চাঁদপুর, বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১ আশ্বিন ১৪২৭, ২৭ মহররম ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • মতলব উত্তরের আমিরাবাদ এলাকায় মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের মুল বেড়িবাঁধে মেঘনার আকস্মিক ভাঙ্গন শুরু
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৬-সূরা দাহ্র বা ইন্সান


৩১ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬। এমন একটি প্রস্রবণ যাহা হইতে আল্লাহ্র বান্দাগণ পান করিবে, তাহারা এই প্রস্রবণকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করিবে।


৭। তাহারা কর্তব্য পালন করে এবং সেই দিনের ভয় করে, যেই দিনের বিপত্তি হইবে ব্যাপক।


 


 


অশিক্ষিত সন্তানের চেয়ে সন্তান না থাকাই ভালো।


-জন হে উড।


 


 


 


কবরের উপর বসিও না এবং উহার দিকে মুখ করিয়া নামাজ পড়িও না।


 


 


ফটো গ্যালারি
রঘুনাথপুর বাজার গণহত্যা দিবস পালিত
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


১৯৭১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুর জেলার কচুয়া ও হাজীগঞ্জ উপজেলার সীমানায় বোয়ালজুরি খালের উভয় পাড়ে অবস্থিত রঘুনাথপুর বাজারটিতে হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার আলবদর বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে প্রায় অর্ধশত লোক শহীদ হন। এ শহীদদের স্মরণে গঠিত রঘুনাথপুর বাজার শহীদ স্মৃতি সংসদ কর্তৃক গত ৮ সেপ্টেম্বর বাদ আসর দোয়ার অনুষ্ঠান ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার আবুল বাসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কাদলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া, কাদলা সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক মোঃ মফিজুল ইসলাম সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।



সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার আবুল বাসার ৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনাবলি বিস্তারিত তুলে ধরেন, যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সমাধি স্থান (কবর) পাকা করার জন্য চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয় সমীপে আবেদন করার অনুরোধ জানান এবং রঘুনাথপুর বাজারটির সার্বিক উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন। সভাপতির বক্তব্য শেষে দোয়ার অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রঘুনাথপুর বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ মোস্তফা কামাল।



ঘটনাবলি : রঘুনাথপুর বাজারটি মুক্তিযুদ্ধকালীন চাঁদপুর জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অত্যন্ত নিরিবিলি স্থানে একটি অবহেলিত স্থান ছিল। বর্ষাকালে এ বাজারে নৌপথে আসা ছাড়া অন্য কোনো গত্যান্তর ছিলো না। বাজারটিকে মুক্তিযুদ্ধকালীন নিরাপদ বেচাকেনার স্থান এবং মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বেছে নিয়েছিলো। সপ্তাহে কেবলমাত্র বুধবার এ বাজারটি বসে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ বাজারে প্রতি বুধবার অর্ধ লক্ষাধিক লোকের সমাগম হতো।



মন্তা নামের এক লোক হাজীগঞ্জ থেকে এসে এ বাজারে পাট ব্যবসা করতো। সে রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করেছিলো। মুক্তিযুদ্ধকালীন জমজমাট এই বাজারটিতে পাট ব্যবসার নামে, কখনো ছদ্মবেশে এসে এই মন্তা তার সহযোগীদের দ্বারা বাজারের আশেপাশে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান এবং বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত হয়ে হাজীগঞ্জ ক্যাম্পে গিয়ে পাকবাহিনীর সাথে আলাপ করে রাজাকার বাহিনী দ্বারা বাজারটিতে পরিকল্পিত হামলার ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়।



১৯৭১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বুধবার। সে দিন ছিলো রঘুনাথপুর বাজারের সাপ্তাহিক হাটবার। প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়েছিল বাজারে। ভরা বর্ষায় চতুর্দিক থেকে নৌকাযোগে ক্রেতা-বিক্রেতায় বাজারটি ছিলো পরিপূর্ণ। আনুমানিক বিকেল ৩টায় ৫০/৬০ জন রাজাকার ৬/৭টি নৌকায় টোরাগড় গ্রামের রাজাকার কমান্ডার বাচ্চুর নেতৃত্বে রঘুনাথপুর বাজারের দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবেশ করে। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন তখন ছিলেন বাজারের দিঘির পূর্ব-উত্তর কোণের বগীরমার বাড়ি বলে পরিচিত বাড়িটির দক্ষিণ পাশের একটি নৌকাতে। তিনি রাজাকারদের আগমন টের পান এবং এলএমজি তাক করেন আক্রমণ করার উদ্দেশে। কিন্তু তাঁর সহযোগীরা বাজারের লোকের জান-মালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় এ আক্রমণে তাকে বারণ করেন। এ সময় রাজাকারদের পূর্ব নিয়োজিত ইনফরমারদের দেয়া তথ্য অনুসারে পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনকে গুলি করে হত্যা করে তাদের অপারেশনের প্রথম বাধা দূর করে। তারপর রাজাকাররা ফাঁকা গুলি চালিয়ে সমস্ত বাজারে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। বাজারের অপ্রস্তুত লোকজন গুলির আওয়াজে জ্ঞানশূন্য হয়ে বিভিন্ন দিকে পালাতে শুরু করেন। বাজারের মধ্যবর্তী বোয়ালজুরি খালের ওপরে বর্তমান নতুন ব্রিজটির প্রায় ২০০ গজ দক্ষিণে ছিলো কাঠের পুল। কাঠের পুলের পশ্চিমপাড়ে পাটের ব্যবসায়ী রাজাকার মন্তা রাইফেল হাতে সহযোগী রাজাকারদের গাইড লাইন দিচ্ছে দেখে পাট মাপার কাজে নিয়োজিত তারাপল্যা গ্রামের সাহসী যুবক শামছুল হক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি দৌড়ে এসে রাজাকার মন্তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলেন, 'মন্তা তুই! এ বাজারের লোক হয়ে তুই কিভাবে এই বাজার আক্রমণ করতে পারলি? এ নিয়ে রাজাকার মন্তার সাথে শামছুল হকের বাক-বিত-া শুরু হয়ে যায়। এক পর্যায়ে শামছুল হক মন্তাকে ঝাপটে ধরে হাতাহাতি শুরু করে, রাইফেলটি ছিনিয়ে নিয়ে মন্তাকে ফেলে দিয়ে রাইফেল দিয়ে পিটাতে শুরু করে। এই সময় শামছুল হককে সাহায্য করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসে তার পিতা ওয়াজউদ্দিন ও প্রতিবেশী জুনাব আলী। এমনটি দেখে অন্যান্য রাজাকাররা প্রথমে শামছুল হককে এবং পরপর ওয়াজউদ্দিন ও জুনাব আলীকে গুলি করে হত্যা করে।



এ সময় তাদের গুলিতে নিহত হয় ৭ম শ্রেণির ছাত্র রশিদ খন্দকার, যার লাশ কবুতরের খাঁচা জড়িয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তারপর রাজাকারেরা চালায় নির্বিচারে গুলি ও লুটতরাজ। বাজারের মসজিদের দেয়ালের সাথে দাঁড় করিয়ে পাকিস্তান থেকে আসা সদ্য এমএ পাস করা মদ্দেরবাগ গ্রামের নজরুল ইসলাম ভঁূইয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার কয়েক গজ দূরে তখনকার কলেজ ছাত্র পরবর্তীতে কাদলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম মাইনউদ্দিন মজুমদারকে গুলি করার উদ্দেশ্যে অন্যান্যের সাথে লাইনে দাঁড় করানো হয়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। রাজাকাররা রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়কে অস্ত্র নির্মাণাগার এবং অস্ত্রের ভা-ার মনে করে বিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে এবং বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলে। এমনি করে রাজাকাররা কয়েক ঘণ্টা তা-বলীলা (হত্যাকা-) ও ব্যাপক লুটতরাজ শেষ করে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনের লাশ হাজীগঞ্জে নিয়ে যায় এবং তার লাশ হাজীগঞ্জ বাজারের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত টানা-হ্যাঁচড়া করে উল্লাস করে এবং টাঙ্গিয়ে প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনের লাশ নাসিরকোটে সমাহিত করা হয়।



প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজাকারেরা চলে যাওয়ার পরপরই স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে রঘুনাথপুর বাজারে পড়ে থাকা সতেরোটি (১৭) লাশ দেখতে পান। তন্মধ্যে ৫টি বাজারের মধ্যবর্তী খালের পশ্চিম পাড়ে এবং ১২টি পূর্ব পাড়ে। এ সতেরোটি ছাড়াও অনেক লাশ তাদের আত্মীয়-স্বজন নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রায় অর্ধশতাধিক লোক এ হত্যাকা-ে শহীদ হন।



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৫৯৮১৩
পুরোন সংখ্যা