চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ২৪ মার্চ ২০১৬। ১০ চৈত্র ১৪২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৭
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২২-সূরা : হাজ্জ

৭৮ আয়াত, ১০ রুকু, মাদানী

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৭৮। এবং জিহাদ কর আল্লাহর পথে যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদিগকে মনোনীত করিয়াছেন। তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠোরতা আরোপ করেন নাই। ইহা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের মিল্লাত। তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করিয়াছেন ‘মুসলিম’ এবং এই কিতাবে ও ; যাহাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী স্বরূপ হয় এবং তোমরা স্বাক্ষী স্বরূপ হও মানব জাতির জন্য। সুতরাং তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে অবলম্বন কর; তিনিই তোমাদের অভিভাবক কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী তিনি।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


অন্যকে বারবার ক্ষমা করো, কিন্তু নিজেকে কখনই ক্ষমা করো না।      

-সাইরাস।


যে ধনী বিখ্যাত হবার জন্য দান করে, সে প্রথমে দোজখে প্রবেশ করবে।      

-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
একান্ত আলাপচারিতায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার
মতলবের প্রতিটি বাড়িতে বিষমুক্ত সবজি বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে
২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আমি ছোটবেলা থেকেই প্রতিটি ধাপে পড়ালেখা করেছি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আর এখন চাকুরিও করছি সরকারি। আমার কর্ম জীবনে একদিনও অফিস ফাঁকি দেইনি। আমি ১৪২০ বঙ্গাব্দ-এর আওতায় কৃষি সম্প্রসারণে অবদান রাখায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি স্বর্ণপদক লাভ করি। এ স্বর্ণপদক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে এই প্রথম রাষ্ট্রীয় পুরস্কার, যা আমিই অর্জন করেছি। সরকারি চাকুরিতে যোগদানের ৭ বছরের মাথায় এ মহামূল্যবান পুরস্কার অর্জন করায় কৃষি সেক্টরে ব্যাপক সাড়া জেগেছে। এভাবেই নিজের সাফল্যের গল্প বলছিলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার।

কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানা রোডে পশ্চিম চাঁনপুর কিছুক্ষণ মঞ্জিলের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার। তার বাবা মরহুম আব্দুল মালেক মজুমদার ও মা কমরুন্নাহার। তারা ৪ ভাই ২ বোন। স্ত্রী মেহেরুনেছা ঢাকা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি এক সন্তানের জনক। যার নাম আদিবা আনজুম রুম্মান।

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার ২৭ তম বিসিএস (কৃষি) ব্যাচের। তাঁর ৭ বছরের সরকারি জীবনে তিনি সাড়ে পাঁচ বছরই চাঁদপুর জেলায় কাটিয়েছেন। তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে আড়াই বছর দায়িত্ব পালন করেন। মতলব উত্তর উপজেলায় একই পদে কর্মরত আছেন প্রায় তিন বছর। ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি এই উপজেলায় যোগদান করার পর এখানকার কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, আশাব্যঞ্জক উন্নয়ন ও অভাবনীয় সাফল্য এনে দিতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রজেক্টের আওতায় প্রতিটি ২০ সদস্য সম্বলিত ১৪০টি কৃষক গ্রুপ গঠন করে সমবায় বিভাগ থেকে ১৩৫টির রেজিস্ট্রেশন করতে সক্ষম হয়েছেন, যা উপজেলা পর্যায়ে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। তিনি মতলব উত্তর উপজেলার আউশের এলাকা তিন বছরে ২২০০ হেক্টর থেকে বাড়িয়ে ৩৭০০ হেক্টর করেছেন, যাতে সর্বমোট আট হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন বেড়েছে। তিনি ভুট্রার এলাকা ৬০০ হেক্টর থেকে বাড়িয়ে ১৬০০ হেক্টর করায় তিন বছরে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় আট হাজার মেট্রিক টন। তিন হাজার নারীকে কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি। গজরা ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে পতিত জায়গায় ৪০০ পরিবারকে দিয়ে হলুদ চাষ করিয়ে সফলতা পেয়েছেন। কীট নাশকমুক্ত সবজি উৎপাদন এলাকা পূর্বের চেয়ে বাড়িয়েছেন ১০০ হেক্টর। তিনশ' কৃষককে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জৈব সার ব্যবহারে উদ্ধুদ্ধ করে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর উপায় শিখিয়ছেন। মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ভেতরে পূর্বে ফেব্রুয়ারি পর কৃষকরা পাউবোর লক্ষ্য থেকে সেচ সুবিধা পেতো। তিনি মতলব উত্তর উপজেলায় যোগদারের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ১ জানুয়ারি থেকে সেচ সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছেন, যার ফলে মোট পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন বেড়েছে। তিনি রিপার মেশিন দিয়ে দ্রুত ধান কাটার পদ্ধতি এই উপজেলার কৃষকদের শিখিয়েছেন, যাতে অর্থ ও সময়ের সাশ্রয় হচ্ছে।

কৃষি প্রধান নিজের দেশের প্রতি কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ অবদুল কাইয়ুম মজুমদারের প্রচ- ভালোবাসা না থাকলে তিনি একটি উপজেলাকেন্দ্রিক কৃষি সম্প্রসারণে এতো কাজ করতে পারতেন না। ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নিজের কর্মস্থলে যাতেয়াতের মাধ্যমে এই কর্মকর্তা কৃষি সম্প্রসারণে এতো বিপুল কর্মযজ্ঞ করতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। তিনি অখন্ড সার্বোচ্চ কর্তব্যনিষ্ঠায় যা করেছেন, রাষ্ট্র তার মূল্যায়নে একবিন্দু কার্পণ্য করেনি। এজন্যে রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা এবং স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদারের প্রতি রইলো অপরিসীম শ্রদ্ধা। তার বিভিন্ন ভাবনা নিয়ে কথা হয় দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের মাসিক আয়োজন কৃষি কণ্ঠের বিভাগীয় সম্পাদক মুহাম্মাদ আবদুর রহমান গাজীর সাথে। সাক্ষাৎকারটি আজ প্রকাশিত হলো।

কৃষিকণ্ঠ : কেমন আছেন ?

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার : আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

কৃষিকণ্ঠ : মতলবে যোগদানের পর কৃষি ক্ষেত্রে কোন সমস্যা টা আপনার দ্বষ্টি গোচর হয় এবং সমাধানের জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছেন ?

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার : অমি এখানে ২০০৭ সালে যোগদান করি। এখানে যোগদানের পর আমি লক্ষ্য করলাম অনাবাদি জমির পরিমাণ বেশি। সময়মত পানি না পাওয়া এবং উচ্চ ফলনশীল বীজ রোপনের জ্ঞানের অভাব। তার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় এসব এলাকার লোকজন ধনী হওয়ায় কৃষি কাজে পিচিয়ে পড়ছে। এসকল অনাবাদি জমি নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা নেই। এখানে কৃষক ও কৃষানি নিয়ে ১৪০ টি কৃষক গ্রুপ গঠন করি। তিন হাজার নারীকে কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেই। এছাড়া গজরা ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে পতিত জায়গায় ৪০০ পরিবারকে হলুদ চাষ করিয়ে সফলতা পেয়েছি। মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ভেতরে এখন বছরের প্রথম জানুয়ারিতেই পানি পাওয়া যায়। যার ফলে এখন উৎপাদন অনেক বেড়েছে।

কৃষিকণ্ঠ : দীর্ঘদিন ধরে কৃষি বিভাগে কাজ করছেন কাজ করতে গিয়ে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা ?

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার : কাজের মধ্যে সমস্যাও আছে আবার সমাধানও আছে। তবে অমি এ এলাকায় কাজ করতে গিয়ে কোন ধরনের সমস্যায় পড়িনি। বরং এখানে যোগদানের পর স্থনীয় সংসদ-সদস্য মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সহ অন্যান্য জন প্রতিনিধি, কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের অফিসার ও সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা পেয়িছি।

কৃষিকণ্ঠ : কৃষি অফিসার হিসেবে অপনি কৃষকদের কী ধরনের সহযোগিতা করে থাকেন ?

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার : কৃষক গরিব ও ধনী সবার সাথে আমার আন্তরিকতা আছে। এছাড়া আমার উপ-সহকারী কৃষি অফিসারদের সমন্বয়ে বীজ, সার ও কৃষি বিষয়ক নানা সমস্যা নিয়ে কৃষক যে ধরনের সহযোগিতা চাইতো সে ভাবেই সহযোগিতা করতাম।

কৃষিকণ্ঠ : কাজের স্থীকৃতি হিসাবে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার স্বর্ণ-পদক পেয়েছেন এ সর্ম্পকে কিছু বলুন ?

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার : ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার নিজ হাতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার স্বর্ণপদক দিয়েছেন। এতে আমি গর্বিত এবং আমার জীবিত অবস্থায় এ পদক পাওয়ায় আমার কাজের গতি আরো বেড়ে গেছে। আমি যতোদিন এ দায়িত্বে থাকবো দেশের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।

কৃষিকণ্ঠ : আপনার জীবনের ১টি স্মরণীয় ঘটনা বলুন ?

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার : ২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর দিনটি আমার খুব স্মরণীয়। এদিন আমি বাবা হয়েছি। আমার ১টি কন্যা সন্তান হয়েছে। তার নাম অদিবা অনজুম রুম্মান।

কৃষিকণ্ঠ : ছাত্র জীবনে কি ভাবতেন?

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম : ছাত্র জীবন থেকে ভালো পড়া-লেখা করতে হবে। এটিই ছিল মনের মধ্যে। কিন্ত পড়া-লেখা করে কি হবো বা কি করবো এমন কোনো চিন্তা ছিলনা। মাস্টার্স শেষ করে প্রথমে রুপালি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদান করি। পরে বিসিএস ফাইনাল হলো আমিও কৃষি অফিসে যোগদান করি।

কৃষিকণ্ঠ : মতলব উত্তরকে নিয়ে কি কোনো ধরনের স্বপ্ন দেখেন ?

মোহাম্মদ অবদুল কাইয়ুম মজুমদার : স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমরা সরকারি কর্মকর্তা। একই জায়গায় ৩ বছরের বেশি থাকা যায় না। তবে যে স্বপ্ন ছিল তা অনেকটা বাস্তবায়নের পথে। আগামী বছর এসব এলাকার প্রতিটি বাড়িতে বিষ মুক্ত সবজি বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষিকণ্ঠ : আমরা যতটুকু জানি কৃষকরা সাধারণত নিজের মতো কাজ করে,অন্যের পরামর্শ নিতে চায় না এ সর্ম্পকে কিছু বলুন ?

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার : আসলে এটা ঠিকই বলছেন। কৃষকরা নিজের মতোই কাজ করে। অন্যের পরামর্শ নিতে চায় না। কিন্ত আমি ও আমার উপ-সহকারী কর্মকর্তা মিলে এ উপজেলায় কৃষকদের ভুল ভাঙ্গাতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে এখানকার কৃষকরা কৃষি অফিসমুখি। এ উপজেলায় ১৪ ইউনিয়নেই কৃষি সেবা কেন্দ্র আছে। কাজেই কৃষকরা সাফল্যের দিকে অগ্রগামী হচ্ছে।

কৃষিকণ্ঠ : মতলব উত্তরের কৃষকদের কৃষি অফিসমুখি করতে আপনি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন ?

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার : আমি চাকুরিতে যোগদানের পর থেকেই কখনো কাজের ফাঁকি দেইনি। যখন ঐ সুযোগ পেতাম কৃষকদের সময় দেয়ার চেষ্টা করতাম। বিশেষ করে কৃষকরা দিনে মাঠে কাজ করে আর সন্ধ্যার পর বাজারে তাদের আড্ডা থাকে। আমি ঐসব এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে মাল্টিমিডিয়া প্রজক্টরের মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান দেখাতাম। এতে করে কৃষকদের সাথে আমার পরিচয় হয় এবং আমার উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের সাথে পরিচয় হতো পরিচয়ের ফলে কৃষকরা তাদের সমস্যা নিয়ে অফিসে আসতেন।

কৃষিকণ্ঠ : কোন কোন এলাকায় কৃষিতে বেশি সময় দিয়েছেন এবং কোন ধরনের চাষাবাদ করাতে উদ্ধুদ্ধ করেছেন ?

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার : এসব এলাকার পরিত্যক্ত জমি বেশি ধনী লোকদের। এখানকার জমিগুলোতে চাষাবাদ করা যায়। কিন্ত কেউ করেনা। এবছর রবি শস্যতে মেঘনার চর, বাহেরচর, চর ওয়েস্টা, চর উমেদ বেশ কিছু সবজি চাষ হয়েছে। সবজির মধ্যে পাতা কপি টমেটু, কালো বেগুন, মুলা, লাল শাক, সিম, বড়বটি চাষ বেশি হয়েছে, বর্তমানে ভূটা ও সরিষা চাষ হয়েছে বেশি। ইতোমধ্যে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করি ভূট্টারও বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বোরো ও আউস ধানে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাত। এখানে আর লোকাল ধান চাষবাদ হয় না। কৃষকরা বেশি ফলনের জন্যে উচ্চ ফলনশীল বীজ বপন করে। বর্তমানে বোরো ৫ হাজার ও আউস ১৮ হেক্টর উৎপাদন বেড়েছে। যা আমার যোগদানের সময় ছিল ৬ শ' হেক্টর।

কৃষিকণ্ঠ : কৃষকদের এরকম উল্লেখ যোগ্য কি করছেন ?

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার : আসলে কৃষকদের জন্য আমি একাতো কিছু করা সম্ভবনা। তবে আমাদের কৃষি সেক্টর খুব বিশাল। আমরা প্রতিটি গ্রামে অবস্থান করি এবং কৃষকদের সাথে পরামর্শ করি । অনেক সময় দেখি কৃষকরা তাদের ন্যয্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের সমস্যা সমাধান করতে ১৪০ টি কৃষক গ্রুপ গঠন করে সমবায় বিভাগ থেকে ১৩৫ টি রেজিস্ট্রেশন করতে সক্ষম হয়েছি। যা উপজেলা পর্যায়ে দেশের মধ্যে সবর্ে্বাচ্চ। ফলে কৃষকরা সমিতির মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াল্ড ব্যাংক চাচ্ছে কৃষকরা নিজে টাকা জমা রাখবে। কৃষকরা সমিতির মাধ্যমে টাকা সঞ্চয় করে বীজ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করবে।

কৃষিকণ্ঠ : আপনার অতি মূল্যবান সময়ে কৃষিকণ্ঠের সাথে সুন্দর সাবলীল মতামত ব্যক্ত্য করার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার : আমি যেনো আমার কর্ম জীবনে সর্বাত্নক সফলভাবে কাজ করতে পারি এবং জাতীয় স্বর্ণপদকের সম্মান ধরে রাখতে পারি সেই দোয়া কামনা করে আপনাকে ও চাঁদপুর কণ্ঠকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩০৯০৫
পুরোন সংখ্যা