চাঁদপুর, শুক্রবার ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৮ রমজান ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা যারিয়াত

৬০ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

৫১। তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহ স্থির করিও না ; আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।

৫২। এইভাবে উহাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল আসিয়াছে উহারা তাহাকে বলিয়াছে, ‘তুমি তো এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ!’


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী যে স্বল্পাহারে সন্তুষ্ট থাকে, অল্প হাসে এবং লজ্জাস্থান ঢাকিবার উপযোগী বস্ত্রে পরিতুষ্ট।


 


 


ফটো গ্যালারি
বিতর্ককে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতার
এএইচএম আহসান উল্লাহ
২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মেধাবী, সৃজনশীল এবং পরমতসহিষ্ণু একটি জাতি গঠনে 'বিতর্ক' যে একটি প্রধানতম প্লাটফর্ম তা বলতে গেলে বিগত এক দশক আগেও ভাবিনি, অনুভব করিনি। পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার সাথে যুক্ত হওয়ার পর এ বিষয়টি ভাবনার মধ্যে আসে। শুধু ভাবনাই নয়, এর প্রয়োজনীয়তাও খুব বেশি অনুভব করছি। এর আগে 'বিতর্ক' নামক যুক্তির মঞ্চের সাথে স্বাভাবিকভাবে পরিচিত ছিলাম মাঝে মধ্যে টেলিভিশনে বিতর্ক প্রতিযোগিতা দেখার সুবাদে। কিন্তু এর মাঝে যে এতোটা শৈল্পিক গুণাগুণ লুক্কায়িত আছে তা বিতর্ক প্রতিযোগিতার সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ার কারণে ধারণা পেলাম। আর এ সুযোগটি সৃষ্টি হয়েছে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার শুরু থেকে এর সাথে সম্পৃক্ত থাকার সুবাদে।



বিতর্ক প্রতিযোগিতার সাথে চাঁদপুর জেলাবাসী কম-বেশি সবাই এখন পরিচিত। জেলার অধিকাংশ স্কুল-কলেজে এই ১১ বছরে বিতর্কের আওয়াজ পেঁৗছে গেছে। অংশগ্রহণের সংখ্যাও এই ১১ বছরে একেবারে কম নয়। অর্ধ সহস্রাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তো হবেই। কচুয়ার সেই সাচার থেকে, শাহরাস্তির সূচীপাড়া থেকে, মতলব উত্তরের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এবং হাইমচর, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর সদর, মতলব দক্ষিণ ও হাজীগঞ্জ-এমন কোনো উপজেলা নেই যে এ উপজেলা থেকে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়নি। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হয়ে বর্তমান ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলছে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন।



চাঁদপুরে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি মূলত শুরু হয় চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে। চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতানুগতিকতার বাইরে এসে ভিন্নতর কী আয়োজন করা যায় সে চিন্তা থেকেই মূলত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন। আর এর পরামর্শদাতা ছিলেন চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক জনাব কাজী শাহাদাতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পরামর্শক জনাব কামরুল হাসান শায়ক। যিনি দেশের বিখ্যাত পুস্তক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড-এর কর্ণধার। প্রচারবিমুখ এই খ্যাতিমান মানুষটির বাড়িও চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকায়। তাঁর এই পরামর্শকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করলেন জনাব কাজী শাহাদাত। সে থেকেই শুরু। শুরুটা এবং শুরুর কয়েক বছর সিডিএম তথা চাঁদপুর ডিভেট মুভমেন্ট (চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলন)-এর ব্যবস্থাপনায় এই পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়ে আসছিল। তবে আয়োজনের সবকিছুই করতো চাঁদপুর কণ্ঠ এবং এর পরিবার। ২০১৩ সাল থেকে মূলত এ প্রতিযোগিতাটি একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ধারায় চলতে শুরু করে। এ কথা বলার অবকাশ রাখে না যে, এ প্রতিযোগিতার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ। এ পত্রিকা এবং এর পরিবারের সদস্যরাই এ প্রতিযোগিতার চালিকাশক্তি। এই অনুভূতি থেকে এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতাটাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে টিকিয়ে রাখার জন্যে নিজেদের তথা চাঁদপুর কণ্ঠের নামেই একটি বিতর্ক সংগঠন করার পরামর্শ আসলো। যেই পরামর্শ সেই কাজ। গঠন করা হলো 'চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন' (সিকেডিএফ) নামে সংগঠন। যেটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালে আর সমাজসেবা বিভাগ থেকে রেজিস্ট্রেশন (নং চাঁদ/৭৩৭/২০১৫ খ্রিঃ) পায় ২০১৫ সালে। এরপর থেকেই পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা বলতে গেলে নতুন মোড় নেয়। এই সিকেডিএফ'র সভাপতি হন জনাব কাজী শাহাদাত আর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নজরুল ইসলাম স্বপন। সিকেডিএফ'র কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলায় চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং এর একান্ত সুহৃদদের নিয়ে ক্রমান্বয়ে গঠিত হয় সিকেডিএফ উপজেলা কমিটি। এজন্যে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাতে হয় সিকেডিএফের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জনাব জনাব নজরুল ইসলাম স্বপনকে। যিনি সিকেডিএফকে সমাজসেবার রেজিস্ট্রেশনভুক্ত করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। বেশ ক'বছর এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার একজন একনিষ্ঠ এবং বলিষ্ঠ কর্মী ছিলেন এই নজরুল ইসলাম স্বপন।



সিকেডিএফ'র সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানেই এখন চাঁদপুর জেলাব্যাপী পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। বলতে গেলে বছরের ছয় মাসের আয়োজন। আমাদের এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজনের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। শুরুর দিকে মাধ্যমিক এবং কলেজ পর্যায়ে এ আয়োজনটি হয়ে থাকলেও গত বছর থেকেই যোগ হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। আবার এ বছর এ তিনটি পর্যায়ের আয়োজনের সাথে আরো একটি আকাশছোঁয়া পরিকল্পনা যোগ হয়েছে, সেটি হচ্ছে ইংরেজি বিতর্ক। যেটি চাঁদপুরের ইতিহাসে এই প্রথম। চাঁদপুরের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিতর্ক সরাসরি দেখবো, সেটা এক বছর আগেও ভাবিনি। যে বিতর্কটিতে এবার অংশ নিলো চাঁদপুর সরকারি কলেজ (২টি দল), সরকারি মহিলা কলেজ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট হাইস্কুল এবং আল-আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ। ইংরেজি বিতর্কে ফাইনালে লড়বে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, চাঁদপুর শাখা।



পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার এই সারসংক্ষেপ ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এটি যে কী কঠিন কাজ, কেমন অর্থের প্রয়োজন তা যাতে একটু অনুভব হয় পাঠকদের। কখনো ৩শ', কখনো ২শ' কি আড়াইশ' দল নিয়ে এ প্রতিযোগিতার যাত্রা শুরু হয়। প্রত্যেক উপজেলাতেই জেলা থেকে মূল আয়োজকগণ ও বিচারকদের যেতে হয়। সাউন্ড সিস্টেমও চাঁদপুর থেকে নিয়ে যেতে হয়। সময়সহ সকল শৃঙ্খলা মেনে চলাতেই দীর্ঘ ১১টি বছর এই প্রতিযোগিতাটি হয়ে আসছে। এবার ১৭ জুন চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে হবে উল্লাস তথা ফাইনাল পর্ব। যে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এদিন চাঁদপুর কণ্ঠের ২৫ বছরপূর্তি তথা রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানও রয়েছে। তাই এবারের ফাইনাল পর্বটি হবে খুব বেশি আকর্ষণীয় এবং স্মরণ থাকার মতো।



এখন আসা যাক আমার লেখার শিরোনামের বিষয়বস্তুর দিকে। এ বিষয়ে একেবারে সংক্ষেপে বললে বলতে হবে সোজাসাপ্টা কথা-চাঁদপুরে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতাকে টিকিয়ে রাখতে হলে পৃষ্ঠপোষকতা লাগবে। এ বছর এ পর্যন্ত অর্থের যোগান যেভাবে পাওয়া যাচ্ছে তাতে আয়োজকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই চাঁদপুরের ধনাঢ্য সমাজসেবী ব্যক্তিদের কাছে আহ্বান জানাবো সিকেডিএফ'র আজীবন সদস্য হওয়াসহ নানাভাবে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্যে।



উল্লেখ্য, পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রাপ্তি কিন্তু অনেক। যা আকাশছোঁয়া। আমাদের বিতার্কিকরা টেলিভিশন বিতর্ক, জাতীয় পর্যায়ে দুদক বিতর্কসহ জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্যের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে আসছে। তাই এটিকে ছোট বা খাটো করে ভাবার কোনো অবকাশ নেই।



লেখক : সহ-সভাপতি, সিকেডিএফ, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭৩৬৮৫
পুরোন সংখ্যা