চাঁদপুর। বুধবার ২৫ জানুয়ারি ২০১৭। ১২ মাঘ ১৪২৩। ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২১২। উহাদিগকে তো শ্রবণের সুযোগ হইতে দূরে রাখা হইয়াছে।


২১৩। অতএব তুমি অন্যকোন ইলাহ্কে আল্লাহ্র সহিত ডাকিওনা, ডাকিলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


অন্ধ ব্যক্তিরাই পৃথিবীর বেশি ভাগ্যহত। 


                        -ডিকের্ন্স।


যারা এক মুখে দুই কথা বলে, তারা মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ব্যক্তি।


 

ফটো গ্যালারি
হাজীগঞ্জে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ লাভজনক ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে
পাপ্পু মাহমুদ
২৫ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কৃষি নির্ভর আমাদের এ বাংলাদেশ। কৃষকের কঠোর পরিশ্রমে দেশে বর্তমানে খাদ্যের ঘাটতি নেই। আধুনিক কৃষি বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করে নিজেকে স্বাবলম্বী করেছে অনেক কৃষক। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশে পুষ্টির চাহিদা পূরণেও বিশেষ ভূমিকা রাখছে তারা। যেমন হাজীগঞ্জে কৃষকদের মাঝে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্ষার পানিতে কচুরিপানায় ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষে বেশ লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। হাজীগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের এমন সাফল্য কয়েক বছর ধরেই। বর্ষাকালে এলাকার নিচু জমিসহ ডোবা-নালায় জমে থাকা পানিতে কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান ধাপ পদ্ধতিতে এ চাষাবাদ করা হচ্ছে। এতে প্লাবিত জমির বেকারত্ব দূর হওয়ার পাশাপাশি জৈব সার তৈরি হয়। ভাসমান পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি হলো,মিষ্টি কুমড়া, লাউ,শসা ও খিরা। এছাড়াও লালশাক, মূলাশাক, ধনিয়াপাতা চাষ করা যায়।



উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে ও সহায়তায় বেশ কয়েক বছর হাজীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার প্লাবনভূমিতে বিক্ষিপ্তভাবে এ পদ্ধতিতে সবজির চাষ হচ্ছে বলে জানা যায়। আর এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে বর্ষা মৌসুমে সবজির আকালের সময়ে নিজেদের চাহিদা মেটানো যায়। একই সঙ্গে বাজারে চড়া দামে সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হওয়া সম্ভব। ফলে একের চাষে অন্যে উৎসাহিত হয়ে দিন দিন এ পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এলাকায়।



উপজেলার পশ্চিম বলাখাল মাঠে সরজমিনে গিয়ে কৃষক ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্ষার পানিতে প্লাবিত জমিতে প্রচুর কচুরিপানা জন্মায়। কচুরিপানা সরিয়ে জমিতে ধান চাষের উপযোগী করতে অনেক বেগ পেতে হয় কৃষককে। আগাছা হিসাবে কচুরিপানা দিয়ে ধাপ তৈরি করে ভাসমান পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়। এতে ধান চাষের আগে জমি খালি পড়ে থাকেনা। ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষে রাসায়নিক সার প্রয়োজন হয়না এবং কচুরিপানা পচে জৈব সার তৈরি হয় জমিতে। এ পদ্ধতির চাষাবাদে রাসায়নিক সার ব্যবহার না হওয়ায় বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা যায়।



পশ্চিম বলাখাল মাঠের ভাসমান পদ্ধতিতে সবজিচাষি কৃষক আবু বকর সিদ্দিক জানান, তিনি কয়েক বছর ধরে বর্ষায় প্লাবিত জমিতে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। এ বছর তিনি প্রায় ২ একর জমিতে ভাসমান পদ্ধতিতে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, শসা ও খিরা চাষ করেছেন। এ পদ্ধতির চাষাবাদে অধিক লাভবান হওয়া যায়। এসব জমিতে সময় মত আবার বোরো ধান চাষ করা হবে।



উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন চক্রবর্তী জানান, এ পদ্ধতির চাষাবাদে এলাকার কৃষকদের ও জমির বর্ষা মৌসুমের বেকারত্ব দূর হয়। তারা আর্থিকভাবে লাভবান হন। স্থানীয় বাজারে সবজির ঘাটতি পূরণ করে দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্রি করা হচ্ছে।



উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা দিলরুবা খানম বলেন, সাধারণত ২০ হাত লম্বা, ৩ হাত চওড়া এবং ২হাত শুরু এমন ১টি ভাসমান ধাপ তৈরি ও চাষাবাদে গড়ে প্রায় ৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়। একটি ধাপ থেকে গড়ে ১৫শ' থেকে ২ হাজার টাকা লাভ হয়। ভাসমান পদ্ধতিতে চাষাবাদে সাফল্য দেখে এলাকার ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।



উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মণি সূত্রধর বলেন, হাজীগঞ্জ একটি জলাবদ্ধ প্রবণ এলাকা। মে মাস থেকে শুরু করে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বছরের ছয়মাস ধানী জমিগুলো জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকে। এ সময়ে কোন প্রকার ফসল ঐ জমিগুলোতে চাষাবাদ করা যায় না। বন্যা ও জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকার ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ আওতায় পৌরসভার বস্নকের কিছু কৃষককে ভাসমান বেডে সবজি উৎপাদনে প্রদর্শনী প্রদান করা হয়। প্রকল্পের কাজ গুলোর উদ্দেশ্য হলো অগ্রগামী কৃষকদের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি অন্যান্য কৃষকের সম্মুখে উপস্থাপন করা। প্রকল্পগুলো বিভিন্ন উপজেলা থেকে যেমন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলা ও কচুয়া উপজেলা হতে কৃষি কর্মকর্তাসহ প্রায় শতাধিক কৃষক এই প্রযুক্তি পরিদর্শন করে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। এক সময়ের অভিশাপ কচুরিপানা এখন আশীর্বাদ হয়েছে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০৩৪৮৯
পুরোন সংখ্যা