ঢাকা, মঙ্গলবার ৯ জুলাই ২০১৯, ২৫ আষাঢ় ১৪২৬, ৫ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


০১। শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত,


০২। তোমাদের সংগী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়,


০৩। এবং সে মনগড়া কথাও বলে না।


০৪। ইহা তো ওহী, যাহা তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।


 


 


 


খ্যাতিমান লোকের ভালোবাসা অনেক ক্ষেত্রে গোপন থাকে।


-বেন জনসন।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


 


ফটো গ্যালারি
বিষয়ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহজপ্রাপ্যতা ও মানবিক মূল্যবোধের দুষ্প্রাপ্যতা
নজরুল ইসলাম
০৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দেশে বিষয়ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রয়োজনের থেকে বেশি হয়ে যাচ্ছে কি না_এই প্রশ্নের উত্তরে হয়তো বিভিন্নজন বিভিন্ন রকম মতামত দিতে পারে। তবে দেশে মানবিক মূল্যবোধ দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে কি না_এই প্রশ্নের উত্তরে হয়তো আমরা সবাই নেতিবাচক মতামতই দিবো। সমপ্রতি সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও এই বিষয়টা উপলব্ধি করা হচ্ছে যে, আমাদের মানবিক মূল্যবোধের অভাব রয়েছে। গত ৬ জুলাই চাঁদপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, 'সরকার কারিগরি শিক্ষা ও বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির ওপরও জোর দিচ্ছে।'



 



দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা এখন একচলি্লশ। স্বায়ত্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত এই সকল বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে মাত্র চৌদ্দটি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সাধারণ; বাকিগুলো বিষয়ভিত্তিক। এর বাইরে আরও তিনটি বিশেষায়িত, চারটি মেডিকেল এবং একটি মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এখানে লক্ষ্যণীয় যে দেশে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইতে বিষয়ভিত্তিক বা বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি।



 



এরই মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ঘোষণা দিয়েছেন, 'শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের প্রথম শিল্প বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে'। রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে 'বিজ্ঞান-বই-পাখি-কারুমেলা আর ফুল-পিঠা আছে সাথে, জুড়ি মেলা ভার' শীর্ষক মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।



 



শিল্প বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, 'আগামীদিনের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের চাহিদা পূরণে এই বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে'। লক্ষ্যণীয় যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের একটা হিড়িক পরেছে; বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের যেখানেই যান, সেখানেই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটা বিষয়ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি উঠে।



 



এমতাবস্থায়, দেশের আপাময় জনসাধারণের মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়নে আমরা একটি মানবতার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার জন্যে সরকারপ্রধানের প্রতি দাবি করতেই পারি। কারণ সমপ্রতি সংগঠিত কিছু ঘটনা থেকে আমরা অনুমান করতে পারি আমাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের অভাব রয়েছে। গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। এ সময় তার স্ত্রী আপ্রাণ চেষ্টা করেন স্বামীকে বাঁচাতে। ঘটনাটি দেখেও আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের কেউ এগিয়ে আসেনি। তারা ঘটনাটির ছবি আর ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলো। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে কথাও বলছিলেন। কেউ কেউ তাকিয়ে তাকিয়ে পুরো খুনের দৃশ্য দেখে এলাকা ছাড়েন! বাস্তবিকতায় মনে হচ্ছে শিক্ষিত হওয়ার আগে আমাদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হওয়া বেশি প্রয়োজন।



 



নবম, দশম এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গত ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ থেকে দেশ পরিচালনা করছে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের অনেক অর্জনের সাথে আমরা পেয়েছি আঠারোটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়; তার মধ্যে চৌদ্দটিই হচ্ছে বিষয়ভিত্তিক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এ উদ্যোগ অবশ্যই সাধুবাদযোগ্য; তবে আমরা শুধু বিষয়ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতেই বেশি আগ্রহী; বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।



 



গত বছরের ১৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ জানায়, নতুন করে তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা নতুন এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে তিনটি জেলায়। এর মধ্যে রয়েছে_বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দেখা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা লেগে গেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়ার জন্যে!



 



আমরা সবাই জানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ মূলত তিনটি_জ্ঞান বিতরণ, জ্ঞান সংগ্রহ এবং জ্ঞান উৎপাদন। বিভিন্ন অঞ্চলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় আমাদের অবশ্যই ভাবতে হবে এই তিনটি কাজ যথাযথভাবে করার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত রিসোর্স রয়েছে কি না। এমনিতেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে যদি মান কমে যায়, তাহলে সেটা শুধু গোষ্ঠীবিশেষের উপকারে আসবে, দেশের নয়।



 



গত ২৫ জুন একটি জাতীয় দৈনিকের উপ-সম্পাদকীয়তে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিল্প বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সম্পর্কে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-এর একজন সাবেক সভাপতি লিখেছেন, 'আজ শিল্প মন্ত্রণালয়ের মনে হয়েছে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের চাহিদা পূরণের জন্য শিল্প বিশ্ববিদ্যালয় চাই। এর ধারাবাহিকতায় পরিবহণ বিশ্ববিদ্যালয়, রেল বিশ্ববিদ্যালয়, পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয়, আইন বিশ্ববিদ্যালয়, খাদ্য বিশ্ববিদ্যালয়, জনপ্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়, সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়_প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজেদের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের চাহিদা পূরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়ে যাবে'।



২৬ জুন বরগুনায় সংগঠিত ঘটনায় মর্মাহত হয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বলেছেন, 'প্রকাশ্য রাস্তায় মানুষটাকে মারলো। একজন ছাড়া কেউ এগিয়ে আসলো না। জনগণকে আপনি কী করবেন? বাংলাদেশের পরিস্থিতি এমন ছিলো না। ভিডিও করলো, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসলো না। এটি জনগণের ব্যর্থতা। তাই এই সামাজিক সচেতনতা তৈরি করবে কে?' তাই কারো কারো মনে হতে পারে যে, দেশের আগামী প্রজন্মকে সামাজিকভাবে সচেতন ও মানবিক করার জন্যে একটি মানবতার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা খুবই দরকার।



 



বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান এবং তা পরিচালিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন দ্বারা। এই আইনে উপাচার্যকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়া থাকে। সেই ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নতুন অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট, সেন্টার বা কোর্স খোলা ও জনবল নিয়োগ করতে পারেন। আমাদের মনে থাকবে অনুমোদন ছাড়াই ছয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলার চেষ্টা করলে হুঁশিয়ারি দিয়ে ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। দেখা গেলো অনুমোদন পেলো 'মানবতার বিশ্ববিদ্যালয়', কিন্তু কিছুদিন পর সেই বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিএসসি, ইইই, এভিয়েশন সাইন্স, ইন্টারন্যাশনাল রিলেসান ইত্যাদি সবই পড়াচ্ছে।



 



১৯৭৭ সালে মক্কায় ওআইসি-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের এক সম্মেলনে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশের ভিত্তিতে ২২ নভেম্বর ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের বিষয়সমূহ পড়ানো হয়।



 



সবকিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি এবং প্রতিযোগিতা করার একটা সহজাত অভ্যাস আমাদের আছে। সবার আগে দরকার আমাদের মানবসম্পদ পরিকল্পনা। দেশ-বিদেশের জন্যে কতজন চিকিৎসক, গবেষক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, নার্স, টেকনিশিয়ান ইত্যাদি প্রয়োজন তা যাচাই করেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। আর মানবিক মূল্যবোধ? সেটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শেখানো যাবে না। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ শেখাবে_এই প্রত্যাশা করি।



 



নজরুল ইসলাম : লেখক ও এমফিল গবেষক, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।



হধুৎঁষ.ৎঁংংবষষ@মসধরষ.পড়স



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৬৬৯৫৬
পুরোন সংখ্যা