চাঁদপুর। বুধবার ২৬ অক্টোবর ২০১৬। ১১ কার্তিক ১৪২৩। ২৪ মহরম ১৪৩৮
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা’

২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।



২৪। মূসা বলিল, ‘তিনি আকাশম-লী ও পৃথিবী এবং উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।’

২৫। ফিতর ‘আগুন তাহার পরিষদবর্গকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, ‘তোমরা শুনিতেছ তো!’

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


পরিশ্রমী লোকের নিকট সবচেয়ে সুখপ্রদ জিনিস হচ্ছে ঘুম।       

-জন বুলিয়ান।


ধর্মার্থে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদের রক্ত অপেক্ষা বিদ্বান ব্যক্তির কলমের কালি অধিক পবিত্র।


ফটো গ্যালারি
হাইড্রোফোবিয়া বা জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ
২৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হাইড্রোফোবিয়া বা জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। মূলত জলাতঙ্ক র্যাবিস-এর অনেকগুলো লক্ষণের একটি। বাতাসভীতিও এ রোগের একটি লক্ষণ। গ্রীক পুরাণে চার হাজার বছর আগেও জলাতঙ্ক রোগের উল্লেখ পাওয়া যায়। ২৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস (ডড়ৎষফ জধনরবং উধু) পালিত হয়েছে। বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ঞড়মবঃযবৎ অমধরহংঃ জধনরবং। রেবিস বা জলাতঙ্ক হচ্ছে ভাইরাস গঠিত একটি রোগ যা সাধারণত কুকুর, শেয়াল, বাদুর প্রভৃতি উষ্ণ রক্তের প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়। এটি এক প্রাণী থেকে আরেক প্রাণীতে পরিবাহিত হতে পারে তার লালা বা রক্তের দ্বারা। জলাতংক রোগ আন্টারটিকা ছাড়া বিশ্বের সব মহাদেশের প্রায় সকল দেশের প্রাণীর মধ্যেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। প্রতি বছর বিশ্বে যত মানুষ কুকুরের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তার ৯৯ শতাংশই এই রোগের কারণে হয়। বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন লোক জলাতঙ্কে মারা যায় এবং বছরে ৫৫০০০ জন মানুষ মারা যায় যার ৫০ শতাংশই শিশু। বাংলাদেশেও প্রতি বছর ৩ লক্ষ কুকুর ও বিড়াল, বেজি, শিয়াল অন্যান্য প্রাণির আক্রমণের শিকার হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে দুই হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৭০ ভাগ।



জলাতঙ্ক রোগ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছরের মতো আজ পালিত হবে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। ২০০৮ সালে বাংলাদেশসহ এশিয়ার ২২টি দেশ বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। এই রোগের থেকে জনসচেতনতা বৃদ্বি জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মূল কর্মসূচি লক্ষ্যে আজ সারা দেশে প্রতিটি উপজেলা, জেলা থানায় একই সময় একযোগে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালন করা হবে। অ-লাভজক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল এলায়েন্স ফর রেবিজ কন্ট্রোল তার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের দফতর থেকে এ দিবস পরিচালনায় প্রধান সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করে। জলাতঙ্ক হয় রেবিস ভাইরাসের মাধ্যমে।



জলাতঙ্ক বা রেবিস হলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় : ১। ক্ষতস্থান চুলকানো, ২। ক্ষতস্থানে ব্যথা, ৩। মুখ থেকে লালা নিঃসৃত হওয়া, ৪। উত্তেজনা, ৫। স্বল্পমাত্রায় জ্বর, ৬। গিলতে সমস্যা হওয়া, ৭। পানি পিপাসা থাকা, ৮। পানি দেখে ভয় পাওয়া, ৯। মৃদু বায়ু প্রবাহে ভয় পাওয়া, ১০। আবোল-তাবোল বকা, ১১। প্যারালইসিস ইত্যাদি। জলাতঙ্ক রোগী পানি দেখলেই ভয় পায়। তাই এ রোগের নাম জলাতঙ্ক। এ ভাইরাস মগজের নিউক্লিয়াস এমবিগুয়াসে আক্রমণ করে। মগজের এ অংশটি প্রশ্বাসে নিয়োজিত শরীরের বিভিন্ন অংশকে অতিরিক্ত উত্তেজনা থেকে দমন করে রাখে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সমন্বয় ঘটায়। কিন্তু ভাইরাস সংক্রমণে এ কাজে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে জলাতঙ্ক রোগী যখন পানি খেতে যায়, তখন তার গলা ও শ্বাসনালি উত্তেজনায় সংকুচিত হয়ে তীব্র ব্যথার অনুভূতি জাগায়। সেই সঙ্গে কিছু পানি শ্বাসনালি দিয়ে মূল শ্বসনতন্ত্রে প্রবেশ করে কাশি হয়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অনেকে মনে করেন, কুকুরে কামড়ালেই জলাতঙ্ক হবে, কিন্তু সব কুকুরে কামড়ালেই জলাতঙ্ক হয় না। কারণ এটা প্রধানত পশুদের রোগ। তাই প্রথমত পশুদের এটি হতে হবে। তার পরই তা মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হবে। শুধু কুকুর নয়, বিড়াল বা অন্য যে কোনো প্রাণীর কামড় থেকেও এ রোগ হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আঁচড় থেকেও এ রোগ হয়।



বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে পালিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে প্রধান হচ্ছে বিশ্বব্যাপী জলাতঙ্ক রোগের বর্তমান অবস্থা বিষয়ে পর্যালোচনা, এর প্রেক্ষিতে করণীয় বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাধারণ জনগণ, চিকিৎসক এবং সরকারী-বেসরকারী নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। এছাড়াও এই রোগ সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করার জন্য এই দিনে বিশেষ র্যালী বা শোভাযাত্রা, বিনামূল্যে টীকা প্রদান প্রভৃতি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসার চেয়ে এ রোগ প্রতিরোধের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। এ রোগ প্রতিরোধে যা করতে হবে তাহলো যেসব প্রাণীর আঁচড় বা কামড়ে জলাতঙ্ক হয় যেমন কুকুর, বিড়াল, শিয়াল প্রভৃতি থেকে সাবধান থাকা এবং তাদের সংস্পর্শে না আসা। বিশেষ করে বাচ্চাদের দূরে রাখা এবং পশুদের অহেতুক উত্ত্যক্ত করা থেকে বিরত হওয়া। গৃহপালিত কুকুর-বিড়ালকে নিয়মিত টিকা দেয়া। সড়কের বেওয়ারিশ ও টিকা না দেয়া কুকুর-বিড়াল মেরে ফেলার ব্যবস্থা করা।



হাইড্রোফোবিয়া বা জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী রোগ হলেও সময়মত ব্যবস্থা নিয়ে মৃত্যু এড়ানো যায়। সাধারণত কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানর, বনবিড়ালের কামড় অথবা অাঁচড়ে জলাতঙ্ক রোগ হয়। এসব প্রাণী কামড় বা অাঁচড় দিলে ক্ষতস্থান ভালো করে সাবান দিয়ে ১৫ মিনিট ধরে ধুতে হবে। সম্ভব হলে স্পিরিট বা আয়োডিন লাগাতে হবে। যে প্রাণী কামড়েছে সেটিকে হত্যা না করে সতর্কতার সাথে বেঁধে রাখতে হবে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯২১১০
পুরোন সংখ্যা