চাঁদপুর, রবিবার ২৬ জুলাই ২০১৫ | ১১ শ্রাবণ ১৪২২ | ৯ শাওয়াল ১৪৩৬
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২০-সূরা : তা-হা

১৩৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহ্র নামে শুরু করছি।



৫৫। আমি মৃত্তিকা হইতে তোমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছি, উহাতেই তোমাদিগকে ফিরাইয়া নিব এবং উহা হইতে পুনর্বার তোমাদিগকে বাহির করিব।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সত্যের জন্যে শহীদ হওয়া অপেক্ষা মুসলমানদের জন্যে মুক্তির আর কোনো প্রশস্ত পথ নেই।

-জিন্নাহ।


পিতা-মাতার প্রতি কু-বাক্য প্রয়োগ করা গুরুতর পাপকার্য। পিতার সুহৃদবর্গের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা অতিশয় পুণ্যজনক কাজ।

  - হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
দেশি ফলের অনেক গুণ
মারদিয়া আক্তার
২৬ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ফল মানবজাতির প্রথম ও প্রাচীনতম খাদ্য। মানবদেহে পুষ্টি সরবরাহ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মেধার বিকাশ ছাড়াও বৈচিত্র্যপূর্ণ নানা জাতের ফল নান্দনিক শোভা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। অর্থনীতি, চিকিৎসাশাস্ত্র, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিসহ এমন কোনো ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে ফলের অবদান পাওয়া ও খাওয়া অসাধ্য। আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে বসতবাড়ির আঙ্গিনায়, উঁচু রাস্তার ধারে, শিক্ষা/ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় অনেক ফল চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অপ্রচলিত ফল হারিয়ে যাচ্ছে। নিম্নে বাংলাদেশী ফলগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হলো-



প্রচলতি ফল



আম- কলা- তেঁতুল



কাঁঠাল- পেঁপে- তাল



লিচু- নারিকেল- ডালিম



পেয়ারা- কামরাঙ্গা- জামরুল



আনারস- চালতা- আমলকী



জাম- আতা- তরমুজ



কুল- লটকন- লেবু



আমড়া- বেল- বাঙ্গি



বিলুপ্ত প্রায় ফল



ডেউয়া- তৈকর- শানতোল



সফেদা- কাউফল- পানিফল



ক্ষুদি জাম- ফলসা- রুটিফল



শরিফা- তুতফল- বেতফল



সাতকরা- লুকলুকি- হরিতকি



করমচা- রাম্বাটান- ডুমুর



গাব- নাশপাতি- জাম্বুরা



অাঁশফল- বিলিম্বি- অড়বড়ই



আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষের পক্ষেই আমদানি করা বিদেশী ফল কিনে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। আমাদের দেশী ফলের পুষ্টিগুণ বিদেশী ফলের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। আমাদের দেশী ফলগুলো অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটির কারণে অল্প পরিচর্যায় বেশি ফলন দিয়ে থাকে। এ জন্য দেশী ফলের আবাদ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।



বাংলাদেশে প্রায় ১৩০ টির মতো ফল রয়েছে। প্রফেসর ড. এম এ রহিমের মতে, বাংলাদেশে মোট উৎপাদিত ফলের ৫৪ শতাংশ বৈশাখ-শ্রাবণ মাসে উৎপাদিত হয়। বৈশাখে ১৩%, জ্যৈষ্ঠে ১৪%, আষাঢ়ে ১৭% সহ মোট ৫৪%। উৎপাদনের এ অসম বন্টনের মধ্যে সারা বছর ফল বাংলাদেশে মোট চাষযোগ্য জমির ২% জমিতে আবাদ হলেও ফসলভিত্তিক জাতীয় আয়ের ১০% আসে ফল থেকে। কৃষিকথা ১৪২২ আষাঢ়-এর হিসাব মতে, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ৯.৬৪ হেক্টর জমিতে প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের ফল উৎপাদিত হয়। দেশে যেসব ফল উৎপাদন হয় তার ৬০% আসে জুন-জুলাই ও আগস্ট মাসে। আমাদের দেশী ফলের পাশাপাশি আঙ্গুর, কমলা, স্ট্রবেরি, প্যাসন ফল, ড্রাগন ফল ইত্যাদি ফলের আবাদ যেভাবে বাড়ছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে এসব ফলও দেশী ফল হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যাবে।



দেশী ফলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ



ফল- পুষ্টিগুণ- ঔষধি গুণ



কাঁঠাল- প্রচুর শর্করা, আমিষ ও ক্যারোটিন রয়েছে।- এর বীজ ও শ্বাস বলবর্ধক হিসেবে কাজ করে। এর শিকড়ের রস জ্বর ও পাতলা পায়খানা নিরাময়ে সহায়তা করে।



আম- প্রচুর ক্যারোটিন, ভিটামিন 'সি' ও ক্যালরি রয়েছে।- আমের ক্যারোটিন সাইনোসাইটিস রোগ নিরাময়ে সহায়তা করে। ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক পদ্ধতির চিকিৎসায় আম ল্যাকজেটিভ, রোচক ও টনিক রূপে ব্যবহার করা হয়। আম রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে।



লিচু- প্রচুর ভিটামিন 'সি' ও খাদ্যশক্তি রয়েছে।- বোলতা বা বিছার কামড়ে এ পাতার রস অত্যন্ত উপকারী। কাশি, পেটব্যাথা, টিউমার ও গ্ল্যাগুর বৃদ্ধি দমনে লিচু কার্যকর।



কলা- ক্যালরি, শর্করা, লৌহ, ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম রয়েছে।- কৌষ্ঠ্যকাঠিন্য দূরীকরণে সাহায্য করে। কলার থোড় ও শিকড় ডায়াবেটিস ও আমাশয়, পেটের পীড়া ও আলসার নিরাময়ে সাহায্য করে।



নারিকেল- এর শ্বাসে প্রচুর আমিষ, চর্বি, শর্করা, ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।- এটি পিত্তনাশক ও কৃমিনাশক, দেহের পানির অভাব পূরণ করে। পেটের পীড়া নিরাময়ে সাহায্য করে।



পেঁপে- প্রচুর ক্যারোটিন ও ভিটামিন পাওয়া যায়।- অজীর্ণ, কৃমির সংক্রমণ, ত্বকে ঘা, একজিমা, কিডনির জটিলতা, ডিপথেরিয়া, পাকস্থলীর আন্ত্রিক ক্যান্সার নিরাময়ে কাঁচা পেঁপের পেপইন ব্যবহার করা হয়।



তেঁতুল- প্রচুর শর্করা, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে।- পেটের বায়ু, হাত-পা জ্বালায় এর শরবত উপকারী, এর টারটারিক এসিড হজমে সহায়তা করে।



আমলকী- প্রচুর ভিটামিন 'সি' ও ক্যালসিয়াম রয়েছে।- এর রস যকৃৎ, পেটের পীড়া, হাঁপানি, কাঁশি, বহুমূত্র, অজীর্ণ, জ্বর, চুল পড়া নিরাময় করে



আম, জাম, কাঁঠালের খাদ্যমূল্য ও পুষ্টিগুণ ছাড়াও ইহার ব্যাপক অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে। এসব গাছের কাঠ দ্বারা উন্নতমানের আসবাবপত্র তৈরি করা যায়। আম, জাম, লিচু, কলা, পেয়ারা, পেঁপে, আমলকী ইত্যাদি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। কৃষকরা দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব ফল বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। যেহেতু আমাদের ফসলভিত্তিক জাতীয় আয়ের ১০ ভাগ ফল হতে আসে। এসব বিক্রি করে জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। দেশী ফলের সংখ্যা বাড়ানো জন্যে ও বিলুপ্তপ্রায় ফলগুলোকে ফিরিয়ে আনার জন্যে আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ফলের চাষ যথাসম্ভব বাড়াতে হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের 'ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষে'র মাধ্যমে আমরাও গাছ লাগাতে আগ্রহী হব। ফলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে পরিকল্পিত ও বিজ্ঞান সম্মত চাষ করতে হবে। ফল সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার উন্নতি করতে হবে। ফল প্রক্রিয়াজাত করার লক্ষ্যে 'প্রাণ'-এর মতো ছোট বড় ও মাঝারি শিল্প স্থাপন করতে হবে। বাণিজ্যিক ভাবে ফল চাষের জন্যে উদোক্তাদের কৃষি ঋণ প্রদান করতে হবে।



উপসংহার : আমাদের দেশি ফলের পুষ্টিগুণ যেমন বেশি, তেমনি সুস্বাদু, দামে সহজলভ্য ও এর মাধ্যমে দারিদ্র্যও বিমোচন করা যায়। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যাক্তির দৈনিক প্রায় ১১০-১২০ গ্রাম ফল খাওয়া দরকার। অথচ আমরা পাচ্ছি মাত্র ৪৫ গ্রাম। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছর বয়স্ক একটি ফল গাছ তার সারা জীবনে আমাদের যে উপকার করে তার আর্থিক মূল্য ৩৬ লাখ টাকা। তাই পুষ্টির চাহিদা পূরণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও দুর্যোগ হতে দেশকে রক্ষা করতে ফলদ বৃক্ষ রোপণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।



 


খবরটি সর্বমোট 10 বার পড়া হয়েছে
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ১,৯০,০৫৭ ১,৩০,৪২,৩৪০
সুস্থ ১,০৩,২২৭ ৭৫,৮৮,৫১০
মৃত্যু ২,৪২৪ ৫,৭১, ৬৮৯
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৭৩৮৯
পুরোন সংখ্যা