চাঁদপুর, মঙ্গলবার ৭ জানুয়ারি ২০২০, ২৩ পৌষ ১৪২৬, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • শাহরাস্তিতে ডাকাতি মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। || 
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬০-সূরা মুমতাহিনা


১৩ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১০। হে মু'মিনগণ ! তোমাদের নিকট মু'মিন নারীরা হিজরত করিয়া আসিলে তাহাদিগকে পরীক্ষা করিও; আল্লাহ তাহাদের ঈমান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জানিতে পার যে, তাহারা মু'মিন তবে তাহাদিগকে কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাইও না। মু'মিন নারীগণ কাফিরদের জন্য বৈধ নহে এবং কাফিরগণ মু'মিন নারীদের জন্য বৈধ নহে। কাফিররা যাহা ব্যয় করিয়াছে তাহা উহাদিগকে ফিরাইয়া দিও। অতঃপর তোমরা তাহাদিগকে বিবাহ করিলে তোমাদের কোন অপরাধ হইবে না যদি তোমরা তাহাদিগকে তাহাদের মোহর দাও। তোমরা কাফির নারীদের সহিত দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখিও না। তোমরা যাহা ব্যয় করিয়াছ তাহা ফেরৎ চাহিবে এবং কাফিররা ফেরৎ চাহিবে যাহা তাহারা ব্যয় করিয়াছে। ইহাই আল্লাহর বিধান; তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করিয়া থাকেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


 


 


বুদ্ধিজীবীরাই দেশের সম্পদ, তারাই দেশের সম্পদ তুলে ধরে।


-লংফেলো।


 


 


 


বিদ্যালাভ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্যে অবশ্য কর্তব্য।


 


 


ফটো গ্যালারি
শিক্ষার্থী সাক্ষাৎকার : এমএইচ মোজাম্মেল হক শিশির
বইয়ের বাইরেও আলাদা জগৎ রয়েছে
০৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এমএইচ মোজাম্মেল হক শিশির। পড়াশোনা করছেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সম্প্রতি তার মুখোমুখি হয় শিক্ষাঙ্গন বিভাগ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন এইচএম জাকির।



 



শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আপনার প্রথমদিনের অনুভূতি বলুন।



এমএইচ মোজাম্মেল হক শিশির : প্রথমদিনের অনুভূতি খুবই স্পেশাল। আসলে প্রথম যে কোনো কিছুই সবার কাছে খুব স্পেশাল হয়। আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি। ছোটবেলায় শুনতাম, ভার্সিটি-লাইফ খুব অসাধারণ হয়, অনেক ভালো ভালো বন্ধু হয়, অনেক মজার মজার স্মৃতি থাকে। তো সে রকম কিছুরই সূচনা বলতে পারেন হচ্ছিলো। কলেজ-লাইফ পর্যন্ত আমি আমার নিজ শহর চাঁদপুরে কাটিয়েছি। এতো এখানে মোটামুটি সবাই চাঁদপুর এরই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমদিন এসে দেখলাম, সারাদেশে থেকে আমার ব্যাচমেটরা এসেছে। প্রথমদিন শিক্ষকবৃন্দ আসলেন। আমাদের সাথে তাদের কথা হলো এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকদের সাথে এভাবে নতুন একটা অভিজ্ঞতা ছিলো।



 



ক্লাস শেষ করে বেরুলাম। ৬ জন একসাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পরিচিত হচ্ছি। টুকটাক কথা বলছি। খেয়াল করলাম আমরা ছয়জন ছয় রকমের ভাষায় কথা বলছি। ছয় ধরনের সংস্কৃতি ধারণ করে আছি। মানে একটা দারুণ বৈচিত্র্য। আর সিলেটের মতো সুন্দর একটা শহরে এভাবে নতুন নতুন বন্ধু পাওয়া নতুন নতুন বন্ধুদের সাথে পরিচিত হবার ব্যাপারটাই অন্য রকম। ওভারঅল জীবনের সেরা কতগুলো দিনের মধ্যে একটা।



 



আপনার শিক্ষাজীবনের সেরা ও মধুর স্মৃতি বলুন।



এমএইচ মোজাম্মেল হক শিশির : মধুর স্মৃতি বলবো, পরীক্ষায় সবার চেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া। আর শিক্ষা জীবনের সেরা স্মৃতি যদি বলেন_তাহলে বলা যায়, কয়েকটিই আছে। বিশেষ করে বলতে হয়, ২০১১ সালে আমি যখন চাঁদপুরের স্বনামধন্য বিদ্যালয় হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগপ্রাপ্তদের তালিকায় নিজের নামটা দেখতে পাই, তখনকার স্মৃতিটা। আমার জীবনে এ ঘটনাটা একটা টার্নিংপয়েন্ট ছিলো। আমি যা কিছু শিখার সুযোগ পেয়েছি, এ বিদ্যালয় থেকেই তার সূচনা হয়েছিলো। সেটা প্রতিযোগিতা বলেন, কিংবা বইয়ের বাইরের বিষয় বলেন। সত্যি কথা বলতে কি, আমি যদি এ বিদ্যালয়টাতে ভর্তির সুযোগ না পেতাম তবে, শৈশব-কৈশোরের কিছু অসাধারণ বিষয় মিস করতাম। কিছু অসাধারণ শিক্ষক পেয়েছিলাম আমি এ বিদ্যালয় থেকে। কিছু অসাধারণ বন্ধু পেয়েছিলাম এ প্রতিষ্ঠান থেকে।



 



আপনার প্রিয় বন্ধু কে? তার সম্পর্কে বলুন।



এমএইচ মোজাম্মেল হক শিশির : 'প্রিয় বন্ধু কে?' এ প্রশ্নের জবাবটা দেয়া খুবই মুশকিল। তবে একটা বন্ধুর নাম বলতেই হয়। যার নাম এম. আবরার মুহিত। মুহিতের সাথে পরিচয় আমার স্কুল থাকা অবস্থায়। ওর সাথে কম্পিটিশন একটা খুবই কঠিন কাজ ছিলো। কারণ সবাইকে হারানো গেলেও মুহিতকে হারানোটা ছিলো কঠিন একটা কাজ। সেটা খেলাধুলা বলেন আর পড়াশোনা বা পড়াশোনার বাইরের সহ-শিক্ষা কার্যক্রম। এ প্রতিযোগিতা থেকেই বন্ধুত্ব। প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছি ওর কাছ থেকে। একটা বিষয় দেখেছি, কখনো যদি আমি নিরাশ হয়ে যাই বা চেষ্টা করে ভালো কাজে ব্যর্থ হই, তবে মুহিত আমাকে সাহস জোগায়, মোটিভেশন দেয় আর ওর কিছু কথা একদম দারুণ.. দারুণ...। মুহিত বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগে অধ্যয়নরত।



 



আপনার প্রিয় শিক্ষকের কথা শুনতে চাই।



এমএইচ মোজাম্মেল হক শিশির : আমার প্রিয় শিক্ষক হলেন আমার মা। আমার মা ছোটবেলায় যেভাবে পড়াশোনায় হাতেখড়ি দিয়েছিলো, সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এতো মজা করে হয়তো পড়াশোনা শিখা হবে না কখনো আর। প্রাতিষ্ঠানিক প্রিয় শিক্ষক হলেন ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার। স্যার আমার ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত)। আমি স্যারের বলে যাওয়া কথাগুলো কখনো ভুলতে পারবো না। স্যার আমাকে অনেক কাজে উৎসাহ দিয়েছেন। আমি বর্তমানে তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে পড়াশোনা করছি। আমি দেখেছি আমাদের এ বিশ্ববিদ্যালয়টি এমনকি আমাদের ডিপার্টমেন্টটি এতো কমসময়ে সারাদেশের মধ্যে একটা আলোড়ন সৃষ্টি করার পেছনে স্যারের অবদান কতটুকু। একজন মানুষের দুই চোখের মধ্যে ব্যবধান যতটুকু জাফর ইকবাল স্যার এবং শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সাফল্যর সাথে দূরত্ব এর চেয়ে কম। আমি জানি, স্যারকে নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে। কিন্তু একটা কথা বলবো_স্যার শিক্ষক হিসেবে অসাধারণ।



 



ক্লাসে প্রথম হওয়ার জন্যে কখনো প্রতিযোগিতা দিয়েছেন? কী ধরনের?



এমএইচ মোজাম্মেল হক শিশির : ক্লাসে প্রথম হবার জন্যে প্রতিযোগিতা দিয়েছি। বিশেষ করে স্কুল-লাইফে। কারণ স্কুল-লাইফে ক্লাসে প্রথম হওয়া একটা স্পেশাল বিষয় ছিলো। আমি যখন হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি তখন থেকেই একটা বিষয় মাথায় কাজ করতো, ক্লাসের প্রথম হওয়া যায় কি না। চেষ্টা অনেক করেছিলাম কিন্তু সেই বিষয়টা বাস্তব করতে করতে দশম শ্রেণি চলে আসে। দশম শ্রেণিতে এসে আমি প্রথম হই। এ ক্লাসে প্রথম হবার জন্যে প্রতিযোগিতা দিয়েছিলাম পড়াশোনা নিয়েই। শুধু বই নিয়ে ঘাটাঘাটি। পড়া এবং পড়া, তারপর পড়া, আবার পড়া, এখানেও পড়া, ওখানেও পড়া, এ রকম একটা অবস্থা আরকি। তবে একটা কথা বলবো, ক্লাসের ফার্স্টবয় হবার পর আমি একটা বিষয় উপলব্ধি করি, আসলে ক্লাসের রোল নম্বর 'এক' হওয়া বা আমার রোল নম্বর 'এক' মানেই যে আমি সবার সেরা হয়ে গেলাম বিষয়টা কিন্তু এমন না। আসলে বইয়ের বাইরেও আলাদা জগৎ রয়েছে।



 



সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাথে জড়িত আছেন? কী কী?



এমএইচ মোজাম্মেল হক শিশির : হ্যাঁ, সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাথে জড়িত আছি। স্কুল-লাইফ থেকেই বিতর্ক, অবসরে সাহিত্য রচনা বা বিভিন্ন আঞ্চলিক-জাতীয় প্রতিযোগিতার প্রতি একটা টান কাজ করে। এখন আপাতত আছি রোবোটিকস্, গিটার প্র্যাকটিস আর 'নতুন প্রস্তাবিত পর্যায় সারণি নিয়ে'। ২০১৭ সালের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমেলায় দেশসেরা পুরষ্কার পায় আমার এ প্রকল্পটি। সেটা নিয়ে চিন্তা আছে, আরো অনেকটা পথ যাওয়ার। দোয়া চাচ্ছি সকলের।



 



আপনার বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক দিক নিয়ে বলুন।



এমএইচ মোজাম্মেল হক শিশির : প্রতিষ্ঠানের সার্বিক দিক নিয়ে বলতে গেলে আসলেই অনেক কিছু বলার আছে। আমরা সবাই জানি 'শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়' মাত্র ৩০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে এখন বিশ্বমঞ্চে চেনা একটা নাম। প্রথম বাংলায় কথা বলা রোবট 'লি', 'রিবো' আর ছোটবড় টিলাবেষ্টিত ৩২০ একরের এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বর্তমানে ২৮টি বিভাগ রয়েছে এ বিদ্যাপীঠে। সাফল্য চিন্তা করলে এ বছর নাসায় যাবার জন্যে সুযোগ পায় ৪ শিক্ষার্থী। দেশের প্রথম অনলাইন ভর্তি, সার্চইঞ্জিন পিপিলিকা.কম, প্রথম ড্রোন সবই এ বিদ্যাপীঠের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। একটা সময় ছিলো যখন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শুনলে সবাই 'আমি কেমন আছি'সহ সবকিছু জিজ্ঞেস করে বলতো যে, 'আচ্ছা তোমাদের শহীদ মিনারতো সুন্দর, ১০০ সিঁড়ির পাহড়ের উপরে। এখন শহীদ মিনারের কি অবস্থা?' আর এখন, 'আমি কেমন আছি', জিজ্ঞেস করার পর জিজ্ঞেস করে, "আচ্ছা 'লি', 'রিবো' কেমন আছে?" বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ থেকে প্রতি বছরই গুগল, ফেসবুকের মতো বড় বড় সেক্টরের কাজের সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কও যথেষ্ট ভালো। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি হলাম আমার পরিবারের বড় সন্তান। তো সবসময় একটা অভাববোধ করতাম বড় ভাই বা বোনের। সত্যি কথা বলতে কি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর সে অভাবটুকু আর বোধ হয় না। কারণ কিছু অসাধারণ সিনিয়র ভাই-আপু রয়েছেন, যাদের জন্যেই আসলেই সবকিছুতে মনে হয় মাথার উপর বিশাল ছাদ রয়েছে। একটা কথা বলি, বাবা-মা ছেড়ে এতোদূর এ আমরা পড়াশোনা করতে এসেছি। এখন ওনারাই এখানে আমাদের বাবা-মা, ওনারাই আমাদের অভিভাবক।



তবে এতো ভালো কিছুর পরেও দিনশেষে একটা কষ্ট থেকে যায়, তা হলো_আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে শিক্ষাখাতের বাজেট বরাদ্দ খুবই কম পরিমাণে পেতে হয় প্রতি বছর। যা আমাদের জন্যে পর্যাপ্ত নয়। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমার সবিনয়ে অনুরোধ, তারা যেনো এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেন। অর্থ বরাদ্দ পেলে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত এবং আরো কিছু বিষয়ের সমস্যার সমাধান করতে পারবো। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যদি আরো আরো সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে তারা নিজেরদের স্ব-স্ব প্রতিভা তুলে ধরতে পারবে বিশ্বমঞ্চে। তুলে ধরতে পারবে বাংলাদেশের পতাকা।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৬৬১১৮
পুরোন সংখ্যা