চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৮ আগস্ট ২০১৯, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ৬ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


 


assets/data_files/web

ভালোবাসার কোনো অর্থ নেই, কোনো পরিমাপ নেই।


-সেন্ট জিরোমি


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের নামকরণে কিছু মতামত
রাশেদা আতিক রোজী
০৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার প্রবেশদ্বার । এ প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করেই শিশু উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যায় । দেশে বিরাজমান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে বিভিন্ন হল । এ হলগুলো ছাত্র- ছাত্রীদের আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদেয় সার্টিফিকেটেও হলগুলোর নাম লেখা থাকে। আমাদের হলগুলো সাধারণত দেশবরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী , সমাজসেবী, রাজনীতিবিদ প্রমুখ বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে রয়েছে। যেমন স্যার সলিমুল্লাহ হল, মাস্টার দা সূর্যসেন হল, কবি জসিম উদ্দিন হল , বেগম রোকেয়া হল ইত্যাদি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এসব মনীষীর নামে হলের নামকরণের তাৎপর্য হলো, এসব হলে থেকে যারা পড়াশোনা করবে, তাদের মধ্যে সেই রকম স্পৃহা বা আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করা, যাতে ভবিষ্যতে ছাত্র-ছাত্রীগণ ঐসব বিখ্যাত ব্যক্তিগণের বিশেষ গুণাবলি অর্জনে সচেষ্ট হয়।



ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এমন প্রাণের সঞ্চার করতে হবে, যাতে তারা কোনো না কোনো ব্যক্তিকে তার আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে। যাঁকে সে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবে, তাঁর বিশেষ গুণাবলি অর্জনে সারাজীবনই সে সচেষ্ট থাকবে। এরূপে সকল ছাত্র-ছাত্রী আদর্শ ব্যক্তিদের গুণাবলি অর্জন করতে পারলে সমাজে আদর্শের প্রতীক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।



আমাদের শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে সুনাগরিক তৈরি করা। আর এ সুনাগরিক তৈরিতে প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই আমাদের কাজ শুরু করতে হবে। সেজন্যে প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের মধ্যে বিখ্যাত ব্যাক্তিদের পরিচিতি ঘটাতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, আমাদের প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের এক চতুর্থাংশও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গ-ি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারে না। সুতরাং যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকতে না পেরে বিখ্যাত ব্যক্তিদের গুণাবলি অর্জনে বঞ্চিত হচ্ছে বা হবে তাদেরও দেশ ও জগৎখ্যাত ব্যক্তিদের সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়েই পরিচয় করানো যেতে পারে।



বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রাথমিক স্কুলে আবাসিক কোনো হল নেই। আমাদের রয়েছে মাত্র ৫/৬ টি শ্রেণিকক্ষ। শ্রেণিকক্ষের সামনে লেখা থাকে বিভিন্ন শ্রেণির নাম বা শাখার নাম । শ্রেণি ও শাখার নাম ঠিক রেখে প্রত্যেকটি শ্রেণিকক্ষের নাম দেশীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন মনীষী, কবি-সাহিত্যিক, সমাজবিজ্ঞানী, জাতীয় নেতা , বিজ্ঞানীদের নামে নামকরণ করা যেতে পারে।



শ্রেণিকক্ষের বাইরে (দরজার উপর) বিখ্যাত ব্যক্তির নাম, মৃত হলে তাঁর জন্ম-মৃত্যুর তারিখসহ অতি সংক্ষেপে ২/৩টি বাক্যে তাঁর কর্মকা-ের বর্ণনা থাকতে পারে । যা পড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থী ছবি দেখে তার সাথে সংশ্লিষ্ট তথ্য নিজে নিজেই পড়ে নেবে। অনানুষ্ঠানিকভাবেই শিশু বিখ্যাত ব্যক্তিদের চিনে নেবে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে ছবি এবং লেখা যেন সুস্পষ্ট ও দৃশ্যযোগ্য হয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরের জায়গাটি বেছে নেয়ার পেছনে উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা থাকে উন্মুক্ত বা খোলা। ছুটির দিন হলেও কোনো অভিভাবক বা আগন্তুক স্কুলের বারান্দায় এলে যেন বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি ও এতদ্সংক্রান্ত তথ্য দেখতে পায়। অনানুষ্ঠানিকভাবে দেখে দেখেও যেন আগন্তুক কিছু শিখতে পারে। কেননা শেখার যে শেষ নেই। মানুষ শেখে দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত।



এরূপ ছবি সংক্রান্ত বিষয়ে শিশুর মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কেন কক্ষের সামনে এরূপ ছবি অংকন করা হয়েছে। শিক্ষকগণ যথাযথ উত্তর দিয়ে শিশুর জিজ্ঞাসার ক্ষুধা নিবৃত্ত করবেন। শিক্ষকগণ বলবেন, তোমরা যদি বিখ্যাত ব্যক্তিদের মত বিশেষ গুণাবলি অর্জন করে তাঁদের মত হতে পার, তাহলে তোমাদের ছবিও এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকবে। এতে শিশুরা উৎসাহিত হবে। স্যার/ম্যাডামের প্রতি শিশুদের শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে। শিক্ষকদের কথা শুনবে। তাঁদের আদেশ নির্দেশ পালন করবে। স্কুলের প্রতি তাদের মমত্ববোধ বাড়বে।



স্থানীয় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে পরীক্ষার ফি, পুরাতন কাগজপত্র ও পুরাতন উত্তরপত্র বিক্রির টাকা এবং স্বেচ্ছায় শিক্ষক, এসএমসি সদস্য ও স্থানীয় বিদ্যোৎসাহীদের সহায়তায় শ্রেণিকক্ষের নামকরণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি যদি কোনো ছবি অাঁকার ব্যাপারে আর্থিকভাবে সহায়তা করেন তবে ছবির নিচে ছোট করে সৌজন্য কথাটি লিখে তার সামনে ্ঐ ব্যক্তির নাম লেখা যায়। এতে অর্থ প্রদানকারীও সম্মানবোধ করতে পারেন। স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীগণ সমাজের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত । তাদের সহায়তায়ও এরূপ শ্রেণিকক্ষের নামকরণ করা যায়।



শ্রেণিকক্ষের নামকরণ করতে গিয়ে যাতে আলাদা কোনো সমস্যা দেখা না দেয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। সম্ভব হলে ৫০% পুরুষ ও ৫০% নারী বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম নির্বাচন করতে হবে। নাম নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এসএমসি , শিক্ষক ও স্থানীয় বিদ্যোৎসাহীদের সহযোগিতা গ্রহণ আবশ্যক।



আমাদের দেশের বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ, বেগম রোকেয়া , সুলতানা রাজিয়া , নওয়াব ফয়েজুন্নেসা, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ড. মুহাম্মদ ইউনুস, হোসেন শহীদ সোহরওয়ার্দী, শহীদ জিয়াউর রহমান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের নামে শ্রেণীকক্ষের নামকরণ করা যায়। বাঙালির গর্ব বীরশ্রেষ্ঠদের নামেও নামকরণ করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন, নিউটন, সমাজসেবায় মাদার তেরেসা প্রমুখ ব্যক্তিদের নামে শ্রেণিকক্ষের নামকরণ করা যেতে পারে। শিক্ষকগণ যে কক্ষে বসেন সে কক্ষটিও কোন প-িত ব্যক্তির নামে হতে পারে। এক্ষেত্রে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লা্লহ, বিদ্যাসাগরের মত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের নাম নির্বাচন করা যেতে পারে।



বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামের শেষে কক্ষ শব্দটি লিখতে হবে। যেমন লিখতে হবে মাদার তেরেসা কক্ষ, কবি নজরুল ইসলাম কক্ষ। দেশব্যাপী সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় এভাবে শ্রেণীকক্ষের নামকরণ করে ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাথমিক শিক্ষাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে পারে আর স্বশিক্ষায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। ফলস্বরূপ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ প্রজন্মই ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।



লেখক : ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮২২৩৭৮
পুরোন সংখ্যা