চাঁদপুর। বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ৫ আশ্বিন ১৪২৪। ২৮ জ‌িলহজ ১৪৩৮
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৯-সূরা আনকাবূত


৬৯ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৩। যদি তুমি উহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর, আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করিয়া কে ভূমিকে সঞ্জীবিত করেন। উহার মৃত্যুর পর উহারা অবশ্যই বলিবে, ‘আল্লাহ’। বল, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই’। কিন্তু উহাদের অধিকাংশই ইহা অনুধাবন করে না। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

গৃহের শান্তি স্বর্গের শান্তির চেয়ে কম নয়।                       -গোল্ড স্মিথ।


যার মধ্যে বিনয় ও দয়া নেই সে সকল ভালো গুণাবলী হতে বঞ্চিত।


ফটো গ্যালারি
মতলব উত্তরে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে
মাহবুব আলম লাভলু
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। খালগুলো মানুষের দখলে চলে যাওয়া, কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনায় খালগুলো আবদ্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ জলাবদ্ধতায় এ সেচ প্রকল্পটি কৃষকের জন্যে অনেকটা অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।



সরজমিনে দেখা যায়, ক'দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার হানিরপাড়, কলাকান্দা, মিলারচর, মাথাভাঙ্গা, পাঁচআনী, নাউরী, হলদিয়া, লুধুয়া, একলাশপুর, জোড়খালী, শিকিরচর, ছেঙ্গারচর, কেশাইরকান্দি, জীবগাঁও, পাঠান বাজার, ঝিনাইয়া, মরাদন, ইসলামাবাদ, অলিপুর, নয়াকান্দি, সুজাতপুর ঠাকুরচর, রুহিতার পাড়, বদুরপুর, বাগানবাড়ি, নিশ্চিন্তপুর, দুর্গাপুর, লবাইরকান্দি, ইসলামাবাদ, ফতেপুরসহ প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে আমন ধানের বীজতলা ও রোপা আউশ, বগি পাট, আখ, ফল ও কাঠ গাছের বাগান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মৎস্য খামার তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা ফসলি জমিতে আবাদ করতে পারছে না। কৃষকরা প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা না পাওয়ায় এ সেচ প্রকল্পকে তাদের জন্যে অভিশাপ মনে করছেন।



কলাকান্দা গ্রামের সাহেব আলী বলেন, 'জানি না এহন আমরা কি করুম, হুদিনকালে পানি পাই না, বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জইম্মা সব ফসল তলাইয়া যায়। ফসল করতে গিয়া টাকা শেষ হইয়া যায়। ক্ষতির কারণে ফসল পাই না। এমনে আর কত দিন চলুম।'



হানিরপাড় গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, 'প্রকল্পটি তৈরি হওয়ার পর থেকে আমরা বর্ষা আসলেই বৃষ্টির পানিতে ডুবে মরি। আমাদের চাষের জমি তলিয়ে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। পাউবো কর্তৃপক্ষকে এ জলাবদ্ধতার ব্যাপারে জানালেও এ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেয় নি।' দশানী-হানিরপাড়-বালুরচর-ছেঙ্গারচর বাজার হয়ে যে খালটি কালিপুর পাম্প হাউজে মিলেছে সে খালটির অবস্থা করুণ। মানুষের দখল, কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনায় খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এ খালটি দিয়ে পানি নিষ্কাশন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে দশানী, মাথাভাঙ্গা, হানিরপাড়, জোড়খালী, বালুরচর, মিলারচর এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর এ এলাকার কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।



 



এলাকাবাসী জানালেন, জলাবদ্ধতার মূল কারণ মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় ত্রুটি, খালগুলো মানুষের দখলে চলে যাওয়া, কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনায় খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া, খালগুলো সংস্কার না করা। আর এ অবস্থার জন্যে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে। খালগুলো দখল হয়ে গেলেও পাউবো কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পাউবোর কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে অবৈধভাবে লীজ নেয়ার নামে পাউবোর সম্পদ দখল করে রাখছে।



উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমদ বলেন, খালগুলো অনেক জায়গা দখল করে মানুষ দোকানপাট নির্মাণ করছে ও বাড়ি তৈরি করছে এ বিষয়টি সত্য। এ ছাড়া কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনায় খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এখন খালগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। মন্ত্রী মায়া বীর বিক্রমের সাথে কথা বলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



 



উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাউদ্দিন জানান, এ এলাকায় বেশির ভাগ বাড়ি-ঘর অপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। যার কারণে পানি নিষ্কাশনেরর পথ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতি বছর জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি ক্ষেত্রের ক্ষতি হচ্ছে। এখন জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা আছে। আরো বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার কারণে রোপা ধানের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। দ্রুত পানি সরাতে না পারলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।



এভাবে প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় এ প্রকল্পের কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়। এ সমস্যা সমাধানের জন্যে জলাবদ্ধতা নিরসনের স্থায়ী সমাধান জরুরি বলে দাবি কৃষি পরিবারগুলোর। তা না হলে মূলধন হারিয়ে কৃষকরা পথে বসবে। এ ব্যাপারে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আতাউর রহমান জানান, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে পাম্প ২/৩ দিন চালু করা যায়নি তখন কিছুটা সমস্যা ছিলো। এছাড়া এ বছর ফসল একটু কম হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের ভেতর বড় ধরণের জলাবদ্ধতা নেই।



অবৈধ খাল দখলকারীদের তালিকা চলছে। প্রশাসন ও ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে চূড়ান্ত কথা হচ্ছে। তারপরই অভিযানে নামা হবে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭৫৯০
পুরোন সংখ্যা