চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২৮ চৈত্র ১৪২৫, ০৪ শাবান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, কিংবদন্তীতুল্য সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ এম এ গফুর আর বেঁচে নেই। আজ ভোর ৪টায় ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন।বাদ জুমা পৌর ঈদগাহে জানাজা শেষে বাসস্ট্যান্ড গোর-এ-গরিবা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৮-সূরা ফাত্হ্

২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী

২১। এবং আরও রহিয়াছে যাহা এখন ও তোমাদের অধিকারে আসে নাই, উহা তো আল্লাহ আয়ত্তে রাখিয়াছেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


যারা ধনী কিংবা সবকালয়, তাদের ভিক্ষা করা অনুচিত।


 


 


ফটো গ্যালারি
ধান-গম ছেড়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন কৃষক
কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
১১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ধান ও গম চাষে খরচ বেশি। এসব বিক্রি করে বেশি লাভও হয় না। অথচ ভুট্টায় উৎপাদন খরচ কম ও লাভ বেশি হয়। চাঁদপুরে এবার গমের আবাদ কমে গেছে। বোরো ধানের আবাদের প্রতিও আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক। বেশি লাভ ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছেন।



কৃষকরা বলেন, গত বছর গম চাষ করে প্রতি বিঘায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ এবং এবার আমন ধানে প্রতি বিঘায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা লোকসান হয়েছে। এ কারণে চলতি মৌসুমে গম ও বোরো ধান আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেক কৃষক। গত মৌসুমের তুলনায় হাজীগঞ্জ উপজেলায় এবার ৪০ হেক্টর জমিতে গম আবাদ হয়েছে। বোরো ধানের আবাদও কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।



কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মান্নান এবং নরেশ চন্দ্র দাস জানান, গম চাষের জন্যে প্রচ- শীত ও ঘন কুয়াশার প্রয়োজন হয়। গম গাছ বৃদ্ধির জন্যে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত তীব্র শীত থাকা দরকার। যা দুই-তিন বছর থেকে অনুপস্থিত। গত মৌসুমে (২০১৭-১৮) প্রতি একরে ১ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন, এর আগের মৌসুমে (২০১৬-১৭) ১ দশমিক ৪৪ মেট্রিক টন এবং ২০১৫-১৬ মৌসুমে ১ দশমিক ৪৯ মেট্রিক টন গম হয়েছিলো। গত দুই মৌসুমে এখানে তুলনামূলক শীত ও কুয়াশা কম ছিলো। এজন্যে গত দুই মৌসুমে জেলায় গমের ফলন কম হয়েছে। এতে চাষীরা গমের আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন।



জেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলায় আবাদী জমি ২৯ হাজার ৬১ হেক্টর। এর মধ্যে এবার ৪ হাজার ২০০ হেক্টরে ভুট্টা এবং ১৩ হাজার ১৬৮ হেক্টরে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এই উপজেলায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা এবং ১২ হাজার ৮০০ হেক্টরে বোরো ধান আবাদ হয়েছিলো। সর্বশেষ হিসেবে এবার উপজেলায় ৪ হাজার ১৫৫ হেক্টরে ভুট্টার আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের আবাদের তুলনায় দ্বি-গুণের বেশি। এ হিসেবের বাইরে আরো কয়েক শ' হেক্টরে ভুট্টার আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



এই উপজেলায় এবার ২ হাজার ১৫০ হেক্টরে সরিষার চাষ হয়েছে। চাষীরা সাধারণত সরিষার পরে জমিতে বোরো ধান আবাদ করতেন। কিন্তু এবারের আমন ও গতবার বোরো ধানে উপর্যুপরি লোকসান হওয়ায় কৃষকরা এবার সরিষা তুলে ধানের বদলে ভুট্টার আবাদ করছেন।



ভুট্টা আবাদের কারণ সম্পর্কে ফরিদগঞ্জের শোভান গ্রামের ইউসুফ আলী বলেন, গতবার সরিষা কেটে বোরো চাষ করে লস খেয়েছি। সরিষার জমিটা উঁচু হওয়ায় বোরোর জন্যে সেচ দিতে বেশি টাকা খরচ হয়। আর ওই জমিতে ভুট্টা চাষ করলে বেশি সেচের দরকার হয় না। ভুট্টায় খরচও কম। তাই এবার আমি ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টা আবাদ করে ফলন বেশি হয় এবং বিক্রি করে লাভও পাওয়া যায় বেশি। এ ফসলে লোকসানের ঝুঁকি কম।



হাজীগঞ্জ মেনাপুর গ্রামের সিরাজ পাটোয়ারী, রাজারগাঁও গ্রামের আলী, নাসিরকোর্ট গ্রামের চপলসহ একাধিক কৃষক সরিষা তুলে ভুট্টা আবাদ করেছেন।



শাহতলী গ্রামের নেছারউদ্দীন জানান, গত মৌসুমে তিনি গম চাষ করে প্রতি বিঘায় ১৬ মণ ফলন পেয়েছিলেন। ৬০০-৬২০ টাকা মণ দরে গম বেচে তার লাভ হয়নি, বরং বিঘাপ্রতি লোকসান হয়েছে প্রায় এক হাজার টাকা। তিনি আরো জানান, গমের জমি তৈরি, সার, জৈব সার, ভিটামিন, গম কাটা, অাঁটি বাঁধা, বহন, পালা করা, মাড়াইসহ সবমিলিয়ে ১১ হাজার থেকে ১১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ পড়েছে। অথচ ১৬ মণ গম বেচে পাওয়া গেছে ১০ হাজার ৮০ টাকা।



কচুয়ার নন্দনপুর গ্রামের ওছমান, সাচার গ্রামের ওমর আলী ও সুরেশ চন্দ্র রায় জানান, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করতে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘাপ্রতি ফলন পাওয়া যায় ৫০-৬০ মণ। প্রতি মণ ভেজা ভুট্টা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। এতে বিঘাপ্রতি ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা লাভ হয়।



মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও গ্রামের বশির ও গোলাম রসুল জানান, বোরো ধান আবাদে বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়ে ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা। অথচ বিঘাপ্রতি বোরো ধানের ফলন পাওয়া যায় ২৫-৩০ মণ। ধান কাটা-মাড়াইয়ের সময় প্রতি মণ ভেজা ধানের দাম পাওয়া গেছে ৪০০-৪৫০ টাকা।



উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, গত মৌসুমে গমে এবং এবারের আমনে লোকসান হওয়ায় বেশির ভাগ চাষী এবার গম ও বোরো আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে ভুট্টার আবাদের দিকে ঝুঁকেছেন।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৩৯৬২
পুরোন সংখ্যা