চাঁদপুর। বুধবার ২৫ জানুয়ারি ২০১৭। ১২ মাঘ ১৪২৩। ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২১২। উহাদিগকে তো শ্রবণের সুযোগ হইতে দূরে রাখা হইয়াছে।


২১৩। অতএব তুমি অন্যকোন ইলাহ্কে আল্লাহ্র সহিত ডাকিওনা, ডাকিলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


অন্ধ ব্যক্তিরাই পৃথিবীর বেশি ভাগ্যহত। 


                        -ডিকের্ন্স।


যারা এক মুখে দুই কথা বলে, তারা মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ব্যক্তি।


 

ফটো গ্যালারি
ঠিকানাবিহীন রাখাল রহিম বেপারী
ভিক্ষা ছেড়ে সাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন
মুহাম্মদ আবদুর রহমান গাজী
২৫ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে হতদরিদ্র রহিম বেপারীর বাড়ি। দু' মুঠো ভাত ও কাজের সন্ধানে চলে আসে চাঁদপুুর। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঠাঁই যোগান চাঁদপুর শহরের কুলি বাগানের একটি ভাড়া বাড়িতে। কি করবেন তিনি। কোনো কাজ খুঁজে পাচ্ছে না।



ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। কাজের সন্ধানে চাঁদপুুর-চট্টগ্রামগামী ট্রেনে মালা-মাল উঠা নামার কাজ করতেন। হঠাৎ একদিন চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে কাটা পড়ল তার বাম পা। চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনের সামনে থেকে স্থানীয়রা উদ্বার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। যার কারণে রহিম বেপারীর ক্যাচের মাধ্যমে চলাফেরা করতে হয়। এখন সবাই তাকে চিনেন ল্যাংড়া রহিম নামে।



হাজারো সমস্যা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর যুদ্ধে নেমেছেন রহিম বেপারী। আর্থিক দৈন্যদশা কাটিয়ে ওঠার নিরলস চেষ্টা করছেন। নানা পেশার মধ্য থেকে বেঁচে থাকতে। কিন্ত পা না থাকায় তেমন কোনো কাজ করতে পারেনি। শুরু করলেন ভিক্ষা। এ ভাবে কয়েক বছর কাটতে লাগলো। হাতে জমলো প্রায় ২০-২৫ হাজার মতো টাকা। নিয়েছেন গরু পালনের নতুন পথ। বছর তিনেক ধরে নতুন এ পথে এগিয়ে চলেছেন রহিম বেপারী। কিন্ত ভাড়া বাড়িতে কি আর গরু পালন করা যায়। নিজ সিদ্বান্ত মোতাবেক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলে আসলেন কোর্ট স্টেশন। হকার্স মার্কেটের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রেল লাইনের পাশে কোনো রকম ছাউনি দিয়ে বসবাস শুরু করেন। এভাবে চলছে তাঁর স্বপ্ন দেখা সম্ভাবনা এবং জীবন বাঁচাতে এখন তিনি রাখাল।



বয়স প্রায় ৪৬ এর কাছাকাছি। সংসারে ৪ ছেলে ৩ মেয়ে। মেয়ে ২টিকে বিবাহ দিলেও বর্তমানে সংসারে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে সদস্য সংখ্যা ৫ জন। ঠিকানাবিহীন জীবন। সামান্য রেলের জায়গায় থাকেন তিনি। সেখানেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকেন। এখানে আতঙ্কে আছেন কখন আবার রেল কতৃপক্ষ উচ্ছেদ করে দেয়। একটু জায়গার অভাবে রহিম বেপারীর স্বপ্ন থেমে যাবে কি?



গতকাল ২৩ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়। রহিম বেপারী কষ্টের জীবনের চিত্র। তার ২টি গরুর মধ্যে ১টি গাভী। আরেকটি বাছুর। গাভীটি প্রতিদিন দুধ দেয় ৬ থেকে ৭ লিটার। স্থানীয়রা দুধ নেয়ার জন্যে ছুটে আসে রহিম বেপারীর কাছে। তিনি ৮০ টাকা দরে দুধ বিক্রি করেন। এছাড়া তার ঠিকানা বিহীন বাড়িতে রয়েছে ৫টি ছাগল, রাজহাঁস ও মুরগি। এগুলো পালন করে তার সংসার চালাচ্ছেন। প্রায় চার বছর ধরে এগুলো পুষে সংসারে স্বচ্ছলতা পাওয়ায় এটাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন তিনি।



রহিম বেপারী জানান, আমি একটু জায়গা ফেলে আমার খামারটি আরো বড় করতাম।



আমার ইচ্ছা মানুষকে ভেজালমুক্ত দুধ খাওয়াইতাম। এ প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, আমি যখনই আমার গাভীর দুধ দোহন করি তখনই লোকজন এসে সিরিয়াল দিয়ে থাকেন। কার আগে কে নিবেন। কয়েক মাস আগে রেল লাইনের সংস্কার কাজের সময় আমার এ ঘরটি ভেঙ্গে দেয়। তখন আমি অন্যত্র চলে যাই। তারা সেখানে গিয়েও আমার কাছ থেকে দুধ আনতো। কিন্ত কেহই আমাকে একটু জায়গা দেয় নি। আপনি গুচ্ছ গ্রামে বাড়ির জন্যে আবেদন করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে ঘর পেতে হলে অনেক টাকা চায়। এখন সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে একটু জায়গা দিলে আমি একটি বাড়ি, একটি খামার করতাম। এখন যেভাবে আছি। এভাবে আর কতদিন। আমার ছোট মেয়েটি স্কুলে পড়ে। তারে কোনো পাড়ার টেবিল দিতে পারিনা। মেয়েটা আমার পড়ালেখা করে বড় হবার স্বপ্ন দেখে। আমি কি পারবো মেয়েটির স্বপ্ন পূরণ করতে? এভাবে কথাগুলো বলে হাউ- মাউ করে কাঁদলেন।



মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর উপজেলার লৌহজং গ্রামের মরহুম হাসেম বেপারী ও মরহুমা জাহেরা খাতুনের একমাএ ছেলে রহিম বেপারী। বন্যা আর নদী ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন কাটানো চরবাসীর জীবনে অর্থনৈতিক সঙ্কট স্বাভাবিক। তবে, গবাদিপশু পালনের মধ্য দিয়ে দৈন্যদশা ঘুচিয়ে স্বচ্ছলতার মুখ দেখছেন রহিম বেপারী।



তিনি আরো জানান, ২০০০ সালে ট্রেনে যখন পা কাটা পড়ে তখন আমার শরীর থেকে অনেক রক্ত ক্ষরণ হয়েছিলো। তখন আমাকে রক্ত দিয়ছেন ডাঃ গোলাম মাহাবুব স্যার। এখন গরু পালনের জন্যে আদর্শ একটি জায়গা বেশি প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। গরু মোটাতাজা ও গাভীর দুধ থেকে ভালো লাভ হতে দেখে গরু পালনে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। এখানে আমার মতো অনেকে আছে কাজ করে খেতে চায়। কিন্ত তারা কাজ পায়না। কয়েক দিন পর পর বড় বড় স্যারেরা আমগো একটা কম্বল দেয় আর ছবি তুইলা নেয়। ওতে আমগো কি লাভ হয়। আমগো দরকার স্থায়ী একটি বাড়ি। এ প্রতিনিধিকে রহিম বেপারীর স্ত্রী বলেন, আপনি লেইখা নিলে আমরা কি একটু থাকার জায়গা পামু।



চাঁদপুুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রেজাউল করিম বলেন, গরু পালন লাভজনক। খাদ্যের ব্যয় খুবই কম। কারণ, শহরের বিভিন্ন মানুষের উচ্ছিষ্ট খাদ্যগুলো গরু খেয়ে থাকে। এছাড়া রেল লাইনের রাস্তার পাশে ঘাসসহ বিভিন্ন উদ্ভিদ থাকায় গো-খাদ্য পাওয়া যায় সব সময়। এছাড়া গরুর জন্যে খৈল, ভুষি, নালী, চালের খুদসহ কোনো খাবারই বাজার থেকে কিনতে হয় না। রাখাল সারাদিন গরুগুলোকে পতিত জমিতে প্রাকৃতিকভাবে গজানো ঘাস খাওয়ান।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪০০১১০
পুরোন সংখ্যা