চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০১৫ । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২২ । ১৩ সফর ১৪৩৭
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২১-সূরা : আম্বিয়া


১১২ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাাহ্র নামে শুরু করছি।


 


৫০/ ইহা কল্যাণময় উপদেশ; আমি ইহা অবর্তীর্ণ করিয়াছি। তবুও কি তোমরা ইহাকে অস্বীকার কর?


৫১/ আমি তো ইহার পূর্বে ইব্রাহীমকে সৎপথের জ্ঞান দিয়াছিলাম এবং আমি তাহার সম্বন্ধে ছিলাম সম্যক পরিজ্ঞাত। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


মৃত্যুটা জন্মানোর মতোই স্বাভাবিক। 


- বেকন।


যার রসনা ও হস্তদয় হইতে কোন মুসলমানের কোন প্রকার অনিষ্ট না হয়, সেই প্রকৃত মুসলমান এবং যে আল্লাহর নিষিদ্ধ কার্য হইতে পলায়ন করে সেই প্রকৃত মুহাজিজর। 


- (হযরত মুহাম্মদ (সঃ))


 

ফটো গ্যালারি
শিক্ষালয়ে কৃষি শিক্ষা ঐচ্ছিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম
কৃষিকণ্ঠ রিপোর্ট
২৬ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

কৃষিপ্রধান ও কৃষি নির্ভরশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও এ দেশে কৃষক ও কৃষি কাজ বরাবরই অবহেলিত। দেশের কৃষির উপর সরকারের গুরুত্ব থাকলেও প্রভাব পড়েনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষালয়ে কৃষি শিক্ষা ঐচ্ছিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আগ্রহ কম। এর প্রভাব ছোটবেলা থেকেই প্রজন্মের উপর পড়ছে। এতে করে কৃষি বিষয়ে তেমন একটা আগ্রহী হয়ে উঠছে না ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। চাঁদপুর জেলার স্কুল ও মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে এ প্রতিনিধির আলাপচারিতায় এমন তথ্য বেরিয়ে আসে। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের মাাসিক আয়োজন কৃষিকণ্ঠ আর এ পাতায় থাকছে চাঁদপুর জেলার কৃষক-কৃষাণীর সাফল্য, সম্ভাবনাও সমস্যার কথা। কৃষির অপার সম্ভাবনা, কৃষি-ভিত্তিক শিল্পের বিকাশ, এখাতের সমস্যা সংকট খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কৃষি শিক্ষা বিষয়ে পাঠ্য করা হয়েছে কেবল মাত্র। কৃষির হাতে-কলমে শিক্ষা না থাকায় এবং শিক্ষকদের আলাদা কোনো কৃষি শিক্ষার উপর প্রশিক্ষণ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা এ বিষয়ের উপর উদাসীন। আর পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিকের নগদ কিছু টাকা দিলেই ২৫ নম্বর যোগ হয় ঐ খাতায়। তাও আবার এ টাকা দিতে হয় বহিঃ পরীক্ষকদের। কারণ তারা বোর্ড থেকে আসেন, তাদের এটা যাতায়াত খরচ। এমনটাই জানালেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক আরো জানান, বিদ্যালয়ে সপ্তাহে মাত্র ২দিন কৃষি ঘন্টা থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে সিলেবাস শেষ করা সম্ভব হয় না। অধিকাংশ স্কুল ও মাদ্রাসায় বুধ ও বৃহস্পতিবারে শেষ ঘন্টায় থাকে কৃষি শিক্ষা। তাও আবার বৃহস্পতিবার অর্ধ দিবসে ছুটি হওয়ায় সপ্তাহে এ বিষয়ে পাঠ দান হয় ১ দিন। ফলে নির্দিষ্ট সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে সম্যক ধারণাও নিতে ব্যর্থ হয়।

হাজীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোঃ কাওছার আলম পাটওয়ারী প্রতিনিধিকে বলেন, কৃষি শিক্ষা বিষয়টি ঐচ্ছিক হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের এতে আগ্রহ কম। তবে এদের মধ্যে কিছু কিছু শিক্ষার্থী ফলাফল ভালো করার জন্যে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি এবং কৃষি এক সুতোয় গাঁথা। প্রাচীনকাল থেকেই কৃষিই ছিল এদেশের মানুষের অন্যতম অবলম্বন। কালের বিবর্তনে সেই প্রাচীন কৃষিতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। আধুনিকতাকে কাজে লাগিয়ে এখনও প্রাচীন ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা যায়। তবে বিদ্যালয়ে কৃষি-শিক্ষাকে আবশ্যকীয় করা হলে এবং শিক্ষকদের এ বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ থাকলে শিক্ষার্থীরাও কৃষি কাজে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থীই পড়া-লেখার অজুহাত দেখিয়ে পারিবারিক কৃষি কাজ করতে অনাগ্রহ দেখা যায়। অথচ ফরমালিন-ফরমালিন করে গলাবাজি করা হয়। কিন্তু ফরমালিন মুক্ত খাবার খেতে উল্লেখযোগ্য কি ভূমিকা রাখা হচ্ছে। সবাই ভালো কিছু খাবারের আশা করলে নিজ থেকেই বাড়ির আঙ্গিনার কৃষির সাথে সম্পৃক্ত থাকা দরকার। প্রতিটি পরিবারেই তার নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন শাক-সবজি ও নানা রকমের ফলের গাছ রোপণ করলে একদিন এ দেশ থেকে ফরমালিন বিদায় নেবে। খাদ্যে ফরমালিন থেকে রেহাই পেতে সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। চাঁদপুর শহরের ডিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা (কৃষি) পারভীন সুলতানা বলেন, বর্তমানে প্রজেক্টর যুক্ত হওয়ায় কৃষি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। তাও কিন্তু আবার সবার ক্ষেত্রে না। সপ্তাহে দু-একদিনের ক্লাসে শিক্ষার্থীরা কি শিখবে। আরেক দিকে বিষয়টি ঐচ্ছিক। ফেল করলেও সমস্যা নেই। আর ভালো করলে এ বিষয়ের নাম্বার যোগ হয় মেইন সাবজেক্টে। এজন্যেই শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ের উপর আগ্রহ কম। এখন বিভিন্ন কো-এডুকেশন স্কুলে ছাত্রীরাও কৃষি শিক্ষা নিয়ে পড়তে পারে। আগে ছাত্রীরা গার্হস্থ্য বিজ্ঞান নিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে এ বিষয় নিয়ে বৈষম্য নেই। সরকার যেভাবে গুরুত্ব দিয়েছে কৃষিকে, সেভাবে যদি তৃণমূল থেকে কৃষিকে শিক্ষালয় থেকে তৈরি করতে চায় তাহলে শিক্ষকদের জন্য এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ জরুরি। তিনি বলেন, আমি ১০ বছর শিক্ষকতা করি। এ যাবৎ বহু প্রশিক্ষণ দিয়েছি বিভিন্ন বিষয়ের উপর। কিন্তু কৃষি শিক্ষার উপর ১টি প্রশিক্ষণ হয়নি। সরকার যদি আমাদেরকে এ বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেয় তাহলে প্রশিক্ষণ লব্দ জ্ঞান দ্বারা শিক্ষার্থীদের উদ্বুব্ধ করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাক দারুচ্ছুন্নাত আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোঃ মমিন গাজী জানান, কৃষি শিক্ষা বইটি মূলত আবশ্যক। আর এ বই পড়ে ছাত্রদের একটু ধারণা হয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তাদের জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে না। কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন যিনি ছাত্রদের পড়াবেন তাঁর যদি এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ না থাকে তিনি কীভাবে পড়াবেন। তবে আমি মনে করি এবিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে শিক্ষাদান ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি নির্ভর দেশে কৃষি শিক্ষা পাঠ্য বইয়ে ও পরীক্ষার খাতায় থাকলে হবে না। এ বিষয়ের উপর থাকতে হবে ঊর্ধ্বতনের নজরদারী এবং সরকার যদি আমাদেরকে তথ্য প্রযুক্তির যুগে কৃষির উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে এতে প্রতিটি পারিবারিকভাবে কৃষির উপর গুরুত্ব বাড়বে। বর্তমানে কৃষির বিভিন্ন উপকরণের জন্য মাদ্রাসায় বরাদ্দ নেই। কিন্তু খেলার উপকরণের বরাদ্দ আছে। আমরা যে কর্ম করিনা কেনো, সবারই নিজ প্রয়োজনে ও বেঁচে থাকার তাগিদে কৃষির সাথে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করা দরকার। আমাদের মাদ্রাসার অনেক ছাত্র আছে যারা পড়ালেখার পাশাপাশি বাড়িতে কৃষি কাজে পরিবারের সাথে সময় দেয়। তাদেরকেই দেখে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সফিউদ্দিন (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, স্কুল ও মাদ্রাসায় মূলত কৃষি শিক্ষা পাঠ্য করা হয়েছে কৃষির উপর ধারণা দেয়ার জন্যে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম থাকাই স্বাভাবিক। কারণ এ বিষয়ে গণিত ও ইংরেজির মতো বেশি সময় দিতে হয় না। বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকরা কৃষি বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ পাইনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শিক্ষকদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জেলার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কৃষি শিক্ষকদের বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ যাবত যারা প্রশিক্ষণ পায়নি তারা হয়তো কোনো কারণে নিতে পারেনি বলে দাবি করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃষির বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হয়েছে যাতে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সহজভাবে মনোযোগী করা যায়। বিদ্যালয়ে কৃষির বিভিন্ন উপকরণ আমরা দেখিনি জানালে তিনি বলেন, হয়তোবা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্দিষ্ট রুমে সংরক্ষিত করে রেখেছেন তাদের সুবিধার জন্যে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৮১৪৩
পুরোন সংখ্যা