চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০১৬। ৯ আষাঢ় ১৪২৩। ১৭ রমজান ১৪৩৭
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৪-সূরা নূর

৬৪ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মাদানি’

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২০। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকিলে তোমাদের কেহই অব্যাহতি পাইতো না এবং আল্লাহ দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

 


সংসারে আনন্দময় পরিবেশ ভালো কিছু করার প্রেরণা যোগায়। 


-জন মেসাভল্ড।


স্বভাবে ন¤্রতা অর্জন কর।

-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
পাটের দাম বৃদ্ধিতে কৃষকের মুখে হাসি
কৃষি কণ্ঠ প্রতিবেদক
২৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশের অর্থকরী ফসল সোনালি অাঁশ পাট চাষে দিনে-দিনে আগ্রহ বাড়ছে চাঁদপুর জেলার কৃষকদের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষীরা সঠিক সময়ে জমিতে বীজ বপন করার সুযোগ পাওয়ায় এ জেলায় গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে এবছর। গত বছর পাটের ন্যায্যমূল্য না পেলেও এবছর পাটের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে কৃষকের মুখে হাসি দেখা গেছে। পাট চাষে খরচ কম ও অধিক লাভজনক হওয়ায় এবার চাঁদপুরের কৃষকেরা পাট চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন।



এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকেই এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে পাট চাষ হত। কারণ তখন অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট চাষ ছিল অধিক লাভজনক একটি ফসল। কিন্ত বিগত কয়েক বছর পূর্বে হঠাৎ করে পাটের দাম অনেক কমে যায়। এতে পাট চাষ করে এ অঞ্চলের কৃষকেরা একদিকে যেমন অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও লাভের আশায় বাজার থেকে পাট কিনে মজুদ করে রেখে পরবর্তীতে লাখ-লাখ টাকা লোকসান দিয়ে তা বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা লোকসনের হিসাব করতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েন। তারা পাট ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্যান্য ব্যবসা শুরু করেন। কৃষকরাও পাট চাষ ছেড়ে দিয়ে ধান চাষে বেশি ঝুঁকেছেন। এতে এ এলাকায় পাটচাষ অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। তবে সাংসারিক কাজকর্ম ও জ্বালানি হিসাবে পাট খড়ির প্রয়োজনে কেউ-কেউ সামান্য পরিমাণ জমিতে পাট চাষ করতে থাকেন।



এ অবস্থায় এ এলাকায় পাট চাষ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু গত অর্থবছরে ঘোষিত বাজেটে সরকারিভাবে পাটের দাম বৃদ্ধি করায় এ অঞ্চলের কৃষকরা আবারো পাট চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলার গুলিশা গ্রামের কৃষক দেলোয়ার বলেন, গত বছর তিনি ১৫ শতক জমিতে পাট চাষ করে ভালো দাম পেয়েছেন। এ কারণে এ বছর তিনি ৩০ শতক জমিতে পাট চাষ করেছেন। একই গ্রামের কৃষক মুলাম খান ও আরিফ খান জানান, এক সময় তারা পাট চাষের উপরই নির্ভরশীল ছিলেন। বিগত কয়েক বছর পূর্বে হঠাৎ করে পাটের দাম কমে যাওয়ায় তারা পাট চাষের প্রতি অগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। গত বছর পাটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর তাদের অধিকাংশই জমিতে পাট চাষ করেছেন বলে তারা জানান।



জেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আব্দুল মান্নান মিয়া জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট চাষে অর্থিক খরচ ও শ্রম দু'টোই কম লাগে। এ ছাড়া পাট অধিক লাভজনক একটি ফসল হওয়ায় এবং গত বছর চাষীরা পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকেরা এবার পাট চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। তিনি আরো জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় কৃষকেরা সঠিক সময়ে জমিতে বীজ বপন করার সুযোগ পেয়েছে। এ বছর এ জেলায় গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। ৪ হাজার ৩ শত ৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। তার মধ্যে দেশি ২ হাজার ৩ শত ৮০ হেক্টর, তোষা ১ হাজার ৩ শত ৭১ হেক্টর, মেচতা ৯৯ হেক্টর, কেনাপ ৪৬০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। চাঁদপুর সদর, মতলব দক্ষিণ ও ফরিদগঞ্জে এ বছর পাট চাষ বেশি হয়েছে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩৮৯৩২
পুরোন সংখ্যা