চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০১৯, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


০১। আকাশম-লী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


০২। আকাশ-লী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁহারই; তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান; তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।


 


 


assets/data_files/web

সৃষ্ট বস্তুতে ভালোবাসার মতো অন্য কোনো এবাদত নেই।


-রবার্ট ব্রিজ।


 


 


যে ব্যক্তি উদর পূর্তি করিয়া আহার করে, বেহেশতের দিকে তাহার জন্য পথ উন্মুক্ত হয় না।


 


 


ফটো গ্যালারি
রাতুল ও তার মায়ের গল্প
মহিবুল হাসান
১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চলের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র রাতুল। গ্রামের ছোটখাটো একটি স্কুলে পড়ালেখা করে। বাবা জন্মের আগে মারা গেছে। মা বাড়ির পাশের একটি গার্মেন্টসে কাজ করে। তার মা মাসে যে কটা টাকা পায় তা দিয়ে তাদের দুজনের দিন কেটে যায়। একদিন ঘটল এক অবাক কা-! রাতুল স্কুলে গিয়ে দেখে তার এক বন্ধু একটি গিটার এনেছে। রাতুল গিটারটির দিকে দূর থেকেই তাকিয়ে রইলো। সেদিন আর রাতুল ক্লাস না করে মন খারাপ করে বাড়িতে চলে গেল। বাড়িতে এসে রাতুল চিত্রাঙ্গন খাতা, পেন্সিল এবং রং নিয়ে গিটারটি অাঁকতে থাকে। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতুল দেখে তার অাঁকা গিটারের সাথে পুরো বাস্তব একটি গিটার এবং অাঁকা গিটারটির নিচে লেখা রয়েছে, এই গিটারটি তোমার জন্যে। রাতুল স্কুলে গিয়ে তার বন্ধুদের কাছে গিটারটির পুরো কাহিনী বর্ণনা করে দিল। তারপর থেকে স্কুলের কারো সাথে রাতুলের মনমালিন্য নেই। এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল। কয়েক মাস পরে রাতুলের আরেক বন্ধু স্কুলে একটি মোবাইল নিয়ে আসে। মোবাইলটির দাম প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা। রাতুল সেদিন ক্লাস শেষ করে বাড়িতে চলে গিয়ে আগের মতো মোবাইলটি অাঁকতে থাকে। সেদিন রাতুলের মাঝ রাতেই ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে দেখে তার মা পাশে নেই। কিছুক্ষণ পর তার চোখ পড়লো পাশের ঘরে। রাতুল জানালা দিয়ে দেখছে তার মা ওই ঘরে কাজ করছে, আর ঘরের মালিককে বলছে, আমার রাতুলকে মোবাইল কিনে দিতে হবে। রাতুল আর বুঝতে দেরি হলো না, যে এতদিন সে যা কিছু এঁকেছে সেটা কোনো ম্যাজিক ছিল না। তার মা ঘরে এসে রাতুলকে জেগে থাকতে দেখে মনে করে, পাশের ঘরে এতক্ষণ যা কথা হয়েছিল সব তো মনে হয় রাতুল শুনে ফেলেছে। রাতুল মাকে জড়িয়ে ধরে বলে মা আমার মোবাইল চাই না। আমি মোবাইল ছাড়া খুশি আছি, তারপরও তুমি আর কাজ করো না। একথা শুনে রাতুলের মা অনেক খুশি হলেন। রাতুলরা এখন আগের মতো জীবনযাপন শুর করলো। এ ঘটনার অনেক দিন পরে, রাতুল এখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। কিছুদিন পরে রাতুল প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিবে রাতুল একদিন তার মায়ের কাছে বায়না ধরলো, মা আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাও না। আমার সকল বন্ধু বলাবলি করছে পরীক্ষার পরে ঘুরতে যাবে। আমাকেও কোথাও নিয়ে যাও না। রাতুলের মা বললো পরীক্ষা শেষ হোক এ প্লাস পেলে তারপর না হয় কোথায় ঘুরতে নিয়ে যাব। পরীক্ষা শেষ হলো ফলাফল বের হলো, রাতুল এ প্লাস পেয়েছে। এবার রাতুলের ঘুরতে যাবার পালা। রাতুল ও তার মা ঘুরতে বেরিয়েছে। কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো বাসে করে, আবার কখনো রিকশায় এভাবেই চলছে। রাতুল তার মাকে বলে, মা আমরা কোথায় যাচ্ছি? তার মা কিছু বলছে না। কিন্তু তাদের ভাগ্যে যে মৃত্যু লেখা ছিল স্বয়ং আল্লাহ ছাড়া কেউ জানতো না। রাতুল ও তার মা একটা রাস্তা পার হতে যাচ্ছিল এমন সময় কোথা থেকে একটা বড় ট্রাক এসে রাতুল ও তার মায়ের শরীরের উপর দিয়ে চলে যায় এবং ট্রাকটির চাপায় পড়ে রাতুল ও তার মা দুজনেই মারা যায়। কিন্তু তাদের মৃত দেহটা কেউ খুঁজে পায়নি। এজন্যই প্রথমে বলেছিলাম 'রাতুল ও তার মায়ের শেষ জীবন'।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৭৯১
পুরোন সংখ্যা