চাঁদপুর। শুক্রবার ৩১ আগস্ট ২০১৮। ১৬ ভাদ্র ১৪২৫। ১৯ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর জেলা ন্যাপের সভাপতি, চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব আবুল কালাম পাটওয়ারী ঢাকাস্থ ল্যাব এইড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ..... রাজেউন)। মরহুমের নামাজের জানাজা বাদ জোহর পৌর ঈদগা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু'মিন


৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭৭। অতএব আপনি সবর করুন। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে যে শাস্তির ওয়াদা দেই, তার কিয়দংশ যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই অথবা আপনার প্রাণ হরণ করে নেই, সর্বাবস্থায় তারা তো আমারই কাছে ফিরে আসবে।


৭৮। আমি আপনার পূর্বে অনেক রসূল প্রেরণ করেছি, তাদের কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করিনি। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রসূলের কাজ নয়। যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন ন্যায় সঙ্গত ফয়সালা হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


দুর্বল দেহ মনকে দুর্বল করে দেয়।


-রুশো।


 


 


 


 


 


 


 


 


প্রত্যেক কওমের জন্য একটি পরীক্ষা আছে এবং আমার উম্মতদের পরীক্ষা তাদের ধন-দৌলত।


আমি বঙ্গবন্ধু হবো
আমীরুল ইসলাম
৩১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ঘুম ভাঙলো খুব সকালে। বাবা তাড়া দিলেন। তাড়াতাড়ি জামা পরে নাও। মা আমাকে আজ লাল-সবুজ জামা পরিয়ে দিলেন। টেলিভিশনে তখন প্রভাতি অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। আজ জাতীয় শিশু দিবস। আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। বলছিলাম ১৭ই মার্চের কথা। সেদিন বাবা বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের মহান নেতা। বঙ্গবন্ধু না জন্মগ্রহণ করলে আমরা কোনোদিন বাংলাদেশ পেতাম না। আমরা স্বাধীনতা পেতাম না।



বাবা এসব কথা খুব জোরকণ্ঠে বলেছিলেন। তার কণ্ঠ তখন কাঁপতে থাকে। আমি বাবার সব কথা বুঝতেও পারি না। আমি অনুভব করি। বঙ্গবন্ধু একজন বিশাল ব্যক্তি। তার ছবি আমার চোখের সামনে ভাসতে থাকে। ভারী ফ্রেমের চশমা। চোখ থেকে যেন আলো ঠিকরে বের হচ্ছে। ছবিটার দিকে তাকালেই আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। বাবা বাসায় বাঁধাই করা একটা বড় ছবি ড্রইংরুমে রেখেছেন। আমি ঘুরেফিরে ছবিটার দিকে বারবার যাই। আর টের পেতে থাকি-ছবি থেকে যেন বঙ্গবন্ধু বের হয়ে আসছেন। আর আমাকে বলছেন কিহে... তুমি তো রাসেলের বয়সী। কোন ইশকুলে পড়ো? লেখাপড়া ভালো মতো করবে। বড় হতে হবে। তোমাদের হাতেই এই দেশ। এই দেশের উন্নয়ন। আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা তো তোমরাই তৈরি করবে। এই দেশ গড়ে তুলতে তোমাদের বড় হতে হবে। তাই এখন দরকার, মন দিয়ে লেখাপড়া।



আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। এমনই মুগ্ধ যে, প্রতিদিন একবার হলেও আমি ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকি। বঙ্গবন্ধু এখনও অনেক কথা বলেন। আজ ইশকুলে অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠান। সকাল থেকে অনুষ্ঠান। প্রথমে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কবিতা পাঠ। তারপর গান আর মুক্তিযুদ্ধের গান। দুপুরে পোলাও-মাংস। ছেলেমেয়েরা হৈচৈ করে খেলো। বিকেলে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গল্প বলা; অতিথি হিসেবে এসেছিলেন ড. আনিসুজ্জামান এবং ড. মুনতাসীর মামুন।



এই দুই ব্যক্তি অসাধারণভাবে বঙ্গবন্ধু জীবনের গল্প বললেন। কতো কষ্টই না বঙ্গবন্ধু করেছেন! জেল খেটেছেন দীর্ঘদিন। কারাগারের অন্ধকারে দিন কেটেছে তার। কোনোদিন ক্ষমতাসীনদের কাছে আপস করেননি। দেশের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। বাংলাদেশের সাড়ে ষোল কোটি মানুষের পিতা তিনি। সবার সুখ-অসুবিধা নিয়ে তিনি ভাবতেন। বাংলার মানুষের মুক্তি চাই। আর নয় পরাধীনতা। তাই তিনি সমগ্র জীবনজুড়ে আন্দোলন করেছিলেন। ছয় দফা আন্দোলন। সত্তরের নির্বাচন। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন। কোনোদিন তাকে কেউ দমাতে পারেনি। মহান বঙ্গবন্ধু। চিরন্তন বঙ্গবন্ধু। বাঙালির বন্ধু তিনি। শোষিত-নির্যাতিত মানুষের বন্ধু তিনি।



... এ রকম সুন্দর সুন্দর কথা বললেন বক্তারা। ড. আনিসুজ্জামান স্যারের মৃদু কণ্ঠের বক্তৃতা আমাকে ভীষণ আলোড়িত করলো। আমিও বঙ্গবন্ধু হবো-এমন স্বপ্ন নিয়ে সেদিন সারাদিন কাটলো। আজ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী। আজও মনে পড়ছে ১৭ মাচের্র কথা। আজও আমি বঙ্গবন্ধু হওয়ার স্বপ্ন দেখি।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২০৭৪১৩
পুরোন সংখ্যা