চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৮ এপ্রিল ২০২১, ২৫ চৈত্র ১৪২৭, ২৪ শাবান ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
চাঁদপুর পুরাণবাজার শ্রী শ্রী রামঠাকুর দোল মন্দিরের ৯৫তম বার্ষিক দোল উৎসব ও দোল উৎসবের ইতিকথা
রিপন কুমার সাহা
০৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শ্রী শ্রীরামঠাকুর তখন অবিভক্ত ভারতের অন্যতম নদী বন্দর শহর ও বর্তমান বাংলাদেশের জেলা শহর চাঁদপুরে রোহিণীকুমার মজুমদার মহাশয়ের বাসায় রয়েছেন। কথা ছিলো কলকাতা যাওয়ার, কিন্তু রওনা হওয়ার মুহূর্তে তিনি কলকাতা যাত্রা বাতিল করে 'তারপাশা' অভিমুখে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেন। শেষ পর্যন্ত শ্রীশ্রী ঠাকুর রোহিণীবাবুর অনুরোধে চাঁদপুরেই দোল উৎসবের স্থান ঠিক করলেন। তখন চাঁদপুরে শ্রীশ্রী ঠাকুরের আশ্রিত ছিলেন মাত্র তিনজন। কারও উৎসব সম্বন্ধে কোনো ধারণাই ছিল না। যাই হোক, দোল উৎসবের বার্তা দিয়ে চিঠি পাঠানো হলো কুমিল্লা, ফেণী, ঢাকা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম শহরে।



শ্রীশ্রীঠাকুর ফর্দ তৈরি করে দিলেন এবং উপেনবাবুকে পৌরোহিত্য করার আদেশ দিলেন। শুনে অনভিজ্ঞ উপেনবাবু কেঁদে ফেললেন। নিজেকে খুব অসহায় বোধ করতে লাগলেন। কিন্তু তিন ভূবনের অধিপতি যেখানে অনুষ্ঠানের কর্তা এবং স্বয়ং উপস্থিত, যাঁর আদেশে উনি পূজা করবেন, তাঁর আবার ভয় কী ?



ঠাকুর একটু হেসে উপেনবাবুকে পূজার নিয়ম বলে দিলেন এবং বললেন, 'আপনার কোন চিন্তা নাই, যাহা করিতে হয় আমিই করিব।' দুপুরবেলা ঠাকুরকে দোলায় বসিয়ে উপেনভাই পূজা করলেন এবং খিচুড়ি, তরকারি, মিষ্টান্ন, দধি ও সন্দেশ দিয়ে ভোগ নিবেদন করলেন। চাঁদপুরের বাইরের কোনো ভক্ত তখনও এসে পেঁৗছতে পারেন নি। স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে শুধু ডাঃ অন্নদাচরণ সেন ও ইম্পিরিয়াল ব্যাংকের ক্যাশিয়ার সুরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় এই উৎসবে যোগদান করেছিলেন। বিকেলে ফেণী হতে প্রমথদা, ঢাকা, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা হইতে দশ-বারো জন গুরুভ্রাতা এসে পেঁৗছলেন। চাঁদপুরের নতুনবাজার ও পুরাণবাজারের অনেক ভক্তও রাতে প্রসাদের জন্যে নিমন্ত্রিত হয়েছিলেন, আবার নিমন্ত্রিতদের মধ্যে ব্রাহ্মণও আছেন, কিন্তু কেউই ঠাকুরের আশ্রিত নন, তবে প্রত্যেকেই ঠাকুরকে খুব ভক্তি করতেন।



ভোগের জন্যে দশ সের ময়দা, সেই অনুপাতে ছোলার ডাল, তরকারি, মিষ্টান্ন ও রসগোল্লার ব্যবস্থা করা হলো। সন্ধ্যার পরে ঠাকুরকে দোলায় বসিয়ে পূজা ও ভোগ-আরতি হবে বলে সমস্ত উপকরণ উপেন সাহাবাবু ও ধীরেন সোমবাবু সংগ্রহ করেছেন। রোহিনীবাবু নিমন্ত্রিতদের জন্যে কয়েকটি কাপ ও প্লেট দোকান হতে আনার জন্যে বের হতে যাবেন, এমন সময় দেখলেন সদর গেটের নিকট বহু লোকের ভিড় জমেছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলতেছেন, "দেখিতে হইবে রোহিণী-মাস্টার মানুষকে দোলায় বসাইয়া তুলসীপত্র পায়ে দিয়া কেমন করিয়া পূজা করে।" কাপ ও প্লেট নিয়ে ফিরে এসে রোহিণীবাবু দেখলেন অনেক লোক তার বাসায় এসে উপস্থিত হয়েছেন। উপেনবাবু সময়মত পূজা সমাপন করে আরতি আরম্ভ করলেন। যে ঘরটিতে পূজা হচ্ছে সে ঘরটি ৭০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট চওড়া। আরতির সময় ঘরটিতে তিলার্ধর্ পরিমাণ স্থানও নেই। মনে হলো এসব লোক বোধহয় কৌতুক দেখতে এসেছেন। আরতির শেষে দেখা গেল ঠাকুরের পায়ে (চরণে) আবির দেবার জন্যে খুব ঠেলাঠেলি হচ্ছে। আবির খুব বেশি পরিমাণে না থাকায় দোলা হতে ঠাকুর তাঁর পায়ের কাছের আবির েদেখিয়ে বলিলেন, 'ঐ আবিরগুলি তুলিয়া দেন।' এই ব্যবস্থায় উপস্থিত প্রায় সকলেই শ্রীশ্রীঠাকুরের শ্রীপাদ পদ্মে আবির দিতে পারলেন। ঠাকুর ঘরে চলে গেলেন, এদিকে সবাই প্রসাদ নেয়ার জন্যে অপেক্ষা করতে লাগলেন। প্রসাদের পরিমাণ সামান্য, প্রায় চারশ' লোক উপস্থিত, এত লোকের প্রসাদের ব্যবস্থা কি হবে ? ভীষণ চিন্তিত ও ভীত হয়ে পড়লেন রোহিণীবাবু। তার মনের কথা শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকট সব জানালে তিনি বললেন, 'যান, সবাইকে প্রসাদ দেন গিয়া।' রোহিণী বাবু বলেন, কম্পিত দেহে বাইরে আসলে প্রমথদা আমাকে এক স্থানে বসিয়ে রেখে উপেনবাবুকে নিয়ে আমার ছোট বাগানে গিয়ে অনেক কলার পাতা কেটে আনলেন। কলাপাতায় করে প্রমথ বাবু ও উপেন বাবু প্রসাদ দিতে আরম্ভ করলেন। রাত বারোটা পর্যন্ত প্রসাদ বিতরণ করা হলো, তবুও প্রসাদ শেষ হলো না, সবাই বসে বেশ তৃপ্তি সহকারে প্রসাদ খেলেন। ঠাকুরের অসীম দয়া ! কিভাবে এত লোকের সমাগম ও প্রসাদ বিতরণ হলো বুঝতে পারেন নি রোহিণী বাবু।



এভাবে চাঁদপুর শহরের নতুন বাজারে পর পর চার বছর দোল উৎসব অনুষ্ঠিত হবার পর ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে জগবন্ধু সাহা মহাশয় নিজ উদ্যোগে পুরাণবাজারের ত্রিবেণী সঙ্গমে ( পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থল) নিজ বাড়িতে দোল উৎসব আয়োজন করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর ভক্তিমতি বিধবা সহধর্মিণী নিঃসন্তান থাকায় তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ঠাকুরের নামে দান করে দিলে সকল রামাশ্রিত ও অনুরক্ত ভক্তদের দানে বর্তমান স্থানে গড়ে উঠে শ্রী শ্রী রামঠাকুর দোল মন্দির।



দোল মন্দির নির্মাণে এবং দোল উৎসবের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সর্বজনশ্রদ্ধেয় প্রয়াত গুরু ভ্রাতা জগবন্ধু সাহা ও তাঁর স্ত্রী রেনুকা প্রভা সাহা, যাদব সাহা, সুনীল রাহা ও অনীল সাহা মহাশয়রা চিরস্মরণীয়।



শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির, ডিঙ্গামানিকের ঠাকুরের বংশধর মোহন্ত মহারাজগণ সবসময়ই দোল মন্দিরের প্রতি বিশেষ নজর রাখতেন এবং বর্তমান পূজ্যপাদ পঞ্চম মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ ধূর্জটি প্রসাদ চক্রবর্তী মহাশয় তরুণ ও নিবেদিত রামাশ্রিতদের সমন্বয়ে বর্তমান মন্দিরের প্রভূত উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। এ মন্দিরে শ্রী শ্রী কৈবল্যধাম, চট্টগ্রামের পূজ্যপাদ চতুর্থ মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ ভবতোষ বন্দোপাধ্যায় ও ডিঙ্গামানিকের পূজ্যপাদ তৃতীয় মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ সুনীল কুমার চক্রবর্তী এবং পূজ্যপাদ পঞ্চম মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ বিমলেন্দু বিকাশ রায় চৌধুরী ও পূজ্যপাদ চতুর্থ মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ কালী প্রসাদ চক্রবর্তী তথা দুই ধামের মহারাজদের একত্রিত উপস্থিতিতে রামাশ্রিতদের মাঝে যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও চির স্মরণীয়।



তথ্য সূত্র : 'শ্রীগুরু শ্রীশ্রী রামঠাকুর' শ্রীরোহিণীকুমার মজুমদার ও রেনুকা প্রভা সাহার সাথে লেখকের আলোচনা।



 



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২-সূরা বাকারা


২৮৬ আয়াত, ৪০ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৮। আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও রহিয়াছে যাহারা বলে, 'আমরা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান আনিয়াছি' কিন্তু তাহারা মু'মিন নহে;


৯। আল্লাহ এবং মু'মিনগণকে তাহারা প্রতারিত করিতে চাহে। অথচ তাহারা যে নিজদিগকে ভিন্ন কাহাকেও প্রতারিত করে না, ইহা তাহারা বুঝিতে পারে না।


 


এমন প্রাসাদ তৈরি করো না, যা তুমি বাসযোগ্য করতে পারবে না।


_আল-ফকরি।


 


 


বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কর্তৃক অভিনন্দিত হবেন।


 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৬,৪৪,৪৩৯ ১৩,২১,৯৪,৪৪৭
সুস্থ ৫,৫৫,৪১৪ ১০,৬৪,২৬,৮২২
মৃত্যু ৯,৩১৮ ২৮,৬৯,৩৬৯
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৯০২৬৮
পুরোন সংখ্যা