চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ২৮ জুলাই ২০১৬। ১৩ শ্রাবণ ১৪২৩। ২২ শাওয়াল ১৪৩৭
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৪-সূরা নূর

৬৪ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মাদানি’

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৩। উহারা দৃঢ়ভাবে আল্লাহর শপথ করিয়া বলে যে, তুমি উহাদিগকে আদেশ করিলে উহারা অবশ্যই বাহির হইবে; তুমি বল, ‘শপথ করিওনা, যথার্থ অনুগত্যই কাম্য। তোমরা যাহা কর নিশ্চয়ই ্আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


হতাশা এবং অবিশ্বাস উভয়েই ভীতি দূর করে।      


-উইলিয়াম আলেকজান্ডার।


মায়ের পদতলে সন্তানদের বেহেশত।

-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
একজন সফল মৎস্য চাষী শাহনাজ আলমগীর
বিমল চৌধুরী
২৮ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

মাছে ভাতে বাঙালি এ প্রবাদ বাক্যটি কোনো এক সময় সত্য হলেও বর্তমান সময় তা অনেকটাই মস্নান মনে হয়। বর্তমান সময় মাছের কিছু অভাব থাকলেও ভাতের অভাব নেই বাঙালির ঘরে। শষ্য সবুজ এ বাংলাদেশ বর্তমান সময় খাদ্য রপ্তানি করতে পারলেও মাছ উৎপাদনে বাঙালি মাছের চাহিদা পূরণে তেমনভাবে সফল হতে পারেনি বলে অনেকেই মনে করেন তারপরও থেমে নেই মৎস্য উৎপাদনে সরকারের আন্তরিকতা। মৎস্য উৎপাদনে মৎস্য অধিদপ্তর বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মৎস্য উৎপাদন আর রক্ষণা-বেক্ষণে এগিয়ে আসার জন্যে উৎসাহ জুগিয়েছেন। সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সেই ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলা একজন মৎস্য চাষী হলেন চাঁদপুর পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর শাহনাজ আলমগীর।

একজন সফল মৎস্য চাষী ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি এ বছর সদ্য সমাপ্ত জাতীয় মৎস্য খাঁচায় মাছ চাষে অবদান রাখার জন্যে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট অর্জন করেন। মাছ চাষে একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক তার এ সম্মাননা প্রদান নিঃসন্দেহে তাকে এ কাজে আরো বেশি করে উৎসাহ যুগাবে বলে সকলের বিশ্বাস।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে নিয়মিত প্রকাশিত কৃষিকণ্ঠে তার এই সাফল্যের কথা তুলে ধরতে শাহনাজ আলমগীরের মুখোমুখি হন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের চীফ রিপোর্টার বিমল চৌধুরী। তিনি চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, তার মাছ চাষে উৎসাহী হওয়ার কথা, সাফল্যের কথা।

চাঁদপুর কণ্ঠ : বাংলাদেশে নারীদের অনেক কাজ থাকা সত্ত্বেও আপনি কীভাবে মাছ চাষে উৎসাহী হলেন ?

শাহনাজ আলমগীর: ২০০৭ সালে আমার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর মিয়াজী চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করেন। শুরু থেকে আমি আমার স্বামীকে মাছ চাষে সহযোগিতাসহ মাছকে খাবার প্রদান ও মাছের রক্ষাণা-বেক্ষণ করতে গিয়ে আমি ধীরে ধীরে মাছ চাষে আকৃষ্ট হয়ে পড়ি। পরবর্তী সময় চিন্তা করি আমি কীভাবে স্বাবলম্বী হতে পারি। সেই চিন্তা থেকে আমি মাছ চাষে উৎসাহী হই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কোন্ সময় থেকে এ মাছ চাষ শুরু করেন ?

শাহনাজ আলমগীর : আমি ২০১১ সাল থেকে ভিন্নভাবে নিজেই রঘুনাথপুর এলাকার ডাকাতিয়া নদীতে খাঁচায় মাছ শুরু করি। প্রথম ৫০টি খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করলেও বর্তমানে খাঁচার সংখ্যা ১০০টি। বর্তমানে আমার খাঁচায় প্রায় ৮ জন মানুষ কর্ম করে তাদের জীবিকা অর্জন করছে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : খাঁচায় মাছ চাষ করতে গিয়ে কোনো প্রতিকুল অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছেন কী ?

শাহনাজ আলমগীর : আল্লাহর রহমতে মাছ চাষ করতে গিয়ে তেমন কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হলেও মাছ চাষকৃত খাঁচার পাশে ঝাঁক থাকার কারণে ও নদীতে চলাচলরত দ্রুত গতি সম্পন্ন লঞ্চের কারণে আমরা যারা নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ করছি তারা খুবই ক্ষতির শিকার হচ্ছি। যদি চলাচলরত এ সকল লঞ্চ ধীর গতি নিয়ে চলতো এবং খাঁচার পাশে ঝাঁক না থাকতো তাহলে নদীতে থাকা ভাসমান খাঁচা অনেকটা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি খাঁচায় মাছ চাষে নিজেকে কতটা সফল মনে করেন ?

শাহনাজ আলমগীর : আমি খাঁচায় মাছ চাষে নিজেকে পুরোপুরি সফল বলে মনে করি। আমি প্রথমে ৫০টি নিজে মাছ চাষ শুরু করি। বর্তমানে আমার খাঁচার সংখ্যা ১০০টি। আমি নিজেকে একজন কর্মজীবী স্বাবলম্বী নারী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি এ মাছ চাষে এসে তা থেকে উৎসাহী হয়ে বর্তমানে রঘুনাথপুর বাজারে একটি মৎস্য ও পশু খাদ্যের দোকান দিয়েছি। যা লিমা এন্টারপ্রাইজ নামে পরিচিত। আমার এখানে ভালো উন্নতমানের গো-খাদ্য ও মৎস্য খাবার পাওয়া যায়। তবে কষ্টের বিষয় হলো আমরা মৎস্য উৎপাদনে সরকারিভাবে কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাই না। যদি আমরা সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প সুদে আর্থিক ঋণ পেতাম তাহলে আমরা মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে আরো ব্যাপকভাবে কাজ করতে পারতাম। পাশাপাশি অনেক সময় ঝড় তুফানে আমাদের খাঁচাগুলো ক্ষতির শিকার হয়। সেভাবে আমরা ক্ষতি পূরণ হিসেবে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে তেমনভাবে আর্থিক সহযোগিতা পাইনা। যদি পেতাম তাহলে আমরা আরো সফল হতে পারতাম।

শাহনাজ আলমগীর ব্যক্তিগত জীবনে একজন সফল গৃহিণী। তিনি ১ মেয়ে ও ২ পুত্র সন্তানের জননী। তার মেয়ে ফারহানা আক্তার লিমা চাঁদপুর সরকারি কলেজে অনার্সের ছাত্রী। আর ২ ছেলে মোঃ ফরহাদ হোসেন ও মোঃ ফয়েজ হোসেন চাঁদপুর আলআমিন একাডেমীর ৯ম শ্রেণীর ছাত্র। তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত আলমগীর মিয়াজীও একজন সফল মৎস্য চাষী। তারা উভয়েই চাঁদপুর রঘুনাথপুর এলাকার ডাকাতিয়া নদীতে খাঁচায় তেলাপিয়া (মনোসেঙ্) মাছের চাষ করেন।

একটি খাঁচায় প্রায় এক হাজার তেলাপিয়া মাছের পোনা চাষ করা হয়। এ সকল ছোট ছোট পোনা বিক্রির যোগ্য হতে প্রায় এক বছরের মতো সময় লাগে। এ সকল তেলাপিয়া মাছ বড় হলে তা বিক্রি করে সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ করা যায়। শাহনাজ আলমগীর এ মাছ চাষের ফাঁকে ফাঁকে জনসেবা কাজের সাথেও নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তিনি গত ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচনে ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড থেকে মহিলা কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। তার ইচ্ছা সমাজের সকল মানুষ কর্মজীবী হোক এবং তিনি যাতে কর্মক্ষম মহিলাদেরকে কর্মমুখি ও স্বাবলম্বী করে তুলতে পারেন এ জন্যে সকলের দোয়া কামনা করেন। পাশাপাশি দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশকসহ পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশসহ পত্রিকার সাফল্য অব্যাহত থাকার জন্যেও দোয়া কামনা করেন।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১৮৯৯৬৫
পুরোন সংখ্যা