চাঁদপুর, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • জমে উঠেছে চাঁদপুরের আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৫-সূরা তালাক


১২ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২। উহাদের 'ইদ্দাত পূরণের কাল আসন্ন হইলে তোমরা হয় যথাবিধি উহাদিগকে রাখিয়া দিবে, না হয় উহাদিগকে যথাবিধি পরিত্যাগ করিবে এবং তোমাদের মধ্য হইতে দুইজন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখিবে; আর তোমরা আল্লাহর জন্য সঠিক সাক্ষ্য দিবে। ইহা দ্বারা তোমাদের মধ্যে যে কেহ আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে তাহাকে উপদেশ দেওয়া হইতেছে। যে কেহ আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তাহার পথ করিয়া দিবেন।


 


 


 


assets/data_files/web

ঘুম পরিশ্রমী মানুষকে সৌন্দর্য প্রদান করে।


-টমাস ডেককার।


 


 


 


 


নামাজ হৃদয়ের জ্যোতি, সদ্কা (বদান্যতা) উহার আলো এবং সবুর উহার উজ্জ্বলতা।


 


 


ফটো গ্যালারি
আমরা পথচলায় অবিচল, নীতিতে অটল
এএইচএম আহসান উল্লাহ
১৭ জুন, ২০১৯ ০৩:১৩:৩৬
প্রিন্টঅ-অ+




শুভ জন্মদিন চাঁদপুর কণ্ঠ। ১৭ জুন, ২০১৯। এ দিনটি চাঁদপুর কণ্ঠের পঁচিশ বছর পূর্ণ হবার দিন। এ দিনটি উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে চাঁদপুর কণ্ঠ সুবর্ণজয়ন্তীর দিকে পা বাড়াবে। অর্থাৎ সামনে আরো পঁচিশ বছর যোগ করে ২০৪৪ সালে সুবর্ণজয়ন্তী তথা পঞ্চাশ বছর পূর্ণ করবে চাঁদপুর কণ্ঠ। আর এই সময় পর্যন্ত ¯্রষ্টার কৃপায় চাঁদপুর কণ্ঠ যদি বেঁচে থাকে, তাহলে হয়তো আমরা ভিন্ন রকমের এক বাংলাদেশ পাবো, ভিন্ন রূপের এক চাঁদপুরকে দেখবো। তখনকার প্রজন্মও হয়তো হবে নূতন এক বাংলাদেশের। বেশ কয়েক প্রজন্ম পার হবে আগামী পঁচিশ বছরে। আজকে যার বয়স পঁচিশ, আগামী পঁচিশ বছর পর তার বয়স হবে পঞ্চাশ, আজকে যার বয়স দশ, আগামী পঁচিশ বছর পর তার বয়স হবে পঁয়ত্রিশ, আজকে যার বয়স পনর কি বিশ, আগামী পঁচিশ বছর পর তার বয়স হবে চল্লিশ কি পঁয়তাল্লিশ। তাই সামনে দীর্ঘ পঁচিশ বছর সময়কালের মানুষগুলো ভিন্ন রূপে, নানা অবয়বে এবং ভিন্ন মাত্রায় দেখবে চাঁদপুর কণ্ঠকে। আর এ ভিন্নতা অবশ্যই যুগ ও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পাঠকের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে হবে। আর এ কথা আমি বেশ দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, মহান ¯্রষ্টার অপার করুণায় এবং আমাদের প্রাণ পাঠকের পূর্ণ আস্থা, বিশ^াস ও সহযোগিতার ওপর ভর করে ‘চাঁদপুর কণ্ঠ’ পত্রিকাটি ২০৪৪ সাল পর্যন্ত, সুবর্ণজয়ন্তী পূর্ণ করা পর্যন্ত স্বমহিমায় স্বকীয়তা নিয়ে বেঁচে থাকবে। চাঁদপুর কণ্ঠের সম্পাদকীয় নীতিমালা বর্তমানে যা আছে, ভবিষ্যতেও তা-ই থাকবে এ কথা আমি দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারি।

আমি সাংবাদিকতায় এসেছি ২০০১ সালের আগস্ট কি সেপ্টেম্বরে দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ পত্রিকার মাধ্যমে। শুরুতে পেশা হিসেবে না নিলেও একসময় সাংবাদিকতা আমার অন্যতম পেশার মধ্যে চলে আসে। অবশ্য এর পেছনে নানা সফলতা আমাকে পেশাদার সাংবাদিক হওয়ার জন্যে উদ্বুদ্ধ করেছে, সাহস যুগিয়েছে। চাঁদপুর প্রবাহ পত্রিকাটি ২০০১ সালের ১৫ জুন প্রকাশ হওয়ার ২/৩ মাসের মাথায় আমি এ পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেই। তখন পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন জনাব শাহ মোহাম্মদ মাকসুদ ভাই। তাঁর কাছেই আমার মূলত সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। একসময় মাকসুদ ভাই প্রবাহ থেকে বিদায় নেয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন সহকর্মী জনাব রহিম বাদশা। তখনকার সময়ে একজন উদীয়মান সাংবাদিক হিসেবে রহিম বাদশার কাছ থেকেও আমি সাংবাদিকতার নানা কৌশল কিছুটা শিখেছি। এ কথা বলা বাহুল্য যে, জনাব রহিম বাদশার নবপর্যায়ের সাংবাদিকতা শুরু চাঁদপুর কণ্ঠের মাধ্যমে এবং এর প্রধান সম্পাদক জনাব কাজী শাহাদাতের হাত ধরে তাঁর একান্ত সাহচর্যে থেকে। আবার শাহ মোহাম্মদ মাকসুদ ভাইও একসময় চাঁদপুর কণ্ঠে সাংবাদিকতা করেছেন দোর্দ- প্রতাপের সাথে।

সে যাই হোক, ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সালের মার্চ পর্যন্ত একটানা প্রায় নয় বছর আমি চাঁদপুর প্রবাহে সাংবাদিকতা করেছি। শুরুতে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেয়ার পর নয় বছরে ধাপে ধাপে সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, চীফ রিপোর্টার, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক এবং সর্বশেষ বার্তা সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছি। শুধু তা-ই নয়, সাংবাদিকতার পাশাপাশি কিছুদিন চাঁদপুর প্রবাহের ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেছি। ২০০৯ সালের মার্চে পত্রিকা অফিসে একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পর মালিক পক্ষ থেকে সেটির সন্তোষজনক সমাধান না পেয়ে প্রবাহ ছেড়ে দেয়ার মন স্থির করি। তবে সাংবাদিকতা যে আমার মন-মগজে ঢুকে গেছে, এটাকে তো ছাড়তে পারবো না। তাই চাঁদপুর প্রবাহ থেকে পদত্যাগ করার পর ভালো মানের একটি পত্রিকায় কাজ করার সুযোগ খুঁজতে থাকি। আর প্রবাহ থেকে আমার পদত্যাগ করার বিষয়টি তখন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দসহ চাঁদপুরের প্রথম সারির বেশ ক’টি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকরাও জেনে গেছেন। তাই কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার হাউজ থেকে আমার কাছে অফারও আসে তাদের হাউজে কাজ করার জন্যে। এমনকি পদ-পদবী যা-ই চাই তা-ই দেয়া হবে। কিন্তু আমার মনের ঝোঁক অন্যদিকে। আর আমার মনের বাসনা সবসময়ই এমন ছিলো যে-আমি ওই হাউজেই কাজ করবো, যেখানে গেলে আমি এই স্বল্প সময়ে সাংবাদিকতা সামান্য কিছু যাই শিখেছি, তার আরো ব্যাপ্তি ঘটবে, আরো বিকশিত হবে এবং পেশাদার সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে আমার আরো সমৃদ্ধি ঘটবে। মনে মনে যখন আমি এমন একটি মিডিয়া হাউজকে খুঁজছি, তখন আমার মনে পড়ে গেলো প্রায় ২/৩ বছর পূর্বেকার সাংবাদিক রহিম বাদশার একটি কথা। সে সময়ে আমি চাঁদপুর প্রবাহে ছিলাম। চাঁদপুর প্রবাহের তখন খুব আর্থিক অনটন ছিলো। ২/১ জন ছাড়া অন্যরা তেমন একটা ভালো সম্মানী পেতেন না। এ টানাপোড়েনের কারণে কেউ কেউ প্রবাহ ছেড়ে অন্য পত্রিকায় কাজ করার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করতে লাগলেন। এর প্রেক্ষিতে কোনো এক সন্ধ্যায় বার্তা বিভাগে আমি, জনাব রহিম বাদশা, আল-ইমরান শোভন (বর্তমান বার্তা সম্পাদক), একে আজাদ ভাইসহ আরো কয়েকজন বসে খোশগল্প করছিলাম। তখন রহিম বাদশা উপস্থিত আমাদের মধ্য থেকে একজনকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘... তুমি যদি এখান থেকে চলেই যাও, আর পত্রিকায় কাজ করার যদি ইচ্ছাই থাকে, তাহলে বুঝে-শুনে পত্রিকার মান দেখে হাউজ চয়েজ কইরো। এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ থাকবেÑযদি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নিতে চাও এবং সাংবাদিকতায় কিছু শিখতে চাও, ডেক্সে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাও তাহলে চাঁদপুর কণ্ঠে কাজ কইরো। সেখানে কাজ করলে শেখার অনেক কিছু আছে।’ ২/৩ বছর আগে বলা জনাব রহিম বাদশার সেই কথাটি আমি মনের ভেতর গেঁথে নিয়েছি। আর ২০০৯ সালে প্রবাহ ছেড়ে চলে আসার পর রহিম বাদশার সেই কথাটি আমার মনে পড়ে গেলো। সাংবাদিকতাকে যেহেতু আমি একটি চ্যালেঞ্জিং এবং পবিত্রতম পেশা হিসেবে নেবো বলে আমার ইচ্ছা, তাই এ পেশাকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করতে আমার এখনো অনেক কিছু শেখার বাকি আছে। সে শেখার মনোবাসনা নিয়েই রহিম বাদশার সেই উক্তির সূত্র ধরে ‘দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে’ কাজ করবো বলে মনে মনে স্থির করি। আল্লাহপাকও যেনো আমার মনের সেই বাসনা পূরণ করলেন। দিনটা ২০০৯ সালের এপ্রিলের কোনো একটা দিন হবে। সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখটি স্মরণ নেই। আমরা জনাব কাজী শাহাদাত ও জনাব ইকবাল পাটোয়ারীর নেতৃত্বাধীন চাঁদপুর প্রেসক্লাব কমিটির নেতৃত্বে কক্সবাজার থেকে বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণশেষে ফেরার পথে কুমিল্লা হোটেল নূরজাহানে যাত্রাবিরতি দেই। সে যাত্রাবিরতিতে জনাব কাজী শাহাদাতের কাছে আমার সেই মনের কথাটি তথা চাঁদপুর কণ্ঠে কাজ করার ইচ্ছার কথাটি জানাই। তখন জনাব কাজী শাহাদাত ছোট্ট একটি বাক্যের দ্বারা এভাবেই আমার ইচ্ছার প্রতি সম্মতি জানালেন যে, ‘তোমার জন্যে চাঁদপুর কণ্ঠের দরজা খোলা।’ এমন একটি সম্মতিসূচক জবাব পত্রিকাটির নীতিনির্ধারণী মহল থেকে তাৎক্ষণিক আমি পেয়ে যাবো, তা আমার কল্পনারও বাইরে ছিলো। এমন একটি আশাব্যঞ্জক জবাব পাবো, তার জন্যে আমি মানসিকভাবে প্রস্তুতও ছিলাম না। জনাব কাজী শাহাদাতের কাছ থেকে জবাবটি শোনার সাথে সাথে আমি মনে মনে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করলাম। এরপর চাঁদপুর এসে কাজী শাহাদাত ভাই পত্রিকার মালিক আলহাজ¦ অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশারের সাথে আমার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কথা সেরে নিলেন। প্রধান সম্পাদক জনাব কাজী শাহাদাত তখন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক জনাব শহীদ পাটোয়ারীর মাধ্যমে আমাকে জানালেন নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করার জন্যে এবং সেটি স্টাফ রিপোর্টার পদে। অথচ এর আগে আমি চাঁদপুর প্রবাহে বেশ কয়েক বছর বার্তা সম্পাদক ছিলাম এবং পদত্যাগের সময়ও এ পদেই ছিলাম। কিন্তু আমার ভেতরে সামান্যটুকুও সঙ্কোচবোধ হয়নি যে, আগে ছিলাম বার্তা সম্পাদক, আর এখন নতুন হাউজে এসে কয়েক ধাপ নিচে স্টাফ রিপোর্টার। সচরাচর নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থল পরিবর্তন হলে তো পদোন্নতি হওয়ার কথা। কিন্তু তা তো নয়ই, বরং কয়েক ধাপ পদাবনতি! বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি কি আমার জন্যে মর্যাদাহানির বিষয় নয়? কিন্তু না, তখন আমার ভেতরে পদোন্নতি কি পদাবনতি বা কোনো পদ পাওয়ার বিষয়টি সামান্যতমও কাজ করেনি। কারণ, আমার তো তখন ধ্যান-জ্ঞান একটাই-যে হাউজ থেকে, যাঁর হাতে চাঁদপুরে অনেক প্রতিভাবান সাংবাদিক তৈরি হলো, যাদের অনেকেই এখন চাঁদপুরের বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন, আবার অনেকে জাতীয় শীর্ষস্থানীয় বেশ ক’টি দৈনিকের মূল হাউজে ভালো অবস্থানে আছেন এবং জেলা প্রতিনিধি হিসেবে আছেন, সে হাউজে আমার কাজ করার সুযোগ পাওয়া। পরবর্তীতে আমার কাজেই আমাকে যথাস্থানে নিয়ে যাবে। তাই খুশি মনে ২০০৯ সালের এপ্রিল থেকে স্টাফ রিপোর্টার পদে যোগদান করে কাজ শুরু করলাম দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে। আর এক্ষেত্রে আমাকে বেশ আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করলেন চাঁদপুর কণ্ঠের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক জনাব শহীদ পাটোয়ারী।

মাঠে পুরোদমে কাজ শুরু করলাম। ধরাবাঁধা কোনো বিট ছিলো না। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, চিকিৎসা, ক্রীড়া, ধর্মীয়, শিক্ষাসহ প্রায় সকল সেক্টরের নিউজ কভার করার পাশাপাশি নানা বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদের প্রতিও কিছুটা মনোনিবেশ হলাম। এর বাইরে জেলা প্রশাসনের যে কোনো অনুষ্ঠানের নিউজ বিশেষ করে জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভার সংবাদগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমিই করতাম। এছাড়া তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপির চাঁদপুরের সফর কর্মসূচির সংবাদও অধিকাংশ সময় আমিই করতাম। আর হরতাল, অবরোধ, রাজনৈতিক সহিংসতা, সংঘর্ষ-মারামারি ইত্যাদির ক্ষেত্রে চাঁদপুর কণ্ঠে আমার নিউজ থাকতো। অর্থাৎ চাঁদপুর কণ্ঠে কাজ করতে আমাকে অবারিত সুযোগ দেয়া হয়। তবে এ কথা অবশ্যই আমাকে স্বীকার করতে হবে যে, আগে আমার সংবাদ পরিবেশনের ধরন যে রকম ছিলো, চাঁদপুর কণ্ঠে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সে ধারাকে অনেকটা পরিবর্তন করতে হয়েছে। অর্থাৎ পূর্বের হাউজে নিউজ করার ক্ষেত্রে কাঠামোগত নিয়ম অতোটা রক্ষা হতো না, তবে যতোটুকু জানতাম ততোটুকু ঠিক রাখার চেষ্টা করতাম। সবসময় পুরোপুরি ঠিক থাকতোও না। আর কাঠামোগত এবং ব্যাকরণগত ভুল-ত্রুটিগুলো শুধরানোর সুযোগ আগে হয়নি। কিন্তু চাঁদপুর কণ্ঠে কাজ করার সুযোগে সে ভুলগুলো আস্তে আস্তে নিজের কাছে পরিস্কার হতে লাগলো এবং ভুলগুলো শুধরাতেও আমি সচেষ্ট হলাম। আমার লেখা নিউজগুলো প্রথমদিকে বার্তা সম্পাদক জনাব শহীদ পাটোয়ারী ও নির্বাহী সম্পাদক জনাব মির্জা জাকির ভাইয়ের টেবিল পর্যন্ত যেতো। কিন্তু তাঁরা আবার সেই নিউজ প্রধান সম্পাদক জনাব কাজী শাহাদাতের দপ্তরে পাঠিয়ে দিতেন। আর তখনি আমার ভুল-ভ্রান্তিগুলো ধরা পড়তো। বলতে দ্বিধা নেই, মাঝে মধ্যে জনাব কাজী শাহাদাতের কাছে আমার লেখা সংবাদে এমন কিছু ভুল ধরা পড়তো, তখন আমার নিজেকে মনে হতো আমি যেনো এখনো সাংবাদিকতায় শিশু শ্রেণিতে আছি। মাঝে মধ্যে তিনি কিছু সংবাদের প্রশংসাও করতেন। তিনি এভাবে আমার ভুল-ত্রুটিগুলো হাতে-কলমে ধরিয়ে দিতেন। কোন্ সংবাদের ইন্ট্রু (সূচনা) কী ধরনের হবে, কোনো অনুষ্ঠানের সংবাদ, ঘটনা বা দুর্ঘটনার সংবাদ, কারো সাক্ষাৎকার নেয়া, সমস্যা ও সম্ভাবনাধর্মী সংবাদ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কীভাবে সংগ্রহ করতে হবে, লিখতে হবে, এসব বিভিন্নধর্মী সংবাদের কাঠামো কোন্টার কী রূপ হবে এসব বিষয় জনাব কাজী শাহাদাতের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে শিখতে লাগলাম। এক্ষেত্রে তিনি কখনো বিরক্তবোধ করেননি, বরং উৎসাহ দিতেন। এর বাইরে শব্দচয়ন, বাক্য প্রয়োগ, শুদ্ধ বানান বিষয়ে তো তিনি রীতিমতো আমি ও মির্জা জাকির ভাইসহ কয়েকজনকে বলতে গেলে ক্লাস করিয়েছেন। সেজন্যে আমি আমার সাংবাদিকতার এই পর্যায়ে এসে জনাব কাজী শাহাদাতের ঔদার্য ও বদান্যতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁকে কিছুটা অনুসরণ করতে পেরেছি বলেই ২০০৯ থেকে বর্তমান ২০১৯ পর্যন্ত এখনো তাঁর সাথেই আছি, স্টাফ রিপোর্টার থেকে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে বার্তা সম্পাদক পদে আছি।

আমার সাংবাদিকতা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বা প্রাপ্তি হচ্ছে, টিআইবি কর্তৃক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অ্যাওয়ার্ড লাভ। সেটি ২০১১ সালে। আমার এ অর্জনও চাঁদপুর কণ্ঠের বদৌলতে। আড়াইশ’ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের উপর ধারাবাহিকভাবে আমার ৮টি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ পায় চাঁদপুর কণ্ঠে। এ প্রতিবেদনের উপর আমি টিআইবি থেকে অ্যাওয়ার্ড পাই। সে বছর সারা বাংলাদেশের মফস্বল থেকে আমরা দুজন টিআইবি কর্তৃক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অ্যাওয়ার্ড পাই। একজন হচ্ছি আমি আর অপরজন হচ্ছেন খুলনার সাংবাদিক এইচএম আলাউদ্দিন ভাই। আমাদের প্রতিবেদনগুলো মূল্যায়ন করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের প্রফেসরগণ। এভাবে আমার সাংবাদিকতার ভিতকে মজবুত করেছে চাঁদপুর কণ্ঠ।

আমার সাংবাদিকতার ১৯ বছরের মধ্যে ১১ বছর চাঁদপুর কণ্ঠে। এই এগার বছরের স্মৃতিচারণ করলে লেখার কলেবর অনেক বৃদ্ধি পাবে। তবে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা যেগুলো মনে থাকার মতো, দাগ কাটার মতো সেসব কিছুর অবতারণা না করলেই নয়। এ বিষয়গুলো কাগজে-কলমে না আসলে কালের আবর্তে একদিন ওই সত্য ঘটনাগুলো ঢাকা পড়ে যাবে। এই ১১ বছরে আমি যতোটুকু দেখেছি, চাঁদপুর কণ্ঠের উপর অনেক ঝড় এসেছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেক ষড়যন্ত্রও হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে সকল বিপদ এবং ষড়যন্ত্র থেকে পরিত্রাণ পেয়ে চাঁদপুর কণ্ঠ আজও স্বকীয়তা বজায় রেখে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। চাঁদপুর কণ্ঠের পথচলা ছিলো অবিচল এবং নীতিতেও আজও আছে অটল। কোনো লোভ বা হুমকি-ধমকি কিংবা কারো রক্তচক্ষু আমাদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। একটা পর্যায়ে এসে আমাদের দীর্ঘদিনের এবং মনোরম পরিবেশের অফিস পরিবর্তন করতে হয়েছে, কিন্তু তারপরও আমরা কারো কাছে মাথা নত করিনি। কঠিন মুহূর্তে আমরা বিচলিত হইনি। চাঁদপুর কণ্ঠের পাশাপাশি আমার উপরও অনেক ঝড় বয়ে গেছে, অনেক হুমকি ও গালাগালও করা হয়েছে আমাকে। কিন্তু বিচলিত হইনি, মাথা নত করিনি এবং আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। রেডক্রিসেন্টের মতো একটি জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের চাঁদপুর ইউনিটের কর্মকর্তারাও আমাদের সাথে প্রতারণা করলেন। তাদের ভবনের দুটি ফ্লোরে থাকা চাঁদপুর কণ্ঠ অফিসটি রেডক্রিসেন্টের নিজস্ব কাজে লাগবে বলে চিঠি দেয়া হলো এক মাসের মধ্যে অফিস ছেড়ে দিতে। অথচ ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী চাঁদপুর কণ্ঠ কার্যালয়ের  একটি ফ্লোরের মেয়াদ এক বছর সময় বাকি ছিলো। এখানে এসেও আমরা কারো কাছে নত হইনি। রেডক্রিসেন্ট ভবনে থাকাবস্থায়ই আল্লাহ ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। চাঁদপুরের সর্বজনশ্রদ্ধেয় এবং নিভৃতচারী প্রকৃত সমাজসেবক আলহাজ¦ ডাঃ এমএ গফুর সাহেব চাঁদপুর কণ্ঠ কার্যালয়ের কথা শোনামাত্র ভাড়া দিতে রাজী হয়ে গেলেন। অথচ তাঁর এই ভবনটি দুই বছর খালি পড়েছিলো, ভাড়াটিয়া পছন্দ হয়নি বলে ভাড়া দেননি। রেডক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ এ কী করলো চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে? বললো নিজেদের প্রয়োজনে লাগবে, অথচ প্রায় নয় মাস খালি পড়ে থাকার পর এখন দেখা গেলো যে, ‘এলিট ভোজন বিলাস’ নামে একটি হোটেল রেস্তোরাঁকে ভাড়া দিয়েছে। এখন আবার দেখছি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার কার্যালয়ের সাইনবোর্ডও ঝুলছে। তাহলে চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে মিথ্যা বলা এবং প্রতারণা করার দরকারটা ছিলো কি? এর দ্বারা কি রেডক্রিসেন্ট কর্র্তৃপক্ষ লাভবান হয়েছে? না কি কেউ জেদ উড়ালেন ?


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭১৫৩৭
পুরোন সংখ্যা