চাঁদপুর, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪০। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিব?


৪১। অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাইবে উহাদের লক্ষণ হইতে, উহাদিগকে পাকড়াও করা হইবে মাথার ঝুঁটি ও পা ধরিয়া।


 


 


 


 


assets/data_files/web

একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি সাদা কাকের মতোই দুর্লভ। -জুভেনাল।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
আমার হৃদয়ের নীরব ক্রন্দন
কাজী রাজিয়া বেগম
১৭ জুন, ২০১৯ ০৩:০৭:০৭
প্রিন্টঅ-অ+


গত ৩১ শে মার্চ রোজ রোববার ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। পরদিন আমার ছেলের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। আর সেইদিনই ছিল আমাদের চাঁদপর কণ্ঠ-পাঞ্জেরী বিতর্কের ১১তম আসরে উত্তীর্ণ হয়ে জয়যাত্রা পর্বে যাবার লড়াই। সঙ্গত কারণে আমি চাঁদপুর যেতে পারনি। আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে দায়িত্ব অর্পণ করে চলে গেলাম। সকাল ৬টা থেকে ফোন করে করে তাদের রওয়ানা দেয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছি। বিতর্কের জয়যাত্রা অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনালের ফলাফল জানার জন্যে কতবার যে ফোন করেছি তার হিসেব নেই। কারণ আমার দলের অবস্থান ভাল। অনেক দূর পথ আমরা অতিক্রম করেছি। স্বপ্ন ছিল এবার চ্যাম্পিয়ন না হলেও ফাইনালে উঠতে পারব। যেহেতু উপজেলা পর্যায়ে আমরা ছিলাম সেরা। অভিযাত্রা অগ্রযাত্রা পর্বেও আমাদের অবস্থান ততটা খারাপ ছিল না। অগ্রযাত্রায় আটটি বিদ্যালয় অর্থাৎ ৪টি দলের মধ্যে নম্বরের ভিত্তিতে আমাদের অবস্থান ছিল তৃতীয় এবং আমাদের দলের দলনেতা হয়েছিল সেরাদের সেরা। কাজেই একটা ভাল স্বপ্ন দেখা অবান্তর কিছু ছিল না। কিন্তু বেলা বারোটার দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক যখন আমাকে বললো, “ম্যাডাম আজ আমাদের ওরা ভালো বলতে পারেনি, হয়ত আজ আমরা হেরে যাবো।” কথাটা তীরের মত বিদ্ধ হলো। কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলাম। ভাবলাম এ যেন তীরে এসে তরী ডোবার অবস্থা।

বিতর্কের জন্ম ১১ বছর। গত ৫-৭ বছর আগে একবার সেমি-ফাইনালে গিয়ে হেরে গেলাম। এবার আবার কোয়ার্টার ফাইনালে। এত বছরে একবারও ফাইনালে ওঠার স্বপ্নটাকে বাস্তবায়িত করতে পারিনি। কোথায় আমাদের গ্যাপ বুঝতে পারিনি। ঢাকা যাওয়ার পথে সারাক্ষণই টেনশনে ছিলাম। একদিকে ছেলের পরীক্ষা, অন্যদিকে বিতর্কে হার জিতের ভাবনা পুরো রাস্তাতে আমার মনকে ভারাক্রান্ত করে তুলছিল। নিজের কৌতূহলকে নিবৃত্ত করতে না পেরে যখন চাঁদপুরে শরিফুল ইসলামকে ফোন দিলাম আমাদের ফলাফল কী জানতে, তখন সে বললো, “আমরা হেরে গেছি।” তখন আর ভালো লাগেনি। কারা জিতলো, কারা সেমি-ফাইনালে উত্তীর্ণ হলো, তা আর জানার আগ্রহ রইলো না। বিগত ১১ বছরেও সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে যেতে না পারার বেদনা আমাকে বিদগ্ধ করছিল। বার বারই মনে প্রশ্ন জাগছিল আর কবে আর কিভাবে আমরা চ্যাম্পিয়ন হবো। বিতর্কের এক যুগ প্রায় আসন্ন। আমরা সে সফলতার মুখ দেখবো কবে? আমার মনে হয় আমরাই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। তারপরও আমরা থেমে যেতে রাজি নই। চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ কিছু হবার গৌরব অর্জন না করলেও প্রতিবছরই আমাদের অংশগ্রহণ থাকবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ বিতর্কের প্রতি আন্তরিক। পরিশেষে আমি জনৈক কবির দু-লাইন দিয়ে শেষ করবো-

“তুমি বারে বার জ্বালাবে বাতি

হয়ত বাতি জ্বলবে না।

তাই বলে তো তোমার বসে থাকা

চলবে না।”



লেখক পরিচিতি : কাজী রাজিয়া বেগম, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, শাহরাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়; সিকেডিএফ উপজেলা কার্যকরী কমিটির সদস্য, শাহরাস্তি, চাঁদপুর। মোবাইল ফোন : ০১৮১৮-২৪৮০০১।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬২১৪২২
পুরোন সংখ্যা