চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০১৯, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৬। আমি নূহ এবং ইব্রাহিমকে রাসূলরূপে প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং আমি তাহাদের বংশধরগণের জন্যে স্থির করিয়াছিলাম নুবূওয়াত ও কিতাব, কিন্তু উহাদের অল্পই সৎপথ অবলম্বন করিয়াছিল এবং অধিকাংশই ছিল সত্যত্যাগী।


 


 


assets/data_files/web

অপ্রয়োজনে প্রকৃতি কিছুই সৃষ্টি করে না। -শংকর।


 


 


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
স্বাধীনতা এক মহান অর্জন
মুহাম্মদ শেখ ফরিদ
১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

ছোট্ট বন্ধুরা, আজ তোমাদেরকে আমাদের এই প্রিয় স্বদেশ সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের জন্মের কথা খানিকটা শোনাতে চাই। এই সোনার বাংলাদেশ অতি সহজে পাইনি। এর নেপথ্য কথা দীর্ঘ ঘটনাবহুল করুণ ও কঠিন। অসংখ্য শহীদের রক্তে ভিজে শত অন্যায় অত্যাচার নৃশংসতা সয়ে এই বিজয় এসেছে। প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিলো সোনারগাঁও। এই দেশ কখনও শাসন করেছে সেনরাজারা, কখনও পাল রাজবংশ, কখনও দিলি্লর সুলতানরা। পলাশীর প্রান্তরে ১৭৫৭ সালে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। দেশপ্রেমিক বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর নেপথ্যে মীর জাফর করেছে অমার্জনীয় বিশ্বাসঘাতকতা। এরপর ইংরেজরা বাণিজ্যের নামে এদেশে নীলচাষ থেকে শুরু করে অবিভক্ত ভারতের জনগণের উপর নির্যাতন অবিচার করে দীর্ঘ ২০০ বছর হাতে তুলে নিয়েছে রাজদ-। চালিয়েছে দোর্দ-ে প্রতাপ। শস্য-শ্যামলা ও সবুজ ভূখ-ের ওপর সবার যেন দৃষ্টি। দেশপ্রেমিক মহান নেতা ও জনগণের সংগ্রামে এদেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়। এ সংগ্রাম চলে দীর্ঘদিন অনেক চড়াই-উৎরাই রক্তপাত নির্যাতন জেল-হাজত, ফাঁসি ইত্যাদির বিনিময়ে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। নেতৃত্ব দেন কায়েদ আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। জাতের ভূখ-ের জন্য অন্য নেতাদের সঙ্গে নেতৃত্ব দেন মোহনলাল, করমচাঁদ গান্ধী দীর্ঘদিন চলে স্বদেশী আন্দোলন, ইংরেজদের তৈরি দ্রব্য ব্যবহার বন্ধ করা হয়। চরকায় সুতা কেটে কাপড় তৈরি ইত্যাদির প্রবল প্রচেষ্টা চলে। ভারত স্বাধীনতা লাভ করে ১৫ আগস্ট। ভারতবর্ষ ভেঙ্গে পাকিস্তানের জন্ম হয়। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান। কিন্তু ফলশ্রুতি হয় শূন্য। সেই পরাধীনতার বেড়ি পূর্ব পাকিস্তানকে শাসন করতে সুদূর। পশ্চিম পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী, শোষণ, শাসন, অবিচার, অন্যায় সবই চলল পূর্ব পাকিস্তানের ওপর। স্বাধীনতা মানবজীবনের পরম পাওয়া এক পবিত্র অনুভব ১৯৫২ সালের আবার বুকের রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে হলো। শহীদ মিনার নির্মিত হল ভাষা শহীদদের স্মরণে। দেশবাসী শপথ নেয় নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে সংগ্রাম চালাবে। পরাধীনতার গ্লানি মুছতে শুরু করল মরণপণ সংগ্রাম। দেশকে পাকিস্তানী সাময়িক জান্তা নরাধমদের হাত থেকে বাঁচাতে, দেশের কৃষক, ছাত্র, চাকুরিজীবী এমনকি কয়েকজন অসম সাহসী নারীও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এ দেশের সকল জনতা সুযোগমতো সাহায্য সহযোগিতা করতেন। ধরা পড়লে নির্ঘাত প্রাণ যাবে বর্বর পশুদের হাতে এ কথা জানা সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধারা রাতের অন্ধকারে ব্রিজ, উড়িয়ে দিত, খবর আদান-প্রদান করত। পাকিস্তানী ক্যাম্পে নানা কৌশলে আক্রমণ চালাত, বহু মুক্তিযোদ্ধা প্রাণ দেন ৯ মাসের এই মুক্তিযুদ্ধে। আল্লাহ সহায় হন। দুঃখের দিনের অবসান ঘটে। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে এলো বিজয়ের শুভ সময়। আমরা হলাম মুক্ত পাখির মতো স্বাধীন, জন্ম নিল বাংলাদেশ। তাদের বিবেককে আত্মমর্যাদাকে তিলে তিলে দগ্ধ করে। তাই রফিক, শফিকের রক্তের বিনিময়ে মায়ের ভাষা রাষ্ট্র ভাষার প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানী শাসকরা চেয়েছিলো উর্দু হবে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। ক্রমে ক্রমে ফুঁসে ওঠে। ১৯৬৯ সালে শুরু হয় গণঅভ্যুত্থান। শহীদ হয় আসাদ। তাঁর রক্তাক্ত শার্ট আকাশ ছোঁয়া যেন। মুষ্টিযুদ্ধ দৃঢ়তায় সবার হাতগুলো ঊর্ধ্বমুখী হয়। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া সত্ত্বেও সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে পাকিস্তানী সামরিক শাসকরা নিজেদের মুঠোর মধ্যে রাখে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। এরপর অনিবার্য সংগ্রাম মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম শুরু হয়। ২৫ মার্চের কালরাত্রি বাঙালির বুকের রক্ত শুষে নেয়। অগনিত জনতা। ছাত্র, বুদ্ধিজীবীকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। নাটকীয় হত্যাকা-, বাংলার জীবনে এই ভয়াবহ হত্যাকা-ের নৃশংস করুণ স্মৃতি কোনদিন মুছে যাবে না। যাবার নয়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঘোষিত হয় স্বাধীনতার ঘোষণা। দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হতে লাগলো। অল্পবিস্তর অস্ত্র পুঁজি করে মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা যুদ্ধ করলো। অনেক নির্ভীক মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধের মহড়া নিয়ে কৌশলী দক্ষ মুক্তিযোদ্ধা হয়ে উঠলো। কিন্তু স্বাধীন দেশের কাঙ্ক্ষিত শান্তি এলো কী? দুর্নীতি, অন্যায়, অনাচার ইত্যাদি স্বাধীনতার বাতাসকে কলঙ্কিত করে তুলুন। দুঃখের অবসান হয় কী সহজে। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের মর্মস্পর্শী ঘটনাটি ঘটলো। বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হলো। ১৯৮১ সালে ঘটল আরেক হৃদয়বিদারক ঘটনা। এরপর এসেছে স্বৈরাচারী শাসন দীর্ঘ নয় বছর। বাংলাদেশের বাতাস বিষণ্ন, আকাশ বিবর্ণ। শুধু গুটিকয় স্বার্থাণ্বেষী মানুষ হয়েছে লাভবান। এদেশের আমজনতার দারিদ্র ঘোচেনি। অথচ এক গোষ্ঠী দিব্যি আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। দেশে খাদ্যে ভেজাল, মাছে, দুধে, ফলমূলে ফরমালিন। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক অসহায়, অন্ধ মানুষের মতো নিরূপায় হয়ে তাই খেয়ে বেঁচে আছি। কোনো সুরাহার পথ নেই। জেনে শুনে বিষ তাহলে পান করে যাওয়াই আমাদের ভবিষ্যৎ। তারপরও বলতে হয়, এই বাংলার মাটিতে কিছু কিছু ভালো কাজ হয়েছে। কেননা নিঃস্বার্থ সৎ সৃজনশীল সত্যিকার দেশপ্রেমিক মানুষ যদি কিছু সংখ্যকও এই শ্যামল মাটিতে কর্মমুখর থাকেন তবে এই কাজল মায়ার উর্বর ফসলের প্রাপ্ত আবার টইটুম্বুর হয়ে উঠবে প্রাচুর্যে। গোলা উপচে পড়বে সোনালি ধানে। পুকুরে মাছেরা সারাবেলা সন্তরণ করবে। হেসে উঠবে। দেশে আসবে শান্তি-শৃঙ্খলা, সততা, শিক্ষাঙ্গন হবে নির্মল। দেশের আগামী দিনের নাগরিক কিশোর, আদর্শ শিক্ষার ও কর্মে অনন্যা। কবির ভাষায় কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে। আমরা আশাবাদী, যেটুকু ক্ষতি অপচয় অনাচার হয়েছে ভবিষ্যতে তা পুষিয়ে সোনার বাংলা ঝলমলিয়ে উঠবে। প্রাচীন ঐতিহ্যের আর গৌরবে। হাত মেলাবে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে। এই মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভ সময়ে আমরা আশাবাদী। এক আলোকোজ্জ্বল দরজা যেন ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে। আমরা স্বপ্নের বীজ বুনবো মনের জমিনে। আশালতা জড়িয়ে উঠবে আমাদের ভাবনায়। সবচেয়ে বড় কথা আমরা দীপ্ত শপথ নেবো এই বাংলাদেশকে কঠোর সাধন, পরিশ্রম আর সততা দিয়ে গড়ে তুলব এক অপরূপ স্বপ্নের দেশে। এ ছোট সোনামনি বন্ধুরা আমরা এখন থেকে স্বপ্ন দেখি আর কাজ করি সততার সঙ্গে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১৮২৭৯৬
পুরোন সংখ্যা