চাঁদপুর, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৬। উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।


৬৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৬৮। সেথায় রহিয়াছে ফলমূল -খর্জুর ও আনার।


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ, আমি ও খলিল সর্দার
প্রকৌশলী মোঃ দেলোয়ার হোসেন
১৭ জুন, ২০১৯ ০৩:১৬:৪৩
প্রিন্টঅ-অ+




সেদিন থেকে আজ, মাঝে অতিক্রান্ত ২৫ বছর। ভূমিষ্ঠ শিশুটি পলে পলে সময় অতিক্রম করে আজ প্রজ্ঞাবান তরুণে পরিণত হয়েছে। সাথে যখন এরই মাঝে কত কথা কত স্মৃতি তার সাথে যখন হয়েছিলো পথচলা, তখন আমি পরিণত বয়সে পৃথিবীর দোলাচলে দুলতে দুলতে স্বপ্ন     বাস্তবায়নে ব্যস্ত। আমার স্বপ্নের একাংশের মালিক সদ্য প্রসূত শিশুটি। ইকবাল-বিন-বাশার আর কাজী শাহাদাতের লালন পালনে, সামর্থ্যে আর অবয়বে ইঞ্চি ইঞ্চি করে বৃদ্ধি পেয়ে এখন যৌবনে পদার্পণ করছে। আমি আরো কিছু সুহৃদের সাথে মধুর মেলবন্ধনে তাঁদের সাথে সম্পৃক্ত। হ্যাঁ আমি দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের কথা বলছি। চাঁদপুরে প্রকাশিত ১ম দৈনিক পত্রিকা দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ।

এতো শত স্মৃতি, কতো কথা কোন্টা রেখে কোন্টা বলি। জীবনের বহুপথ পাড়ি দিয়ে শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। এই যাত্রায় কখন যতিচিহ্ন পড়বে বলতে পারি না। কৈশোরোত্তীর্ণ যৌবনে যখন বুক ভরা সাহস ছিলো চোখে, দুরন্ত দুটি পা আর হাতে অমিত শক্তি ছিলো, মনে ছিলো বল, তখন যুদ্ধ করেছি। আর ২৫ বছর আগে যৌবনের শেষে এই পৃথিবীর ধূসর প্রান্তে হঠাৎই লিখতে শুরু করলাম রাতভর, যা মনে এসেছে তা-ই লিখেছি। আঁধার কেটে গেলে স্নিগ্ধ প্রাতে লেখাটি ভাস্বর হয়েছে চাঁদপুর কণ্ঠের পাতায়। কত শত অক্ষর কত শত লাইন মনে নেই। আজ এই লেখাটি প্রিয় পত্রিকার রজতজয়ন্তীতে আমার স্মৃতিচারণ বলা যায়।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ তার জন্মলগ্ন থেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রেখেছে-এটি এক অনন্য কীর্তি। আর এই কাজটি পত্রিকা কর্তৃপক্ষ জন্মের ঊষালগ্ন থেকে করে আসছে। তখন আমি তেমন লেখালেখি করতাম না। পরিচয়ের কিছুদিন পর কোনো একসময় পত্রিকার প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত সাহেব আমাকে বললেন, ভাই আপনার লেখার হাত মন্দ না, নিয়মিত লিখতে পারেন। অনুপ্রাণিত আমি শুরু করলাম লেখা। তারপর বিরামহীন লিখেছি।

১৯৯৯ সালের ২৮ জুলাই আমাদের বাড়ির সম্মুখের ঐতিহাসিক ৫ গম্বুজ মসজিদ পরিদর্শন করার জন্যে তৎকালীন একমাত্র বেসরকারি টিভি চ্যানেল একুশে টিভির পাঁচজন সাংবাদিক হাসনাইন খুরশেদ, তুষার আব্দুল্লাহ, জ.ই. মামুন, আর দুজনের কথা মনে নেই, এসেছিলেন। এক পর্যায়ে আমরা দেখলাম একজন লোক দূরে দাঁড়িয়ে ভিক্ষার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ভিখারীকে দেখে আমি আঁৎকে উঠলাম। এ কাকে দেখছি আমি! একাত্তরের দুরন্ত যুবক খলিল সর্দার, যার হাতের বৈঠা আর জারুল কাঠের নৌকা শত শত মুক্তি সেনাকে বয়ে নিয়ে গেছে এক রণাঙ্গন থেকে অন্য রণাঙ্গনে। প্রয়োজনে এমনকি বৈঠা ছেড়ে সে অস্ত্র ধরেছে। সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে তাঁর তেজোদ্দীপ্ত চেহারার কথা আমার মনে আছে। স্বাধীন বাংলাদেশে সে বীর সৈনিক আজ ভিখারী! কোথায় যাবো আমি? এ দৃশ্য ভুলবো কেমন করে। সন্ধ্যায় ফিরে এলাম চাঁদপুর, বর্ণনা দিলাম কাজী শাহাদাতকে। অনেক আলাপ হলো। সিদ্ধান্ত নিলাম, খলিলের জন্যে আমরা একটা কিছু করবোই। আমি একটি প্রবন্ধ লিখলাম। প্রবন্ধটি দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের পাতায় ছাপা হলো ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০১। সাথে ভিখারী খলিল সর্দারের একটি ছবি। যে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। চারদিকে হৈ চৈ। মানুষ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলো। খলিলকে সাহায্য করার এবং পরিবারটিকে পুনর্বাসিত করার আহ্বান সকলের। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকা দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিলো। পাঠকরা সাড়া দিলো, যথেষ্ট পরিমাণ টাকা-পয়সা জমা করলো। ২০০১ সালে পত্রিকার ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আঃ রউফ, যুদ্ধকালীন চাঁদপুর মহকুমা মুক্তিফৌজের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন জহিরুল হক পাঠানের উপস্থিতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিখারী খলিল সর্দারের পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হলো দুটি রিক্সা এবং তাঁর চিকিৎসার জন্যে নগদ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া গৃহ নির্মাণের জন্যে ঢেউটিনসহ নির্মাণ সামগ্রী এবং নির্মাণ ব্যয় ১০ হাজার টাকা।

আজ খলিল সর্দার নেই। তাঁর বিদেহী আত্মা দেখতে পাচ্ছে দুর্দিনের বন্ধু দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ রজতজয়ন্তী পালন করছে। এরই মধ্যে ১৭টি বসন্ত পার হয়েছে। নিশ্চয় তাঁর আত্মা দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের মঙ্গল কামনা করছে। আমিও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি চাঁদপুর কণ্ঠের এই মহান উদ্যোগটিকে। পত্রিকার রজতজয়ন্তীতে আমার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা পত্রিকাটির প্রতি। সেই সাথে আমার অনুরোধ থাকবে, সুবিধাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আর স্বাধীনতা বিরোধী অমুক্তিযোদ্ধাদের গাড়ির ধূলায় খলিল সর্দারের মতো অসহায় সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধারা যেন হারিয়ে না যায় সেদিকে পত্রিকাটি লক্ষ্য রাখবে। আমি পত্রিকাটির মঙ্গল কামনা করি। 



লেখক পরিচিতি : যুদ্ধকালীন এফ. এফ. কমান্ডো লিডার ৩৪৪৬৮ ও সাবেক সদস্য সচিব, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চাঁদপুর।


আজকের পাঠকসংখ্যা
২২৫০০১
পুরোন সংখ্যা