চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২৮ চৈত্র ১৪২৫, ০৪ শাবান ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৮-সূরা ফাত্হ্

২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী

২১। এবং আরও রহিয়াছে যাহা এখন ও তোমাদের অধিকারে আসে নাই, উহা তো আল্লাহ আয়ত্তে রাখিয়াছেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


যে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্মান করে, সে আমাকে সম্মান করে।


ফটো গ্যালারি
ফরিদগঞ্জে বেগুনি রঙের ধান ক্ষেত দেখতে মানুষের ভিড়
মুহাম্মদ আবদুর রহমান গাজী
১১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম শাহপুর গ্রামে প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে বেগুনি রঙের ধান। এ ধান চাষে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন এ ধানের ক্ষেত দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করছে।



সবুজ ধানের বেষ্টনীর মধ্যে বেগুনী এ ধান ক্ষেতটি দেখলে মনে হতে পারে কোনো আগাছা বা বালাই আক্রান্ত ধানের ছবি। আসলে এর কোনোটিই নয়। এটি এমন একটি ধানের জাত, যার পাতা ও কা-ের রং বেগুনী। শুধু ধান গাছ নয়, এর চালের রংও বেগুনী। তাই কৃষকদের কাছে এখন পর্যন্ত এ ধানের পরিচিতি বেগুনী রঙের ধান বা রঙিন ধান।



ফরিদগঞ্জ কৃষি অফিস ও স্থানীয় কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর ঢাকা থেকে এ ধানের বীজ সংগ্রহ করেছেন আক্তারুজ্জামান পাটওয়ারী। পরে তিনি স্থানীয় কৃষি কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। এ ধান সম্পর্কে সন্তোষজনক কোনো তথ্য না পেয়ে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। ধানগুলো রোদে শুকান এবং বোরো মৌসুমে নিজেই চেষ্টা করেন চারা উৎপাদনের। পরে ছোট্ট পরিসরে এ ধান রোপণ করেন। সবুজের মধ্যে বেগুনি রঙের এ ধানক্ষেত যে কোনো কৃষকের দৃষ্টি কাড়ে। শুরুতেই সবুজের মধ্যে ধূসর রঙের ক্ষেত দেখে অনেকেই মনে করতেন ক্ষেতটি অযত্নে মরে গেছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ধান গাছের পাতা গাঢ় বেগুনি রং ধারণ করে। প্রতিদিন এ ক্ষেত দেখতে উৎসুক মানুষকে ভিড় করতে দেখা গেছে। অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে এ ধানের চাষ করতে কৃষক আক্তারুজ্জামান পাটওয়ারী ও কৃষি কার্যালয়ে যোগাযোগ করছেন।



সরজমিনে দেখা যায়, রোদের প্রখরতায় বেগুনি রং আরো গাঢ় আকার ধারণ করছে। ধানে শীষ উঠেছে। ফলন ভালো হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষক মোঃ আক্তারুজ্জামান পাটওয়ারী বলেন, নতুন এ ধান দেখতে প্রতিদিন মানুষ ভিড় করছে। অনেক কৃষক এ ধানের চাষ করতে বীজ চেয়েছেন।



তিনি কৃষিকণ্ঠকে বলেন, ১৫ শতাংশ জমিতে এ ধান চাষ করেছি। আমার পুত্রা ঢাকা থেকে আমাকে ১ কেজি বেগুনি রঙের ধানের বীজ কিনে দেয়। পরে আমি কৃষি অফিসার নূরে আলম স্যারের সাথে আলাপ করে এ বীজ রোপণ করি। ধানের গ্রোথ ভালো আছে। আশা করি ভালো ফলন হবে।



বেগুনি রঙের ধান ক্ষেত দেখতে আসা শাহরাস্তি উপজেলার মোঃ ইয়াসিন পাটোয়ারী বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি। তাই স্বচক্ষে দেখতে চলে আসি। আমি এ প্রথম দেখলাম বেগুনি রঙের ধান ক্ষেত।



কৃষক কামাল বেপারী বলেন, এ রকম ধানগাছ আর দেখিনি। আমরা প্রথম মনে করেছি ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে এ রকম কালার হয়েছে। পরে কৃষি অফিসের মাধ্যমে নিশ্চিত হই, এটা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ নয়, এ ধান ক্ষেতের কালারই বেগুনি।



ফরিদগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নূরে আলম বলেন, ধান কাটার পর এর পুষ্টিগুণ জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। কৃষকের মধ্যে এ ধান চাষে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ ধান এলাকায় সমপ্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে। বেগুনি রঙের এ ধান গাছ সাধারণ ধান গাছের তুলনায় প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে। এতে পোকা-মাকড়ও কম আক্রমণ করে। আমরা বেগুনি রঙের ধান ক্ষেতটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। ফলন কী রকম হবে ধান কর্তনের পর তা বলা যাবে। তবে এ ধান ও চাল বেগুনি রঙের।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৮৬০৫
পুরোন সংখ্যা