চাঁদপুর, রোববার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। ১৬ ফাল্গুন ১৪২২। ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২২-সূরা হাজ্জ

৭৮ আয়াত, ১০ রুকু, মাদানী

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।



৫৩। ইহা এইজন্য যে, শয়তান যাহা প্রক্ষিপ্ত করে তিনি উহাকে পরীক্ষাস্বরূপ করেন তাহাদের জন্য যাহাদের অন্তরে ব্যাধি রহিয়াছে, যাহারা পাষানহৃদয়। নিশ্চয়ই যালিমরা দুস্তর মতভেদে রহিয়াছে।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


প্রতিভা আর প্রেরণা একই জিনিস।                               -ভিক্টর হুগো।


কাউকে অভিশাপ দেওয়া সত্যপরায়ণ ব্যক্তির উচিত নয়।  

                -হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
হাজীগঞ্জে মৌমাছির ৩ তলা বাড়ি
কৃষিকণ্ঠ রিপোর্ট
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের উত্তর প্রান্তরের বলাখাল-পেন্নাই নামক সড়কের সঙ্গে লাগোয়া ড. এমএ হালিম কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক। হাজীগঞ্জের কালচোঁ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের এ কমপ্লেক্স। কমপ্লেক্সের দেয়াল ঘেঁষে পশ্চিম দিকে একটু অগ্রসর হলেই দেখা যায় মৌমাছির ৩ তলা বাড়ি। ভেতরে প্রবেশ করলে স্বাগত জানায় অসংখ্য রঙিন গাছ। বিভিন্ন গাছের ডালে ও ৩ তলা বাড়িটি ঘিরে রয়েছে ৬০টি মৌচাক। তারপাশেই রয়েছে বিশাল বড় খোদাই বিল। এ বিলে রয়েছে সরিষা ফুলের দৃষ্টি নন্দন ঝিলিক ও বাহারী রঙের ফল ও ফলের গাছ। যা দেখে মানুষের চোখ জুড়ায়।



মৌমাছি মৌমাছি কোথা যাও নাচি নাচি-দাঁড়াও না একবার ভাই/ওই ফুল ফোটে বনে-যাই মধু আহরণে, দাঁড়াবার সময়তো নাই। নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কবিতায় উল্লেখিত এই মৌমাছিরা হচ্ছে প্রাকৃতিক মৌমাছি। পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক কিছুই। স্বার্থপর মানুষের অবিবেচনায় অন্যান্য অনেক পতঙ্গের মতো হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাকৃতিক মৌমাছিরাও। উড়ে চলা মৌমাছিদের ঝাঁক সহজে এখন আর খুব একটা দেখা যায় না। বাড়ির আঙ্গিনায় চোখে পড়ে না গাছে ঝুলে থাকা কোনো মৌচাক।



আশ্চর্যের বিষয় হলেও সত্যি এমন উক্তিকে উড়িয়ে দিয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪নং কালচোঁ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামে লতিফ এন্ড রাহিমা কমপ্লেক্সের দেখা মিলল এ যেন মৌমাছির ৩ তলা বাড়ি। একজন পথিক ওই পথে হাঁটলে এমনটাই ভাববেন। কেননা এ বাড়িতে আছে প্রায় ৬০ টি মৌচাক। ৩ তলা ভবনে ছাড়াও বাড়ির উঠানের আম ও নারিকেলের গাছে নির্বিঘ্নে বসবাস করছে এই মৌমাছি। ঐ বাসিন্দাদের কামড়ায় না এবং কোনো ক্ষতি সাধন করে না। দুই থেকে তিন সপ্তাহে পর মৌচাক থেকে মধু আহরণ করে মৌয়ালারা। বাড়ির মালিককে কখনো অর্ধেক আবার কখনো তিন ভাগের এক ভাগ দিয়ে বকিটা নিয়ে যান তারা। ভাটরা গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও ইউসিসির চেয়ারম্যান ড. এমএ হালিম পাটওয়ারীর এ বাড়ি। বাড়ির প্রবেশ পথে নারিকেলের গাছে ৬টি মৌচাকের বাসা। আরেকটু ভিতরে প্রবেশ করে দেখা মিললো আম ও কাঁঠাল গাছে রয়েছে ৩০টি মতো মৌচাকের বাসা। ভবনের ছাদের নিচে জানালার কার্নিশের পাশে ও বারান্দায় এভাবেই রয়েছে মৌমাছিগুলো বাসা বেঁধে। মৌমাছির গুন-গুন আওয়াজে মুখরিত করে ঐ বাড়ির পরিবেশ।



এ ব্যাপারে কিছু জানতে বাড়ির লোকজনকে খোঁজ করলে ছুটে আসেন হাজেরা নামের এক নারী। তিনি জানান, এখানে মৌমাছিরা পৌষ মাসের প্রথমে আসে ও চৈত্র মাসের শেষের দিকে চলে যায়। এই তিনটি মাসে ওই বাড়ির চারপাশের সরিষা ক্ষেত থেকে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে। এ বছর এ এলাকায় সরিষার ব্যাপক আবাদ হওয়ায় মৌমাছির আনাগোনা বেশি। আমাদের বাড়িতে প্রায় ৬০টির মতো মৌচাকের বাসা রয়েছে। এসব মৌমাছির এ বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া হয়ে গেছে এরা এখন এ পরিবারের একটি অংশ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান। একটি বাড়িতে এতো অধিক সংখ্যক মৌমাছির মৌচাক করার কারণে এ বাড়িটি এখন এলাকায় মৌমাছির ৩ তলা বাড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই মৌচাকগুলো দেখতে দূর-দূরান্তে থেকে অনেকে এ বাড়িতে ভিড় জমায়।



এ ব্যাপারে কথা হয় কালচোঁ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেনের সাথে তিনি বলেন, মৌমাছি সত্যিই এক আশ্চর্য প্রাণি। এরা নিজেরাই বাড়ি তৈরি করে। সেটাকে রীতিমতো প্রসাদই বলা যায়। এই প্রসাদেও কিন্তু একটি নাম আছে। একে বলা হয় মৌচাক। পৃথিবীতে প্রায় ২০,০০০ হাজার প্রজাতির মৌমাছি আছে। এদের কেউ একা থাকে আবার কেউ বা থাকে দলবদ্ধভাবে। কেউ প্রচুর মধু জমা করে আবার কেউ একেবারেই করে না। কেউ বা উদ্যম, পোষ না মানে, ঘুরে বেড়ায় বনে বাদাড়ে। আবার কোনো কোনো মৌমাছি মানুষের পোষ মানে। তিনি আরো বলেন, অবাক ব্যাপার হচ্ছে এদের মধ্যেও মানুষের মতো শ্রেণি বিভাগ আছে। আছে একেক শ্রেণির একেক ধরনের কাজ। মৌমাছির প্রধানত তিনটি শ্রেণি আছে। রাণী মৌমাছি, রাজা মৌমাছি এবং কর্মী মৌমাছি।



ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ানোর সময় মৌমাছিরা তাদের পা এবং বুকের লোমে ফুলের অসংখ্য পরাগরেনু বয়ে বেড়ায়। এক ফুলের পরাগরেনু অন্য ফুলের গর্ভমু-ে পড়লে পরাগায়ন ঘটে। যার ফলে বেশি উৎপন্ন হয় ফল, এভাবে মৌমাছিরা পরাগয়নের মাধ্যমে ফল ও ফসলের উৎপাদন বাড়ায়। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মৌচাক থাকে ঐ এলাকায় সরিষা আবাদে ফলন বেশি হয়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯১১৩০
পুরোন সংখ্যা