চাঁদপুর, মঙ্গলবার ২৭ আগস্ট ২০১৯, ১২ ভাদ্র ১৪২৬, ২৫ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৯। ওজনের ন্যায্যমান প্রতিষ্ঠিত কর এবং ওজনে কম দিও না।


১০। তিনি পৃথিবীকে স্থাপন করিয়াছেন সৃষ্ট জীবের জন্য;


১১। ইহাতে রহিয়াছে ফলমূল এবং খর্জুর বৃক্ষ যাহার ফল আবরণযুক্ত,


১২। এবং খোসা বিশিষ্ট দানা ও সুগন্ধ ফুল।


 


নদীতে স্রোত আছে তাই নদী বেগবান, জীবনে দ্বন্দ্ব আছে তাই জীবন বৈচিত্রময়। -টমাস মুর।


 


 


পবিত্র হওয়াই ধর্মের অর্থ।


 


ফটো গ্যালারি
ক্যাম্পাস জীবন সমাপ্তি ক্ষণে
আদিত্য শংকর
২৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিষয়টা নিয়ে আমি লিখতেও চাইনি। তাও লিখতে হচ্ছে। কারণ, আর কয়েক ঘণ্টা পর আমার সম্মান জীবনের অবসান ঘটবে। সেই সাথে চারবছরের ক্যাম্পাস জীবনেরও ইতি ঘটবে। ক্যাম্পসের প্রথম দিনের কথা এখনও মনে পড়ে। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ক্লাস আর আমি সকাল ৮টায় এসে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়েছি। প্রথম ক্লাসটা সম্ভবত ইমরান স্যারের ছিলো। ক্লাসের সহপাঠীদের দেখে মনেই হয়নি যে এদের সাথে জীবনের নানা গল্প তৈরি হবে। প্রথম সেমিস্টারে ইমরান স্যার, মনির স্যার আর হাবিবা ম্যামদের ক্লাস আমার ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। তাঁদের কাছে আমি আজীবন ঋণী হয়ে থাকবো।



 



বন্ধু-বান্ধবদের কথায় আসা যাক। তারা আমাকে হয়তো নানাভাবে প্রভাবিত করছে। যার কারণে আমার ক্যাম্পাসজ জীবন অনেক মধুর স্মৃতিতে কেটেছে। তাহিয়ার সার্কাজম, রাফির সোয়াগ, জয়ের গালাগালি, অনন্তের সরলতা, জিকোর গম্ভীরতা, চৈতীর দাঁত কেলানো হাসি, অর্ঘ্যের থাক নাই বললাম, পুতুলের ননস্টপ কথা, রাহনুমার ন্যাকামো, শাকিলের বন্ধুত্বপূর্ণ হাসি, সাইফের ইডিএম মিউজিক আর ইয়ো নিজ্ঞা, বরিশাইল্লা জান্নাতের বরিশাইল্লা কথা, মানিকজোড় আতিকা-কেয়া, সোহা, সুমা, নাহিদ, সিথী ইউকি, নাবিলা, পূজা, জ্যাকিউস, ব্যবসায়ী কাউসার আর নষ্ট ছেলে আবুল সবার কথা মনে থাকবে।



 



সবাই হয়তো আমার কথা ভাববে না। কিন্তু ভাই দেখা হলে আবারও যাবো সুমন মামার টঙে। ভার্সিটির চার বছর সুমন মামার অনেক সাহায্য পেয়েছি আর আমি তার কাছে খুব কৃতজ্ঞ। সুমন মামা মানেই চা-আড্ডা আর কত কথাবার্তা। উনি না থাকলে ক্যাম্পাস জীবন পানসে হয়ে যেতো। মামার চায়ের কাপ গড়িয়ে চলে স্যার ম্যাডামদের হাতে। স্যার ম্যামদের সাথে তখন আমি কোর্সের বাইরে বই নিয়ে আলোচনা করতাম। মনির স্যারের সাথে কাফকা, শামস স্যারের সাথে পোস্টমর্ডানিজম সাথে সিনেমা-টিভি সিরিজ নিয়ে আলোচনা করতাম। মোটামুটি বলতে পারেন সুমন মামার দোকানটাই ছিলো আমাদের ক্যাম্পাসের টিএসসি।



এখন আসি সিনিয়র-জুনিয়র কথায়। ক্যাম্পাস জীবনে সিনিয়ররা আমাকে অনেকভাবে প্রভাবিত করেছে। জেরীদি, মাইশা আপুর কাছ থেকে বোনের স্নেহ, জুঁইয়ের কাছ থেকে স্ট্রেট ফোরওয়ার্ড কথা, জাকারিয়া ভাইয়ের কাছ থেকে ফ্রাংকলি কথা বলা, আশ্রাফের কাছ থেকে সব কিছুতে চিল থাকা, মীমকে ডিম বলা, আর মুমু, রাকা, সিল্কি, ফারহানা, মুগ্ধ, তনু, নাহিদ ভাই, তৌসিফ ভাই, আর কে? তো ১ম ব্যাচের সবার কথাই মনে থকবে।



 



এখন আসি জুনিয়রদের নিয়ে। রিফা, সামান্তা দিনা, মুনিয়া, রিয়া, ইমি, নওরীন, জুয়েল, নেলসন_এরা ভালো মনের মানুষ। প্যারা দেয় না। কিন্তু রিফার বিজলী কি ঝলকানি খুব প্যারা দিসে। পৃথী, প্রাপ্তি, টিয়ান, সৌমিকা, কৃষ্টি, মাটি, মতিউর এদের সাথ কম চলা হয়েছে কিন্তু দেখা হলেই হাই হ্যালোতো হয়। এরাও ভালো মনের মানুষ, কোনো খাদ নেই।



 



সাদিক, অনিন্দ্য, শৈশব, তানভীর, পিয়া, লিনসা, অজন্তা, ইতি, নওরিন, আদৃতা, সাবিবা, অদৃজা, তৃপ্তি আর সাবরিনা কেবলমাত্র এদের সাথে আমি দুটি সেমিস্টার ক্লাস করেছি। ক্যাম্পাসে আমার দ্বিতীয় পরিবার। এরা দারুণ মানুষ আর দারুণ ব্যাচ। ওদের সাথে ক্লাস করে আমি কোন দিনও মার্জিনালাইজ বোধ করিনি। তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ।



 



এরপর ৬ষ্ঠ-৭ম ব্যাচের বিকাশ, রাসেল, জহির, জয়ী, সাইফ, ৮ম ব্যাচের বর্ণালী, টুম্পা, সিরিল, ১০ম ব্যাচের রিমি, মারিয়া, বহ্নি। এদের কথা না বললে তো হৈ-চৈ শুরু হবে। শিক্ষকদের নিয়ে কোন কথা বলবো না। তাঁরা সবাই আমার গুরু, মেন্টর। তাঁরা আমাকে অনেক হেল্প করেছেন।



 



সবশেষে বলতে চাই, যাদের কথা বললাম তারা আমার ক্যাম্পাস জীবনটাকে সুন্দর করেছে। বিবিএ, এলএলবি ইকোনমিঙ্রে অনেক বন্ধুই ছিলো তাদের কথা বললে তালিকা অনেক বড় হবে। তাই সবাইকে ধন্যবাদ। দেখা হবে কোন এক চায়ের দোকানে বা বসুন্ধরা মলে বা কোন এক সিলসিলায়।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৮৪৬৪০
পুরোন সংখ্যা