চাঁদপুর। শনিবার ১৯ আগস্ট ২০১৭। ৪ ভাদ্র ১৪২৪। ২৫ জিলকদ ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৯-সূরা আনকাবূত


৬৯ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৩। এবং যখন আমার প্রেরিত ফিরিশতাগণ লূতের নিকট আসিল, তখন তাহাদের জন্য সে বিষন্ন হইয়া পড়িল এবং নিজকে তাহাদের রক্ষায় অসমর্থ মনে করি। উহারা বলিল, ‘ভয় করিও না, দুঃখও করিও না; আমরা তোমাকে ও তোমার পরিবারবর্গকে রক্ষা করিব, তোমার স্ত্রী ব্যতীত; সে তো পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত;


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

বিপদকে বিপদ দিয়েই অতিক্রম করা যায়।



-টমাস ফুলার।


মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।।  


ফটো গ্যালারি
প্রকৃত শিল্পীসত্তার নির্মাণই বিতর্কের লক্ষ্য
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৯ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হারজিৎ জীবনের শেষ কথা নয়। জীবনে জয় যেমন আসে তেমনি কখনো কখনো হারের স্বাদও নিতে হয়। একজন বিতার্কিক হারকে হার হিসেবে দেখে না। হার হলো পরবর্তী জয়ের ভিত্। হার না থাকলে আত্মশুদ্ধি হয় না। হার না থাকলে পরবর্তী জয়ের স্পৃহা তৈরি হয় না। ক্রমাগত জয় সর্বদা সার্থকতা আনে না। ক্রমাগত জয় বিতার্কিকের মনে তৈরি করে অতি আত্মবিশ্বাস। তাই হারকে হার হিসেবে না দেখে আত্মনির্মাণের উৎকৃষ্ট পথ হিসেবে দেখা উচিত। বিতর্ক একজন বিতার্কিকের মনকে যুক্তি দিয়ে জগৎ চিন্তা করার মানসিকতা তৈরি করে দেয়। জগৎকে যুক্তি দিয়ে বিচার করলেই হারের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। জগৎকে যুক্তি দিয়ে বিচার করলেই নিজের ত্রুটি চোখে পড়ে। অপূর্ণতা বা দুর্বর্লতাগুলো ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে আসে। যুক্তি মনকে হারজিৎ মেনে নেয়ার শক্তি দেয়। বিতর্ক আবেগ নয় কার্যকারণ দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সাহায্য করে। তখন হারে অশ্রু নয় পরবর্তী সাফল্যের দৃঢ় প্রত্যয় ঠিকরে পড়ে।



বিতর্ক অন্য প্রতিযোগিতার মতো নয়। এতে কেবল জয়ই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। বিতর্ক হচ্ছে নান্দনিক শিল্প মাধ্যম, যাতে আদর্শ প্রজন্ম বিনির্মাণের মহৎ প্রয়াস বিধৃত থাকে। বিতর্ক একদিকে যেমন যুক্তি ও জ্ঞানশিক্ষা দেয় তেমনি অন্যদিকে শিষ্টাচার ও পরিস্থিতি মোকাবেলার দক্ষতাও তৈরি করে দেয়। হারজিৎ মানতে শেখাটা বিতর্কের শিষ্টতা। বিজ্ঞ বিচারকম-লীর বিচারকার্যে আস্থা রাখতে না পারলে কোনো মঞ্চেই বিতার্কিক তার দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারবে না। বিতার্কিক যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তার বক্তব্য উপস্থাপন করে তা বিজ্ঞ বিচারকের বিশ্লেষণে গ্রহণযোগ্য না হলেই তৈরি হয় আবেগীয় সংশয়, তৈরি হয় অশ্রু সম্পাতের চটুল কর্ম।



বিতার্কিক মানে কেবল প্রতিযোগী নয়। বিতার্কিক মানে কেবল জয়-পরাজয়ের কুশীলব নয়। একজন বিতার্কিক মানেই স্বচ্ছ দৃষ্টিতে, গভীর চিন্তায় এবং যুক্তির প্রজ্ঞায় জগৎ দর্শনের শিল্পবীর। শিল্পের হার হয় না বা শিল্পী হারে না। একজন বিতার্কিক যে সময়টুকু বিতর্ক প্রদর্শন করেন কেবল সেই সময়টুকুর মূল্যায়নই মূলত ফলাফল। এই ফলাফল একজন বিতার্কিকের সামগ্রিক মূল্যায়ন নয়। অপরের জয়কে মেনে নিতে শেখা, নিজের হারকে বিশ্লেষণ করা এসবই বিতর্কের শিক্ষা। বিতার্কিক কেবল নিজের জয়কে মানবেন আর হারকে আবেগীয় বহিঃপ্রকাশে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন -এটা একদেশদর্শিতা।



পরমতসহিষ্ণুতা বিতর্কের অনন্য এক অনুষঙ্গ। বিতার্কিক তার নিজের মত যেমন যুক্তি দিয়ে প্রকাশ করেন তেমনি প্রতিপক্ষের মতামতকেও তিনি সহনশীলতা দিয়ে শ্রবণে ধারণ করেন। যিনি তা পারেন না তিনি বিতার্কিক নন। তিনি মূলত সাফল্য আকাঙ্ক্ষা করেন, সার্থকতা নয়। বিতর্ক হচ্ছে ভদ্রলোকীয় কুশলতা। যা কিছু এখানে ঘটে তার সবকিছুতেই জড়িয়ে আছে সজ্জনসুলভ আচরণকুশলতা। নিজের জয় যেমন গ্রহণযোগ্য তেমনি অপরের বিজয়ও তুচ্ছ করার নয়। নিজের হার মানেই অপরের দক্ষতা। নিজের হার মানেই প্রতিপক্ষের কুশলতা। কাজেই হারকে অশ্রু দিয়ে নয়, উদারতা দিয়ে বরণ করুন। প্রতিপক্ষকে সম্মান করুন। তার বিজয়ে তাকে অভিনন্দিত করুন। হারকে মেনে নিয়ে প্রতিপক্ষের বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়ে নিজেকে একজন বিতর্ক শিল্পীর মর্যাদায় পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করাই বিতার্কিকের প্রকৃত দায়িত্ব। পরদোষ অনুসন্ধান বা কেবল ছিদ্রান্বেষণ করলেই আত্মসন্তোষ হয় না। আত্মসন্তোষের সবেচেয়ে উৎকৃষ্ট পথ আত্মদোষ অন্বেষণ। আত্মদুর্বলতাকে জ্ঞানালোক দিয়ে সন্ধান করে প্রজ্ঞানলে দহন করাই যোদ্ধার কাজ। প্রকৃত যোদ্ধা কোনো অজুহাত তৈরি করেন না। প্রকৃত যোদ্ধা কখনো অন্যের অর্জনকে খাটো করে দেখেন না। প্রকৃত যোদ্ধা তার প্রতিপক্ষকেও সমান মর্যাদায় গ্রহণ করেন। কোনো বিতার্কিক যখন নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন তখন তিনি কেবলমাত্র নিজের লিখিত স্ক্রিপ্টের কথাই বিবেচনা করেন। তার কাছে তার স্ক্রিপ্টই সবার সেরা। এই বিবেচনাবোধ থেকেই বিতার্কিক নিজেকে বিচার করেন। তার চিন্তায় এই সত্য প্রবেশ করে না যে, অন্যের স্ক্রিপ্ট তার চেয়ে কত সমৃদ্ধ। কিংবা তিনি ভুলে যান, কেবল স্ক্রিপ্টই বিতর্কে সব নয়। লিখিত স্ক্রিপ্ট দেখে দেখে উপস্থাপন করলেই তা বিতর্ক হয় না। নিজের উপস্থাপিত স্ক্রিপ্টে পরিবেশিত বক্তব্য দুর্বল উচ্চারণে ভরা কিনা কিংবা যুক্তি সমূহ অসার কিনা বা বাচনভঙ্গিতে কোনো দুর্বলতা আছে কিনা তা কোনো বক্তার নিজের বিবেচনায় ধরা পড়ে না। বক্তা আত্মতুষ্টিতে ভুগে ভুগে নিজের উপস্থাপনকেই সেরা মনে করেন। যখন বিতার্কিক এইরকম একদেশদর্শী বিচারে মগ্ন থাকবেন তখনই ফলাফল না মানতে পারার কষ্ট তৈরি হয়। আর তখনই অশ্রুপাত হয়, দোষারোপের কথামৃত নিঃসৃত হয়। বাস্তবিক অর্থে বিতর্ক এই রকমের কোনো অশিষ্ট ও অভব্য আচরণ আশা করে না।



বিতর্ক একটি নান্দনিক কারখানা মাত্র, যার মাধ্যমে প্রকৃত শিষ্টাচার সমৃদ্ধ, কায়ে-বাক্যে-মনে বিশুদ্ধ শিল্পী তৈরি হয়। প্রতিযোগিতার আবেগ দিয়ে বিতর্ককে যারা শিরোপা জয়ের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করেন তারা এই শিল্পের অন্তরলোকে পেঁৗছাতে পারেননি আজও। যেদিন বিতর্ক শিল্পের গভীরের কথাটি বিতার্কিকের অন্তরে উদয় হবে সেদিনই এই শিল্পটি সার্থকতা অর্জন করবে।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪২৮১৭৮
পুরোন সংখ্যা