চাঁদপুর, রবিবার ২৩ আগস্ট ২০১৫ | ৮ ভাদ্র ১৪২২ | ৭ জিলকদ ১৪৩৬
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


৩৪। এবং অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহিত করিত না,


৩৫। অতএব এইদিন সেথায় তাহার কোন সুহৃদ থাকিবে না,


৩৬। এবং কোন খাদ্য থাকিবে না ক্ষত নিঃসৃত স্রাব ব্যতীত,


 


 


 


assets/data_files/web

অতিরিক্ত চাহিদাই মানুষের পতনকে ডেকে আনে।


-জন অলকৃট।


 


 


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
শাপলা ফুলের ইতিবৃত্ত ও ঔষধি গুণ
আলম শামস
২৩ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা। ইংরেজি নাম Water Lily, White Water Lily, আর বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchail Burm. শাপলা Nymphaeaceae পরিবারভুক্ত জলজ উদ্ভিদ। কাদা মাটির নিচে থাকে যা শালুক নামে পরিচিত। পাতা লম্বা বোঁটাযুক্ত পানির ওপর ভাসমান থাকে। কাদা থেকে লম্বা ডাঁটা যুক্ত ফুলের কলি বের হয়। লাল শাপলা ও সাদা শাপলা বেশি দেখা যায়। তবে নীল রঙের ভিন্ন প্রজাতির শাপলাও পাওয়া যায়। পাতার গোঁড়ার দিক হৃদপিণ্ডাকৃতির এবং পাতার কিনারা ঢেউ খেলানো। ফলগুলো স্পঞ্জের মতো দেখতে এবং ফলের ভেতর অনেকগুলো কোষ। প্রতিটি কোষে সরিষার ন্যায় বীজ থাকে। সাদা শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। শাপলার ফল দিয়ে মজাদার খৈ তৈরি হয়। সাদা শাপলা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও চাষাবাদ, উভয়ভাবেই উৎপাদিত হয়। অম্লক্ষারবিহীন জলেই এটি ভালো জন্মে। তবে ১৫ক্ক সেলসিয়াল তাপমাত্রার নিচে এটি জন্মে না। জলজ উদ্ভিদ হিসেবে এটির শিকড় পানিতে কাঁদার নিচে প্রবেশ করে। শাপলা ফুল সরাসরি কাণ্ড ও মূলের সাথে যুক্ত থাকে। মূল যুক্ত থাকে মাটির সঙ্গে এবং পাতা পানির ওপর ভেসে থাকে। কিছু পাতা পানির নিচে থাকে। মূল থেকেই নতুন পাতার জন্ম নেয়। পাতাগুলো গোল এবং সবুজ রঙের হয় কিন্তু নিচের দিকে কালচে রঙের হয়ে থাকে। ভাসমান পাতাগুলোর চারদিক ধারালো হয়। কাগজের ন্যায় হালকা পাতাগুলোর আকার ১৫ থেকে ২৬ সেন্টিমিটার এবং এদের ব্যাপ্তি প্রায় ০.৯ থেকে ১.৪ মি.। ফুলগুলো যখন পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হয় তখন এর ব্যাস প্রায় ১৫ সেমি. হয়। শাপলা ফুল দিনের বেলায় সঙ্কুচিত হয় এবং রাতে পূর্ণাঙ্গভাবে ফোটে। সাদা শাপলার ভিন্নতা জনিত ও শঙ্করায়ণের ফলে এদের রঙ সাদা থেকে গোলাপি, পটলবর্ণ, বেগুনি, ফিকে লাল হয়ে থাকে। ঔষধি গুণাগুণ শাপলার ফুল ও মৌলকা সাধারণত মানবদেহের সি্নগ্ধ কারক, শীতল কারক, পিত্ত প্রশমক, হৃদযন্ত্রের শক্তিকারক ও পিপাসা নিবারক ইত্যাদি রোগে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাছাড়া প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, আমাশয় ও পেট ফাঁপায় উপকারী। রোগ অনুসারে নিচের পদ্ধতি অবলম্বনে অনেক উপকারে আসবে যেমন : প্রসাবের জ্বালাপোড়া ও পিত্তাধিক্য রোগে শাপলা ফুলের শুকনো অংশ ১০-১৫ গ্রাম পাঁচ গ্রাম ধনিয়া আধা চূর্ণ করে, দুই কাপ পানিতে মিশিয়ে জ্বাল করে ছেঁকে নিয়ে প্রয়োজন মতো চিনিসহ দিনে ২ বার ১৫-২০ দিন খেলে উপকার হবে। হৃদযন্ত্রের দুর্বলতায় ও হৃদকম্পে রোগের জন্য শাপলা ফুল ১০ গ্রাম, সাথে পাঁচ গ্রাম গোলাপ ফুল মিশিয়ে দুই কাপ পানিতে জ্বাল করে ছেঁকে নিয়ে প্রয়োজন মতো চিনি মিশিয়ে প্রতিদিন ২ বার এভাবে ১ মাস নিয়মিত খেলে বিশেষ উপকার পাবেন। পিপাসা নিবারণের জন্য শাপলা ফুলের শুকনো অংশ ১০-১২ গ্রাম এক কাপ পানিতে জ্বাল করে ছেঁকে নিয়ে প্রয়োজন মতো চিনি মিশিয়ে দিনে ২ বার এভাবে ১ মাস খেলে উপকার হবে। ভারতে আম্বাল নামের আয়ুর্বেদিক শাপলাকে ঔষধি গাছ হিসেবে ব্যবহার করেন। এই ওষুধ অপরিপাকজনিত রোগের পথ্য হিসেবে কাজ করে। সামপ্রতিক গবেষণায় পাওয়া গেছে এই উদ্ভিদে ডায়াবেটিক রোগের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। এই উদ্ভিদ পানি থেকে তুলে রোদে শুকিয়ে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শাপলা প্রাচীন যুগ থেকেই বিভিন্ন জাতির প্রার্থনা বা বাগান সাজানোর পাশাপাশি খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যেমন : মিশর, চীন, জাপান ও এশিয়ার বিভিন্ন এলাকা। শাপলার কাণ্ড বা ডাঁটা বা পুস্পদণ্ড সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। পূর্ণবিকশিত শাপলা ফুলের গর্ভাশয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বীজ থাকে। আঠালো এই বীজ বাংলাদেশের গ্রামের মানুষদের খেতে দেখা যায়। এই বীজ ভেজে এক ধরনের খাবার খৈ তৈরি হয় যার নাম "ঢ্যাপের খৈ"। উদ্ভিদটির গোড়ায় থাকে আলুর মতো এক ধরনের কন্দ যার নাম শালুক, অনেকে এটি সবজি হিসেবে খেয়ে থাকে।



লেখক : কবি ও সাংবাদিক, সহ-সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাব, ঢাকা।



মোবাইল ০১৯১১১১৬১৩৪৪



আজকের পাঠকসংখ্যা
২২৪৭৮৪
পুরোন সংখ্যা