চাঁদপুর, রবিবার ২৪ মে ২০১৫ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২২ | ৫ শাবান ১৪৩৬
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

১৯-সূরা : র্মাইয়াম

৯৮ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহ্র নামে শুরু করছি।



৬৫। তিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও তাহাদের অন্তবর্তী যাহা কিছু, তাহার প্রতিপালক। সুতরাং তাঁহারই ‘ইবাদত কর এবং তাঁহার ‘ইবাদতে ধৈর্যশীল থাক। তুমি কি তাঁহার সমগুণ সম্পন্ন কাহাকেও জান?

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

 


একটি মহৎ আত্মা সমুদ্রে ভাসমান জাহাজের মতো।

-ফ্লেচার।


নিরপেক্ষ লোকের দোয়া সহজে কবুল হয়।

  - হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
সরিষা-বোরো ধান মিশ্র ফসল আবাদে সাফল্য
মু. আবদুল লতিফ ছিদ্দিকী
২৪ মে, ২০১৫ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

বরিশালের অশিক্ষিত কৃষক হরিদাস, কৃষি বিজ্ঞানী না হয়েও হরি ধান উদ্ভাবন করে চারিদিকে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে। মিডিয়ার বদৌলতে হরিপদের নাম এখন সবার মুখে মুখে। হরিদাসকে দেয়া হয়েছে স্বাধীনাত্তোর পুরস্কার '০৭। এ বিরল সম্মাননা এই প্রথম বারের মতো কোন কৃষক পেলো। ঠিক তেমনিভাবে চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৫নং উপাদী উত্তর ইউপি এর নওগাঁও গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামের প্রত্যন্ত পল্লী অঞ্চলের কিছু উৎসাহী উদ্যোগী কৃষক এ উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে সাহস ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রচলিত ধান উৎপাদনের ব্যতিক্রমধর্মী ধারার সৃষ্টি করেছেন অনেক কৃষক। যা ''সরিষা+বোরো ধান মিশ্র চাষ'' হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। আমাদের দেশে ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। লাভজনক ও টেকসই প্রযুক্তিটির জনপ্রিয়তা। দিন দিনই প্রসারিত হচ্ছে। গত ৩/৪ বছর উল্লেখিত পদ্ধতিতে আবাদকৃত সরিষা+বোরো ধান মিশ্র চাষকৃত চাষী এবং এলাকার মেম্বার এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান মাস্টারের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে সরিষা+বোরো ধান মিশ্র চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হওয়ার জন্য ঐ এলাকার চাষীদের পক্ষ থেকে চাষী অলিউল্লাহ এবং মতিন মৃধা (ইউপি মেম্বার) একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) মু. আবদুল লতিফ ছিদ্দিকী।

নিচে আলাপচারিতাটি তুলে ধরা হলো ঃ

এস.এ.এ.ও. :.কোথায় থেকে এ চাষ পদ্ধতিটি শিখেছেন?

কৃষক : পার্শ্ববর্তী উপজেলা দাউদকান্দির এক কৃষক থেকে (সম্পর্কে আত্মীয়)

এস.এ.এ.ও. : কত বৎসর যাবৎ এ পদ্ধতিতে চাষ করছেন?

কৃষক : ৩/৪ বৎসর যাবৎ।

এস.এ.এ.ও. : চাষ পদ্ধতিটি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বলুন?

কৃষক : জমি তৈরি- চাষ ঃ ৩/৪টি চাষ দিতে হবে। তবে জমি ভেজা হলে ৪টি চাষ দিলে ভাল হয়। প্রথমবার আড়াআড়িভাবে ২টি চাষ দিয়ে জমি রৌদ্রে মেলে রাখতে হবে। কারণ এতে আগাছা মরে যায়। শেষের (৩/৪) চাষের সময় ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ, জিপসার ও দস্তা সার জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। ব্যাচাল ডোজ হিসেবে ৩ ভাগের ১ ভাগ ইউরিয়া দিতে হবে।

এস.এ.এ.ও. : কি পরিমাণ সার ও বীজ দিতে হবে (হেক্টর প্রতি কেজিতে)?

কৃষক : সারঃ ইউরিয়া ৮০. টিএসপি ১০০, পটাশ ৮০. দস্তা ১২। বীজ ঃ ৪০, সরিষা ৪/৫।

এস.এ.এ.ও. : ইউরিয়া সার কখন কখন উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

কৃষক : বীজ গজানোর ৮/১০ দিন পর হেক্টর প্রতি ৮০ কেজি ইউরিয়া সার প্রথম বার ঃ উপরি প্রয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয় বার ঃ আরো ৭/১০ দিন পরে হেক্টর ২০০ কেজি ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হবে। সরিষা কর্তনের পর জমিতে সেচ দিয়ে কলা গাছ দ্বারা মই দিয়ে আগাছা দমন করতঃ ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করলে কয়েক দিনের মধ্যে দ্রুত কুশি বের হয়ে ধান গাছে ক্ষেত ভরে যাবে। এরপর শুধু নিয়মতান্ত্রিক পরিচর্যা করলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে।

এস.এ.এ.ও. : ফলন সম্পর্কে (সরিষা+বোরো) আমাদেরকে একটু অবহিত করবেন কি?

কৃষক : আবহাওয়া চাষাবাদে অনুকূলে থাকলে সরিষা হেক্টর প্রতি ১.২ টন (শুকনা), ধান হেক্টর প্রতি ৪/৫ টন (শুকনা)।

এস.এ.এ.ও. : বাংলাদেশ ধান গবেষণাগারের বৈজ্ঞানিকগণ আপনার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দেখতে আসবেন। আপনার অনুভূতি কি?

কৃষক : এটা খুবই খুশির সংবাদ। এক কথায় আমরা খুব খুশি।

চেয়ারম্যান/মেম্বার : এ চাষ পদ্ধতিটি বিজ্ঞানীগণ দেখে গেলে এই চাষ পদ্ধতিটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে বলে আমরা আশাবাদী।

এস.এ.এ.ও. : এ চাষ পদ্ধতির সুবিধা কি?

কৃষক : খরচ কম, লাভ বেশি। কেননা বীজতলায় চারা ফেলতে হয় না, চারা উঠাতে হয় না, চারা রোপণ করতে হয় না। পোকামাকড়ের আক্রমণ কম, ফসল আগে আসে।

এস.এ.এ.ও. : বাংলাদেশের কৃষকদের উদ্দেশ্যে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

কৃষক : দেশের যে সব অঞ্চলে উল্লেখিত পদ্ধতিতে মিশ্র চাষের উপযোগিতা/পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে, ঐ সমস্ত এলাকার চাষী ভাইয়েরা এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতঃ সরিষা/ধানের আবাদ বৃদ্ধি করতঃ দেশের খাদ্য/ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরণ করতঃ শস্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমে নিজের এবং দেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে পারেন বলে আমি আশা করি।

এস.এ.এ.ও. : কষ্ট করে এতোক্ষণ উল্লেখিত চাষ পদ্ধতিটি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য আমাদেরকে প্রদানের জন্য আপনাদেরকে কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের তরফ থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

কৃষক : আমাদের মতো অশিক্ষিত কৃষক কর্তৃক উদ্ভাবিত চাষ পদ্ধতিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণাগার (ধান) পর্যন্ত পেঁৗছানোর জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা

উপজেলা কৃষি অফিস, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর। মোবা : ০১৭১৪৫০১০২৭।

খবরটি সর্বমোট 6 বার পড়া হয়েছে
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৮৬৬১৬
পুরোন সংখ্যা