে প্রতিদিন রাতে এই বাগানে গিয়ে সে কী করে। এই উদ্দেশ্য করে এর পরের দিন অচেনা লোকটিও এই বাগানের মালিক সহকারে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। আবারো একই ঘটনা দেখতে পেলো। সে বাগানের ভেতরে ঢুকতেছে। এর পেছন দিয়ে অচেনা লোকটি ও বাগানের মালিক তার পিছু নেয়। তারা দেখতে পেল সে বাগানের কাছে গিয়ে মাটি খুঁড়ছে। বাগানের চারপাশে লক্ষ্য করলে দেখতে পায়, আরো অনেক স্থানে মাটি খুঁড়েছে। সবকিছু বাগানের মালিক দেখে তার পরের দিন রাতে আবার পুলিশ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আবার দেখতে পেল বাগানে গিয়ে মাটি খুঁড়ছে। ঐ দিন রাতে পুলিশ তাকে ঘেরাও করে পেলো। তাকে কারাগারে বন্দী করে। তার মা অসহায় হয়ে পড়ে। মাহফুজের সাহসের কারণে আজ কত নিম্ন পর্যায়ে চলে গেল। তারপর তার দুঃখিনী মা একা হয়ে গেল। কারণ তার আরেকটি ছোট্ট ভাই আহাদ সেও এমনভাবে তার দুঃখিনী মা স্বপ্নার জীবন থেকে হারিয়ে যায়। কারণ তার ছোট্ট ভাই ঐ দেশের সবচেয়ে ধনী হওয়ার জন্যে তার মাকে ছেড়ে চলে যায় অনেক দূরে। যতদিন পর্যন্ত ঐ আশা পূরণ না হবে ততদিন পর্যন্ত সে বাড়িতে আসবে না। তা ভেবে সে গ্রামের বাড়িতে কৃষিকাজ করে কিছু টাকা জমায়, তা নিয়ে ট্রেনে চড়ে চলে যায়। মাহফুজ ও স্বপ্না বেগম তাকে অনেক ডাক দিয়েছে। তারপরও সে চলে গিয়েছে। সে অনেক দূরে গিয়ে তার কাছে যত টাকা ছিল তা দিয়ে কিছু পত্রিকা কিনে। পত্রিকাগুলো ট্রেনে চড়ে বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে। দিন দিন তার টাকা বৃদ্ধি হতে থাকে।



এক বছর চলে গিয়ে দুই বছর চলে গেল। তার কোনো খবরাখবর নেই। সে পত্রিকা বিক্রি করে যে টাকা বৃদ্ধি পায় তার থেকে কিছু অংশ দিয়ে একটা সাইকেল কিনে, যা দিয়ে সে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে পত্রিকা বিক্রি করে। যেখান থেকে পত্রিকা কিনে সে সেই স্থানের সকলের সাথে তার পরিচয় আছে। সকলে তাকে চিনে। কারণ অনেকদিন যাবৎ তাদের কাছ থেকে পত্রিকা কিনে আসছে। তার মাঝে মাঝে বাড়ির কথা মনে পড়লে দুঃখ দূরকরণের জন্যে গান গায়। গান গাওয়ার ফলে সে সকল কষ্ট ভুলে যায়। এভাবে অনেকদিন যাবৎ এই কাজ করতে করতে কিছু টাকা জোগাড় হয়। সে রাত কাটিয়ে দেয় রেল স্টেশনে। আবার সকাল হলে পত্রিকা কিনে প্রতিদিনের মত বিক্রি শুরু করে দেয়। সামনে একটি বছর পর আবার ঈদ আসছে, এই কারণে এনজিওরা স্টেশনে দরিদ্রদের ঈদের পোশাক দান করে। সেখানে তাকেও পোশাক দেয়। তার কাছে ঈদের দিন খুব কষ্ট হয়। কারণ তার পরিবারের সাথে থাকতে পারলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবো। কিন্তু এখন এখানে একা একা। চিন্তিত মনে হঠাৎ গান গেয়ে সে তার দুঃখকে ভুলে ঈদের আনন্দ করতে চলে যায়। একটি এলাকায় অনেক বছর থাকায় তার কিছু বন্ধু তৈরি হয়। তাদের সাথে মেলায় আনন্দ করতে চলে যায়। সেখানে রাতে তার বন্ধুরা তাকে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাবায়। তারপর থেকে সে ধীরে ধীরে নেশায় লিপ্ত হয়। সে যাদের সাথে বন্ধুত্ব করেছে তারা সকলে নেশাগ্রস্ত। তাদের সাথে মিশে সে নেশায় পরিপূর্ণভাবে ঢুকে গেছে। এখন সে প্রতিদিন নেশা করে। এত কষ্ট করে এতদিন সে যা টাকা জোগাড় করেছে তা সব নেশা করে শেষ করে দিয়েছে। একে একে তার সকল টাকা শেষ করে দেয় এই নেশা। এখন নেশা করার জন্য সে পাগল হয়ে যায়। সে নেশা করার যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্যে রাতে স্টেশনের রেলের নিচে মাথা দিয়ে মারা যায়। তার সকল স্বপ্ন ব্যর্থ হয়ে যায়। এই কারণে বেশি বড় স্বপ্ন দেখে সাহস দেখিয়ে মৃত্যু ডেকে আনা একটা সাহসী মানুষের কাজ নয়। এটি একটি সাহসহীন মানুষের কাজ। এই সাহসহীনতার কারণে তার মা আজ একা হয়ে গেল। পুরো পরিবার ভেঙ্গে গেল। একমাত্র দরিদ্র থেকে বড়লোক হওয়ার স্বপ্নের কারণে তারা দুই ভাই আহাদ ও মাহফুজ তাদের জীবনে যা ছিল তার চেয়েও নিকৃষ্ট পর্যায়ে চলে গেল। বড় স্বপ্ন দেখার ফলে এখন তিনটি জীবন তিন দিকে চলে গেল। এই বড়লোক হওয়ার লোভ তাদের একে একে তিনটি জীবন শেষ করে দিল। আর এজন্যে বলা হয় 'লোভে পাপ পাপে মৃত্যু'।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭০৬৮৭
পুরোন সংখ্যা