চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩। ২৬ জিলহজ ১৪৩৭
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৫-সূরা ফুরকান

৭৭ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৯। তিনি আকাশমন্ডলী, পৃথিবী ও উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছু ছয় দিবসে সৃষ্টি করেন; অতঃপর তিনি ‘আরশে সমাসীন হন। তিনিই ‘রাহমান’ তাহার সম্বন্ধে যে অবগত আছে, তাহাকে জিজ্ঞাসা করিয়া দেখ।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সুকর্ম কখনো হারিয়ে যায় না।       

-রেসিল।


বিদ্যার মতো চক্ষু আর নেই, সত্যের চেয়ে বড় তপস্যা আর নেই, আসক্তির চেয়ে বড় দুঃখ আর নেই, ত্যাগের চেয়ে সুখ আর কিছুতেই নেই।

 -হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
কৃষি ব্যাংকের ঋণ পাচ্ছে না বালিথুবা ইউনিয়নের আখ চাষিরা
কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা (পশ্চিম) ইউনিয়নের মদনেরগাঁও ও লোহাগড় গ্রামের আখ চাষি কৃষকরা কৃষি ব্যাংকের ঋণ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ গ্রামে ২০৮ জাতের আখ চাষ এবং চিবিয়ে খেতে সুস্বাদু হওয়ায় চাঁদপুর জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। বালিথুবা ইউনিয়নের দুটি গ্রামে ১৫শ' হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে বলে কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছেন।



 



কৃষকরা বলেছেন, তাদের প্রতিটি আখ ক্ষেত হৃষ্টপুষ্ট দেখা যাচ্ছে। এবার দামও বেশি পাবেন বলে আশা করেন তারা। তাদের আখ চাষে আবাদের পুরো মূলধনই ঋণের টাকার। কৃষি ব্যাংক থেকে অনেকে আবেদন করেও ঋণ পাননি। আর যারা ঋণ পেয়েছেন, তাদের এ টাকা কৃষি কাজের কিছুই হয়নি। কৃষকের চাহিদামত স্থানীয় সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে আখ চাষ করেছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সুদ মুক্ত কৃষিঋণ পেলে তারা আরো বেশি পরিমাণ জমিতে আখ চাষ করতে পারতেন। ফলে এ অঞ্চলের আখ চাষিরা লাভবান হতেন এবং বিভিন্ন জেলায় চালান দিতে সক্ষম হতেন।



 



মদনেরগাঁওয়ের কৃষক নেছার আহমদ সুমন (৩৫) জানান, আমি টানা ৮/৯ বছর আখ চাষ করছি। এ বছর ১০৫ শতাংশ জমি ৪২ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে আখ চাষ করেছি। সাথে সাথি ফসল হিসেবে আলু, ফুলকপি, লালাশাক চাষ করি। আমার নিজের স্যার ব্যবসা আছে বিধায় মুনাফাটা বেশি পাবো। তিনি জানান এ গ্রামের আখ সুস্বাদু। আখ খেতেও খুব মিষ্টি। আখ বিক্রি করতে কোনো ধরনের বেগ পোহাতে হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা আমাদের ক্ষেত থেকে গড় হিসাব করে পিচ প্রতি ১২/১৩ টাকা করে আখ কিনে নেয়। বিক্রিতে আমাদের কোনো ধরনের অসুবিধা হয়না।



 



লোহাগড় গ্রামের কৃষকরা জানান, এ এলাকার সবারই কৃষি কার্ড আছে। কৃষি কার্ড দিয়াতো আর কৃষক হয়না। আমরা যারা প্রকৃত কৃষক তাদের অনেকেরই নিজস্ব জমি নেই। আমরা অন্যের জমিতে সোনা ফলাই। আমাদের জমি নাই বিধাই, কৃষি ব্যাংক টাকা দেয় না। টাকা দেয় যাদের জমি আছে। অথচ তারা কৃষির কিছুই বুঝেনা। বর্তমানে ৫০ শতাংশের একটি জমিতে আখ চাষ করলে খরচ লাগে ৩০/৩৫ হাজার টাকা। যাদের জমি আছে ১৫ শতাংশ, তাদের কৃষি ব্যাংক ঋণ দেয় সাড়ে ৩ হাজার টাকা। তাও আবার হাঁটতে হাঁটতে জুতার তলি ক্ষয় হয়ে যায়। আবার স্যারদের এই টাকা থেকে দেয়া লাগে এক-দের হাজার টাকা। এই মিলে কৃষিঋণ নিলে কি জমিতে ফসল হবে? ৫০ শতাংশ জমির আখের চারা কিনতে লাগে ৪ হাজার টাকা। ঢাকা থেকে এই চারা আনতে খরচ লাগে ২ হাজার টাকা। জমি তৈরি করতে এবং আখের চারা রোপণ করতে লাগে ১৫ হাজার টাকা। আর আমাদের কৃষিঋণ দেয় সাড়ে ৩ হাজার টাকা। এটা ঋণ না এটা একটা তমাশা। আমরা চাই যারা প্রকৃত কৃষক তাদের সরকার সহজচিত্তে ঋণের ব্যবস্থা করুক।



বালিথুবা ১নং ইউনিয়ের চেয়ারম্যান মোঃ সফিকুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, আমার ইউনিয়নের মদনেরগাঁও ও লোহাগড় গ্রামের কৃষকরা আখ চাষে সাফল্য দেখিয়েছেন। এ আখ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয়। তবে এখানের কৃষকদের আখ চাষে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে তারা আরো ভালো করতে পারবে। আমার সাথে অনেক কৃষকের আলাপ হয়েছে, তারা স্থানীয় সমিতির থেকে টাকা ঋণ নিয়ে আখ চাষ করে। এতে কৃষকের একটা চাপ থাকে সুদের হার বেশি দিতে হবে। তবে ব্যাংক থেকে সহজভাবে কৃষি ঋণ দেয়া হলে কৃষকদের জন্য ভালো হতো। কৃষকরা কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছে না এমন অভিযোগ জানালে, তিনি বলেন, আসলে কৃষকরা কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছে না এটা আমিও শুনেছি। তবে কেন পায়না এ নিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপকের সাথে আলাপ করবো।



বালিথুবা বস্নকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, মদনেরগাঁও ও লোহাগড় এ দুটি গ্রামে এ বছর ১৫শ' হেক্টর ২০৮ জাতের আখ চাখ চাষ হয়েছ। এখানে যারা প্রকৃত কৃষক তারাই কৃষি কার্ড পেয়েছে। যারা ব্যংক ঋণ নিতে আবেদন করবে তারাই ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী পাবে।



এ ব্যপারে কৃষি বাংক কতৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে, তারা জানান, কৃষকরা কৃষি ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ঋণ পাবে। এখানে নিয়মের বাইরে কেউ ঋণ পায়না। আর ঋণ পাওয়ার জন্য আমাদের কোনো টাকা দিতে হয়না। কৃষকের ঋণের জণ্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নীতিমালা দেয়া আছ। তার মধ্যে এক একর জমিতে আখ চাষী পাবে ৪১ হাজার ৯শ' ৩ টাকা, বোরো ধান চাষী ৪১ হাজার ৮১ টাকা, আমন ধান চাষী ২৯ হাজার ৩শ' ৪২ টাকা, আউস ধান চাষী ২৮ হাজার ২শ' ১৫ টাকা, মরিচ চাষী ৩০ হাজার ১শ' ৯০ টাকা ও আলু চাষী পাবে ৫৬ হাজার ২শ' ৪০ টাকা। একজন কৃষক ঋণের আবেদন করলে সাথে লাগবে চেয়ারম্যান সনদ, জাতীয় পরিচয় পত্র, খাজনা রশিদ, মাঠ জরিপ ও ছবি। আর যিনি ঋণের আবেদন করবেন তারা অবশ্যই ১৮ শতাংশ জমি থাকতে হবে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১১৯১৭৪
পুরোন সংখ্যা