চাঁদপুর, বুধবার ১৮ মার্চ ২০২০, ৪ চৈত্র ১৪২৬, ২২ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম মুত্যুবরণ করেছেন। বাদ আসর তালতলা করিম পাটোয়ারী বাড়ির মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৬-সূরা তাহ্রীম


১২ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৯। হে নবী! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর এবং উহাদের প্রতি কঠোর হও। উহাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম, উহা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!


 


বন্ধু অপেক্ষা শত্রুকে পাহারা দেওয়া সহজ।


-আলকমেয়ন।


 


 


 


পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ।


ফটো গ্যালারি
সাক্ষাৎকার : অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার
পরিপূর্ণ শিক্ষার জন্যে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রতন কুমার মজুমদার। তিনি চাঁদপুর পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠায় এ বিদ্যানিকেতনটি গত ৪ বছরে আমূল বদলে গেছে। তাঁর ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ফুলে ফুলে শোভিত হয়েছে কলেজটি। সবাই এ মনোরম ক্যাম্পাসের প্রশংসা করছেন। সম্প্রতি রতন কুমার মজুমদারের সাথে শিক্ষাসংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : স্যার, শুভেচ্ছা জানবেন।



রতন কুমার মজুমদার : আপনার প্রতিও আন্তরিক শুভেচ্ছা রইলো।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনি পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে কেন বেছে নিলেন?



রতন কুমার মজুমদার : আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর চাঁদপুরে চলে আসি। তখনো আমাদের রেজাল্ট হয়নি। এমন সময় চাঁদপুর সরকারি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ এ ডবিস্নউ তোহা মিয়া পোস্টকার্ডে আমাকে একটি চিঠি লিখলেন। তিনি বললেন, তুমি যতদ্রুত সম্ভব আমার এখানে চলে আসো। আমি গেলাম। স্যার বললেন, তুমি কলেজে জয়েন করো। ভূগোল ডিপার্টমেন্টে ক্লাস নাও। তখন ভূগোল বিভাগে কোনো শিক্ষক ছিল না। একজনও না। শিক্ষার্থীরা অসন্তুষ্ট। ভূগোলের শিক্ষক পাওয়াও যাচ্ছিল না। স্যারের নির্দেশ মতো আমি ক্লাস নেয়া শুরু করলাম। এভাবে এক বছর চলে গেল। এরমধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকে অফিসার পদে অ্যাপয়েনমেন্ট লেটার পেলাম। আমি তখন একটু দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি। কী করবো? কারণ, চাঁদপুর কলেজের চাকুরি অস্থায়ী। আমার বাবা বললেন, ব্যাংকেই জয়েন করো। ভালো ব্যাংক, বেতনও ভালো। কিন্তু ততদিনে শিক্ষকতা পেশা আমার ভালো লেগে গেছে। শিক্ষার্থীদের সানি্নধ্য আমি উপভোগ করছি। তাছাড়া চাঁদপুর কলেজে পড়েছি, সে-কলেজে এখন চাকুরি করছি, আমার শিক্ষকরা এখন আমার সহকর্মী। এ বিষয়টি আমাকে আনন্দিত করেছে। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছি। কলেজ অধ্যক্ষ তোহা স্যারকে আমি গ্রামীণ ব্যাংকের চাকুরির কথাটা জানালাম। স্যারও বললেন, ব্যাংকে জয়েন করতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি আর ব্যাংকে জয়েন করিনি। চাঁদপুর কলেজেই রয়ে গেলাম। এ ঘটনায় আমার বাবা বিশেষত মন খারাপ করলো।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজে কবে যোগদান করলেন?



রতন কুমার মজুমদার : আমি চাঁদপুর কলেজে দেড় বছর কাজ করার পর পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজে ভূগোল বিভাগের প্রভাষক পদ শূন্য হয়। তোহা স্যারসহ শুভাকাঙ্ক্ষিদের পরামর্শে আমি এখানে আবেদন করি। শেষ পর্যন্ত আমার চাকুরিটা হয়ে যায়। যোগদান করি। এটা ১৯৮৮ সালের ঘটনা। শুরু থেকেই শিক্ষকতা ভালো লেগেছে। সেই থেকে এখানেই আছি। অনেকবছর পর ভাইস প্রিন্সিপাল হলাম। এখন অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছি। আমি শিক্ষকতাকে সবসময়ই উপভোগ করি। শিক্ষকতা পেশায় কাজ করে যতটা সম্মান পাওয়া যায়, অন্য পেশায় তা পাওয়া যায় না।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনার প্রিয় শিক্ষক কারা?



রতন কুমার মজুমদার : প্রাথমিকে আমার প্রিয় শিক্ষক ছিলেন সাঁতার পাড়ার স্যার। তিনি সাঁতার পাড়া থাকতেন বলে তাঁকে সবাই এই নামে সবাই ডাকতো। তাঁর নাম আমরা জানতাম না। প্রাইমারি শেষে আমি রামগঞ্জ হাইস্কুলে ভর্তি হলাম। মজার বিষয় হলো রামগঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার স্যার আমাকে পড়াতেন। তিনি আকর্ষণীয় মানুষ ছিলেন। আমাকে প্রচ- স্নেহ করতেন। তাঁর কাছে আমার বাংলা-ইংরেজি-গণিত সবকিছু শেখা। তাঁর হাতের লেখা অসাধারণ ছিল। তিনি পড়া ভালোভাবে বুঝাতে পারতেন। তাঁর হাতে ধরেই আমার এখানে আসা। তাঁর প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা।



 



ইন্টারমিডিয়েটে আমাদের বাংলা পড়াতেন বীরেন্দ্র স্যার। তিনি চমৎকার পড়াতেন। চাঁদপুর কলেজে আমার প্রিয় শিক্ষক শ্রদ্ধেয় তাজুল ইসলাম, বদিউর রহমান চৌধুরী, মোস্তাক আহমেদ ও আকবর হোসেন স্যার। আমার জীবনে তাঁদের অবদান অনেক। এঁদের মধ্যে তাজুল ইসলাম স্যার সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন। তিনি বোটানি পড়াতেন। তাঁর ক্লাস কলেজজীবনে একটিও মিস দিইনি। এতটা ভালো পড়াতেন। আমাদের সকল ছাত্রই তাঁর ক্লাস করতো। স্যার এমনভাবে পড়াতেন, সহজেই বুঝতে পারতেন কোন ছাত্রটি পড়া বুঝতে পারছে না। তিনি আমার আদর্শ।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রিয় শিক্ষক ছিলেন শ্রদ্ধেয় জোহরা ইউসুফ। তিনি তৎকালীন শিক্ষাসচিব আ ন ম ইউসুফ স্যারের স্ত্রী। তিনি একাধারে আমার শিক্ষক, আমার আপা। তাঁর স্নেহ ভোলার মতো নয়। অনেকদিন আগে হয় তিনি মারা গিয়েছেন।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনার সহপাঠীদের কথা কিছু বলুন।



রতন কুমার মজুমদার : আমার স্কুলজীবনের প্রিয় বন্ধু যে ছিল, সে এখন নেই। সেও প্রয়াত। তার সাথে আমার অনেক স্মৃতি। কলেজজীবনের বন্ধু প্রাণ গোপাল পাল, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরি করে। মনোজ আচার্যী, সে এখন পুরাণবাজারেই আছে। কৃষি ব্যাংকে চাকুরি করে। আর সুমিত দত্ত। আমরা চারজন অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধু হিসেবে যাদের পেয়েছে তাদের অন্যতম আনিসুর রহমান। সে এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব। আমার বন্ধুদের মধ্যে সিরাজুল হায়দার, মীর মোশারফ হোসেন অন্যতম। সবাই ভালো অবস্থানে আছে। তাদের সাথে আমার এখনো যোগাযোগ রয়েছে।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনি শিক্ষকতা করছেন প্রায় চারযুগ। এ দীর্ঘ সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে কী কী পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন?



রতন কুমার মজুমদার : আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ নানা কারণে সে পরিবর্তন আনতে পারেনি। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে। আগের ভর্তি প্রক্রিয়া, ফরম পূরণ, ফল প্রকাশের পদ্ধতি এখন নেই। এখন সবকিছু অনলাইনে হচ্ছে। আগে ফলাফল আনতে কুমিল্লা বোর্ডে যেতে হতো। আজ রেজাল্ট প্রকাশ হলে আমরা পেতাম কাল। এখন ঘরে বসে এসএমএস করে মুহূর্তেই রেজাল্ট পাওয়া যায়। অনলাইন নির্ভরতার কারণে দুর্নীতি অনেক কমেছে। আধুনিক বিশ্বের সাথে আমরা তাল মিলিয়ে চেষ্টা করছি।



আমাদের সিলেবাসে আগে স্থবিরতা ছিল। গত ১ বছরে এখানে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি দায়িত্ব নেয়ার পর এ পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। তিনি এ স্থবিরতা বুঝতে পেরেছেন। যতদূর জানি, এ স্থবিরতা দূরীকরণে কাজ চলছে। আগামি ৬ মাসে এ পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।



সরকার কারিগরি শিক্ষার ওপর আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কারণ যে শিক্ষার ব্যবহারিক প্রয়োগ নেই, সে শিক্ষা বৃথা। শিক্ষাকে যাতে বাস্তবিক জীবনে প্রয়োগ করা যায়, সেজন্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আগামিতে দক্ষতা অনুসারে শিক্ষার্থীকে সেক্টরভিত্তিক পাঠদান করা হবে। এতে বেকারত্ব কমবে। মেধার প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত হবে। আমি মনে করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি মহোদয় তা করতে পারবেন।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনি কেমন শিক্ষা ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেন?



রতন কুমার মজুমদার : আমি বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখি। আমাদের আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আমাদের সামনে ২০২১ সাল, ২০৪১ সালের ভিশন রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা সামিল হয়েছি। তাঁর স্বপ্নের সাথে বাংলাদেশের মানুষ সম্পৃক্ত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগ উপযোগী করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। জনসংখ্যা এক্ষেত্রে বড় একটি প্রতিকূলতা। উন্নত বিশ্বে এক ক্লাসে ৩০ জন শিক্ষার্থী থাকে। কিন্তু আমাদের এক ক্লাসে ১০০/১৫০ শিক্ষার্থী থাকে। আমাদের এ জায়গাটায় কাজ করতে হবে। ১৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস করলে যতটুকু ইনফুট দেয়া সম্ভব, ৩০ জন হলে নিঃসন্দেহে তারচেয়ে বহুগুণ ভালো ইনফুট দেয়া সম্ভবপর হবে। আমি স্বপ্ন দেখি, শিক্ষা মানুষকে আদর্শ নাগরিক করার পথ দেখাবে। শিক্ষার্থীর দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী শিক্ষা প্রদান করলে তার মেধাকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানো যাবে।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : স্যার, মুজিববর্ষ আমাদের দোরগোড়ায়। এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের কীভাবে সম্পৃক্ত করবেন?



রতন কুমার মজুমদার : দুঃখের বিষয় হলো, অনেকে এখনো জানে না বঙ্গবন্ধু কে! '৭৫-এর পর বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দিতে কম চেষ্টা হয়নি। তাঁর নাম উচ্চারণও এ দেশে অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ ছিল। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এ অবস্থা চলেছে। ভয়ে কেউ বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে পারতো না। সামরিক শাসকগণ সেটা করতে বাধ্য করেছে। অথচ বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবন-যৌবন সবটাই জাতির জন্যে ব্যয় করেছেন। অথচ সামরিক সরকার, আমি নাম ধরেই বলি, জিয়াউর রহমানরা তাঁকে নির্বাসনে পাঠাতে চেয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা সরকার গঠন করলে এমন অবস্থার অবসান হয়। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে ধারণ দিতে সরকার কাজ করেছে। কেননা, দীর্ঘ ২০ বছর ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছিল। আমি শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম জানাচ্ছি। তাঁর আদর্শ সম্পর্কে, বাঙালিদের নিয়ে তাঁর স্বপ্ন সম্পর্কে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এতে শিক্ষার্থীরা বাস্তবিকঅর্থে বঙ্গবন্ধুকে জানবে। এ প্রজন্ম ভালোমন্দ বিচার করতে জানে। তাদের কাছে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরলে তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এগিয়ে যাবে।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : আপনার কলেজে বর্তমানে সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। এমন সাজানো গোছানো ক্যাম্পাসের আইডিয়া অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও নিচ্ছে। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।



রতন কুমার মজুমদার : আমি দীর্ঘদিন এ কলেজে চাকুরি করছি। দীর্ঘদিন চাকুরির ফলে কলেজ নিয়ে আমার কিছু স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, আমি কলেজের ভালো-মন্দ সবকিছু জানি। ২০১৬ সালে কলেজ অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে আমার স্বপ্নের ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি। যেসব জায়গায় ঘাটতি ছিল তা পূরণের চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি, একজন ছাত্র ক্লাস করবে, পরীক্ষা দিবে, সার্টিফিকেট নিয়ে বাড়ি চলে যাবে_এটাই পরিপূর্ণ শিক্ষা নয়। পরিপূর্ণ শিক্ষার জন্যে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন। সেজন্যে আমি একটি কৌশল নিলাম যে, কী কী করলে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ হবে। অনেক শিক্ষার্থীই আগে ক্যাম্পাসমুখি ছিল না। আমি চাইতাম, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে আসুক। সেজন্যে আমি ক্যাম্পাসটিকে সাজিয়ে নিয়েছি। আমি অধ্যক্ষ হয়ে কলেজের শিক্ষা পরিবেশ উন্নতির জন্যে কিছু কাজ করেছি। যেমন, কলেজটি এখন নানা ফুলে শোভিত। ফলে ক্যাম্পাসটি দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন ক্যাম্পাসকে উপভোগ করে। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যের আহ্বানেও ওরা নিয়মিত ক্লাসে আসে। সে পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পেরেছি। অন্যদিকে বরেণ্য কবি, শিল্পী, দার্শনিকদের ছবি, লেখা, জীবনী ও বাণী ক্যাম্পাসে প্রদর্শন করেছি। এতে করে তারা গুণী ও জ্ঞানীদের সম্পর্কে জানতে পারছে। ক্যাম্পাসে বিদায় হজের বাণী সাঁটানো রয়েছে। রয়েছে স্বামী স্বরূপানন্দের বাণী। শিক্ষার্থীরা অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা করুক, এটা আমরা চাই।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : গুণগত শিক্ষা নিয়ে আপনার অভিমত কী?



রতন কুমার মজুমদার : শিক্ষার্থী ও পরিক্ষার্থী এক জিনিস নয়। এখন সবাই শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হয়, পরীক্ষার্থী হয়ে বের হয়ে যায়। সার্টিফিকেট নিয়ে বের হয়ে যায়। এটা কিন্তু ঠিক না। কেবল ভালো ফল অর্জন সবকিছু নয়। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিই সবকিছু নয়। ভালো মানুষ না হলে জিপিএ-৫ কাজে লাগবে না। আসলেই তা-ই। গুণগত শিক্ষা শিক্ষার্থীকে আদর্শ মানুষ হতে সহযোগিতা করে। তাই ভালো রেজাল্টের সাথে সাথে শিক্ষার্থীকে ভালো মানসিকতার অধিকারী হতে হবে। জাতির কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। আমাদের শিক্ষামন্ত্রীও এ বিষয়ের উপর জোর দিয়েছেন। দেশকে ভালো না বাসলে, সাম্প্রদায়িক হলে তো শিক্ষা অর্জন বৃথা। তাই সবার আগে ভালো মানুষ হতে হবে।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : চাঁদপুরের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী ডাঃ দীপু মনি। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী। তাঁকে নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো স্মৃতির কথা শুনতে চাই।



রতন কুমার মজুমদার : মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কলেজের সভাপতি। তাঁকে দীর্ঘদিন কাছ থেকে দেখেছি। তাঁর সবচেয়ে ভালো গুণ তিনি অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ। এমন অনেকবার হয়েছে আমি তাঁকে সালাম দেয়ার আগেই তিনি আমাকে সালাম দিয়ে ফেলেছেন! আমি অবাক হই। কেবল আমাকে নয়, সকল শিক্ষককেই তিনি সম্মানের চোখে দেখেন।



 



তিনি যেখানে যান সবার খোঁজ-খবর রাখেন। গ্রামে গেলেও তিনি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে তাদের সুবিধা-অসুবিধা জানতে চান। তখন তাঁকে আর মন্ত্রী মনে হয় না। মনে হয় তিনি তাদের খুব আপনজন। একারণে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যেখানেই যান সাধারণ মানুষ তাঁকে ঘিরে ধরে। আর তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের কথা তো সবাই জানে। আমার সাথে তাঁর অনেক স্মৃতি রয়েছে। আমি কেবল একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করি, তিনি তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সার্কিট হাউজে খেতে বসেছেন। আমাকে ডেকে তাঁর পাশে বসালেন। ডিসি সাহেব, পুলিশ সুপার মহোদয়ও সাথে ছিলেন। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, ডাঃ দীপু মনি আপা নিজ হাতে সবাইকে খাবার পরিবেশন করছেন। প্লেটে ভাত তুলে দিচ্ছেন। তখন মনে হলো, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নন, তিনি আবহমান বাঙালি নারী। সবার বড় আপা। বড় বোন যেমন ভাইদের সযতনে খাবার পরিবেশন করে, দীপু আপাও তেমনটি করলেন। এ স্মৃতি এখনো চোখে ভাসে। তিনি এতটা বিনয়ী ও মমতাময়ী বলেই আমরা তাঁর ভক্ত। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তাঁকে যতই দেখেছি, বিস্মিত হয়েছি।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজ নিয়ে আপনার স্বপ্নের কথা জানতে চাই।



রতন কুমার মজুমদার : আমি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর কলেজে অনেক পরিবর্তন এসেছে_এ কথাটা আমার নয়, এটি সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের কথা। কলেজের কতটুকু করতে পেরেছি তার মূল্যায়ণ আপনারা করবেন। আমাদের কলেজ দেখতে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন কলেজ থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আসছেন। কদিন আগে কলেজ পরিদর্শন করেছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক শিক্ষা-উপমন্ত্রী। কলেজ নিয়ে মানুষের এত আগ্রহ দেখে আমি আনন্দিত এটা ভেবে যে, কলেজের জন্যে নূ্যনতম হলেও কিছু করতে পেরেছি।



 



আমি স্বপ্ন দেখি, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজ সারাদেশে ব্যতিক্রমী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে। এ কলেজটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল সেবাদান করা। আমরা সেবা করার চেষ্টা করছি। এ প্রতিষ্ঠানটির দিন দিন উন্নয়ন হচ্ছে। এটি সম্ভব হয়েছে কলেজের সভাপতি শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিমসহ গভর্নিং বডি, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায়। তাঁরা আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামিতেও কলেজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আমরা অব্যাহত রাখতে চাই।



 



মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : অনেকক্ষণ সময় দিয়েছেন। এজন্যে আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।



রতন কুমার মজুমদার : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৩৮৯৭১
পুরোন সংখ্যা