চাঁদপুর। বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ৫ আশ্বিন ১৪২৪। ২৮ জ‌িলহজ ১৪৩৮
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৯-সূরা আনকাবূত


৬৯ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৩। যদি তুমি উহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর, আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করিয়া কে ভূমিকে সঞ্জীবিত করেন। উহার মৃত্যুর পর উহারা অবশ্যই বলিবে, ‘আল্লাহ’। বল, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই’। কিন্তু উহাদের অধিকাংশই ইহা অনুধাবন করে না। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

গৃহের শান্তি স্বর্গের শান্তির চেয়ে কম নয়।                       -গোল্ড স্মিথ।


যার মধ্যে বিনয় ও দয়া নেই সে সকল ভালো গুণাবলী হতে বঞ্চিত।


ফটো গ্যালারি
গাছ লাগানো নবীজীর সুন্নত
কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ইসলামের আলোকে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করা ইবাদতেরও একটি অংশ। নিজ হাতে বৃক্ষরোপণ করা রাসুলে আরাবি নবীজী (সাঃ)-এর সুন্নত। মহানবী (সাঃ) বলেন, 'তুমি যদি নিশ্চিতভাবে জান কিয়ামত এসে গেছে, তবুও তোমার হাতে কোনো গাছের চারা থাকলে তা রোপণ করবে।' (মিশকাত)।



এ হাদিস থেকেই বুঝা যায়, ইসলাম বৃক্ষরোপণকে কত গুরুত্ব দিয়েছে। বৃক্ষরোপণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তা পরিচর্যা করাও অপরিহার্য। এজন্যে ইসলামে বৃক্ষের পরিচর্যার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়; বরং এর যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে পুষ্প-পল্লবে বিকশিত হওয়ার সব ব্যবস্থা করতে হবে। আপনার যদি একটি বৃক্ষ ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়, পথিক এর ছায়ায় বসে, পশু-পাখি বিশ্রামের সুযোগ পায়, ফুল-ফল খেয়ে উপকৃত হয় এরা সবাই আপনার জন্যে দোয়া করবে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ইসলাম কাউকে গাছ কেটে ফেলার অনুমতি দেয় না। এক কথায় গাছের ক্ষতি হতে পারে, এমন কোনো কর্মকা-ই ইসলাম সমর্থন করে না। গাছপালা আল্লাহর অন্যতম সেরা দান। বৃক্ষরোপণ ও তা পরিচর্যা করা মুসলমানদের ধর্মীয় দায়িত্ব।



 



গাছগাছালি মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। শুধু মানুষই নয়, গাছপালা ছাড়া কোনো প্রাণিই জীবন ধারণ করতে পারবে না। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বেড়ে পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ার পেছনে প্রধানত দায়ী বৃক্ষহীনতা। দিন দিন কমে যাচ্ছে গাছের সংখ্যা। গাছপালার স্বল্পতার কারণে ভূপৃষ্ঠে কার্বন-ডাই অঙ্াইডের পরিমাণ ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছে। গাছ-গাছালির উপকারের কোনো শেষ নেই। একটি গাছ বছরে প্রায় ১৩ কেজি কার্বন-ডাই অঙ্াইড গ্রহণ করে। মানুষের জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রকৃতিগত ধর্ম ইসলামও বৃক্ষরোপণ এবং পরিচর্যার প্রতি জোরালো তাগিদ করেছে।



বৃক্ষরোপণকে ইসলামে ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যে গাছ লাগাবে এবং তা পরিচর্যা করবে, সে অনবরত পুণ্য পেতে থাকবে। মহানবী (সাঃ) বৃক্ষের শোভাম-িত সুশোভিত পরিবেশ ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থে একজন বৃক্ষপ্রেমী। জীবনে বহুসংখ্যক গাছ নবীজী (সাঃ) নিজ হাতে রোপণ করেছেন। অসংখ্য হাদিসে তিনি বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করেছেন। বৃক্ষরোপণকারী মরে যাওয়ার পরও এর সওয়াব অনবরত পেতে থাকবে। সওয়াবের উদ্দেশে কোনো গাছের চারা রোপণ করলে যতদিন গাছটি থেকে উপকৃত হওয়া যাবে ততোদিনই এর সওয়াব রোপণকারী পাবেন।



এজন্যে সবার উচিত ব্যাপক বনায়নের মাধ্যমে সবুজাভ প্রকৃতিকে মানুষের বাসযোগ্য করে তোলা। আমাদের যেনো এমন না হয় সবাই গাছ লাগায়, আমিও গাছ লাগাই। বরং আমরা এমন মন নিয়ে গাছ লাগাই নবীজী নিজ হাতে বৃক্ষরোপণ করেছেন। তাই আমরাও রোপণ করছি। এতে নবীজী (সাঃ)-এর সুন্নতের আমলও হবে এবং আপনার মনের বাসনা পূর্ণ হবে। পরিশেষে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ। হে আল্লাহ আমাদেরকে বৃক্ষরোপণের আমল করার তৌফিক দান কর। আমিন!



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯২৪৮৪
পুরোন সংখ্যা