চাঁদপুর, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৬। উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।


৬৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৬৮। সেথায় রহিয়াছে ফলমূল -খর্জুর ও আনার।


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর কণ্ঠ ও আমার সাংবাদিকতা
এসএম আনওয়ারুল করীম
১৭ জুন, ২০১৯ ০৩:১৮:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+




কৈশোরের পাঠ চুকিয়ে বাল্য ফুলের কলিতে যখন গুঁড়িগুঁড়ি রেণু সবেমাত্র তার সুবাস আভা জানান দিতে শুরু করেছিলো, তখনই কাকতালীয়ভাবে আমার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। তখন সাপ্তাহিক সুগন্ধা, বিক্রম, কাওনাইন, খেলাফত প্রভৃতিতে অবোধ শিশুর আঁকাআঁকির মতোই টুকটাক লিখতাম। লেখালেখি চারাটিকে পরিচর্যার প্রতি নাড়ির টানের মতো আমার এক ভিন্ন স্বাদের ভালো লাগার মোহ ছিলো সেই ছাত্রজীবন থেকেই। কিন্তু অবুঝ মনে সবুজ বীণার সম্মোহনী সুর তোলার মতো কোনো দক্ষ বংশীবাদকের অভাবে তা আকণ্ঠ অরণ্যে রোদন হয়ে পড়ে। কোনো মহীরুহের ছায়ার অভাবে সেটি তখনো স্বর্ণলতার মতো লকলকিয়ে বেড়ে ওঠার ফুরসৎ পায়নি। অবশেষে করুণাময় মালিক যেনো চোখ তুলে তাকালেন তাঁর খুদে বান্দার প্রতি। মান্না দে’র কফি হাউজের সদস্য অমলের ‘একটি কবিতাও তার হলো না কোথাও ছাপা, পেলো না সে প্রতিভার দামটা’র মতো আমাকে বিফল মনোরথ হতে হয়নি। বরং সদ্যজাত পুচকে শিশুর ধূমকেতুর মতো ইঁচড়েপাকা বনে যাওয়া কিংবা অল্পদিনে জনতার চাহিদায় অস্ট্রেলিয়ান গাভীর মতো ফুলা-ফাঁপা ওলান বয়ে বেড়ানোটা তার স্বীয় অস্তিত্ব এবং সাতরঙা রংধনুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তবে অনস্বীকার্য যে, আমার প্রতিভার ঘোড়াটিকে দানাপানি বন্ধ করে তিলে তিলে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে পাঠানোয় উৎসুক বিশ্বাসঘাতকদের শেষ ইচ্ছাটি আর পূরণ হয়নি। অপমৃত্যুর কবল থেকে করুণাময়ের অফুরান মমতায় বেঁচে যায় সেটি। দর্শকের গ্যালারিতে কিংবা ফিল্ম মেকারের মতো পর্দার অন্তরালে থেকে দুর্বল শিশুটির পায়ে ল্যাং মারার ষড়যন্ত্রকারীদের যারা হাতে তালি দিয়ে বাহবা দিয়ে যাচ্ছিলো তাদের মুহুর্মুহু আক্রমণ থেকে দৈবক্রমে বেঁচে যায় শিশুটি।

গরিবের ঘোড়া রোগ যে বেমানান, তা বোঝার গতির মুখে তখন শিশুসুলভ লাগাম পরানো থাকায় কিংবা সহযোদ্ধাদেরকে অতিবিশ্বাস করায় সবকিছু দিনের মতো ফকফকা করে বুঝে ওঠার বুদ্ধির বাতি তখনো জ্বলেনি। অগত্যা মনকে প্রবোধ দেই এই বলে যে, “বেদনা মধুর হয়ে যায় তুমি যদি দাও।” কিন্তু অপ্রাপ্তির বেদনার চেয়ে মীরজাফরদের বর্ণচোরা চেহারাগুলো স্মৃতির আয়নায় এঁটে যায় সুপার গ্লুর মতো। অবশ্য প্রতিভা যে কারো সাথে প্রতারণা করে না; বরং প্রতিভাধারীকে যথার্থ স্থানে পৌঁছে দিয়েই সে স্বস্তি পায় তারই প্রমাণ পায় অবোধ শিশুটি। ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট বিশ্ব বিজয়ে হবে হবে দেখা’র মতোই প্রতিভা তাকে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সুনামির মুহূর্তে অন্তত খড়কুটো ধরে বাঁচতে সাহায্য করে। তবে ‘ঘরপোড়া গরুর সিঁদুর দেখলে ভয় পাওয়া’র রোগ পেয়ে বসে আমাকে।

সংবাদপত্র জগতে আমার সরাসরি অনুপ্রবেশ বলতে গেলে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের মাধ্যমে, শ্রদ্ধাবরেষু কাজী শাহাদাতের অনুপ্রেরণা ও অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশারের বদান্যতায়। সিকি কোটি চাঁদপুরবাসীর হৃদয় প্রোজ্জ্বল করতে যেদিন চাঁদপুরের সংবাদপত্রের আকাশে চাঁদপুর কণ্ঠ চাঁদের গায়ে ‘দৈনিক’ শব্দের তারকা শোভা বর্ধন করে, সেদিন থেকেই বলতে গেলে আমার মনের গহীনে আসন গেঁড়ে নেয় এ পত্রিকাটি। ঠিক পক্ষকালের মধ্যেই নিজেকে অবগাহন করাই এর মিঠাপুকুরে। আমার সামর্থ্যরে সবটুকু মেধা-মনন উজাড় করে বিলিয়ে দেই চাঁদপুর কণ্ঠের জন্য। চাঁদপুর কণ্ঠও সেই মেধা বিলিয়ে দেয়ার যথার্থ মূল্যায়ন করে। তাইতো স্বল্প সময়ের মধ্যেই আমাকে সহ-সম্পাদক থেকে যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক করা হয়। আজ অকপটে শ্রদ্ধাবনত মস্তকে আমি শুধু সেই মূল্যায়নের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদেরকে খাটো করার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করতে চাই না। আমাকে আশ্রয় দিয়ে স্বীয় মেধার স্ফুরণ ঘটানোর অবাধ সুযোগ দেয়ায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি চাঁদপুর কণ্ঠ, শ্রদ্ধাভাজন ইকবাল-বিন-বাশার ও অসংখ্য সাংবাদিক গড়ার কারিগর কাজী শাহাদাতকে জানাই আকাশসম শুভেচ্ছা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি একটি অপ্রিয় সত্যের অবতারণা করতে চাই। তাহলো, আমরা একটু কিছু হয়ে গেলেই কেনো যেনো নিজের অস্তিত্বকে ভুলে যাই। কোনো রকমের একটি চেয়ার পেয়ে গেলেই কেনো যেনো আমরা গুরুজন, শিক্ষক কিংবা বড়দেরকে এমনকি নিজ মাতাপিতাকে ভুলে যাওয়াকে স্টাইল মনে করি। এ প্রেক্ষিতে আমি অসংকোচে স্বীকার করি যে, লেখালেখির জগতে আমার আজকের গায়ে যতটুকু রং লেগেছে, সাহিত্যের মহাসমুদ্রের পাড়ে হামাগুঁড়ি দেয়ার যতটুকু সাহস জন্মেছে, ইত্তেফাক, ইনকিলাব, যুগান্তর, যায়যায়দিন, আজকের কাগজ, আলোকিত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কলাম লেখার যেই আমন্ত্রণ পাওয়া, বাংলাদেশ বেতারের ভাষ্যকার হিসেবে ঠাঁই পাওয়া, বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রামাণ্য গ্রন্থ রচনার অ্যাসাইনম্যান্ট পাওয়াসহ কলম-কালির নানা দিকে আমার বেড়ে ওঠার পেছনে চাঁদপুর কণ্ঠ ও কাজী শাহাদাতের অবদানই সবটুকু।

শুধু আমি নই। চাঁদপুর কণ্ঠ নামের পরশ পাথরের ছোঁয়া লাগিয়ে অনেকেই আজ দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে আলোকিত জীবন গড়ার সুযোগ পেয়েছে। ভাবতে ভালো লাগে যখন দেখি এক সময় চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে সম্পর্ক গড়ে যারা আমার মতো সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি নিয়েছিলো, আজ তারা আঞ্চলিকতার গ-ি পেরিয়ে জাতীয়ভাবে স্বীয় যোগ্যতাকে ঋদ্ধ করছে। আমি যে ক’বছর চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের সদস্য ছিলাম তখন যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলো, তাদের অনেকে এখন আকাশসম সুনামের সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত। আমার সময়ে চাঁদপুর কণ্ঠের যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার বর্তমানে জনপ্রিয় অনলাইন মিডিয়া জাগো নিউজ-এর প্রধান সম্পাদক, আমার আমলের চীফ রিপোর্টার মোঃ রোকনুজ্জামান রোকন এখন জাতীয় দৈনিক অনুপমা ও দৈনিক চাঁদপুর জমিনের সম্পাদক ও প্রকাশক, আমার সময়ের স্টাফ রিপোর্টার আবু সাঈদ কাউসার এখন দেশখ্যাত সার্বিক সাক্ষরতা আন্দোলনের প্রকাশনী শাখার অন্যতম লেখক ও কর্ণধার, সেই তখনকার কম্পিউটার অপারেটর নূর হোসেন নূরু এখন মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের অন্যতম দস্তাবেদ লেখক, তখনকার যুগ্ম বার্তা সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ এখন সংবাদ সংস্থা ইউএনবি’র বার্তা বিভাগের কর্ণধার।

চাঁদপুরের সাংবাদিকতার কথা বললে তো অনেকের চোখই ছানাবড়া হয়ে যাবে। জানি না ‘কার উসিলায় শিন্নি খাইলাম’টাকে মস্তবড় চেয়ারে আসীন সেই মহামতিরা স্বীকার করবেন কিনা। চাঁদপুরে আজ যারা বড় সাংবাদিক দাবিদার, তাদের সিংহভাগই এক সময় চাঁদপুর কণ্ঠের সুধাপানে নিজেকে ধন্য মনে করতো। আমি এ পত্রিকার রঙে নিজেকে রাঙানোর সময় যাদেরকে পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শ্রদ্ধেয় কাজী শাহাদাতের দীক্ষা নিতে দেখেছি তাদের একেকজন আজ চাঁদপুরের সংবাদপত্র জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। কেউ রথি কেউবা মহারথি। আমি অন্যদের কথা বলার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছি না। শুধু নিজের চোখে যাদেরকে দেখেছি তাদের নামই ঠাহর করে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে চাই। আমি যখন চাঁদপুর কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক তখন চীফ রিপোর্টার ছিলেন মাহবুবুর রহমান সুমন, বর্তমানে তিনি দৈনিক ইলশেপাড়ের প্রধান সম্পাদক; তখনকার চীফ ফটোগ্রাফার বিএম হান্নান দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার; তখনকার বার্তা সম্পাদক শহীদ পাটোয়ারী আজ দৈনিক চাঁদপুর বার্তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক; তখনকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার শাহ মোঃ মাকসুদুল আলম দৈনিক আমার চাঁদপুর-এর ডিক্লারেশন সম্পাদক ও প্রকাশক; তখন পাঠক ফোরামের বিভাগীয় সম্পাদক ছিলেন শাহাদাত হোসেন শান্ত, আজ তিনি দৈনিক ইলশেপাড়ের নির্বাহী সম্পাদক; তখন রহিম বাদশা ছিলেন স্টাফ রিপোর্টার, আজ তিনি দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক; তখনকার চাঁদপুর কণ্ঠের সহ-সম্পাদক আলম পলাশ এখন দৈনিক আলোকিত চাঁদপুরের ডিক্লারেশন সম্পাদক ও প্রকাশক, তখনকার স্টাফ রিপোর্টার জিএম শাহীন এখন দৈনিক মেঘনাবার্তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, এসএ টিভি’র চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি ও চাঁদপুর প্রতিদিনের প্রধান সম্পাদক। এ মুহূর্তে আরো যাদের নাম স্মৃতিভ্রম হয়ে আছে, আমি তাদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইছি।

আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি যে, কারো অবদান স্বীকার করা কিংবা কারো অবদানের কৃতজ্ঞতার স্বীকৃতি দেয়ার মধ্যে কোনো লজ্জা নেই; বরং এর দ্বারা প্রকারান্তরে নিজের তলাবিহীন ঝুড়ি কিংবা ঠুটো জগন্নাথ হওয়ার দুর্বলতা ঘুচিয়ে স্বীয় জ্ঞানের রাজ্যে মৌলকে স্বীকার করার মধ্য দিয়ে শুকতারা জ্বালিয়ে দেয়া সম্ভব হয়। অধিকন্তু আজ আমি যদি গুরুজনের বিশাল চারণভূমিতে কৃতজ্ঞতার বীজ বুনতে পারি তাহলে একদিন আমার জ্ঞানের ক্ষুদ্র জলাশয় হবে শিষ্যত্বের বাতায়ন খোলা কৃতজ্ঞতার নির্মল পানিতে টইটম্বুর। তাইতো কবির কণ্ঠে সুর মিলাতে ইচ্ছে করেÑ “এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন।” কোমল ও মসৃণ হোক চাঁদপুর কণ্ঠের পথচলা, সবার ভালোবাসায় সিক্ত হোক আমাদের রক্তে-ঘামে তৈরি প্রিয় চাঁদপুর কণ্ঠ।


আজকের পাঠকসংখ্যা
২২৫৬২৬
পুরোন সংখ্যা