চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ২৫ আগস্ট ২০১৬। ১০ ভাদ্র ১৪২৩। ২১ জিলকদ ১৪৩৭
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৫-সূরা ফুরকান

৭৭ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৯। আল্লাহ মুশরিকদিগকে বলিবেন, ‘তোমরা যাহা বলিতে উহারা তাহা মিথ্যা সাব্যস্ত করিয়াছে। সুতরাং তোমরা শাস্তি প্রতিরোধ করিতে পারিবে না এবং সাহায্যও পাইবে না। তোমাদের মধ্যে যে সীমালঙ্ঘন করিবে আমি তাহাকে মহাশাস্তি আস্বাদন করাইব।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সুন্দর জিনিস চিরকালের আনন্দ।

-কিটস।


নামাজে তোমাদের কাতার সোজা কর, নচেৎ আল্লাহ তোমাদের অন্তরে মতভেদ ঢালিয়া দিবেন।  

-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান শিশিরের একইদিনে ৬২ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এক বছর পূর্তিতে একান্ত সাক্ষাৎকার
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সবুজায়ন দরকার, সেজন্যে গত বছর থেকে ব্যতিক্রম কার্যক্রম শুরু করেছি
মুহাম্মদ আবদুর রহমান গাজী
২৫ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার অন্যতম সৈনিক ও চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান শিশির। গত বছর ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার তাঁর উদ্যোগে একইদিনে ৬২ হাজার বৃক্ষরোপণ করার কর্মসূচি পালন করেছে কচুয়া উপজেলা পরিষদ। সম্প্রতি তাঁর মুখোমুখি হয় দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের নিয়মিত মাসিক বিভাগ কৃষিকণ্ঠ। তাঁর সাক্ষাৎকারটি আজ প্রকাশিত হলো :-



 



কৃষিকণ্ঠ : গত বছর বৃক্ষরোপণ মৌসুমে আপনি বৃক্ষরোপণে বাংলাদেশের অন্য সকল উপজেলার জন্যে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, এবার কী চমক আছে ?



মোঃ শাহজাহান শিশির : কচুয়া উপজেলায় নতুন করে যিনি কন্যা সন্তানের মা হবেন ওই সন্তানের জন্যে ১শ'টি গাছের চারা দেয়া হবে। ওই মা আমার পরিষদে এসে নিবন্ধন করবে আর সাথে সাথে গাছের চারা নিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে যারা কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন, তারা ১শ'টি করে গাছের চারা নিয়ে গেছে। কিছু কিছু পরিবার আছে কন্যা সন্তান জন্ম নিলে তারা মেনে নিতে পারে না। সে জন্যেই আমি এ উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে করে কোনো কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারকে বিপাকে পড়তে না হয়।



 



কৃষিকণ্ঠ : গতবারের রোপণকৃত গাছের চারাগুলোর কত ভাগ টিকে আছে ? গতবারের কর্মসূচি নিয়ে আপনি কতটুকু তৃপ্তি বোধ করেছেন ?



মোঃ শাহজাহান শিশির : কচুয়া উপজেলার সরকারি রাস্তায় যে গাছগুলো রোপণ করেছি, তাতে সাফল্য অর্জন হয়েছে। তার মধ্যে ৯৫ ভাগ গাছের চারা টিকে গেছে। যে ৫ ভাগ গাছের চারা টিকেনি ওই সকল জায়গায় নতুন করে ৫ হাজারের মতো গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এভাবেই প্রতি বছর চলবে এবং গাছগুলো নিয়মিত দেখাশুনার জন্যে লোক রাখা হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রোপণকৃত চারাগুলো টিকলে বেশি তৃপ্তি পেতাম।



 



কৃষিকণ্ঠ : বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে বৃক্ষরোপণের প্রাসঙ্গিকতা কতোটুকু অনুভব করেন ?



মোঃ শাহজাহান শিশির : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে সবাই ঢালাওভাবে মিলাদ মাহফিল ও কাঙ্গালি ভোজ করে। আর এটাতো সবাই করে। আমি একটু ব্যতিক্রম করলাম। সেটা হলো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সবুজায়ন দরকার। সে জন্যে আমি গত বছর এ ব্যতিক্রম কার্যক্রম শুরু করেছি। যার সুফল বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মও পাবে। আমার বিশ্বাস, এর সুফল শুধু বাংলাদেশের মানুষ পাবে না, এটার সুফল সারা বিশ্বের মানুষও পাবে। বিশেষ করে আমরাতো গাছ থেকে অঙ্েিজন পাই। আর অঙ্েিজন তো আমাদের সবারই প্রয়োজন। দেশ যদি সবুজায়ন হয় প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা পাবে।



 



কৃষিকণ্ঠ : গাছ, মাছ, পশু-পাখি পরিবেশের উন্নয়নে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে বলে আপনি মনে করেন ?



মোঃ শাহজাহান শিশির : পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে চারটির অবদান ও গুরুত্ব বেশি। গাছ, মাছ, পশু-পাখি এগুলো একটির সাথে আরেকটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এসব ছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশ অচল থাকে। আর এগুলোই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এগুলোর একটাই যদি না থাকে তাহলে পৃথিবী ধ্বংসের শেষ প্রান্তে চলে যাবে। আর এ জন্যেই পরিবেশবাদীরা এর উপর গুরুত্ব প্রদান করে থাকেন। আমিও এসবের উপর গুরুত্ব দিয়েছি।



 



কৃষিকণ্ঠ : বৃক্ষরোপণে আপনার ব্যক্তিগত সাফল্য আছে কি ?



মোঃ শাহজাহান শিশির : ব্যক্তিগতভাবে বড় ধরনের সাফল্য নেই। সাফল্য থাকলেও কাউকে দেখাবার জন্যে কিছুই নেই। নিজ উদ্যোগেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগিয়েছি। গাছ লাগানো আমার শখ। আমি যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ি তখন থেকেই বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগিয়েছি। তার মধ্যে আমার কিছু স্মৃতি আছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল গেইটের দু' পাশে। সেখানে আমার হাতে লাগানো গাছগুলো এখনো স্মৃতি হিসেবে আছে। তার মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, কামরাঙ্গা, জলপাই, জাম ও নিম গাছ। যা ২০০৪ সালে লাগানো হয়েছে।



কৃষিকণ্ঠ : সবুজ প্রকৃতি গড়ার ক্ষেত্রে আপনার স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী কী কী পরিকল্পনা আছে ?



মোঃ শাহজাহান শিশির : সবুজ প্রকৃতি বলতে স্বল্পমেয়াদী কোনো কথা নেই। দীর্ঘ মেয়াদী কাজ করতে হয়। দীর্ঘ মেয়াদী কাজ করতে প্রতি বছরই ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যতো দিন বেঁচে থাকবো ততেদিন এভাবে কাজ করে যাবো।



কৃষিকণ্ঠ : ব্যতিক্রম কিছু করার নেশায় আপনি সবসময় ভোগেন। কিন্ত কেনো ?



মোঃ শাহজাহান শিশির : চলমান কিছু কাজ আছে যা সবাই করে। এর মধ্যে কিছু কাজ আছে যা কেউ কম করে আবার বেশি করে। আর কেউ এটা করলে ব্যতিক্রম হয়। না করলে কিছুই না। এ বছর আমার উপজেলার সকল শ্রেণির মানুষকে নিয়ে ঈদুল ফিতরে ঈদ উৎসব করেছি। উৎসবে মাদকবিরোধী সাইকেল র‌্যালী করেছি।



মাননীয় এমপি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ আমি কচুয়ার পুরো উপজেলার ৬ষ্ঠ-দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত দূরদূরান্ত থেকে আসা ছাত্রীদের জন্যে বিনা মূল্যে সাইকেল বিতরণ করবো। ওই ছাত্রী যদি সাইকেল চালাতে ইচ্ছুক হয়, তাহলে তাকেই দেয়া হবে। তবে এ সাইকেল অন্য কাউকে ব্যবহারের জন্যে দেয়া যাবে না, নিজেই ব্যবহার করতে হবে।



এছাড়া নিরাপত্তা জোরদার করতে উপজেলা পরিষদ, কচুয়া থানা, স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্, ভূমি অফিস, পল্লী বিদ্যুৎ ভবনসহ কচুয়া বিশ্বরোড (বাইপাস সড়ক) সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।



কৃষিকণ্ঠ : যা কিছু করেন তাকি মণ-প্রাণ দিয়ে করেন এবং তার পেছনে লাগাতার লেগে থাকেন ?



মোঃ শাহজাহান শিশির : যা কিছুই করি মন-প্রাণ দিয়েই করার চেষ্টা করি এবং যেটা করি এটার পেছনে লেগে থাকি। গত বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে একইদিনে ৬২ হাজার গাছের চারা লাগানো হয়েছে। সেগুলোর পরিচর্যা নিয়মিত করা হচ্ছে। এমনকি ওই সকল জায়গায় যদি কোনো গাছের চারা নষ্ট হয়, পুনরায় সেখানে আবার চারা লাগানো হবে।



কৃষিকণ্ঠ : জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে আমাদের দেশ ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে মৌলিক কী কী কাজ করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন ?



মোঃ শাহজাহান শিশির : সারা বিশ্বে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠেকাতে হলে ভূগর্ভ থেকে যেনো এক ফোঁটা পানি অপরিকল্পিতভাবে না উঠানো হয়। আমরা যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে নিচ থেকে পানি সংগ্রহ করছি এবং পুকুর, খাল ও ডোবা-নালা খনন করে পানি উত্তোলন করি, এক সময় দেখা যাবে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এ কারণে ভূমি ধস হতে পারে। অপরিকল্পিত পানি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। আরেক দিকে ডিজেল ও কেরোসিন জ্বালিয়ে পরিবেশ দূষিত করছি। এসব বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।



 



কৃষিকণ্ঠ : সুন্দর স্বপ্নের মাঝে বেঁচে থাকার প্রবণতা অনেক মানুষের মাঝেই দেখা যায়। আপনার মাধ্যে তেমন কী কী স্বপ্ন আছে, যা আপনাকে অনেক দিন বেঁচে থাকার জন্যে উজ্জীবিত করবে ?



মোঃ শাহজাহান শিশির : মানুষের জীবনে অজস্র স্বপ্ন থাকে, শখ থাকে, জীবনে অনেক কিছু করার প্রবল ইচ্ছা থাকে। ধীরে ধীরে সেসব স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা কারো পূরণ হয়, কারো বা হয় না। স্বপ্ন তো স্বপ্নই। আমরা কচুয়ার মানুষ যাতে দল মত নির্বিশেষে এক সাথে থাকতে পারি। জনগণ হিসেবে একসাথে থাকতে চাই। এখানে কোনো ভেদাভেদ করতে চাই না। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ জাতি বর্ণ সব নিয়ে থাকতে চাই। স্বপ্ন দেখি জনগণ হিসেবে একসাথে থাকার। যেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের কোনো কথা নয়।



কৃষিকণ্ঠ : আপনি চাঁদপুর কণ্ঠের মাসিক আয়োজন কৃষিকণ্ঠের সাথে আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে মতামত দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ।



মোঃ শাহজাহান শিশির : আমার গত বছরের সোনার বাংলা সবুজায়ন করতে একই দিনে ৬২ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এক বছর পূর্তিতে আমাকে মূল্যায়ন করেছেন বিধায় আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮১১৬২
পুরোন সংখ্যা