চাঁদপুর, মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭১-সূরা নূহ্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৭। তিনি তোমাদিগকে উদ্ভূত করিয়াছেন মৃত্তিকা হইতে।


১৮। অতঃপর উহাতে তিনি তোমাদিগকে প্রত্যাবৃত্ত করিবেন ও পরে পুনরুত্থিত করিবেন,


১৯। এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য ভূমিকে করিয়াছেন বিস্তৃত


 


যুগ যতই নূতন হোক পুরাতনের অভিজ্ঞতা ছাড়া তা অচল।-ডেফে।


 


 


যিনি বিশ্বমানবের কল্যাণ সাধন করেন, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।


 


 


ফটো গ্যালারি
স্মৃতিতে কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়
রাজন চন্দ্র দে
০৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ফেলে আসা দিনগুলোর কথা আমাকে নানাভাবে আন্দোলিত করে। স্কুলজীবনের স্মৃতিবিজরিত ছোট ছোট ঘটনাগুলো আমাকে খুব বেশি আকর্ষণ করে। আমি মনে করি, যে কোন শিক্ষার্থীর জন্যে সবচেয়ে সুখের ও আনন্দের সময় হলো তার স্কুলজীবন। আমাকে প্রবলভাবে কাছে টানে আমার জীবনের মধুমাখা স্মৃতিগুলো। আমার সেই স্মৃতিগুলোর কথা লিখতে বসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছি।



স্মৃতিতে আমার বিদ্যালয় : যে বিষয়টি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি সুখের, তা হলো আমার স্কুলজীবন। খুব বেশি মনে পড়ে আমার স্কুলজীবনের হাসি ও আনন্দভরা দিনগুলোর কথা। মনে পড়ে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ, আমার প্রিয় স্কুল কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং স্কুলের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের কথা। স্কুলজীবনের যেসব স্মৃতি আমার জীবনের অনেকখানি জায়গাজুড়ে আছে তার কিছু অংশ লিখলাম।



স্কুলের প্রথম দিন : আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন হলো স্কুলের প্রথম দিনটি। ওইদিনটি যেমন ছিলো সুখের, তেমনি ছিলো আনন্দের ও স্মরণীয়। স্কুলের প্রথম দিনটি অস্বস্তিকর মনে হলেও ধীরে ধীরে স্কুলের প্রতিটি দিন আমার বাড়ির মতো আপন হয়ে উঠলো। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে রোল ১৪-তে ভর্তি হয়েছিলাম। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে সকল সহপাঠীদের সাথে একসাথে পড়েছিলাম, তাদের সাথে খুব বেশি আনন্দে মেতে উঠলাম। আর যে সহপাঠী অন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এসেছে তাদের সাথে পরিচিত হতে একটু সময় লাগলো। ভয়ে পেছনের টেবিলে বসলাম। স্যার হাজিরা ডাকা শুরু করলেন, কিন্তু নাম ধরে নয়, সংখ্যায়। রোল নাম্বার মনে ছিলো না। স্যারের হাজিরা ডাকা শেষ, কিন্তু আমিতো হাজিরা দিলাম না। তাই সাহস করে দাঁড়ালাম। বললাম, স্যার আমিতো হাজিরা দিইনি। স্যার ধমকের স্বরে বললেন, কি করেছিলে পেছনে বসে? আমি বললাম, ভুল হয়ে গেছে স্যার। আমার রোল নাম্বারটা ঠিক মনে ছিলো না। ঠিক পরদিন স্যার নামধরে হাজিরা ডাকলেন। ছাত্র ভালো ছিলাম বলে স্কুলের সকল শিক্ষক খুবই ভালোবাসতেন ও স্নেহ করতেন। শিক্ষক ও সহপাঠীদের স্নেহ এবং ভালোবাসায় আমার স্কুলজীবন আনন্দের ও গৌরবের হয়ে উঠেছিলো।



স্কুল ড্রেস ও পরীক্ষার ফি : স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস পরাটা ছিলো বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভাব-অনটনের সংসার। বাবার একার রোজগারে আমরা চার ভাইয়ের লেখাপড়া ও সংসার খরচ মেটানো বাবার পক্ষে ছিলো অসাধ্যকর। বাবা তখন একটার বেশি ড্রেসও কিনে দিতে পারেনি। ড্রেসের জন্যে স্যারদের কাছে অনেক অপমানিত ও বেত্রাঘাত খেতে হয়েছে। ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত চামড়ার জুতা পরে স্কুলে যেতে পারিনি। পর্যাপ্ত ছাতাও ছিলো না। তখন আমাদের বাড়ি থেকে আমরা ৬ জন স্কুলে যেতাম। মনে পড়ে কচুপাতা মাথায় দিয়েও স্কুলে গিয়েছিলাম। ছাত্র ভালো ছিলাম বৈকি স্কুলের বেতনও ঠিকমতো দিতে পারতাম না। এমনকি পরীক্ষার ফিস ঠিকমতো দিতে পারিনি বলে ১০ মিনিট পর পরীক্ষার হলে ঢুকতে হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, হয়তো তখন এতো কষ্ট করে পড়ালেখা করেছি বলেই মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ও মা-বাবার আশীর্বাদে আজ খুবই ভালো আছি।



আদর্শ শিক্ষক : সকল শিক্ষকই একজন ছাত্রের জীবনে আদর্শের মানুষ। আর আমার সৌভাগ্য হয়েছে বেশকিছু গুণী শিক্ষকের সানি্নধ্য পেতে। তাদের সকলেই আমার খুব প্রিয় ও শ্রদ্ধেয়। তাদের মধ্যে আমি যাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় পেতাম তিনি হলেন আমার প্রিয় শিক্ষক কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক প্রয়াত হরিপদ চক্রবর্তী। যিনি স্কুলটিতে লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি করার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন এবং সফলও হয়েছেন। সকল গুণে গুণান্বিত ছিলেন স্যার। তিনি যেমন শিক্ষার্থীদের শাসন করতেন, তেমনি আদরও করতেন। স্যারের ক্লাসে যে পড়া পারতো তার মতো ভালো ছেলে মনে হয় পৃথিবীতে আর একজনও নাই। তাই প্রতিদিন প্রত্যেক ছাত্রই স্যারের পড়া মনোযোগসহকারে শিখে আসতো। স্যার ইংরেজি ক্লাস নিতেন। তিনি যে কোনো অন্যায়ের প্রতি ছিলেন আপসহীন। তিনি ছিলেন ন্যায়ের মূর্তপ্রতিক। স্কুলের সাংগঠনিক পরিচালনায়ও তিনি কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতেন না। স্যার আমাকে খুবই ভালোবাসতেন। তার একটা কারণও আছে। প্রথমত হলো, স্যারের ক্লাসে সবসময় পড়া শিখে যেতাম। ৭ম-১০ম শ্রেণি পর্যন্ত সবসময় ক্লাসে দ্বিতীয় হতাম।



মনে পড়ে টেস্ট পরীক্ষার কথা। টেস্ট পরীক্ষা চলছে। ইংরেজি ২য় পত্রে পরীক্ষার দিন 'শ' নামের এক ছাত্র আমার পেছনের টেবিলে বসছে। আমি কখনো সোজা হয়ে বসে লিখতে পারি না। একটু বামদিকে বাঁকা হয়ে লিখতে হয়। আমি বাঁকা হয়ে লিখছি 'শ' নামের ছাত্রটি আমি যা লিখছি সেও আমারটি দেখে দেখে হুবহু লিখছে। কিন্তু 'শ' নামের ছাত্রটির পেছনে স্যার যে দাঁড়িয়ে আছেন আমি খেয়াল করিনি। স্যার দুজনের কাগজই টেনে নিয়ে গেলেন। আমি স্যারের পেছন পেছন যেতে লাগলাম আর দেখাবো না বলে ক্ষমাও চাইলাম, এমনকি কান্নাও করে দিলাম। কারণ টেস্ট পরীক্ষা বলে কথা। সময়টাও খুবই মূল্যবান ছিলো। কিন্তু স্যার আমার কাগজটি পনের মিনিট আটকিয়ে রাখলেন আর 'শ' নামের ছাত্রটির কাগজ আর ফেরত দিলেন না। শ্রদ্ধেয় হরিপদ স্যারের সেই স্মৃতিগুলোর কথা মনে পড়লে আজও চোখ দিয়ে পানি ঝরে। স্যারকে নিয়ে যখন লেখাটি লিখছি তখনও চোখ দিয়ে পানি ঝরছিলো। মনে পড়ে, স্যার সবসময় জোড় বেত ব্যবহার করতেন। শিক্ষার্থীদের নামাজের প্রতিও তিনি ছিলেন আপসহীন। তিনি সবমসয় ক্লাসে বলতেন, সকল মুসলিম ছাত্র বিরতির সময় মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে হবে। কোন্ ছাত্র নামাজ পড়তো, আর কে পড়তো না সবসময় তিনি তা খেয়াল রাখতেন। বিরতির সময় তিনি সাইকেলের পেছনে জোড় বেত নিয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে পড়তেন কোনো ছাত্র নামাজ ফাঁকি দেয় কি না তা দেখার জন্যে।



আমি আমার প্রত্যেক শিক্ষককে খুবই সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। প্রত্যেক শিক্ষকেরই নিজস্ব কিছু আদর্শ ও যোগ্যতা আছে। শিক্ষক হলো একজন ছাত্রের পথপ্রদর্শক।



তিনি ছিলেন সংস্কৃতিব্যক্তিত্ব শিক্ষক। প্রতিনিয়ত স্কুলে সাংস্কৃতিক চর্চা হতো। উপজেলা, জেলা এমনকি বিভাগীয় পর্যায়েও কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে অনেক পুরস্কার অর্জন করতো। আমার এখনও মনে পড়ে, উপজেলাভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয় ছিলো বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সেরা। যেমন : হামদ, নাতে রাসুল, গজল, দেশাত্মবোধক গান, সুন্দর হাতের লেখা ইত্যাদি প্রতিযোগিতায় কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয় ১ম, ২য় অথবা ৩য় হতো। স্যারের নেতৃত্বে আমরা সাইকেলে করে প্রতিযোগিতা দেখতে যেতাম। স্যার থাকাকালীন স্কাউট দলও খুবই সক্রিয় ছিলো।



ছাত্র হিসেবে স্যারের শেষ সেবাটুকু করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। একবার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় হঠাৎ করে স্যার মাঝ মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন আমি আর আমার খুব কাছের বন্ধু ফয়সালসহ স্যারকে কোলে করে অফিসরুমে এনে টেবিলের উপর শুইয়ে দিলাম। আমার বন্ধু মাথায় পানি দিচ্ছিলো আর আমি স্যারের হাত-পা টিপে দিচ্ছিলাম। তারপর স্যারকে বাড়ি পেঁৗছে দিয়ে চলে এলাম। তার পরদিন শুনি স্যার এই পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিলেন। কথাটি শুনি দু চোখের কান্না থামাতে পারিনি। স্যারের স্মৃতিগুলোর কথা কখনো ভোলার মতো নয়। স্যার পরলোকগমন করার পূর্বে কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে তার স্মৃতিটুকু রেখে গেছেন, যা এখনো বিদ্যমান। স্যার নিজ হাতে কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের একতলা ভবনটি রং করেছিলেন। এখনো স্কুলে গেলে স্যারের সেই স্মৃতিটুকুর কথা মনে পড়ে।



স্যারের ২ ছেলে, ১ মেয়ে। স্যারের ছেলে-মেয়ে সবাই খুবই মেধাবী। বড় ছেলে পুলক চক্রবর্তী একটি কোম্পানীতে চাকুরিরত ও তার স্ত্রী একটি কলেজের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা করছেন। স্যারের ছোট ছেলে অলক চক্রবর্তীও খুবই মেধাবী ছাত্র। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ স্কাউট-এর সহকারী পরিচালক এবং তার স্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে কর্মরত। স্যারের একমাত্র মেয়ে মুক্তা চক্রবর্তী। তার স্বামী প্রবীর চক্রবর্তী পেশায় সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী। প্রবীর চক্রবর্তী দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ফরিদগঞ্জ উপজেলা ব্যুরো ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত। স্যারের গুণগুলোর কারণেই আমি স্যারকে খুব পছন্দ করতাম। তিনি যখন ক্লাসে পড়াতেন, তখন সকল ছাত্রই মনোযোগসহকারে শুনতো। তার কথা বলার কৌশল, শিক্ষাদান পদ্ধতি, তার কণ্ঠাবত, উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি আমাকে খুবই মুগ্ধ করতো। তিনি একজন মহৎ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সবসময় অতি সাধারণভাবে জীবনযাপন করতেন। স্যারের মতো একজন শিক্ষক যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যে গর্ব।



বৃত্তি পরীক্ষা : ৮ম শ্রেণিতে পড়াবস্থায় আমার রোল ছিলো ২। ৭ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত রোল ছিলো ২। তখন রোল নম্বর ১-৩ পর্যন্ত বৃত্তি পরীক্ষা দেয়া ছিলো বাধ্যতামূলক (স্কুল থেকে নির্ধারিত), তারপরও যারা বৃত্তি দেয়ার ইচ্ছা করতো তারা দিতে পারতো। ডিসেম্বর মাসে পরীক্ষা। ভালো প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম পরীক্ষার জন্য। আমি ৮ম শ্রেণিতে পড়াবস্থায় টিউশনি শুরু করি। ১ম টিউশনি শুরু করি দর্জিবাড়ির আরশাদ কাকার ছেলে রাশেদকে দিয়ে। কাকা তখন বিদেশে থাকতেন। কাকা ওই মাসেই বিদেশ থেকে এসেছেন। আমি ও আমার বাবা সাইকেলে করে চাঁদপুর রওনা দিলাম। আমার বন্ধু ফয়সাল তার বাবার সাথে রিকশায় করে। রওনা দিয়ে কাকাদের বাড়ির সামনে গিয়ে সাইকেল থামিয়ে কাকা ও কাকিকে সালাম করলাম। কাকা আমাকে ৫শ' টাকা হাতে দিয়ে বললেন, কিছু খেও। তখন ৫শ' টাকা আমার কাছে অনেক টাকা। আমিতো অনেক খুশি। আমি ও আমার বাবা চান্দ্রাবাজারে গিয়ে নাস্তা করলাম। পরে সাইকেলে করে চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজে আসলাম। দু বেলা পরীক্ষা। সকালের পরীক্ষা শেষে দুপুরে জে.এম. সেনগুপ্ত রোডে সাহেব আলীর দোকানে জনপ্রতি ১২ টাকা করে ভাত খেলাম। তখন চাঁদপুরে সাহেব আলীর খাবার খুবই সুস্বাদু ছিলো। বিছানায় বসে ভাত খেতে হতো। পরদিন ঠিক একইভাবে পরীক্ষা দিলাম। রেজাল্ট ভালো হয়নি। স্মৃতিগুলো লিখছি আর অজস্র চোখের পানি ঝরছে। আর ভাবছি কোথা থেকে কি হলাম! আমার বাবাই আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা।



খেলাধুলা : মনে পড়ে অসংখ্য খেলাধুলার স্মৃতিবিজরিত স্কুল মাঠটির কথা। ফুটবল ছিলো আমার প্রিয় খেলা। যখন ১০ম শ্রেণিতে পড়ি তখন আন্তঃশ্রেণি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। যদি মাত্র ৩ বছর এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিলো। আমি ছিলাম আমরা বন্ধু মামুন পাটওয়ারীর দলে। ওই সময় থেকেই রেজাউল দুর্দান্ত ফুটবল খেলতো। তার বিপরীতে খেলা ছিলো মুশকিল। ওই খেলায় মামুন প্রচুর টাকা খরচ করেছিলো। আমাদের কোনো টাকা দিতে হতো না। জার্সি, পেন্ট, অ্যাংলেট, নাস্তা, চকলেট, লেবু সকল কিছুই মামুন ম্যানেজ করতো। মামুনের দলটি ফাইনালে উঠলো। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো ফাইনাল খেলার দিন মামুন একটা মাইক্রোবাস ভাড়া করেছিলো। অর্থাৎ খেলোয়াড়রা পায়ে হেঁটে কড়ৈতলী বাজারে যাবে এবং সেখান থেকে মাইক্রোবাসে করে খেলার মাঠে আসবে। সাথে থাকবে ব্র্যান্ডপার্টি। তাই হলো। কি যে আনন্দ। মাঠটি ছিলো কর্দমাক্ত। টানটান উত্তেজনাকর খেলা। শেষপর্যন্ত আমাদের দলটি রানার্সআপ হলো। খেলা শেষে মামুনকে বললাম, কিরে এতো টাকা কোথা থেকে পেলি। সে উত্তরে বললো, আরে শালায় কয় কি সুপারি বাগান আছে না। মামুন খুবই আন্তরিক ছিলো। আজ অনেক স্মৃতিই মনের পর্দায় ভেসে উঠে। বিশেষ করে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ ও সহপাঠীদের কথা। আজ হয়তো অনেকের সাথে যোগাযোগ নাই। কিন্তু মনের গহীনে লুকিয়ে আছে সেই মধুমাধা স্মৃতিগুলো।



প্রত্যাশা : আজ এ মহান বিদ্যাপীঠের অনেক শিক্ষার্থী দেশে বা দেশের বাহিরে বিভিন্ন পেশায় (শিক্ষকতা, রাজনীতি, ব্যবসা, সরকারি বা বেসরকারি চাকুরিতে) সুনামের সাথে নিয়োজিত আছেন। সমাজসেবায়ও তাদের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। এ স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আজ স্কুলের জন্যে অনেক কিছু করছে। এটাই আমার প্রত্যাশা ছিলো। আজ খুবই ভালো লাগছে এমনকি কৃতজ্ঞতা না জানালে নিজেকে কৃপণ মনে হবে, সেটা হলো কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয় পরিবার নামে একটি পেইজ খোলার কারণে আমরা অনেককেই খুঁজে পেয়েছি। আমার সকলের কাছে একটাই প্রত্যাশা_যে যেখানেই থাকি যদি পারেন আপনার বহু স্মৃতিবিজরিত বিদ্যালয়টির শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এ বিদ্যালয়টিতে। বর্তমান শিক্ষার্থী, শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকবৃন্দ ও প্রাণপ্রিয় ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতি একটাই প্রত্যাশা শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখুন। সকলের নীরলস প্রচেষ্টাই আমাদের বিদ্যালয়টি সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে অজস্র সুনাম বয়ে আনবে_এটাই আমার প্রত্যাশা।



ইতিকথা : আমার বিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি দিনই আজও আমার কাছে সমধুর স্মৃতি হয়ে আছে। আমি আমার এ মহান ও প্রিয় বিদ্যালয় থেকে অনেক কিছু পেয়েছি ও শিখেছি। যেমনি ছিলো কিছু প্রিয় বন্ধু, তেমনি ছিলো প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ, আনন্দ ও জীবনে ভালো লাগার মতো কিছু সেরা মুহূর্ত। আমার বহু স্মৃতিগাঁথা এ প্রিয় বিদ্যালয়টি নিয়ে আমি গর্বিত। সময়ের চক্রাজালে জীবনের সেই স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো হারিয়ে যাওয়ার আগেই টেনে ধরেছে এ বিদ্যালয়ের কিছু তরুণ যুবক। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয় পরিবার নামে এ প্লাটফর্ম। ভালো থেকো তোমরা সবাই। তোমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করছি।



লেখক : প্রাক্তন ছাত্র, কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।



 



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩২৩৪৫
পুরোন সংখ্যা