চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ২৮ জুলাই ২০১৬। ১৩ শ্রাবণ ১৪২৩। ২২ শাওয়াল ১৪৩৭
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৪-সূরা নূর

৬৪ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মাদানি’

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৩। উহারা দৃঢ়ভাবে আল্লাহর শপথ করিয়া বলে যে, তুমি উহাদিগকে আদেশ করিলে উহারা অবশ্যই বাহির হইবে; তুমি বল, ‘শপথ করিওনা, যথার্থ অনুগত্যই কাম্য। তোমরা যাহা কর নিশ্চয়ই ্আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


হতাশা এবং অবিশ্বাস উভয়েই ভীতি দূর করে।      


-উইলিয়াম আলেকজান্ডার।


মায়ের পদতলে সন্তানদের বেহেশত।

-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
রাজরাজেশ্বরে থমকে গেছে নদীর গতিপথ বিপাকে জেলে ও কৃষকরা
কৃষি প্রতিবেদক
২৮ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে থমকে গেছে নদীর গতিপথ। পদ্মা-মেঘনা নদীর পশ্চিম এলাকায় এ ইউনিয়ন। চারপাশ নদীবেষ্টিত ইউনিয়নের ভৌগলিক অবস্থান।



এ ইউনিয়নে মানুষজন পেশায় বেশিরভাগ কৃষক ও জেলে। তারা গ্রীষ্মকালে কৃষিকাজে আর বর্ষাকালে মাছ শিকারে ব্যস্ত থাকতো। এখন সবই অতীত। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমতে জমতে নদী ও খালের নাব্যতা হারিয়ে গিয়েছে।



নদীর সাথে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও হাঁটু পানি কোথাও বুক সমান। যেখানে জেলেরা মাছ ধরতো সমানভাবে। কিন্ত এখন আগের মতো ইলিশ, বোয়াল, শোল, কাতল, চিতল, টেংরাসহ নানান প্রজাতির মাছ আর জেলেদের হাতে ধরা পড়েনা। এদিকে মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে কৃষি জমি কমে গেছে। ফলে জেলে ও কৃষকরা পড়েছে বিপাকে।



রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে ১৭টি গ্রাম। লোকসংখ্যা ৪২ হাজার ৩শ' ৯৪ জন। চাঁদপুর ও পার্শ্ববর্তী জেলা শরীয়তপুরে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হলো ইঞ্জিনচালিত নৌকা। বর্তমানে এ ইউনিয়নের আয়তন ৩৯,৪০২ বর্গ কিঃ মিঃ। এখানের প্রসিদ্ধ বাজার হলো ঢালীর বাজার। তার পাশেই রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেঙ্।



লগ্গীমারা গ্রামের মোহাম্মদ আলী মাল (৭০) বলেন, আজ আমরা যারা কৃষিকাজ করি তার বেশির ভাগ গ্রামে পইড়া আছি। যাগো একটু অবস্থা ভালো ওইছে তারাই গ্রাম ছাইড়া শহরে চইলা গেছে। গ্রাম ছাইড়া শহরে না যাইয়া উপায় কি? এখন নদীতে নাই মাছ। আবার আগের মতো ক্ষেত খামারে ফসল হয় না। গ্রামের মানুষ কাজের সন্ধানে শহরমুখী ওইতাছে। আমরা বাপ-দাদার বিটায় পইড়া আছি।



চিরারচরের সিরাজ মিয়ার (৭৪) সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এ পর্যন্ত দেখি নাই আমগো এলাকায় নদী ডেইজিং করতে। আমরা আছি আজ এক দুঃস্বপ্নের রাজরাজেশ্বরে। সরকারতো নদী সংস্কারের উদ্যোগ নেয় না বরং সরকার দলীয়রা বেশি করে নদীকে শোষণ করে চলছে। সাদেক আলী (৭৫) ও মেম্বার ইব্রাহিম কামাল জানান পদ্মা-মেঘনা নদীর পানির স্রোত আগের মতো প্রবাহিত হয় না। ফলে পলি জমতে জমতে নদী ও খালের নাব্যতা হারিয়ে গেছে। আমরা চাই নদী ও খাল খনন করা হোক।



একাধিক কৃষক এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমরা কৃষি কাজ করি। আমগোকি আর বড় স্যারেরা খবর লয়। বিলে কাম করলে পেটে ভাত। কৃষি কার্ড আছে নাকি? জানতে চাইলে তারা জানান, ক্ষেতে কাজ করলে আবার কৃষি কার্ড লাগেনি। স্যার, আমরা গরু পালন, আর ক্ষেতে খামারে কাজ করি। কৃষি কার্ড দিয়া আমাগো আর কি ওইবো।



রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোঃ হযরত আলি বেপারী এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি গত ১৪ জুলাই পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমার এ ইউনিয়ন একটি অবহেলিত এলাকা। এখানের মানুষজন খুব কষ্ট করে জীবনযাপন করেন। বর্তমানে নদী ভাঙ্গন একটি বড় সমস্যা। এখানে অন্য কারণে নদী ভাঙ্গে না। নদীর পানির স্রোতে ভাঙ্গে। এ যাবত ইউনিয়নের প্রায় ২শ' গজের মতো বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে বালিয়ারচর, গোয়াল নগর, লগি্গমারা ও রায়েরচরে পানির স্রোতে ভাঙ্গছে। আমি চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ডাঃ দীপু মনির সাথে সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আলাপ করবো এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।



এ ব্যাপারে কথা হয় চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পওর শাখা-১) মোঃ ওয়াহিদুর রহমান ভঁূইয়ার সাথে। তিনি বলেন, রাজরাজেশ্বরে নদীর পানির নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং নতুন করে কিছু এলাকা ভাঙ্গছে এ ধরনের কোন অভিযোগ পায়নি। আর ঐ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি যদি আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করেন তাহলে আমরা এ ব্যাপারে উদ্যেগ গ্রহণ করবো।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৫০৩১১
পুরোন সংখ্যা