চাঁদপুর, রোববার ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২ কার্তিক ১৪২৭, ৩০ সফর ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
ধর্ষণ-মহামারি ও আমাদের মনুষ্যত্ববোধ
এসএম আনওয়ারুল করীম
১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ধর্ষণ। তিন অক্ষরের একটি ঘৃণ্য শব্দ। এটি এখন সমাজের বিষফোঁড়া। জোরপূর্বক নারীকে ঘর্ষণে বর্ষণ হওয়াকে ধর্ষণ বলা হয়। মাতৃজাতি নারীর প্রতি দিন দিন এই ধর্ষণ-পাশবিকতা বেড়ে চলেছে। দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি পাচ্ছে না অপরাধীরা। উল্টো আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে তারা পগার পার হওয়ার সুযোগ রপ্ত করছে অবলীলায়। ফলে মানুষরূপী জানোয়ারগুলো দিন দিন হিংস্র থেকে হিংস্রতর হচ্ছে। নারীর সম্ভ্রম খুবলে খেতে খেতে কবে যে তারা মানচিত্রটা চিবিয়ে খেতে ফোকলা দাঁতে হাসবে তা-ই এখন শঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



বর্তমানে বিশ্বব্যাপি করোনা মহামারির ভয়াবহতা বিরাজমান। অথচ আমাদের পশুরাজ ছেলেরা তা থোরাই পরোয়া করছে। বরং তাদের জৈবিক উন্মত্ততা কুকুরীর উপর লাফিয়ে ওঠা লোলুপ কুকুরকেও হার মানিয়েছে। আজ ধর্ষণ যেন কোভিড-১৯ তথা করোনা মহামারির চেয়েও ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। ধর্ষণ ও বলাৎকারের ঘটনা আইয়ামে জাহেলিয়াকে হার মানিয়েছে। আড়াই বছরের শিশু থেকে ষাটোর্ধ্ব নারীও পুরুষরূপী হায়েনার কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না। আইয়ামে জাহেলিয়ায় কন্যাসন্তানকে কৌলিন্যের উপসর্গ মনে করা হতো বটে। ফলে তখন শিশুহত্যার কথা ইতিহাসে প্রসিদ্ধ। কিন্তু সেই যুগেও কোনো শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানা যায় না। অথচ আজকের আধুনিক যুগে এসে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ধর্ষণের সেঞ্চুরি পালন করে মিষ্টি বিতরণের খবর শুনতে হয় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে। ধর্ষিতাকে আর্তনাদ আর বিলাপে আরশ কাঁপাতে হয় অসহায়ভাবে।



স্বামীকে বেঁধে রেখে তার চোখের সামনে সিলেট এমসি কলেজে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ঘটল ভয়ানক নারকীয় তা-ব। সেখানে স্বামীকে বেঁধে রেখে একজন মধ্যবয়সী গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে যেভাবে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, নির্যাতনের শিকার অবলা নারীর করুণ আর্তনাদে যেভাবে বাতাস ভারী হয়েছে, তাতে আমরা মানুষ হিসেবে কতটা তলানিতে পৌঁছেছি তা ভাবতেই লজ্জায় মাথা নুয়ে আসে। ইতোমধ্যে লাখো শহিদের রক্তে অর্জিত আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ বিশ্বে ধর্ষণের তালিকায় সর্বোচ্চ আসনে রয়েছে বলেও পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। এ লজ্জা লুকোবার জায়গা কোথায়?



নোয়াখালীতে এক মায়ের প্রতি যে নির্মমতা ও পাশবিকতার ভিডিও সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হলো তাতে জাহেলি যুগও লজ্জা পাওয়ার কথা। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, কথিত নারী অধিকারের সস্নোগান তুলে যাদের মুখের ফেনা ঘন হতো তারা এই দুঃসময়ে রহস্যজনকভাবে মুখে কুলুপ এঁটে দর্শকের গ্যালারিতে রয়েছেন। তলিয়ে দেখার বিষয় হলো, আসলেই কি আমরা মানুষের তালিকায় আছি নাকি আমাদের মনুষ্যত্ববোধ প্রাচীরপিষ্ট হয়ে পড়েছে? ধর্ষকদলের পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে কি আমাদের মনুষ্যত্ব? নাকি সেই নারীর সাথে বিবস্ত্র হয়েছে আমাদের মনুষ্যত্বের পোশাক?



১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ফলে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। পেয়েছি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। সে সময় পাকিস্তানি হানাদাররা অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জত কেড়ে নিয়েছিল। তাদের সম্ভ্রমের ফলে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। পেয়েছি সার্বভৌম বাংলাদেশ। তখন আব্রু-ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের লাঞ্ছিত বীরাঙ্গনারা আমাদেরকে স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। কিন্তু আজ স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরও যদি সোনার বাংলায় ধর্ষিতার আহাজারি শুনতে হয়! ধর্ষিতার ক্রন্দনে যদি খোদার আরশ কেঁপে ওঠে! 'আল্লাহর দোহাই বাবা, আঁরে ছাড়ি দে' বিলাপধ্বনিতে যদি কারও বুকে কম্পন সৃষ্টি না হয় তাহলে কি আবারও আমাদেরকে পরাধীনতার কল্পনা করতে হবে? এই বাংলাদেশ পাওয়ার জন্যই কি আমাদের দামাল ছেলেরা হায়েনার বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল? ধর্ষিতা মায়ের আর্তনাদ শোনার জন্যই কি বীরাঙ্গনারা নিজেদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে সোনার দেশ এনে দিয়েছিল? আজ লাখো শহিদের আত্মা কি ধর্ষিতা মায়ের আর্তনাদ শুনতে পায়?



নোয়াখালীতে মধ্যবয়সী নারীকে বিবস্ত্র করা হয়নি; বিবস্ত্র হয়েছে বাংলাদেশ। এমসি কলেজে গৃহবধূকে গণধর্ষণ করা হয়নি; গণধর্ষণের শিকার হয়েছে আমাদের মা ও মাটি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরি উৎসব পালিত হয়নি; বরং আমাদের সকল অর্জন ও ইতিহাসের তিলকে কালিমা লেপন করা হয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদেরকে ভর্ৎসনা করে বলেছিলেন, 'সাত কোটি বাঙালিরে হে মুগ্ধ জননী; রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করোনি।' তবে কি সত্যিই আমরা মানুষ হতে পারিনি? নাকি দৃশ্যত মানুষ হলেও পশুত্বের কাছে পরাজয়বরণ করেছি? নাকি হারিয়ে ফেলেছি মনুষ্যত্ববোধ? কান পেতে থাকলে হয়তো শুনতে পাব, শহিদের আত্মা আমাদের দুয়ারে করাঘাত করে বলছে_ 'আবার তোরা মানুষ হ।'



মূলত আমরা অনেকে আপাদমস্তক মানুষ হলেও আদতে আমরা পশুর চেয়ে অধম হয়ে পড়েছি। পশুরা চারপায়া জন্তু আর আমরা দু'পায়া_ এই আমাদের পার্থক্য। প্রতি বছর কোরবানি আমাদেরকে পশুর গলে ছুরি দেওয়ার আগে মনের মাঝে ঘাপটি মেরে থাকা পশুত্বকে জবাই করার শিক্ষা দেয়। কিন্তু সেই শিক্ষাকে কি আমাদের জীবনপথের পাথেয় বানাতে পেরেছি? আসল কথা হলো, ওলামা, মাশায়েখ, খতিব, ইমাম আর ওয়ায়েজিনদের বক্তব্য আমরা কান সুখ দেওয়ার জন্য শুনে থাকি; আমলের জন্য নয়। যদি তাই না হতো, তাহলে দিন দিন ওয়াজ নসিহতের সংখ্যা বাড়লেও আমাদের সন্তানরা 'মানুষ' হচ্ছে না কেন? এখন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসার শিক্ষক, গির্জা, চার্চের পুরোহিত, মন্দিরের ঠাকুর পর্যন্ত ধর্ষকের তালিকায় নাম লেখাচ্ছে! আসলে আমরা কোন্ দিকে যাচ্ছি? আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা কোন্ পথের দিকে ঠেলে দিচ্ছি?



পবিত্র কুরআনের সূরা নূরে ব্যভিচার ও ধর্ষণের কঠোর শাস্তির বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। অবিবাহিত ব্যভিচারী পুরুষ ও নারীকে শত বেত্রাঘাত এবং বিবাহিত ব্যভিচারী নারী ও পুরুষকে বুক পরিমাণ গর্তে পুঁতে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদ- কার্যকরের বিধান প্রদান করা হয়েছে। মূলত ব্যভিচার নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মতিতে হয়ে থাকে। তারপরও ইসলামে এমন অপরাধীর শাস্তি এতটা ভয়াবহ। অথচ ধর্ষণ হলো নারীর অসম্মতিতে জোরপূর্বক তার সাথে যৌনক্রিয়া চরিতার্থ করা। এ কারণে এ অপরাধের শাস্তি আরও জঘন্যতম। আর তাহলো, তাদেরকে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে পাঠাতে হবে। ইসলামি রাষ্ট্রের বিচারক তাকে পাহারের চূড়া হতে হাত পা বেঁধে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিবেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত তাকে এ শাস্তি দেওয়া হবে। কিংবা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাকু দিয়ে পুঁচিয়ে তাতে লবণ মরিচ দিয়ে জনসম্মুখে শূলিতে চড়াবে। কারণ এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করা হলে অন্য কেউ অপরাধের দিকে এগুতে সাহস পাবে না।



আমরা কি একটিবারও ভেবে দেখেছি যে, যে নারীটি এই অসহায় ধর্ষণের শিকার_ সে আমার মা হতে পারত! কিংবা হতে পারত আমার বোন! হতে পারত আমার কন্যা! এ বিষয়টি ধর্ষকরা কি একটিবারের জন্যও ভাবার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেনি? হাদিসে এসেছে এক ব্যভিচারী ব্যক্তি নবি করিম (স)-এর কাছে এলো। নবীজি তাকে বললেন, তুমি কি তোমার মায়ের সাথে এমনটি করতে পছন্দ করবে? লোকটি বলল, কখনও না। নবীজি বললেন, তবে তোমার খালা কিংবা ফুফুর সাথে পারবে? সে বলল, না। নবীজি বললেন, তবে কি তোমার বোনের সাথে এমনটি মেনে নেবে? জবাবে সে বলল, প্রশ্নই আসে না। এবার প্রিয়নবী (স) বললেন, তবে তুমি যার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে সে তো কারও মা, কারও খালা কিংবা বোন!! নবীজির এ কথায় লোকটির মনুষ্যত্ববোধ জেগে ওঠল। সে তৎক্ষণাৎ তওবা করে এহেন অন্যায় কাজ হতে ফিরে এলো। তাই আজ ধর্ষণ প্রতিরোধে প্রয়োজন ধর্মীয় অনুশাসন। প্রয়োজন অপরাধীকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা। প্রয়োজন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। সববেয়ে বড় প্রয়োজন মনুষ্যত্ববোধ।



এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক ড. আলী তানতাবী (র)-এর কণ্ঠে যুবকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই_ হে যুবক বন্ধু আমার! তোমার কি হুঁশ ফিরবে না? তোমার ভাবনার তরী কি তীরে ভিড়বে না? তুমি বিদ্যা অর্জন কর সমস্যা নেই। তুমি সমাজ উন্নয়নে কাজ কর সমস্যা নেই। কিন্তু এমন কোনো কাজের কাছে যেও না, যা তোমাকে আপন সৃষ্টিকর্তাকে ভুলিয়ে দেয়! কারণ তোমার রব তোমাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাইতো তুমি তোমার পালনকর্তার অভিমুখী হও এবং তার আজ্ঞাবহ হও। তোমার জন্য রয়েছে জান্নাত। যার নিম্নদেশে প্রবাহিত হয় ঝর্ণাধারা। এসো নবীন মুসলিম যুবক! এসো নওজোয়ান! দ্বীনের পথে মোদের সাথে। বন্ধু! হও আগোয়ান।



হে যুবক! তুমি সাবধান হও!! কারণ মৃত্যুর পরই আসবে এক কঠিন সত্য। তা হলো, হাশর। সেখানে যার আমলনামা বাম হাতে দেওয়া হবে সে বলবে, হায়! আমার আমলনামা যদি আমাকে আদৌ দেওয়াই না হতো এবং আমার হিসেব যদি আমি আদৌ না জানতাম! তাহলে কতই না ভালো হতো! হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হতো। আজ আমার অর্থ-সম্পদও কোনো কাজেই আসল না। আমার সকল ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বরবাদ হয়ে গেল। [সূরা আল হাক্কাহ : ২৫-২৯]



এবার ঠা-া মাথায় ভেবে দেখ, কী হওয়া উচিত তোমার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য! আরও ভাব যে, তোমার ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন নাজাতের লক্ষ্যে কী প্রয়োজন_ এই দুনিয়ার প্রতিপত্তি, নাকি আখেরাতের মুক্তি?



হে যুবক, তোমার মতোই যৌবনদীপ্ত ছিলেন হজরত ওমর (রা)। তোমার মতোই টগবগ করত হজরত আলী (রা)-এর রক্ত। ইতিহাসে তারা আজও সোনার মানুষ। তুমিও এগিয়ে আসো কল্যাণের পথে। এসো নাজাতের রথে। এসো আমাদের মা ও বোনের ইজ্জত রক্ষায় নিজে সচেতন হই। অন্যকে সচেতন হতে আহ্বান জানাই। এসো ধর্ষককে চরমভাবে ঘৃণা করি। ধর্ষণকে 'না' বলি।



লেখক : মুহাদ্দিস, গবেষক ও প্রাবন্ধিক; আলোচক, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন; খতিব, হাজি শরিয়তউল্লাহ জামে মসজিদ, চাঁদপুর।



 



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৯-সূরা নাযি 'আত


৪৬ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৩। ইহা তো কেবল এক বিকট আওয়াজ,


১৪। তখনই ময়দানে উহাদের আবির্ভাব হইবে।


১৫। তোমার নিকট মূসার বৃত্তান্ত পেঁৗছিয়াছে কি?


১৬। যখন তাহার প্রতিপালক পবিত্র উপত্যকা তুওয়া-য় তাহাকে আহ্বান করিয়া বলিয়াছিলেন,


 


 


assets/data_files/web

সৌভাগ্য এবং প্রেম নির্ভীকের সঙ্গ ত্যাগ করে।


-ওভিড।


 


 


 


যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে (অর্থাৎ মুসলমান বলে দাবি করে) সে ব্যক্তি যেন তার প্রতিবেশীর কোনো প্রকার অনিষ্ট না করে।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৮৭,২৯৫ ৩,৯৬,৩৮,১৮৮
সুস্থ ৩,০২,২৯৮ ২,৯৬,৭৮,৪৪৬
মৃত্যু ৫,৬৪৬ ১১,০৯,৮৩৮
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬২০৩৬৩
পুরোন সংখ্যা