চাঁদপুর, মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭, ৪ সফর ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
প্রতিষ্ঠাতার সাক্ষাৎকার : মোঃ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক
স্বপ্ন দেখি এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার সকল শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মোঃ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক একজন স্বপ্নদ্রষ্টার নাম। যিনি স্বাধীনতাযুদ্ধের দেশের জন্যে শত্রু মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। দেশ স্বাধীন হয়েছে। এখন তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গড়ে তুলেছেন বীর প্রতীক মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী একাডেমি। নানা প্রতিবন্ধকতা আর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তিনি এ একাডেমি গড়ে তুলেছেন। সম্প্রতি শিক্ষাঙ্গনের মুখোমুখি হয়ে জানালেন সেসব কথা।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : কেমন আছেন?



মোঃ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক : ব্যক্তিগতভাবে ভালো থাকলেও এই করোনাকলীন সামগ্রিকভাবে ভালো নেই।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : বীর প্রতিক মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী একাডেমি প্রতিষ্ঠার নেপথ্য কথা জানতে চাই।



মোঃ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক : আমি যে গ্রামে বেড়ে ওঠেছি, সে গ্রামের ও সকলের উন্নয়নের জন্যে ভালো কিছু করার আগ্রহ থেকেই এই পরিকল্পনা। প্রতিটি ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পেঁৗছে দেয়ার স্পৃহা থেকেই এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা। আমি চাই এই প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ালেখা শেষ করে এলাকার ছেলে-মেয়েরা ভালো ও উন্নত কাজ করে দেশের জন্যে অবদান রাখতে সক্ষম হবে ও এলাকাকে সমৃদ্ধ করবে। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্যেই কাজ করে যাচ্ছে আমার এই প্রতিষ্ঠানটি।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রতিষ্ঠানটির সূচনালগ্নের দিনগুলো সম্পর্কে বলুন।



মোঃ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক : প্রথমে যখন একাডেমিটি এলাকায় প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করি আমি তেমন সাড়া পাইনি। সবাই বলতো এলাকায় নয়, শহরে কিছু করুন। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। আমি আমার গ্রামের জন্যেই কিছু করবো। আমাকে প্রচুর ভাবতে হয়েছে, নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অবশেষে ২০১৬ সালে এই একাডেমিটি প্রতিষ্ঠা করি এবং ২০১৭ সালে মাত্র ৬২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির যাত্রা শুরু করি।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন?



মোঃ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক : একাডেমিটি ক্রমান্নয়ে চাঁদপুর জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে বলে আমার আশা। আমাদের প্রতিষ্ঠানটি গত দুবছরে দুটি জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ পাস করেছে। শুধু পড়ালেখায় নয়, খেলাধুলাসহ অন্যান্য কার্যক্রমেও জেলা ও অঞ্চলে সফলতা অর্জন করেছে এ একাডেমিটি। চলতি বছরের জাতীয় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় একাডেমির শিক্ষার্থীরা উপজেলা, জেলা, উপ-আঞ্চলিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল ও ভলিবল খেলায় মোট ২২টি ট্রপি অর্জন করেছে। একাডেমিতে চালু রয়েছে টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, ভলিবল, দাবা, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন ও জাপানি খেলা। খেলাধুলার জন্যে ছেলে ও মেয়েদের জন্যে ভিন্ন ভিন্ন খেলার মাঠ রয়েছে। ৪০টি কম্পিউটার নিয়ে গড়ে তুলেছি একটি বিশাল কম্পিউটার ল্যাব, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অনুশীলন করছে। আমাদের রয়েছে ৩টি বিজ্ঞানাগার, যেখানে আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় শিখিয়ে থাকি। আমাদের শিক্ষার্থীরা সংগীত ও বিতর্কেও নিয়মিত অনুশীলন করছে এবং জেলায় অনেক পুরস্কার পেয়েছে। একাডেমিতে প্রায় আড়াই হাজার বই-সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি রয়েছে। বর্তমানে আমাদের ৫তলার মূল ভবন ছাড়াও পাশেই সরকারি অর্থায়নে নির্মাণ হবে ৬তলাবিশিষ্ট ভবন। একাডেমিটিতে আছে আধুনিক সব ধরনের ব্যবস্থা।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার প্রতিষ্ঠান সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমে ভালো করছে, আরও অগ্রগতির জন্যে কী উদ্যোগ নিয়েছেন?



মোঃ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক : সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমে আরও ভালো করার জন্যে শিক্ষার্থীরা যে যেই বিষয়ে ভালো তাকে সেই বিষয়ে পারদর্শী করার জন্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমের সকল উপকরণই আছে আমাদের একাডেমিতে।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার প্রতিষ্ঠানের ফলাফল সম্পর্কে কিছু বলুন।



মোঃ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক : আমাদের প্রতিষ্ঠানটি গত দুবছরে দুটি জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ পাস করেছে।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার স্কুলজীবন সম্পর্কে জানতে চাই।



মোঃ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক : আমার ছোটবেলা কেটেছে নানার বাড়িতে। পড়াশোনা করেছি সফরমালী উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্যাররা আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। স্যারদের অনুপ্রেরণা ও দোয়ায় আজ আমি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। সেই ছেলেবেলার কথা ভাবলে এখনও মনে চায় স্কুলজীবনে ফিরে যেতে। তবে আমি এই শিক্ষার্থীদের জন্যে যে সকল সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করেছি, আমার স্কুলজীবনে এই তুলনায় তেমন কিছুই পাইনি।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার প্রিয় শিক্ষক সম্পর্কে বলুন, যাঁর দ্বারা আপনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন।



মোঃ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক : আমার নানা শহীদ ইব্রাহিম বিটি সাহেব সফরমালী হাইস্কুলের দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতাজীবনে তিনি প্রথমে ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তিনি এলাকার জনগণের সেবা করার জন্যে সেন্ট গ্রেগরী স্কুল ছেড়ে গ্রামের সফরমালী স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০ বছর তিনি আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সমাজকর্মের অনুপ্রেরণা আমি তাঁর কাছ থেকে পেয়েছি। চাকুরিজীবনে দেশ-বিদেশ ঘুরে অনেক দেশের হাইস্কুল ও কলেজ পরিচালনা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। লব্দ সেই অভিজ্ঞতা এই একাডেমিতে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : বীর প্রতীক মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী একাডেমি নিয়ে কী স্বপ্ন দেখেন?



মোঃ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক : স্বপ্ন দেখি এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু ফলাফলে নয়, শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে শিক্ষার সকল শাখায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে এই একাডেমির শিক্ষার্থীরা দেশের কল্যাণে কাজ করবে। এই দেশটাকে স্বপ্নের সোনার দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নত হবে।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আপনার প্রত্যাশার কথা জানতে চাই।



মোঃ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক : আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আরও আধুনিক হওয়া উচিৎ। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একই মানে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবেই সামগ্রিকভাবে দেশের সব সমাজ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। প্রতিটি শ্রেণিতে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে পাঠদান করা হলে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করবে।



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৬-সূরা দাহ্র বা ইন্সান


৩১ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৯। তাহাদিগকে পরিবেশন করিবে চিরকিশোরগণ, যখন তুমি উহাদিগকে দেখিবে তখন মনে করিবে উহারা যেনো বিক্ষিপ্ত মুক্তা,


২০। তুমি যখন সেথায় দেখিবে, দেখিতে পাইবে ভোগ-বিলাসের উপকরণ এবং বিশাল রাজ্য।


 


দৈহিক সৌন্দর্যকে অনাবৃত রাখার চেয়ে আবৃত্ত রাখাই ভালো। -ফ্লেচার।


 


 


 


পুরাতন কাপড় পরিধান করো, অর্ধপেট ভরিয়া পানাহার করো, ইহা নবীসুলভ কার্যের অংশ বিশেষ ।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৮৭,২৯৫ ৩,৯৬,৩৮,১৮৮
সুস্থ ৩,০২,২৯৮ ২,৯৬,৭৮,৪৪৬
মৃত্যু ৫,৬৪৬ ১১,০৯,৮৩৮
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬২৬৫০৩
পুরোন সংখ্যা