চাঁদপুর, শুক্রবার ১৪ জুন ২০১৯, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৩২। উহারাই বিরত থাকে গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্য হইতে, ছোটখাট অপরাধ করিলেও। তোমার প্রতিপালকের ক্ষমা অপরিসীম ; আল্লাহ তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত, যখন তিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন মৃত্তিকা হইতে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। অতএব তোমরা আত্ম-প্রশংসা করিও না, তিনিই সম্যক জানেন মুত্তাকী কে।


 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


ন্যায়পরায়ণ বিজ্ঞ নরপতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ দান এবং অসৎ মূর্খ নরপতি তার নিকৃষ্ট দান।


 


ফটো গ্যালারি
শিশু সুস্থভাবে বেড়ে ওঠায় লক্ষ্যণীয় আচরণ
রাশেদা আতিক রোজী
১৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সুস্থ সন্তান প্রতিটি পরিবারেরই কাম্য। বিশেষ করে আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নিয়ামক হচ্ছে একটি সুস্থ সন্তান। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যায় প্রায় কোন না কোন পরিবারেই একটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন/অটিষ্টিক শিশু জন্ম নিচ্ছে। এর জন্য সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যৌথ পরিবার প্রথা ভেঙ্গে একক পরিবার গঠন করা অনেকাংশে দায়ী । বিশেষ করে নব্বই দশকের পরে যখন আমাদের দেশে কর্মজীবি নারীর সংখ্যা বেড়ে যায় অর্থ্যাৎ পরিবার থেকে মায়েরা বের হয়ে এসে চাকুরিতে যোগদান করে তখন তার কাছে স্বামী এবং সন্তান হয়ে যায় গৌণ । নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে অবহেলিত হতে থাকে সন্তান। সে সন্তানটি কোন না কোন কাজের মানুষ অথবা তৃতীয় কোনও ব্যক্তির কাছে মানুষ হতে থাকে। আচরণগত দিক, সামাজিকতা, নৈতিক মূল্যবোধ, শিষ্টাচার ,সততা, আন্তরিকতা, পারস্পরিক মিথস্কিয়া ইত্যাদির কোন কিছুই একটি শিশুর মধ্যে বিকাশ ঘটেনা। বরং উল্টোদিকে মা থেকে অধিকাংশ সময় বিচ্ছিন্ন থাকা শিশুর মধ্যে গড়ে উঠে স্র্বাথপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, কৃপণতা । বিপরীত মানসিকতার দু টানায় শিশু কোন আচরণটি বেছে নিবে সেটা নিয়ে সে সংশয়ে ভোগে। ধীরে ধীরে তার মধ্যে ছোটখাটো মানসিক সমস্যা দেখা দিতে থাকে। অনেকে বলে ইপিলেপ্সি বা মৃগীরোগ, অনেকে বলে অটিজম আক্রান্ত। অথচ এর কিছুই নয়। পারিবারিক বন্ধন ছিন্নকরা একক পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুটি মায়ের আশ্রয় তার ঠিকানা হওয়ার কথা ছিলো। কেননা মায়ের কোল শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। তাই খুব সহজেই যৌথ পরিবারের শিশুর মধ্যে সকলের সানি্নধ্য পাওয়ায়- তার মধ্যে সকল গুনাবলি সহজেই বিকশিত হতে থাকে। বিশেষ চাহিদা সম্পর্ন শিশু কোন পরিবারেরই কাম্য নয়। সুস্থ্য সন্তানের বিকাশে যৌথ পরিবারের কোনও বিকল্প নেই। সকলের জ্ঞাতার্থে সুস্থ শিশুর বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন আচরণ নিম্নে সংক্ষিপ্ত আকারে দেওয়া হলো ঃ



এম মাস বয়স পর্যন্ত যা একটি শিশুর পারা উচিৎ :



গালে ও মাথায় হাত বোলালে সেদিকে মাথা ঘোরানো



উভয় হাত মুখের দিকে আনা



পরিচিত গলার আওয়াজ বা শব্দ শুনলে সেদিকে ঘোরা



স্তন চোষা এবং হাত দিয়ে ছোঁয়া



পিতা-মাতা এবং যত্নকারীদের জন্য উপদেশ :



বাচ্চাকে এমনভাবে ধরুন যাতে চামড়ার সাথে চামড়ার সংস্পর্শ হয় এবং জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ান।



বাচ্চাকে যখন খাড়া করে ধরবেন মাথায় সাপোর্টে দিন



প্রায়ই বাচ্চাকে ম্যাসাজ করুন এবং জড়াজড়ি করে আদর করুণ



সবসময় বাচ্চাকে মৃদুভাবে ধরুণ ক্লান্ত বা অশান্তি থাকলেও



প্রায়ই বুকের দুধ খাওয়ান, অন্ততপক্ষে চারঘন্ট পরপর



যতবার সম্ভব বাচ্চার সাথে কথা বলুন , কিছু পড়ুন বা গান করুন



জন্মের ৬ সপ্তাহ পরে বাচ্চাকে নিয়ে স্বাস্থ-কর্মীর কাছে যান



যে সব বিপদসংকেতের জন্য লক্ষ্য রাখতে হবে :



দুর্বলভাবে স্তন চোষা বা চুষতে আপত্তি করা



জোরে আওয়াজ বা উজ্জল আলোয় কোন প্রতিক্রিয়া না হওয়া



অনেকক্ষণ ধরে কান্না



বমি ও পায়খানা, যার ফলে শরীরে জলের ভাগ কমে যেতে পারে



৬ মাস বয়সে



শিশুর যা পারা উচিত



উবু হয়ে শুলে মাথা ও বুক উপরে তোলা



ঝুলছে এমন জিনিষ ধরার চেষ্টা



বিভিন্ন জিনিষ ধরা এবং ঝাঁকানো



দুদিকে ফেরা



সাহায্য নিয়ে বসা



হাত ও মুখ দিয়ে সব জিনিস যাচাই করা



শব্দ এবং মুখের ভাব নকল করতে শুরু করা



নিজের নাম শুনলে বা পরিচিত মুখ দেখলে প্রতিক্রিয়া হওয়া



পিতা -মাতা এবং যত্নকারীদের জন্য উপদেশ :



বাচ্চাকে একটা পরিস্কার , নিরাপদ সমতলে রাখুন, যাতে মুক্তভাবে নড়াচড়া করতে পারে এবং জিনিষপত্র ধরতে পারে



বাচ্চাকে তুলে ধরুন এমনভাবে , যেন সে আশপাশে কী হচ্ছে দেখতে পায়



দিনে রাত্রে , চাইলেই বুকের দুধ খাওয়ানো চালু রাখুন, তার সাথে অন্য খাবারও দিতে শুরু করুন (৬ থেকে ৮ মাস বয়স পর্যন্ত দিনে দুবার, ৮ থেকে ১২ মাস বয়স পর্যন্ত দিনে তিন থেকে চারবার)।



যতবার সম্ভব শিশুর সাথে কথা বলূন, পড়ুন বা গান শোনান



যে সব বিপদসংকেতের জন্য লক্ষ রাখতে হবে :



আড়ষ্টতা বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নড়াচড়ায় অসুবিধা



অনবরত মাথানাড়া ( এটা কানে সংক্রমন থেকেও হতে পারে, চিকিৎসা না হলে বধিরতা হতে পারে)



শব্দে, পরিচিত মুখ দেখে বা স্তন দেখে কোন প্রতিক্রিয়া না হওয়া বা অল্প হওয়া



স্তন বা অন্য খাবার ফিরিয়ে দেওয়া



১১ মাস বয়সে



শিশুর যা পারা উচিত :



সাহায্য ছাড়া বসা



হামাগুড়ি দেওয়া এবং দাড়িয়ে ওঠা



কিছু ধরে পা বাড়ানো



শব্দ এবং কথা নকল করার চেষ্টা করা এবং কিছু বললে বোঝা



খেলতে এবং হাততালি দিতে ভালবাসা



কোন শব্দ বা ভঙ্গীর পুনরাবৃত্তি করা



বুড়ো আঙুল এবং তর্জনী দিয়ে কোন জিনিষ তোলা



কোন জিনিস ধরা , যেমন কাপ, চামচ, এবং নিজে নিজে খাওয়ার চেষ্টা করা



 



প্রত্যেক বাবা মা সহ পরিবারের সদস্যদের বয়সের সাথে সাথে শিশুর এ সব আচরণগত পরিবর্তন হচ্ছে কিনা লক্ষ্য করতে হবে। শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে, শিশুর সঠিকভাবে বিকাশের জন্যে ক্রমশ পরিবর্তনগুলো হচ্ছে কিনা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রত্যেক শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় ডাক্তার হলেন তার জন্মদাতা মা। মাদের অধিকতর যত্নবান হওয়ার প্রয়োজন।



লেখক : ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭৭১৩৯
পুরোন সংখ্যা