চাঁদপুর। শুক্রবার ১২ অক্টোবর ২০১৮। ২৭ আশ্বিন ১৪২৫। ১ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা


৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৪। অথবা তিনি তাদের কৃতকর্মের ফলে সেগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারেন এবং অনেককে তিনি ক্ষমাও করেন।


৩৫। আর আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে যারা তর্কে লিপ্ত হয়, তারা যেন অবহিত থাকে যে, তাদের (আযাব হতে) কোনো মুক্তি নেই।


৩৬। বস্তুতঃ তোমরা যা প্রদত্ত হয়েছে তা পার্থিব জীবনের ভোগ; কিন্তু আল্লাহর নিকট যা আছে তা উত্তম ও স্থায়ী, (ওগুলি) তাদের জন্যে যারা ঈমান আনে ও তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে।


৩৭। (ওগুলি তাদের জন্য) যারা কবিরা গোনাহসমূহ ও অশ্লীল কর্ম হতে বেঁচে থাকে এবং যখন তারা ক্রোধান্বিত হয় ক্ষমা করে দেয়।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


ধনে এবং জ্ঞানে বড় হলেই মানুষ মনের দিক থেকে বড় হয় না। -স্মিথ।


 


 


 


যাবতীয় পাপ থেকে বেঁচে থাকার উপায় হলো রসনাকে বিরত রাখা।


 


ফটো গ্যালারি
সাহেবগঞ্জের পর্তুগীজ দুর্গ
মোঃ তাইয়্যেব হোসাইন
১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


১৪৯৮ সালে পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা দক্ষিণ ভারতের কালিকট বন্দরে পেঁৗছে ভারতবর্ষকে বিশ্ববাণিজ্য বিস্তারের প্রতিযোগিতার মধ্যে নিয়ে আসেন। আর দক্ষ নাবিক আদ বুকার্ক ভারত মহাসাগরের কর্তৃত্ব অধিকার করে এক কথায় পুরো ভারতের বহির্বাণিজ্য করায়ত্ত করে নেন। ১৬৪৮ সালে ইউরোপের যুদ্ধরত বিভিন্ন দেশের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি হয়। একে বলে 'ওয়েস্টফালিয়ার চুক্তি'। এটি সম্পাদিত হওয়ার পর শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে ইউরোপীয় বিভিন্ন জাতি নতুন উদ্যমে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। এদের অধিকাংশের লক্ষ্য ছিলো ভারতবর্ষ। ভারত উপমহাদেশে সেই রাজা-বাদশাদের আমল থেকেই বিদেশী বণিকরা ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্যে আসতো। তার মধ্যে ব্রিটিশ, পর্তুগীজ ও আরব বণিকরা উল্লেখযোগ্য। তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে এই ভারত উপমহাদেশে বিভিন্ন ধরনের দুর্গ নির্মাণ করতো।



চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বর্তমান সাহেবগঞ্জ গ্রামে পর্তুগীজ বণিকরা একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলো। যার নাম পর্তুগীজ দুর্গ, এটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে।



পঞ্চদশ শতকের সময় ফরিদগঞ্জ উপজেলাটি প্রায় সমুদ্রের কাছাকাছি হওয়ায় তখনকার বিদেশী বণিকরা ব্যবসা করার জন্যে এই জায়গাটিকে বেশি পছন্দ করতেন। তেমনি পঞ্চদশ শতকের সময় পর্তুগীজরা ব্যবসার জন্যে এই সাহেবগঞ্জ গ্রামকে বেছে নিয়েছিলো এবং তাদের ব্যবসার সুবিধার্থে এখানে একটি দুর্গ নির্মাণ করেন, যার নাম 'পর্তুগীজ দুর্গ'। তবে তারা এখানে এই দুর্গটি ব্যবসার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করলেও এর পেছনে ছিলো অন্য উদ্দেশ্য। পর্তুগীজরা মূলত ছিলো জলদস্যু। তাই তারা তাদের এই জলদস্যুতার সুবিধার জন্যেই দুর্গটি নির্মাণ করেন বলে অনেকে মনে করে।



কারো কারো মতে, ১৭৭০-১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে নীলচাষ শুরু হয়। ইংরেজ নীল ব্যবসায়ীরা এই দুর্গ নির্মাণ করে। সেই প্রথা অনুযায়ী একে নীলকুঠিও বলে। আর এই দুর্গটি নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা হলেন পর্তুগীজ সেনাপতি এন্টেনি ওডি সিলভামেনজিস। তিনি ১৫৪০ থেকে ১৫৪৬-এর মধ্যে এই পর্তুগীজ দুর্গটি নির্মাণ করেন।



ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের এই পর্তুগীজ (নীলকুঠি) দুর্গটি ছিলো বিশাল আকারের। এটি প্রায় দু শত একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পর্যবেক্ষণের জন্যে একটি টাওয়ার বানানো হয়েছিলো। এখানে হাতীশালা, ঘোড়ারঘর, সুড়ঙ্গপথও তৈরি করা হয়েছিলো।



বর্তমানে এই পর্তুগীজ (নীলকুঠি) দুর্গটি স্থানীয় প্রভাবশালী লোকেরা ভেঙ্গে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছে। দুর্গটি ভেঙ্গে গরুর ঘরসহ বসতবাড়ি নির্মাণ করে। দুর্গটি লতাপাতা ও জঙ্গলে ঘিরে জরাজীর্ণ হয়ে রয়েছে, অযত্ন এবং অবহেলার কারণে এটি এখন প্রায় ধ্বংসের পথে। বাংলাদেশে এই সব প্রাচীন নিদর্শন প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ রইলো, এমন সব প্রাচীন নিদর্শনগুলো যেনো সংরক্ষণ করে এবং জনসচেতনতা সৃষ্টি করে।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯৬৭৫৭
পুরোন সংখ্যা