চাঁদপুর। শুক্রবার ১২ অক্টোবর ২০১৮। ২৭ আশ্বিন ১৪২৫। ১ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা


৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৪। অথবা তিনি তাদের কৃতকর্মের ফলে সেগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারেন এবং অনেককে তিনি ক্ষমাও করেন।


৩৫। আর আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে যারা তর্কে লিপ্ত হয়, তারা যেন অবহিত থাকে যে, তাদের (আযাব হতে) কোনো মুক্তি নেই।


৩৬। বস্তুতঃ তোমরা যা প্রদত্ত হয়েছে তা পার্থিব জীবনের ভোগ; কিন্তু আল্লাহর নিকট যা আছে তা উত্তম ও স্থায়ী, (ওগুলি) তাদের জন্যে যারা ঈমান আনে ও তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে।


৩৭। (ওগুলি তাদের জন্য) যারা কবিরা গোনাহসমূহ ও অশ্লীল কর্ম হতে বেঁচে থাকে এবং যখন তারা ক্রোধান্বিত হয় ক্ষমা করে দেয়।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


ধনে এবং জ্ঞানে বড় হলেই মানুষ মনের দিক থেকে বড় হয় না। -স্মিথ।


 


 


 


যাবতীয় পাপ থেকে বেঁচে থাকার উপায় হলো রসনাকে বিরত রাখা।


 


ফটো গ্যালারি
গাঁয়ের ফুলকো শহরে
মঈনুল হক চৌধুরী
১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এক গাঁয়ে একদল নেংটি ইঁদুর ছিলো। ওরা গাঁয়ের মাঠ-ঘাট, বিলে-ঝিলে ঘুরে ফিরে খেতো আর ছোটাছুটি করে দিন কাটাতো। ইঁদুর দলের একজনের নাম ছিল ফুলকো। দেখতে ভারি নাদুসনুদুস। গায়ের রঙটা কুচকুচে কালো। একদিন ফুলকোর খুব ইচ্ছে হলো, শহরে যাবে সে। শুনেছে, শহরে নাকি অনেক কিছু আছে। বিষয়টি বন্ধুদের জানালো। ফুলকোর ইচ্ছের কথা শুনে বন্ধুরা তো অবাক! একজন বললো, শহরে যাবি ভালো কথা; কিন্তু এখানেই তো তুই অনেক ভালো আছিস। গাঁয়ের হাওয়া লাগিয়ে খাচ্ছিস, দাচ্ছিস, দিবি্ব ঘুরে বেড়াচ্ছিস। এখানে কিছু হলে আমরা সবাই তো খেয়াল রাখি তোর। শহরে গিয়ে বিপদে পড়লে কী করবি তখন? বন্ধু ইঁদুরের কথা শুনে ফুলকো বললো, ভাবিস না। শহরটা একবার ঘুরে দেখে আসি তো! ভালো না লাগলে আবার ফিরে আসবো গাঁয়ে! বিদায় নিয়ে গ্রাম থেকে শহরে পৌঁছানোর পথ খুঁজতে লাগলো ফুলকো। সে ভাবলো, শহরে তো আর হেঁটে যাওয়া যাবে না। তাই পথের ধারে ছোট্ট একটা গর্ত খুঁড়ে নিজের থাকার একটা ব্যবস্থা করে, দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে লাগলো। একদিন সুযোগও পেয়ে গেলো। সে দেখতে পেলো গাঁয়ের পথ ধরে তিন চাকার একটি ভ্যান গাড়ি মালপত্তর বোঝাই করে শহরের দিকে ছুটে যাচ্ছে। ভ্যান গাড়িটা দেখে ফুলকো দূর থেকে খুশিতে নাচতে শুরু করলো। কিন্তু নাচলে তো হবে না। এই ভ্যান গাড়িটাতে উঠতেই হবে তাকে। তাই পথের ধারে চুপটি করে বসে রইলো সে। ভ্যান গাড়িটা ঠিক তার সামনে আসতেই ফুলকো ঝুপ করে উঠে মালপত্রের মধ্যে ঢুকে বসে পড়লো।



সে ভাবলো, আর চিন্তা নেই। এবার সে এই ভ্যান গাড়িটায় করে নিশ্চিন্তে শহরে পৌঁছে যাবে। এদিকে সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো। ভ্যান গাড়িটা চলছে তো চলছে। ফুলকোর ভারি ক্ষিদে পেয়ে গেলো। ভ্যানের মালপত্রের দিকে চোখ মেলে এদিক ওদিক তাকালো সে। কুটি কুটি করে ছিঁড়ে খাওয়ার মতো কিছুই পেলো না। চারদিকে শুধু লোহার আসবাবপত্র। তাই চুপটি করে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় রইলো না। চলতে চলতে ভ্যান গাড়িটা একসময় শহরের এক গলিতে ঢুকে পড়লো। শহরের ভিন্ন পরিবেশে এসে ফুলকোর মা-বাবা আর গাঁয়ের বন্ধুদের কথা ভীষণ মনে পড়ে গেলো। কিন্তু কী আর করা! শহর দেখার ইচ্ছে যখন হয়েছে তার, শহরটা তো আগে দেখা চাই। একবার চোখ দুটো ঘুরালো, শহরের কোথায় আশ্রয় নেওয়া যায়। হঠাৎ তার চোখ পড়লো একটা মনিহারি দোকানের দিকে। যেখানে চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি হয়। দোকানদার তখনও দোকানটা পুরোপুরি বন্ধ করেননি। তবে দোকানের একটা শাটর খোলা ছিলো। তাই ফুলকো নামের ইঁদুরটি সুযোগ খুঁজে ঢুকে পড়লো দোকানটাতে। এদিকে বেশ রাত হয়ে গেছে। দোকানদার সব মালপত্র আর হিসাব-নিকাশ গুছিয়ে দোকানের শার্টারটা বন্ধ করে তার বাড়ির পথে রওনা হলো। এবার ফুলকোর আনন্দ দেখে কে? আনন্দে তার নাচানাচি লাফালাফি শুরু হয়ে গেলো। ফুলকো একবার তেলের বোতলে লাফাতে থাকে, আবার কখনও চালের বস্তার ওপর কিংবা চিনির বস্তা, আটার বস্তাসহ বিভিন্ন প্যাকেট আর বস্তা কাটার উৎসবে মেতে উঠলো। যা-ই সংগ্রহ করলো সেগুলো নিয়ে জমালে একটি গর্তের ভেতর। ফলে শহরে থাকার একটা ব্যবস্থা হয়ে গেলো তার। ফুলকোর যেহেতু থাকা-খাওয়ার চিন্তা দূর হলো, তাই সকাল হতেই বেরিয়ে পড়ে সে। সারাদিন টো টো করে ঘুরে বেড়ায় শহরের আনাচে-কানাচে। আবার রাত হলে ফিরে আসে মনিহারি দোকানটাতে। সেখানে বাদাম আখরোট যা পায় খেয়ে পেট ভর্তি করে নেয়। কয়েক দিন যাওয়ার পর দোকানদার তার দোকানের অবস্থা বুঝতে বাকি রইলো না। তাই ইঁদুরের অত্যাচার থেকে বাঁচতে একটা মোটাতাজা বেড়াল নিয়ে এলো দোকানে। বেড়ালটা সারাদিন পেটপুরে খাবে আর রাতে দোকান পাহারা দেবে। ফুলকোও বুদ্ধি করে একটু গা-ঢাকা দিলো। এভাবে কয়েক দিন পেরিয়ে গেলো। দোকানদার আগের মতো বেড়ালটাকে ভালো করে খাওয়ায় না। যত্ন-আত্তিও করে না। তাই মাঝে মাঝে পাহারা বাদ দিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ে বেড়াল। আর ভাবতে থাকে, দোকানের খাবার-দাবারে হামলা করবে। এদিকে পথে ঘুরতে ঘুরতে ফুলকোর অবস্থা যায় যায়। তাই আবার দোকানটাতে গোপনে ফিরে আসে। বেড়ালের মনোভাব আর দোকানদারের ব্যাপারটা ফুলকোও লক্ষ্য করে।



একদিন ফুলকো মুখোমুখি হয়ে পড়ে মোটাতাজা বেড়ালটার সামনে। ফুলকোকে দেখে বেড়াল চোখ দুটো লাল করে রাগের মাথায় বললো, এখানে কেন তুই? তখন ফুলকো দৌড়ে গিয়ে একটা বড়ো বস্তার ফাঁক দিয়ে মাথা বের করে ভয়ে ভয়ে বললো, শোন! বেড়াল ভায়া, আমার ওপর হামলা করার আগে এক মিনিটের জন্য আমার কথাটা শোনো। তুমি নিশ্চিত থাকো যে আমার পালানোর পথ ঠিক করা আছে, তুমি আমার নাগাল পাবে না। তবে আমার কথাটা শুনলে তোমার উপকার হতেও পারে। বেড়াল চিন্তা-ভাবনা করে বললো, ঠিক আছে বল!



ইঁদুর বললো, তুমি আসার পর থেকে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে, না খেতে পেয়ে মরার মতো অবস্থা। বেড়াল বললো, তাই তো হওয়ার কথা, তুমি কি ভিন্ন কিছু আশা করছিলে? ইঁদুর বললো, না, তা না তবে একটু ভেবে দেখো, দোকানদার হলো মানুষ আর আমি তুমি হলাম জন্তু গোত্রের। বেড়াল ভেবেছিলো ইঁদুর তাকে ছোট করার চেষ্টা করছে, তাই দ্রুত মাথা তুলতেই, ইঁদুরটাও ঢুকে গেলো বস্তার ফাঁকে। ঢুকেই বললো, তুমি আমার কথাটা শোনো, গত কয়েক দিন ধরে দোকানদার তোমাকে এতো কম খেতে দিচ্ছে যে, কয়দিন পর হয়তো তোমার আর শিকার করার মতো শক্তিও থাকবে না। বেড়াল ভাবলো ইঁদুর তো ঠিকই বলছে। সে একটু সংযত হলো। বললো, কী বলতে চাও তুমি? ইঁদুর এবার একটু সামনে এসে বললো, ক্ষুধায় তোমারও তো নিশ্চয়ই ইচ্ছে করে দোকানের মজার মজার খাবারগুলোর বস্তায় বা প্যাকেটে অাঁচড় বসাতে, করছে না? আমি যদি অন্য কোনো



গর্তে গিয়ে আশ্রয় নিই, তুমি তো মরে যাবে না খেয়ে। তাই আমার প্রস্তাব হলো তুমি রাতের বেলা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নাও, আমি এই ফাঁকে আমার কাজটা সেরে নেবো, বিনিময়ে তোমার জন্যও পর্যাপ্ত খাবার দোকানের এক কোণে জমিয়ে রাখবো, তুমি তো আর তোমার ওই ভোঁতা নখ দিয়ে বস্তা কাটতে পারবে না, তাই না?



বেড়াল মনে মনে সাতপাঁচ ভেবে ইঁদুরকে পরীক্ষা করার জন্য বললো, আমি আজ ভীষণ টায়ার্ড, ঘুমাবো, তোর যা খুশি কর, যা। ফুলকো বুঝলো, বেড়াল তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেছে। গর্তে ফিরে গিয়ে রাতে হামলা চালালো তার পছন্দের খাবারের ওপর। ইচ্ছেমতো খেলো এবং নিয়েও গেলো। কিছু খাবার রেখে দিলো বেড়ালের জন্য। ফুলকো চলে যাওয়ার পর বেড়াল খাবারগুলো পেট ভরে খেয়ে দু-হাতের ওপর মাথাটা এলিয়ে দিয়ে ঘুমাল। এভাবে দিন যেতে যেতে ফুলকোর সঙ্গে বেড়ালের বেশ ভাব জমে গেলো। এই সুযোগ নিলো শহুরে কিছু ইঁদুর। তারাও এসে যোগ দিল ফুলকোর সঙ্গে। এখন দোকানটাতে বেড়াল ইঁদুরের পাতে অযথা মুখ বাড়ায় না। রাতে ফুলকোর ইঁদুরের দল মজা করে বেড়ালের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে আর পেটপুরে দোকানের মজার মজার খাবারগুলো খায়। অনেকটা বাঘে মোষে এক ঘাটে নীরবে জল খাওয়ার মতো! তবে ফুলকো গাঁয়ের বন্ধুদের জন্যও খাবার জমাতে থাকে। শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিয়ে যাবে সেই খাবার।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২১৬২০৯
পুরোন সংখ্যা