চাঁদপুর, মঙ্গলবার ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১৪ পৌষ ১৪২৭, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
বিসিএস, অনার্স ফাইনাল এবং প্রার্থীর বয়স
ড. এম মেসবাহউদ্দিন সরকার
২৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


গত মার্চ মাস অর্থাৎ করোনা প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায় এবং সেই সঙ্গে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে পড়ে। ফলে বেকারত্ব বাড়তে থাকে। এমনকি অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকের চাকরি চলে গেছে এবং বেকারত্ব আরও বেড়েছে। আজও করোনার তা-ব চলছেই যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছুই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছে।



 



এমন পরিস্থিতিতে গত ১ ডিসেম্বর ২০২০, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (বিপিএসসি) কর্তৃক ৪২তম ও ৪৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে (পিএসসির ওয়েবসাইটে ৩০ নভেম্বর, সোমবার)। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি এবং প্রার্থীদের বয়স বিবেচনায় দুই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও অনেক প্রার্থীর বয়স ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৪২তম (বিশেষ) বিসিএসের মাধ্যমে ২০০০ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে (এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে)। ৪৩তম বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে ১,৮১৪ জন কর্মকর্তা নেয়া হবে। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ১০০, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২৫, শিক্ষা ক্যাডারের জন্য ৮৪৩, অডিটে ৩৫, তথ্যে ২২, ট্যাঙ্ ে১৯, কাস্টমসে ১৪ ও সমবায়ে ১৯ জন নিয়োগ দেয়া হবে। এদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।



 



বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্যে উপযুক্ত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত একটি সাংবিধানিক সংস্থা। এটি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত মানবসম্পদ পরিকল্পনায় উৎকর্ষের পাশাপাশি জনপ্রশাসন ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভূমিকা পালন করে এবং দেশব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করে থাকে। কমিশন কর্তৃক ২৬টি ক্যাডারে (পুলিশ, ট্যাঙ্, পররাষ্ট্র, কাস্টমস্, অডিট, শিক্ষা ইত্যাদি) বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্য থেকে জনবল নিয়োগের পরীক্ষা পরিচালিত হয়। ওই পরীক্ষা পর্যায়ক্রমে তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক পরীক্ষা (এমসিকিউ), লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা (ইন্টারভিউ)। পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত সমগ্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ১.৫ থেকে ২ বছর সময় লাগে। প্রতি বছর গড়ে ২,৫০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ প্রার্থী আবেদন করেন। সংগত কারণেই বিসিএস পরীক্ষাকে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্যে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।



 



শিক্ষাজীবন শেষ করে সব থেকে সম্মানজনক ও আকর্ষণীয় সরকারি চাকরির সিঁড়ি এই বিসিএস। বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বা গ্র্যাজুয়েট যে কোনো শিক্ষার্থী নিজ ক্যারিয়ার তৈরি করতে চান একজন বিসিএস ক্যাডার হিসেবে। আর বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে একটি ক্যাডার পাওয়া মানেই বাকি জীবনটা সুন্দর এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে আছে সামাজিক মানমর্যাদা, সরকারি গাড়ি-বাড়ি, ড্রাইভার, পিয়ন, মালীসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা। তবে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া খুব সহজসাধ্য কাজ নয়। অনেক দিন আগে থেকেই সে অনুযায়ী ধীরে ধীরে প্রস্তুত করতে হয় নিজেকে। অনেককে দেখা যায় গ্র্যাজুয়েশন বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে মোটা সাইজের একটা বিসিএস গাইড ও সঙ্গে আরও কিছু বই নিয়ে টেবিলে বসেন। কেউ কেউ এর জন্য কোচিংও করেন, তাতে ভালো ফলাফল পেয়ে যান অনেকে। তবে এটা যথার্থ প্রস্তুতি নয়। প্রস্তুতি নিতে হয় ধীরে-সুস্থে, নিজেকে তৈরি করতে হয় বুঝে-শুনে। কারণ প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা পার করে মৌখিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়। তাই প্রস্তুতিতে থাকতে হয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান, দেশ ও সমাজের আচার-আচরণ, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। হওয়া চাই সৎ, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, দৃঢ়-মনোবলের অধিকারী, আত্মবিশ্বাসী, দেশপ্রেমিক, কর্তব্যপরায়ণ, নিরপেক্ষ, স্মার্ট, মার্জিত, ভদ্র এবং সর্বোপরি পরিচ্ছন্ন ও শুদ্ধভাবে কথা বলার অভ্যাস।



 



এদিকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা যেহেতু পুরোপুরি পরীক্ষানির্ভর সেহেতু পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার জন্যে যেভাবেই হোক, বুঝে না বুঝে মুখস্থ করার প্রবণতা লক্ষণীয়। শিশুকাল থেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত বই পিঠে চেপে শিক্ষার্থীরা কুঁজো হয়ে স্কুলে যায় অধিক নম্বর পাওয়ার জন্যে। বাস্তব জীবনের সঙ্গে তা কতটুকু সংগতিপূর্ণ, তার কোনো বিচার-বিশ্লেষণ নেই। এ অবস্থা প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। অর্থাৎ উপর্যুপরি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্যে বিশেষ সিঁড়ি তৈরি করা হচ্ছে, যা ক্রমাগতভাবে বিসিএস নামের পরীক্ষায় ধাবিত হয়। এটিকে সুস্থধারার শিক্ষা, সমাজ বলে না। শিক্ষাব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীল ও সহিষ্ণুতা, সততা ও নিষ্ঠা, পরস্পরের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আজ খুবই অভাব। মুখস্থবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করাই যেনো এখন উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থায় এটি একটি মারাত্মক ধস। আর এ প্রবণতা থেকেই সম্ভবত বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কিছুকাল পরই মূল লেখাপড়ায় মনোযোগী না হয়ে বিসিএস পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। অনেকটা দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই বিসিএস কোচিং ও গাইডবই নিয়ে শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত থাকে। এই প্রস্তুতি তাকে অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও সাহায্য করে।



 



বরাবরের মতো এবারের বিসিএসে প্রার্থীদের বয়সসীমা ২১ থেকে ৩২ বছর ধরা হয়েছে, যা সরকারি চাকরির জন্যে বাধ্যতামূলক। এদিকে করোনার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জুলাই মাস থেকে অনলাইনে ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে বটে, কিন্তু কোনো ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় হয়নি। এরই মধ্যে বিসিএসের বিজ্ঞাপন দেখে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাথায় হাত। কারণ সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে এতো দিনে তারা পাঠ্যসূচি শেষ করে চাকরির বাজারে থাকার কথা ছিলো। বিষয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভাবিয়ে তুলেছে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা দ্রুত পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষাগুলো সমাপ্ত করার একটি রূপরেখা দিয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। করোনাকালে এই দুর্যোগের সময় শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফি-ও মওকুফ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সরকার ও পিএসসি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে যেনো আবেদনের সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদ্বয়ও একই আহ্বান জানিয়েছেন ইতিমধ্যে। পাশাপাশি করোনার কারণে যাদের বয়স ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে, তাদের করোনাকালের সময়টুকু বাদ দিয়ে অর্থাৎ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত বয়সসীমা বিবেচনা করার জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি। সম্ভব হলে আবেদন ফি মওকুফ করার জন্যেও অনুরোধ রইলো।



 



লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, অধ্যাপক ও পরিচালক, আইআইটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।



sarker@juniv.edu



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৮৬-সূরা তারিক


১৭ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১১। শপথ আসমানের, যাহা ধারণ করে বৃষ্টি,


১২। এবং শপথ জমিনের, যাহা বিদীর্ণ হয়,


১৩। নিশ্চয় আল-কুরআন মীমাংসাকারী বাণী।


১৪। এবং ইহা নিরর্থক নহে।


 


 


 


ভালো স্বাস্থ্য এবং ভালো স্ত্রী যার আছে সে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদের অধিকারী।


-ফ্রাঙ্কলিন।


 


 


 


 


 


কাহারো উপর অত্যাচার করা হইলে সে যদি সবর করিয়া চুপ থাকিতে পারে, আল্লাহ তাহার সম্মান বৃদ্ধি করিয়া দেন।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,৩৮,০৬২ ১০,৬৪,২৭,১০৩
সুস্থ ৪,৮৩,৩৭২ ৭,৮০,৮৪,৯০৯
মৃত্যু ৮,২০৫ ২৩,২২,০৫৩
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১৮৮০৫
পুরোন সংখ্যা