চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০১৬। ১৩ বৈশাখ ১৪২৩। ১৮ রজব ১৪৩৭
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৩-সূরা মূ’মিনূন

১১৮ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৩। কিন্তু তাহারা নিজেদের মধ্যে তাহাদের দীনকে বহুধা বিভক্ত করিয়াছে। প্রত্যেক দলই তাহাদের নিকট যাহা আছে তাহা লইয়াা আনন্দিত।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


ভন্ডদের অন্যতম আশ্রয় ধর্ম।

-বেন জনসন।


বিদ্যান্বেষণের জন্যে যদি সুদূর চীনেও যেতে হয় তবে সেখানে যাও।

-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
বিষ্ণুদীতে গৃহিণীদের রাজহাঁস পালনে ব্যাপক সাড়া
কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
২৬ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদীতে (পৌর ৯নং ওয়র্ড) গৃহিণীরা রাজহাঁস পালন করে বাড়তি আয়ের উৎস খুঁজে পেয়েছেন। রাজহাঁস পালন করে অনেকে নিজ ইচ্ছামত সংসারে হাত খরচ করতে পেরে তারা খুশি। গৃহিণীরা বাড়িতে বসে এই আয়কে বাড়তি রোজগারের নতুন পথকে আশীর্বাদ হিসেবে মনে করে। অনেক অস্বচ্ছল পরিবার রাজহাঁস পালন করে সংসারে স্বচ্ছলতার দেখা পেয়েছে।



লুৎফুর নাহার, রাণী, নাছিমা নামের বিষ্ণুদী গ্রামের একাধিক গৃহিণীরা জানান, রাজহাঁস পালন করতে তেমন একটা পুঁজির দরকার হয় না। অল্প পুঁজিতেই পালন করা যায়। ধানের গুড়ো, ভাত ও সবুজ ঘাস তাদের প্রিয় খাদ্য। পানিতে থাকা অবস্থায় তারা পানিতেই নিজের খাদ্য নিজেই সংগ্রহ করে খায়। তবে এরা দলবদ্ধভাবে পানিতে ও খাল-বিলে চলাচল করতে ভালবাসে। প্রতিদিন সকালে হাঁস পানিতে দেয়ার আগে ধানের গুড়ো, ফেন ও ভাত এক সাথে মেখে দিলে তারা পেট পুরে খেয়ে বাড়ি থেকে পানিতে যায়। এসব হাঁস একসাথে হয়ে তারা দলবদ্ধভাবে পানিতে সারা দিন দাফিয়ে বেড়ায়। সন্ধ্যার আগে তারা দলবদ্ধভাবে নিজ নিজ বাড়ি ফেরে। হাঁস ঘরে তোলার আগে তাদের সকালের মত করে খেতে দিলেই চলে। রোগ বালাই কম হওয়ায় কারণে দ্রুত তারা বেড়ে উঠে। রাজহাঁস বছরে ১৫-২০টি ডিম দেয়। এক জোড়া ডিম ৬০-৭০টাকা দরে বিক্রি হয়। গৃহিণীরা ডিম বিক্রি লাভজনক মনে করে না। তাই ডিম তা দিয়ে বাচ্চা তুলে বিক্রি করতে পছন্দ করেন। বর্তমানে কেজি দরে রাজহাঁস বিক্রি করার রেওয়াজ শুরু হয়েছে। একটি বয়স্ক হাঁস ৪-৫ কেজি ওজন হয়ে বর্তমানে ২শ' থেকে ২শ' ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব সময় রাজহাঁস বিক্রি হয় না। ডিম পাড়ার আগে কোনো গৃহিণী হাঁস বিক্রি করেন না। সুফিয়া ও রাহিমা নামের অপর গৃহিণীরা জানান, রাজহাঁস পালন করে সংসারে বাড়তি খরচ বহন করছে। খাল-বিল ও জলাশয়ে এরা দল বেঁধে চলাচলে করতে স্বাছন্দ বোধ করে। গ্রামীণ জনপদে শিয়াল তাদের বড় শত্রু। শিয়াল ও চিল সুযোগ বুঝে হামলা করে হাঁস ধরে নিয়ে যায়। রাজহাঁস দলবেঁধে চলার কারণে কোনো প্রকার শত্রুর টের পেলে প্যাক-প্যাক করে সবাইকে সর্তক করে দিয়ে এক সাথে ডেকে উঠে নিরাপত্তার জন্য। তাদের ডাক চিৎকারের শত্রুর দল পালিয়ে যায়। শত্রু চলে গেলে আবার তারা নিজেরা স্বাভাবিকভাবে খাল-বিল ও জলাশয়ে চলাচল করে। রাজহাঁসের মাংস খেতে সুস্বাদু। শীতের সময় হাঁসগুলো বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।



বিষ্ণুদী গ্রামের মোঃ সুলতান খানের পুত্র মোঃ বশির খান জানান, আমরাও রাজহাঁস ও চিনা হাঁস পালন করেছি। আমাদের বাড়ির পাশে কয়েকটি পরিবারেই আমাদের দেখাদেখি তারাও রাজহাঁস পালন করে আসছে। হাঁস পালনের উপর আমাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। মাঝে মধ্যে হাঁসের রোগ-বালাই দেখা দিলে বিপাকে পড়ে যাই। হাতে কলমে প্রশিক্ষণ থাকলে হাঁস লালন পালনে পারদর্শিতা বৃদ্ধি পেতো।



চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সুবোধ কুমার দাস বলেন, রাজহাঁস একটি সৌখিন প্রাণি। বাড়িতে সাধারণভাবে অবকাঠামো তৈরি করে লালন পালন করা হয়ে থাকে। রোগ বালাই কম হয়। রাজহাঁস পালন লাভজনক নয়। খাল-বিল, নদ-নদী ও মুক্ত জলাশয়ে রাজহাঁস পালন করে আসছে। রাজহাঁসের মাংস সুস্বাদু হওয়ায় শীতকালে এর চাহিদা বেশি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৬৬৪৪
পুরোন সংখ্যা