চাঁদপুর, বুধবার ২১ অক্টোবর ২০১৫ । ৬ কার্তিক ১৪২২ । ৭ মহররম ১৪৩৭
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২১-সূরা : আম্বিয়া

১১২ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাাহ্র নামে শুরু করছি।



০৫। উহারা ইহাও বলে, ‘এই সমস্ত অলীক কল্পনা, হয় সে উহা উদ্ভাবন করিয়াছে, না হয় সে একজন কবি। অতএব সে আনয়ন করুক আমাদের নিকট এক নিদর্শন যেরূপ নির্দর্শনসহ প্রেরিত হইয়াছিল পূর্ববর্তীগণ।’

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

 


শরীরের দুরন্ত অভিযানের সময় হচ্ছে যৌন, আর মনের অভিযান শুরু হয় বার্ধক্যের।

লোগন পিয়ারসাল।



 


মানবতার সেবায় যিনি নিজের জীবন নিঃশেষে বিলিয়ে দিতে পারেন, তিনিই মহামানব।

                 - হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)

 


ফটো গ্যালারি
কৃষি কল সেন্টারে কৃষক ভোগান্তি
কৃষকের ফোন বাড়ছে , রিসিভের লোক নেই
কৃষিকণ্ঠ রিপোর্ট
২১ অক্টোবর, ২০১৫ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

প্রচার প্রচারণা চালানো হয়নি। তাই বেশির ভাগ কৃষক এখনো কৃষি কল সেন্টার সম্পর্কে জানেই না। এ অবস্থায় দিনে হাজারটা ফোন আসছে কৃষি সংক্রান্ত নান সমস্যায় করণীয় জানতে। কেউ জানতে চায় ভালো জাতের বীজ কোথায় পাওয়া যাবে? কেউ জানতে চায় ফসলে পোকার আক্রমণ করলে কী ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে? কেউ জানতে চায় গবাদি পশুর চিকিৎসা কোথায় মিলবে?

কিন্তু কল সেন্টারে কল করার অভিজ্ঞতা খুব একটা কৃষকের নেই। ফোন করলেই ওপার থেকে শোনা যায় রেকর্ড করা কণ্ঠ। আপনার কলটি আমাদের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে আমাদের সবকটি লাইন ব্যস্ত আছে। অনুগ্রহ করে একটু পরে আবার চেষ্টা করুন। সাত-আট বার চেষ্টার পর ভাগ্য ভালো হলে সমস্যা জানানো ও পরামর্শ পাওয়া যাবে। ইদানীং নতুন সংকট ফোন করলে কৃষকের টাকা কাটা যায়। মাস ছয়েক বিনা মূল্যে সেবা দেয়ার পর দুটি অপারেটর কলচার্জ আদায় শুরু করেছে। ফলে ওই দুই অপারেটর থেকে ফোন করলে কথা বলার সুযোগ না পেলেও মোবাইল ফোনের ব্যালেন্স থেকে ঠিকই টাকা কাটা যাচ্ছে।

২০১২ সারে কৃষকের কল সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নেয় কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)। এ জন্যে দেশের ১০টি জেলায় কৃষকদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশ্ন ও এর উত্তর সংবলিত তথ্য ভা-ার তৈরি করা হয়। পরে ০৯৬৩৩১২৩১২৩ নম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে কল সেন্টারটি চালু করা হয়। পরীক্ষামূলক ভাবে চলার পর গত বছর জুনে কল সেন্টারটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। বাংলাদেশ টেলি যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ১৬১২৩ নম্বরে একটি শর্ট কোড বরাদ্দ দেয়। কৃষকের কল করার হার অনেক বেড়েছে। শুরুতে দিনে ৫০-৬০টিরও বেশি কল আসতো না। এখন হাজারের বেশি কল আসে। কিন্তু কল ধরার লোক মাত্র তিন জন। তারা ২৫০ থেকে ৩০০ টির বেশি কল ধরতে পারেন না। ফলে চেষ্টা করেও হতাশ হতে হয় আগ্রহীদের। কৃষি কল সেন্টারে কল করার সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। গত রোববার বিকেল ৪টার দিকে পরপর ছয়বার ফোন করে একবারও পরামর্শকদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ৪ বার পরে ফোন করতে অনুরোধ জানানো হয়ছে।

কৃষকদের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাদের মধ্যে মতলব দক্ষিণের নাগদা গ্রামের ইয়াকুব, আঃ বারেক, তাফাজ্জল, মতলব উত্তরের বাগানবাড়ির জহিরুল, আলমাছ, শাহরাস্তির রাগৈর আঃ হাশেম, সিরাজ, ফরিদগঞ্জ কড়ইতলীর ফজলু, আনোয়ার ও চাঁদপুর সদরের আনোয়ার ও নাজির জানায় কৃষি কল সেন্টারে ফোন করি ফোন ধরে না। আবার কল সেন্টারে ফোন করলে রিসিভ হয়, কিন্তু কথার আওয়াজ হয়না। পরে দেখি আমাদের মোবাইলে ব্যালেন্স নেই। কৃষি বিষয়ক নানা সমস্যা জানতে ত্বরিৎ ফোন করি কিন্তু কোনো কাজ হয় না। চাঁদপুর সদরের আনোয়ার বলেন আগে আমরা ফোন করতাম না, বল্ক সুপারভাইজারদের সাথে আলাপ করতাম সমস্যা জানতাম। এখন দেখি আমাদের এটাই ভালো। শুধু-শুধু কৃষি কল সেন্টারে ফোন করে টাকা নষ্ট করি। এভাবেই কৃষকরা কৃষি কল সেন্টারের সমস্যাগুলো জানালেন। এছাড়া আরো কয়েকজন কৃষক জানালেন প্রথম প্রথম আমরা ফোন করলে তারা রিসিভ করলে আমাদের সমস্যা গুলো শুনে সমাধান দিতেন।

জানতে চাইলে এআইএসের কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ মারুফ মাসুম এ প্রতিনিধিকে বলেন, কৃষি কল সেন্টার চালানোর জন্যে চ্যানেল আছে ২০টি। কিন্তু আমরা কর্মীর অভাবে সবগুলো চালু রাখতে পারিনি। এ কারণেই কয়েক দফা ফোন না করলে কথা বলা সম্ভব হয় না। দৈনিক হাজার কল আসলেও আমরা সাড়া দিতে পারি ২৫০ থেকে ৩০০ টি কলের। কল ধরার জন্যে পর্যাপ্ত লোক নেই বলেই আমরা কৃষি কল সেন্টার নিয়ে কোনো প্রচার চালাইনি। নির্যাতন প্রতিরোধে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি শর্ট কোড চালু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন সেখানে ২৭ জন কর্মী কাজ করে। ২৪ ঘন্টা কল ধরা হয়। কিন্তু কৃষি কল সেন্টার চলে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা, তাও তিন জন দিয়ে।

কৃষি কল সেন্টারের নতুন সমস্যা কলের ওপর চার্জ আরোপ। জুন থেকে চালুর পর প্রথমে ১৬১২৩ নম্বরটি ছিলো টোল ফ্রি অর্থাৎ ফোন করলে কৃষকের টাকা কাটা হতো না। এখন দুই অপারেটর টাকা কাটা শুরু করেছে। অবশ্য টাকা কাটার ক্ষেত্রে অপারেটরদেই আইনি কোনো বাধা নেই। তবে কৃষি তথ্য সার্ভিস চায় এ সেবাটি কৃষককে বিনামূল্যে দিতে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৫০২৬৭২
পুরোন সংখ্যা